০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস-পরবর্তী প্রতিবেশী কূটনীতি, ভুটানে জয়শঙ্কর ও দিল্লিতে নেপালের অর্থমন্ত্রী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নরওয়েতে অভিযুক্ত টেলিনর শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে সংঘাতমূলক প্রসঙ্গ এড়ালেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হংকংয়ের প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনা, উদ্ভাবন ব্যয় দ্বিগুণের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি কমলে কমছে না কেন বাজারের আগুন?  আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের যোগ্য ঘোষিত দুতার্তে, শুনানি ফেব্রুয়ারিতে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট থাচি যুদ্ধাপরাধে ২৫ বছরের কারাদণ্ড পেলেন মিয়ানমার তদন্ত সংস্থার আহ্বান, জাতিসংঘ পরিষদে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল আইআইএমএম  রাখাইন সীমান্তে সামরিক বাহিনীর প্যারামোটর হামলায় নিহত ছয়, চার শিশু মালয়েশিয়া মিয়ানমার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, বিনিময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

মালয়েশিয়া মিয়ানমার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, বিনিময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তিনি মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান তথা প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে একটি সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানাবেন, বিনিময়ে নেপিদোর কাছ থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি চাইছে কুয়ালালামপুর। আনোয়ার বুধবার বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মিন অং হ্লাইংয়ের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মিয়ানমারের শরণার্থী বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের।

Malaysia offers to invite Myanmar leader in Rohingya repatriation push
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক ধাপে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। মালয়েশিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশ সম্প্রতি রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মিয়ানমার শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ছোট ব্যবসায় প্রতিযোগিতা ও সামাজিক সমস্যার অভিযোগ তুলছে, যা সরকারের ওপর প্রত্যাবাসন প্রশ্নে চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত এক দশকে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়েছেন, যাদের অধিকাংশ আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে, বাকিরা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। জান্তা সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রত্যাবাসনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করতে পারে, কেননা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রাখাইনে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এখনও অনুপস্থিত।

Rohingya Repatriation: The booklet diplomacy
বাংলাদেশের জন্য এই খবরের গুরুত্ব সরাসরি, কারণ কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে এখনও প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকার দীর্ঘদিনের আলোচনা কার্যত থমকে আছে। মালয়েশিয়া যদি নিজস্ব শর্তে জান্তার সঙ্গে একটি সীমিত প্রত্যাবাসন চুক্তি করে ফেলে, তাহলে তা মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়ার এক নতুন নজির তৈরি করবে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকস-পরবর্তী প্রতিবেশী কূটনীতি, ভুটানে জয়শঙ্কর ও দিল্লিতে নেপালের অর্থমন্ত্রী

মালয়েশিয়া মিয়ানমার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, বিনিময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

০৩:১২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তিনি মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান তথা প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে একটি সরকারি সফরে আমন্ত্রণ জানাবেন, বিনিময়ে নেপিদোর কাছ থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি চাইছে কুয়ালালামপুর। আনোয়ার বুধবার বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য মিন অং হ্লাইংয়ের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মিয়ানমারের শরণার্থী বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের।

Malaysia offers to invite Myanmar leader in Rohingya repatriation push
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক ধাপে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। মালয়েশিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশ সম্প্রতি রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মিয়ানমার শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ছোট ব্যবসায় প্রতিযোগিতা ও সামাজিক সমস্যার অভিযোগ তুলছে, যা সরকারের ওপর প্রত্যাবাসন প্রশ্নে চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত এক দশকে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়েছেন, যাদের অধিকাংশ আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে, বাকিরা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। জান্তা সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রত্যাবাসনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করতে পারে, কেননা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রাখাইনে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এখনও অনুপস্থিত।

Rohingya Repatriation: The booklet diplomacy
বাংলাদেশের জন্য এই খবরের গুরুত্ব সরাসরি, কারণ কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে এখনও প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকার দীর্ঘদিনের আলোচনা কার্যত থমকে আছে। মালয়েশিয়া যদি নিজস্ব শর্তে জান্তার সঙ্গে একটি সীমিত প্রত্যাবাসন চুক্তি করে ফেলে, তাহলে তা মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়ার এক নতুন নজির তৈরি করবে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।