০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লুলা ও বলসোনারোপুত্র গ্র্যান্ড রেনেসাঁ বাঁধের পরও নীলনদ সংকটের সমাধান হয়নি জয়ন্ত রায় চৌধুরী ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার ইংরেজি সংবাদসেবার সম্পাদক হুথি হামলা ঠেকাতে সৌদি জেটে জ্বালানি দেবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী নাসার চন্দ্র-আমন্ত্রণ ফিরিয়ে বিশ্বকে ডাকল ভারত নিজের চন্দ্রাভিযানে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চ স্থগিত করল জামায়াতে ইসলামি ক্যারিবীয় সাগরে মাদক নৌযানে মার্কিন হামলা, জাতিসংঘের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তির চেয়ে ছোট সমঝোতার সম্ভাবনাই বেশি এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ভয়, ৭৩ শতাংশের মতে বিপদ ঠেকাতে যথেষ্ট করছে না কোম্পানিগুলো যুক্তরাজ্যের ঋণ বেড়ে চাপে চ্যান্সেলর, বাজেটের আর্থিক সুযোগ কমছে

এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ভয়, ৭৩ শতাংশের মতে বিপদ ঠেকাতে যথেষ্ট করছে না কোম্পানিগুলো

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির প্রতি চারজনের প্রায় তিনজন মনে করেন, এআই কোম্পানিগুলো এই প্রযুক্তি থেকে সমাজে বড় ধরনের ক্ষতি বা বিপর্যয় ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিশ্বে এআই উন্নয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেয়ে প্রযুক্তিটির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল বিকাশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। চার দিন ধরে চালানো এই জরিপ শেষ হয়েছে রোববার। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের ১ হাজার ২৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।

জরিপে ৭৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, এআই কোম্পানিগুলো সমাজে প্রযুক্তিটির কারণে গুরুতর ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে যথেষ্ট কাজ করছে না। এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়ে নেতিবাচক ধারণাও বেড়েছে। ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এআই সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গত মাসে এই হার ছিল ৩৬ শতাংশ। রয়টার্স/ইপসোস এ বিষয়ে প্রশ্ন করা শুরু করার পর এটিই সর্বোচ্চ নেতিবাচক হার।

অন্যদিকে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এআই সমাজের জন্য ইতিবাচক বিষয়। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো উত্তর দেননি।

এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা চান অধিকাংশ মানুষ

জরিপের ফলাফল বলছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে এআই কোম্পানিগুলোর ওপর মানুষের আস্থা খুব বেশি নয়। অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এআইয়ের নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বড় ভূমিকা থাকা উচিত।

এআই নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দাবি এখন রাজনৈতিক পরিসরেও বিস্তৃত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকা প্রগতিশীল স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত স্টিভ ব্যানন—দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যক্তিরাই এআই খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বড় ধরনের সরকারি পদক্ষেপ খুব বেশি দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত এআই উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদ নভেম্বর পর্যন্ত অবকাশে থাকায় দ্রুত নতুন আইন বা বড় ধরনের নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত।

এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে ৫৫ শতাংশ

এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে উন্নয়নের গতি কমানোর প্রশ্নে। জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানো ভালো হবে। বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ মনে করেন, উন্নয়ন ধীর করা খারাপ সিদ্ধান্ত হবে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি বড় এআই কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন ধীর করা, অধিক নজরদারি এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড জোরদারের আহ্বান সম্পর্কে খবর দেখেছেন বা শুনেছেন।

এর অর্থ হলো, এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তি খাতের আলোচনার বিষয় নয়। এর সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে থাকতে হবে’—এই যুক্তির চেয়ে নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ

এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তাগুলোর একটি এসেছে নিরাপত্তা বনাম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রশ্নে।

জরিপে ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এআইকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে বিকশিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে মাত্র ২৩ শতাংশ বলেছেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের এগিয়ে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমেই কৌশলগত মাত্রা পাচ্ছে। অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআইকে ভবিষ্যৎ শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ এখন প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

Most Americans worry AI firms are not doing enough to prevent harm | The Straits Times

কর্মসংস্থান ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

এআই ইতোমধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামারদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে শ্রমবাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা বড় হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এআই এজেন্টের সক্ষমতা নিয়ে এমন উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার সময় তাদের এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশ করে হ্যাকিং কার্যক্রম চালিয়েছিল। ঘটনাটি এআইয়ের স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এআই গবেষকদের মধ্যেও বাড়ছে অস্তিত্বগত ভয়

শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, এআই নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রযুক্তি খাতের গবেষকদের মধ্যেও।

চলতি মাসের শুরুতে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একজন গবেষক মানবজাতির জন্য সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চাকরি ছেড়ে দেন। অ্যানথ্রপিকের বিজ্ঞানী ইভান হুবিঙ্গারও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এ ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে।

এ ধরনের সতর্কতা অবশ্য এআই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সর্বসম্মত পূর্বাভাস নয়। তবে এগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়ে বিতর্কও গভীর হচ্ছে।

২০২২ সালের পর বদলে গেছে এআই নিয়ে জনআলোচনা

২০২২ সালে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি সাধারণ মানুষের সামনে আসার পর এআই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, লেখা তৈরি করা এবং তথ্য খোঁজার নতুন পদ্ধতি হিসেবে প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এর সম্ভাব্য সুফলও কম নয়। সমর্থকদের মতে, এআই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্রুত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে অর্থনীতি পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

এআই ঘিরে বিপুল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিটির জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তবে এসব তথ্যকেন্দরের শব্দ, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত চাপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সুফল নিয়ে আগ্রহ থাকলেও বড় একটি অংশ এখন প্রশ্ন তুলছে—এআই কত দ্রুত এগোবে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি কতটা নিরাপদভাবে এগোবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লুলা ও বলসোনারোপুত্র

এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ভয়, ৭৩ শতাংশের মতে বিপদ ঠেকাতে যথেষ্ট করছে না কোম্পানিগুলো

০৫:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির প্রতি চারজনের প্রায় তিনজন মনে করেন, এআই কোম্পানিগুলো এই প্রযুক্তি থেকে সমাজে বড় ধরনের ক্ষতি বা বিপর্যয় ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিশ্বে এআই উন্নয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেয়ে প্রযুক্তিটির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল বিকাশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। চার দিন ধরে চালানো এই জরিপ শেষ হয়েছে রোববার। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের ১ হাজার ২৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।

জরিপে ৭৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, এআই কোম্পানিগুলো সমাজে প্রযুক্তিটির কারণে গুরুতর ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে যথেষ্ট কাজ করছে না। এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়ে নেতিবাচক ধারণাও বেড়েছে। ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এআই সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গত মাসে এই হার ছিল ৩৬ শতাংশ। রয়টার্স/ইপসোস এ বিষয়ে প্রশ্ন করা শুরু করার পর এটিই সর্বোচ্চ নেতিবাচক হার।

অন্যদিকে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এআই সমাজের জন্য ইতিবাচক বিষয়। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো উত্তর দেননি।

এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা চান অধিকাংশ মানুষ

জরিপের ফলাফল বলছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে এআই কোম্পানিগুলোর ওপর মানুষের আস্থা খুব বেশি নয়। অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এআইয়ের নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বড় ভূমিকা থাকা উচিত।

এআই নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দাবি এখন রাজনৈতিক পরিসরেও বিস্তৃত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকা প্রগতিশীল স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত স্টিভ ব্যানন—দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের ব্যক্তিরাই এআই খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বড় ধরনের সরকারি পদক্ষেপ খুব বেশি দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত এআই উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদ নভেম্বর পর্যন্ত অবকাশে থাকায় দ্রুত নতুন আইন বা বড় ধরনের নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত।

এআই উন্নয়নের গতি কমানোর পক্ষে ৫৫ শতাংশ

এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে উন্নয়নের গতি কমানোর প্রশ্নে। জরিপে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানো ভালো হবে। বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ মনে করেন, উন্নয়ন ধীর করা খারাপ সিদ্ধান্ত হবে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা সম্প্রতি বড় এআই কোম্পানিগুলোর উন্নয়ন ধীর করা, অধিক নজরদারি এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড জোরদারের আহ্বান সম্পর্কে খবর দেখেছেন বা শুনেছেন।

এর অর্থ হলো, এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তি খাতের আলোচনার বিষয় নয়। এর সম্ভাব্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে থাকতে হবে’—এই যুক্তির চেয়ে নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ

এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তাগুলোর একটি এসেছে নিরাপত্তা বনাম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রশ্নে।

জরিপে ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এআইকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে বিকশিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে মাত্র ২৩ শতাংশ বলেছেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এআই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের এগিয়ে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমেই কৌশলগত মাত্রা পাচ্ছে। অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআইকে ভবিষ্যৎ শক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ এখন প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

Most Americans worry AI firms are not doing enough to prevent harm | The Straits Times

কর্মসংস্থান ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

এআই ইতোমধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামারদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। তবে শ্রমবাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা বড় হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এআই এজেন্টের সক্ষমতা নিয়ে এমন উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার সময় তাদের এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশ করে হ্যাকিং কার্যক্রম চালিয়েছিল। ঘটনাটি এআইয়ের স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এআই গবেষকদের মধ্যেও বাড়ছে অস্তিত্বগত ভয়

শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, এআই নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রযুক্তি খাতের গবেষকদের মধ্যেও।

চলতি মাসের শুরুতে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একজন গবেষক মানবজাতির জন্য সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চাকরি ছেড়ে দেন। অ্যানথ্রপিকের বিজ্ঞানী ইভান হুবিঙ্গারও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এ ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে।

এ ধরনের সতর্কতা অবশ্য এআই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সর্বসম্মত পূর্বাভাস নয়। তবে এগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়ে বিতর্কও গভীর হচ্ছে।

২০২২ সালের পর বদলে গেছে এআই নিয়ে জনআলোচনা

২০২২ সালে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি সাধারণ মানুষের সামনে আসার পর এআই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, লেখা তৈরি করা এবং তথ্য খোঁজার নতুন পদ্ধতি হিসেবে প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এর সম্ভাব্য সুফলও কম নয়। সমর্থকদের মতে, এআই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্রুত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে অর্থনীতি পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

এআই ঘিরে বিপুল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিটির জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তবে এসব তথ্যকেন্দরের শব্দ, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত চাপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সুফল নিয়ে আগ্রহ থাকলেও বড় একটি অংশ এখন প্রশ্ন তুলছে—এআই কত দ্রুত এগোবে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি কতটা নিরাপদভাবে এগোবে।