০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
কেপটাউনে গ্যাং ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রই হত্যাকাণ্ডের বড় কারণ চীনের ‘অতিপ্রতিযোগিতা’ বিশ্ববাজারে, বাড়ছে বাণিজ্য সংঘাতের ঝুঁকি ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়তি সামরিক ব্যয়ের দাবি ফিফার ক্ষমতার নেপথ্যে আলোচিত ‘ফিক্সার’ মারিও গাল্লাভোত্তি নাইজারে বিদ্রোহী সেনাদের হামলার পর বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার তিন লাখ টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়ে হামলার শিকার আ.লীগ নেতা, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পশ্চিমা প্রভাবের পাল্টা শক্তি হিসেবে মধ্য এশিয়ায় বড় সমাবেশ, একই মঞ্চে পুতিন-শি-মোদি-শেহবাজ শিশু-কিশোরীকে আত্মঘাতী হামলায় ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ, বেলুচিস্তানে উদ্ধার দুই বোনঝি দুর্যোগে যখন সব যোগাযোগ বন্ধ, পাকিস্তানে ভরসা হয়ে উঠছে পুরোনো রেডিও সন্ত্রাস মামলায় ‘মুখহীন গোপন বিচার’ চায় পাঞ্জাব, সংবিধান নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

আমদানি উদারীকরণেই বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন পথ

বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সাফল্যের পেছনে শুধু রপ্তানি প্রণোদনা নয়, প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানির সুযোগও বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে রপ্তানিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আমদানির এই অপরিহার্য ভূমিকা নীতিনির্ধারণে অনেক সময় আড়ালে থেকে গেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে তাই আমদানি নীতির আরও উদারীকরণ জরুরি হয়ে উঠেছে।

রপ্তানির সাফল্যের নেপথ্যে আমদানি

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ অর্থনীতিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের পথে যায়। রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি নতুন উন্নয়ন কৌশল হিসেবে গুরুত্ব পায়। এর অন্যতম ভিত্তি ছিল আমদানি উদারীকরণ—বিশ্ববাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল, মধ্যবর্তী উপকরণ, মূলধনী পণ্য ও প্রযুক্তি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা।

পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক উত্থানও দেখিয়েছে, রপ্তানি ও আমদানি পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। দ্রুত শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায়, উৎপাদনশীলতা উন্নত করে এবং শেষ পর্যন্ত রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়তা করে। বর্তমান বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থায় এই সম্পর্ক আরও গভীর, কারণ একটি পণ্য তৈরির বিভিন্ন ধাপ একাধিক দেশে সম্পন্ন হয়।

আমদানি শুল্ক কমলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে

আমদানিকৃত মধ্যবর্তী পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়ার প্রমাণও রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাত নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান আমদানিকৃত মধ্যবর্তী উপকরণ ব্যবহার করে, শুল্ক কমানোর সুফল তাদের উৎপাদনশীলতায় বিশেষভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। কম দামে উন্নত ও বৈচিত্র্যময় উপকরণ পাওয়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির সংস্পর্শও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ায়।

রপ্তানিতে আমদানি সুরক্ষার ‘গোপন কর’

বাংলাদেশের বর্তমান উচ্চ ও জটিল শুল্ক কাঠামো রপ্তানিকারকদের জন্য এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করে। রপ্তানিকারককে পণ্য বিক্রি করতে হয় বিশ্ববাজারের দামে, অথচ আমদানিকৃত উপকরণের জন্য তাকে উচ্চ শুল্ক ও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বিশ্বদামের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়। এতে রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যায়।

একই সঙ্গে আমদানি সুরক্ষা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদনকে তুলনামূলক বেশি লাভজনক করে তোলে। ফলে উদ্যোক্তার কাছে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে সুরক্ষিত দেশীয় বাজারে ব্যবসা করাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতির প্রচলিত ‘লার্নার সমতা’ নীতিও আমদানি শুল্ককে কার্যত রপ্তানি করের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করে।এলডিসি উত্তরণে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি

পোশাক খাত দিয়েছে কার্যকর উদাহরণ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতই আমদানি উদারীকরণের গুরুত্বের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এ খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়েছে শুধু রপ্তানি সহায়তার কারণে নয়; শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের কাছাকাছি দামে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের সুযোগও ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কার্যত সুরক্ষিত অর্থনীতির ভেতরে তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য বলয় তৈরি করা হয়েছিল।

কিন্তু হালকা প্রকৌশল, জুতা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ইলেকট্রনিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো এখনো একই ধরনের সহজ আমদানি সুবিধা পায় না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রপ্তানি বহুমুখীকরণের দুর্বলতার কারণ কি পর্যাপ্ত রপ্তানি প্রণোদনার অভাব, নাকি নতুন রপ্তানিকারকদের নিরুৎসাহিত করা আমদানি ব্যবস্থা?

বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে নতুন বাস্তবতা

বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে একটি পণ্যের উপাদান তৈরির বিভিন্ন ধাপে সীমান্ত পেরিয়ে একাধিকবার আমদানি-রপ্তানি হয়। তাই আমদানিকে ‘খারাপ’ এবং রপ্তানিকে ‘ভালো’ হিসেবে দেখার পুরোনো ধারণা বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত আমদানি কমানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম সর্বোচ্চ দেশীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের করণীয়

বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে উচ্চ ও বিচ্ছিন্ন শুল্ক এবং অতিরিক্ত শুল্ক কমানো, সব রপ্তানিকারকের জন্য আমদানিকৃত উপকরণে নির্ভরযোগ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও শুল্ক ফেরত ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করার দিকে এগোতে হবে।

২০২৬-২০২৯ সালের আমদানি নীতিমালায় মুক্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনার সহায়তায় আমদানি নীতি শিথিলের সুযোগ, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান বাধা অতিক্রমের ব্যবস্থা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির কিছু পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় গভীর আমদানি উদারীকরণের তুলনায় এটি এখনো পর্যাপ্ত নয়।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বাজার আরও কঠিন হবে এবং প্রচলিত নগদ রপ্তানি প্রণোদনাও ধীরে ধীরে কমাতে হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা নির্ভর করবে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, দক্ষতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিশ্বদামে উপকরণ পাওয়ার ওপর। বাংলাদেশের পরবর্তী শিল্পায়নের উপযুক্ত কৌশল হতে পারে—প্রতিযোগিতামূলক দামে আমদানি, দক্ষতার সঙ্গে মূল্য সংযোজন এবং বিশ্ববাজারে রপ্তানি।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে আমদানি উদারীকরণ

বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে আমদানি নীতির সংস্কার এবং প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন উপকরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের রপ্তানি, আমদানি উদারীকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য নীতি, বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খল, আমদানি শুল্ক

জনপ্রিয় সংবাদ

কেপটাউনে গ্যাং ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রই হত্যাকাণ্ডের বড় কারণ

আমদানি উদারীকরণেই বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন পথ

০৫:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সাফল্যের পেছনে শুধু রপ্তানি প্রণোদনা নয়, প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানির সুযোগও বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে রপ্তানিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আমদানির এই অপরিহার্য ভূমিকা নীতিনির্ধারণে অনেক সময় আড়ালে থেকে গেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে তাই আমদানি নীতির আরও উদারীকরণ জরুরি হয়ে উঠেছে।

রপ্তানির সাফল্যের নেপথ্যে আমদানি

১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ অর্থনীতিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের পথে যায়। রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি নতুন উন্নয়ন কৌশল হিসেবে গুরুত্ব পায়। এর অন্যতম ভিত্তি ছিল আমদানি উদারীকরণ—বিশ্ববাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল, মধ্যবর্তী উপকরণ, মূলধনী পণ্য ও প্রযুক্তি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা।

পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক উত্থানও দেখিয়েছে, রপ্তানি ও আমদানি পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। দ্রুত শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায়, উৎপাদনশীলতা উন্নত করে এবং শেষ পর্যন্ত রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়তা করে। বর্তমান বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থায় এই সম্পর্ক আরও গভীর, কারণ একটি পণ্য তৈরির বিভিন্ন ধাপ একাধিক দেশে সম্পন্ন হয়।

আমদানি শুল্ক কমলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে

আমদানিকৃত মধ্যবর্তী পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়ার প্রমাণও রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদন খাত নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান আমদানিকৃত মধ্যবর্তী উপকরণ ব্যবহার করে, শুল্ক কমানোর সুফল তাদের উৎপাদনশীলতায় বিশেষভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। কম দামে উন্নত ও বৈচিত্র্যময় উপকরণ পাওয়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির সংস্পর্শও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ায়।

রপ্তানিতে আমদানি সুরক্ষার ‘গোপন কর’

বাংলাদেশের বর্তমান উচ্চ ও জটিল শুল্ক কাঠামো রপ্তানিকারকদের জন্য এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করে। রপ্তানিকারককে পণ্য বিক্রি করতে হয় বিশ্ববাজারের দামে, অথচ আমদানিকৃত উপকরণের জন্য তাকে উচ্চ শুল্ক ও অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বিশ্বদামের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়। এতে রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যায়।

একই সঙ্গে আমদানি সুরক্ষা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদনকে তুলনামূলক বেশি লাভজনক করে তোলে। ফলে উদ্যোক্তার কাছে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে সুরক্ষিত দেশীয় বাজারে ব্যবসা করাই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতির প্রচলিত ‘লার্নার সমতা’ নীতিও আমদানি শুল্ককে কার্যত রপ্তানি করের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করে।এলডিসি উত্তরণে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি

পোশাক খাত দিয়েছে কার্যকর উদাহরণ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতই আমদানি উদারীকরণের গুরুত্বের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এ খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়েছে শুধু রপ্তানি সহায়তার কারণে নয়; শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের কাছাকাছি দামে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের সুযোগও ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কার্যত সুরক্ষিত অর্থনীতির ভেতরে তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য বলয় তৈরি করা হয়েছিল।

কিন্তু হালকা প্রকৌশল, জুতা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ইলেকট্রনিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো এখনো একই ধরনের সহজ আমদানি সুবিধা পায় না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, রপ্তানি বহুমুখীকরণের দুর্বলতার কারণ কি পর্যাপ্ত রপ্তানি প্রণোদনার অভাব, নাকি নতুন রপ্তানিকারকদের নিরুৎসাহিত করা আমদানি ব্যবস্থা?

বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে নতুন বাস্তবতা

বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খলে একটি পণ্যের উপাদান তৈরির বিভিন্ন ধাপে সীমান্ত পেরিয়ে একাধিকবার আমদানি-রপ্তানি হয়। তাই আমদানিকে ‘খারাপ’ এবং রপ্তানিকে ‘ভালো’ হিসেবে দেখার পুরোনো ধারণা বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত আমদানি কমানো নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম সর্বোচ্চ দেশীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের করণীয়

বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে উচ্চ ও বিচ্ছিন্ন শুল্ক এবং অতিরিক্ত শুল্ক কমানো, সব রপ্তানিকারকের জন্য আমদানিকৃত উপকরণে নির্ভরযোগ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও শুল্ক ফেরত ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করার দিকে এগোতে হবে।

২০২৬-২০২৯ সালের আমদানি নীতিমালায় মুক্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনার সহায়তায় আমদানি নীতি শিথিলের সুযোগ, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান বাধা অতিক্রমের ব্যবস্থা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির কিছু পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় গভীর আমদানি উদারীকরণের তুলনায় এটি এখনো পর্যাপ্ত নয়।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বাজার আরও কঠিন হবে এবং প্রচলিত নগদ রপ্তানি প্রণোদনাও ধীরে ধীরে কমাতে হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা নির্ভর করবে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, দক্ষতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিশ্বদামে উপকরণ পাওয়ার ওপর। বাংলাদেশের পরবর্তী শিল্পায়নের উপযুক্ত কৌশল হতে পারে—প্রতিযোগিতামূলক দামে আমদানি, দক্ষতার সঙ্গে মূল্য সংযোজন এবং বিশ্ববাজারে রপ্তানি।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে আমদানি উদারীকরণ

বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে আমদানি নীতির সংস্কার এবং প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন উপকরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের রপ্তানি, আমদানি উদারীকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য নীতি, বৈশ্বিক উৎপাদন শৃঙ্খল, আমদানি শুল্ক