১২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুবাই মলে হঠাৎ হাজির শেখ মোহাম্মদ, অবাক দর্শনার্থীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে, এগিয়ে টয়োটা-টেসলা-বিওয়াইডি নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, সাত মাসে এখনো নিখোঁজ ২ হাজারের বেশি রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে ভয়াবহ আগুন, হুথি হামলার পর ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় সৌদি আরবের আকাশে বাড়ছে হুমকি, রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে জরুরি সতর্কতা ২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা ২০ এয়ারলাইন, শীর্ষে সিঙ্গাপুর—কাতার দ্বিতীয়, এমিরেটস ষষ্ঠ ইরানের ৭ শর্ত, আলোচনার পথে কি যুক্তরাষ্ট্র–তেহরান? ইউক্রেন যুদ্ধে যৌন সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র, জাতিসংঘের নথিতে ৮৯% অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে চীনের কাছে ১৩ গোল, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের মেয়েদের কঠিন অভিষেক রাশিয়ায় ভোট, পুতিনের সামনে যুদ্ধের বার্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়: নিরাপত্তা নাকি চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকা?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে একই সঙ্গে দুটি উদ্বেগ সামনে এসেছে। একদিকে, এআই গবেষণা ও শিল্পের কিছু ব্যক্তি সতর্ক করছেন যে ভবিষ্যতের অত্যন্ত সক্ষম এআই ব্যবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে—সামরিক প্রযুক্তিতে তুলনামূলক ছোট অগ্রগতিও যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা তৈরি করতে পারে।

এই দুই বাস্তবতা এআইয়ের অগ্রগতির গতি কমানো উচিত কি না, সেই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

এআই নিয়ে উদ্বেগ কেন বাড়ছে

এআই শিল্পের কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে অত্যন্ত সক্ষম এআই ভবিষ্যতে মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একটি আশঙ্কা হলো, কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার আগেই এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা তার নির্মাতাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

আরেকটি আশঙ্কা হলো, মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর কাজে এআই ব্যবহার করতে পারে।

সাম্প্রতিক কিছু পরীক্ষার ফলাফলও এ ধরনের উদ্বেগকে আলোচনায় রেখেছে। বিভিন্ন এআই মডেল ও এজেন্টের পরীক্ষায় সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের চেষ্টা, অন্য এজেন্টের সঙ্গে সমন্বয় এবং কম্পিউটার সিস্টেমে অননুমোদিত কাজ করার মতো আচরণের কথা গবেষণা ও শিল্প-প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব পরীক্ষার ফলাফলকে বাস্তব জগতে স্বাধীনভাবে পরিচালিত, অত্যন্ত ক্ষমতাশালী এআইয়ের প্রমাণ হিসেবে সরাসরি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

AI Is Winning the U.S.-China AI Race

এআই নির্মাতা অ্যানথ্রপিকও জানিয়েছে যে তাদের মডেলগুলো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের চেষ্টা শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে নজরদারি এবং সামরিক-সংশ্লিষ্ট কাজে মডেল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবহারের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলাদা করে যাচাই প্রয়োজন।

সম্প্রতি এআই নিরাপত্তা নিয়ে একজন গবেষকের প্রকাশ্য সমালোচনার পরও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই উন্নয়নের পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনাকে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

এআইয়ের সক্ষমতা কত দ্রুত বাড়ছে?

এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। গণিতের জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কিছু এআই সাফল্যকে শিল্পের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই একটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার সমাধান করার দাবি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দাবির বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও গ্রহণযোগ্যতা আলাদা বিষয়; তাই এটিকে এআই ইতিমধ্যেই মানুষের মতো বা মানুষের চেয়ে সাধারণভাবে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা সতর্কতার দাবি রাখে।

১২ সেপ্টেম্বর স্যাম অল্টম্যান, ইলন মাস্ক এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রকাশিত আহ্বানে সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এআইয়ের গতি কমানোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থানও একরকম নয়। আবার এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এআইয়ে মার্কিন নেতৃত্ব ধরে রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

কেন যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে এগিয়ে থাকতে চায়

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রতিযোগিতা এখন প্রযুক্তির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে আশঙ্কা করেছেন যে চীন এআইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেলে তার সামরিক, গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, চীন এআইয়ে বড় সুবিধা পেলে তার পরিণতি অন্য অনেক ক্ষেত্রের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে এসব আশঙ্কা মূলত কৌশলগত মূল্যায়ন; এগুলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

ইউক্রেন যুদ্ধ এই বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুদ্ধে ড্রোন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং অন্যান্য প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ উভয় পক্ষের সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই ড্রোন প্রযুক্তিতে দ্রুত উদ্ভাবন করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রুশ ড্রোনের মধ্যে একাধিক ড্রোনের যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ইউক্রেনও দূরপাল্লার ও অধিক স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।

তবে কোনো একটি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা কার্যকর এবং তার সামরিক প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী—তা যুদ্ধের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা থেকে এআইয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা উচিত নয়।

The US Can Slow Down AI and Stay Ahead of China - Bloomberg

এআই নেতৃত্ব কেন সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্ব পেতে পারে

যদি অত্যন্ত সক্ষম এআই ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা তথ্যযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারে, তাহলে এআইয়ের নেতৃত্ব জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রাখা দরকার। বর্তমানে এআইয়ের বিভিন্ন সামরিক ও গোয়েন্দা প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও ভবিষ্যতে এগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত নয়।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একটি কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে—একদিকে এআই নিরাপদ রাখা, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের তুলনায় কৌশলগতভাবে পিছিয়ে না পড়া।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সমঝোতা কি সম্ভব?

এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে অন্তত কিছু মাত্রার সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।

কিন্তু এখানে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পারমাণবিক পরীক্ষার মতো কিছু কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এআই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে একই ধরনের নির্ভরযোগ্য যাচাইব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন।

একটি বড় ডেটা সেন্টার বাইরে থেকে সাধারণ বাণিজ্যিক এআই পরিষেবার অবকাঠামোর মতো দেখা যেতে পারে। একই অবকাঠামোতে কী ধরনের মডেল প্রশিক্ষিত হচ্ছে, তা বাইরে থেকে সবসময় নির্ভরযোগ্যভাবে জানা সম্ভব নয়।

ফলে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর যাচাই ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবু কিছু সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে

পূর্ণাঙ্গ এআই-নিয়ন্ত্রণ চুক্তি কঠিন হলেও সীমিত সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্র রয়েছে।

প্রথমত, বড় এআই গবেষণাগারে গুরুতর নিরাপত্তা-ঘটনা ঘটলে সেগুলো কীভাবে রিপোর্ট ও তদন্ত করা হবে, সে বিষয়ে অভিন্ন নীতি তৈরি করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, এআই গবেষণাগারের সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করা যেতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষামূলক এআই সিস্টেম যেন অনুমোদিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে অননুমোদিত কাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে উন্নত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, এআই নিরাপত্তা গবেষণার কিছু অংশ আন্তর্জাতিকভাবে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে মডেল মূল্যায়ন, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কিছু পদ্ধতি উল্লেখ করা যায়—যতক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো সরাসরি সামরিক বা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি না করে।

America's AI edge fading fast to China - Asia Times

এআই নিয়ে ‘ডুমারিজম’ কতটা যৌক্তিক?

এআই নিয়ে সাম্প্রতিক আতঙ্ককে কেউ কেউ অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন। তাঁদের যুক্তি, এআই কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখাতে বা প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে ঝুঁকির কথা বেশি জোর দিয়ে বলতে পারে।

এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও কিছু নিরাপত্তা-ঘটনা নিয়ে উদ্বেগকেও পুরোপুরি অস্বীকার করা কঠিন।

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনিশ্চয়তা।

এআই ভবিষ্যতে মানবসভ্যতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করবে—এটি বর্তমানে প্রমাণিত সত্য নয়। একইভাবে, এমন ঝুঁকি কখনো তৈরি হবে না—এ দাবিও নিশ্চিতভাবে করা যায় না।

তাই নীতিনির্ধারণে সবচেয়ে যুক্তিসংগত পদ্ধতি হতে পারে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো, কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা নিরাপত্তার নামে অযাচাইকৃত দাবি নীতির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

সামনে কঠিন ভারসাম্য

এআই নীতির সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন সম্ভবত এটাই: কীভাবে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়া যাবে, অথচ এর সম্ভাব্য বিপজ্জনক ব্যবহার ও অনিচ্ছাকৃত পরিণতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে?

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন আরও কঠিন, কারণ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিযোগিতাও জড়িয়ে আছে।

তাই এআইয়ের ক্ষেত্রে হয় সম্পূর্ণ গতি থামানো, নয়তো কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়াই একমাত্র পথ নয়।

বরং বেশি স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা-ঘটনা সম্পর্কে তথ্য বিনিময়, গবেষণাগারের সাইবার নিরাপত্তা উন্নত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করে না—এমন নিরাপত্তা গবেষণায় সহযোগিতা তুলনামূলক বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআই নিয়ে নীতি যেন আতঙ্ক বা অতিরিক্ত আশাবাদ—কোনোটির ওপরই এককভাবে নির্ভর না করে। প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতা, প্রমাণিত ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি—এই তিনটিকে আলাদা করে দেখাই হবে সবচেয়ে সতর্ক পদ্ধতি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাই মলে হঠাৎ হাজির শেখ মোহাম্মদ, অবাক দর্শনার্থীরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়: নিরাপত্তা নাকি চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকা?

১১:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে একই সঙ্গে দুটি উদ্বেগ সামনে এসেছে। একদিকে, এআই গবেষণা ও শিল্পের কিছু ব্যক্তি সতর্ক করছেন যে ভবিষ্যতের অত্যন্ত সক্ষম এআই ব্যবস্থা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে—সামরিক প্রযুক্তিতে তুলনামূলক ছোট অগ্রগতিও যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা তৈরি করতে পারে।

এই দুই বাস্তবতা এআইয়ের অগ্রগতির গতি কমানো উচিত কি না, সেই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

এআই নিয়ে উদ্বেগ কেন বাড়ছে

এআই শিল্পের কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে অত্যন্ত সক্ষম এআই ভবিষ্যতে মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একটি আশঙ্কা হলো, কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার আগেই এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা তার নির্মাতাদের নিয়ন্ত্রণের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

আরেকটি আশঙ্কা হলো, মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর কাজে এআই ব্যবহার করতে পারে।

সাম্প্রতিক কিছু পরীক্ষার ফলাফলও এ ধরনের উদ্বেগকে আলোচনায় রেখেছে। বিভিন্ন এআই মডেল ও এজেন্টের পরীক্ষায় সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের চেষ্টা, অন্য এজেন্টের সঙ্গে সমন্বয় এবং কম্পিউটার সিস্টেমে অননুমোদিত কাজ করার মতো আচরণের কথা গবেষণা ও শিল্প-প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব পরীক্ষার ফলাফলকে বাস্তব জগতে স্বাধীনভাবে পরিচালিত, অত্যন্ত ক্ষমতাশালী এআইয়ের প্রমাণ হিসেবে সরাসরি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

AI Is Winning the U.S.-China AI Race

এআই নির্মাতা অ্যানথ্রপিকও জানিয়েছে যে তাদের মডেলগুলো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের চেষ্টা শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে নজরদারি এবং সামরিক-সংশ্লিষ্ট কাজে মডেল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যবহারের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলাদা করে যাচাই প্রয়োজন।

সম্প্রতি এআই নিরাপত্তা নিয়ে একজন গবেষকের প্রকাশ্য সমালোচনার পরও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তিনি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের এআই উন্নয়নের পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনাকে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

এআইয়ের সক্ষমতা কত দ্রুত বাড়ছে?

এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। গণিতের জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কিছু এআই সাফল্যকে শিল্পের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই একটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার সমাধান করার দাবি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দাবির বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও গ্রহণযোগ্যতা আলাদা বিষয়; তাই এটিকে এআই ইতিমধ্যেই মানুষের মতো বা মানুষের চেয়ে সাধারণভাবে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা সতর্কতার দাবি রাখে।

১২ সেপ্টেম্বর স্যাম অল্টম্যান, ইলন মাস্ক এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রকাশিত আহ্বানে সমর্থন দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এআইয়ের গতি কমানোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থানও একরকম নয়। আবার এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন এআইয়ে মার্কিন নেতৃত্ব ধরে রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

কেন যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ে এগিয়ে থাকতে চায়

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রতিযোগিতা এখন প্রযুক্তির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে আশঙ্কা করেছেন যে চীন এআইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেলে তার সামরিক, গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, চীন এআইয়ে বড় সুবিধা পেলে তার পরিণতি অন্য অনেক ক্ষেত্রের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে এসব আশঙ্কা মূলত কৌশলগত মূল্যায়ন; এগুলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

ইউক্রেন যুদ্ধ এই বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুদ্ধে ড্রোন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং অন্যান্য প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ উভয় পক্ষের সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই ড্রোন প্রযুক্তিতে দ্রুত উদ্ভাবন করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রুশ ড্রোনের মধ্যে একাধিক ড্রোনের যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ইউক্রেনও দূরপাল্লার ও অধিক স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।

তবে কোনো একটি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা কার্যকর এবং তার সামরিক প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী—তা যুদ্ধের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা থেকে এআইয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা উচিত নয়।

The US Can Slow Down AI and Stay Ahead of China - Bloomberg

এআই নেতৃত্ব কেন সামরিক ও কৌশলগত গুরুত্ব পেতে পারে

যদি অত্যন্ত সক্ষম এআই ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা তথ্যযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারে, তাহলে এআইয়ের নেতৃত্ব জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রাখা দরকার। বর্তমানে এআইয়ের বিভিন্ন সামরিক ও গোয়েন্দা প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও ভবিষ্যতে এগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত নয়।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একটি কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে—একদিকে এআই নিরাপদ রাখা, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের তুলনায় কৌশলগতভাবে পিছিয়ে না পড়া।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সমঝোতা কি সম্ভব?

এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে অন্তত কিছু মাত্রার সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।

কিন্তু এখানে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পারমাণবিক পরীক্ষার মতো কিছু কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এআই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে একই ধরনের নির্ভরযোগ্য যাচাইব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন।

একটি বড় ডেটা সেন্টার বাইরে থেকে সাধারণ বাণিজ্যিক এআই পরিষেবার অবকাঠামোর মতো দেখা যেতে পারে। একই অবকাঠামোতে কী ধরনের মডেল প্রশিক্ষিত হচ্ছে, তা বাইরে থেকে সবসময় নির্ভরযোগ্যভাবে জানা সম্ভব নয়।

ফলে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর যাচাই ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবু কিছু সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে

পূর্ণাঙ্গ এআই-নিয়ন্ত্রণ চুক্তি কঠিন হলেও সীমিত সহযোগিতার কিছু ক্ষেত্র রয়েছে।

প্রথমত, বড় এআই গবেষণাগারে গুরুতর নিরাপত্তা-ঘটনা ঘটলে সেগুলো কীভাবে রিপোর্ট ও তদন্ত করা হবে, সে বিষয়ে অভিন্ন নীতি তৈরি করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, এআই গবেষণাগারের সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করা যেতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষামূলক এআই সিস্টেম যেন অনুমোদিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে অননুমোদিত কাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে উন্নত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, এআই নিরাপত্তা গবেষণার কিছু অংশ আন্তর্জাতিকভাবে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে মডেল মূল্যায়ন, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কিছু পদ্ধতি উল্লেখ করা যায়—যতক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো সরাসরি সামরিক বা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি না করে।

America's AI edge fading fast to China - Asia Times

এআই নিয়ে ‘ডুমারিজম’ কতটা যৌক্তিক?

এআই নিয়ে সাম্প্রতিক আতঙ্ককে কেউ কেউ অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন। তাঁদের যুক্তি, এআই কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখাতে বা প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে ঝুঁকির কথা বেশি জোর দিয়ে বলতে পারে।

এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও কিছু নিরাপত্তা-ঘটনা নিয়ে উদ্বেগকেও পুরোপুরি অস্বীকার করা কঠিন।

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনিশ্চয়তা।

এআই ভবিষ্যতে মানবসভ্যতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করবে—এটি বর্তমানে প্রমাণিত সত্য নয়। একইভাবে, এমন ঝুঁকি কখনো তৈরি হবে না—এ দাবিও নিশ্চিতভাবে করা যায় না।

তাই নীতিনির্ধারণে সবচেয়ে যুক্তিসংগত পদ্ধতি হতে পারে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো, কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা নিরাপত্তার নামে অযাচাইকৃত দাবি নীতির ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

সামনে কঠিন ভারসাম্য

এআই নীতির সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন সম্ভবত এটাই: কীভাবে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়া যাবে, অথচ এর সম্ভাব্য বিপজ্জনক ব্যবহার ও অনিচ্ছাকৃত পরিণতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে?

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন আরও কঠিন, কারণ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিযোগিতাও জড়িয়ে আছে।

তাই এআইয়ের ক্ষেত্রে হয় সম্পূর্ণ গতি থামানো, নয়তো কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়াই একমাত্র পথ নয়।

বরং বেশি স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা-ঘটনা সম্পর্কে তথ্য বিনিময়, গবেষণাগারের সাইবার নিরাপত্তা উন্নত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করে না—এমন নিরাপত্তা গবেষণায় সহযোগিতা তুলনামূলক বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআই নিয়ে নীতি যেন আতঙ্ক বা অতিরিক্ত আশাবাদ—কোনোটির ওপরই এককভাবে নির্ভর না করে। প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতা, প্রমাণিত ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি—এই তিনটিকে আলাদা করে দেখাই হবে সবচেয়ে সতর্ক পদ্ধতি।