মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তিনি মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান তথা প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে একটি সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানাবেন, বিনিময়ে নেপিদোর কাছ থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি চাইছে কুয়ালালামপুর। আনোয়ার বুধবার বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মিন অং হ্লাইংয়ের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মিয়ানমারের শরণার্থী বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক ধাপে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। মালয়েশিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশ সম্প্রতি রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মিয়ানমার শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ছোট ব্যবসায় প্রতিযোগিতা ও সামাজিক সমস্যার অভিযোগ তুলছে, যা সরকারের ওপর প্রত্যাবাসন প্রশ্নে চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত এক দশকে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়েছেন, যাদের অধিকাংশ আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে, বাকিরা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। জান্তা সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রত্যাবাসনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করতে পারে, কেননা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রাখাইনে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এখনও অনুপস্থিত।

বাংলাদেশের জন্য এই খবরের গুরুত্ব সরাসরি, কারণ কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে এখনও প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকার দীর্ঘদিনের আলোচনা কার্যত থমকে আছে। মালয়েশিয়া যদি নিজস্ব শর্তে জান্তার সঙ্গে একটি সীমিত প্রত্যাবাসন চুক্তি করে ফেলে, তাহলে তা মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়ার এক নতুন নজির তৈরি করবে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















