যুক্তরাজ্য সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ আগস্টে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন চ্যান্সেলর জন হিলির আগামী মাসের প্রথম বাজেটকে ঘিরে আর্থিক চাপ আরও বাড়ল।
আগস্টের সরকারি ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল শহরের অর্থনীতিবিদদের ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের পূর্বাভাস এবং বাজেট দায়বদ্ধতা কার্যালয়ের ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড, যা সরকারি পূর্বাভাসের চেয়ে ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি।
ঋণের সুদে রেকর্ড ব্যয়
জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাজ্য সরকার ঋণের সুদ পরিশোধে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। ১৯৯৭ সালে তুলনামূলক হিসাব সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর আগস্ট মাসে এটি সর্বোচ্চ ঋণ-সুদ ব্যয়।
মূলত মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত সরকারি বন্ডের সুদ ও মূল্য সমন্বয়ের কারণে এই ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির যে সূচক ব্যবহার করে এসব বন্ডের মূল্য সমন্বয় করা হয়, আগস্টে সেটির বৃদ্ধি সরকারের ঋণ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের কর আদায় বেড়েছে। তবে অতিরিক্ত রাজস্ব ঋণের সুদ পরিশোধে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে পারেনি। গত আগস্টের তুলনায় এ বছর একই মাসে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়েছে।
বাজেটের আগে কমছে আর্থিক সুরক্ষা
জন হিলির জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো সরকারের নির্ধারিত আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাখা অতিরিক্ত সুযোগ বা আর্থিক সুরক্ষা। তার হাতে থাকা ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের আর্থিক সুযোগের অন্তত ১২ বিলিয়ন পাউন্ড ইতোমধ্যে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বাজেটের আগে এই সুযোগ ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন পাউন্ডে নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগামী ২৮ অক্টোবর হিলি তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করবেন। তার আগে ২১ অক্টোবর সেপ্টেম্বরের ঋণের হিসাব প্রকাশ করা হবে। ফলে বাজেটের ঠিক আগে সরকারের আর্থিক অবস্থার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।
মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়ের দ্বিমুখী চাপ
মূল্যস্ফীতিই সরকারের অর্থনীতিতে দুই দিক থেকে চাপ তৈরি করছে। একদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও ভাতা ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত সরকারি ঋণের সুদও বাড়ছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হলেও শহরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে তা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। একই সময়ে সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় জনগণকে আরও সহায়তা দেওয়ার চাপও রয়েছে।
আরএসএম ইউকের প্রধান অর্থনীতিবিদ থমাস পিউ বলেছেন, অক্টোবরের বাজেটে আরও এক দফা কর বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন অনিবার্য হয়ে উঠছে। রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ জেমস স্মিথও বলেছেন, নতুন ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সুরক্ষা ছাড়া বাজেট পার করা সরকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, তারা আর্থিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি অনিশ্চয়তার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ঋণের সুদ বাবদ বাড়তি ব্যয় জনসেবা খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত করছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা গেলেও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ কমেনি। কর্মসংস্থানের বাজার ধীর হলেও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েনি এবং বেসরকারি খাতের কিছু অংশে উৎপাদনশীলতার উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি, ঋণের সুদ ও বাড়তি সরকারি ব্যয়ের চাপ আগামী বাজেটে হিলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















