পাকিস্তান যখন ২০২৬-৩১ মেয়াদের নতুন কৌশলগত বাণিজ্যনীতি প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন দেশটির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু কীভাবে বেশি রপ্তানি করা যায়, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো—রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য কোন ধরনের আমদানি প্রয়োজন এবং কোন ধরনের আমদানি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে।
দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকে মূলত বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় হিসেবে দেখার প্রবণতা পাকিস্তানের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু সব আমদানি অর্থনীতির জন্য একই ধরনের বোঝা নয়। উৎপাদনশীল যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, শিল্পের উপকরণ, প্রযুক্তি কিংবা এমন উপাদান যা পরে রপ্তানি পণ্যে যুক্ত হয়—এসব আমদানি ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিপরীতে বিলাসপণ্য বা সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত অনেক আমদানি তাৎক্ষণিক চাহিদা বাড়ালেও উৎপাদনশীল সক্ষমতা তৈরি করে না।
সুতরাং আমদানি কমানোই যদি নীতির মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উপেক্ষিত থেকে যাবে। প্রয়োজন হলো আমদানির উদ্দেশ্য ও অর্থনৈতিক ফলাফলকে আলাদা করে দেখা।
বৈদেশিক ভারসাম্যে সাময়িক স্বস্তি
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পাকিস্তানের জন্য একই সঙ্গে স্বস্তি ও সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে। জুনে দেশটির চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল ৮১৪ মিলিয়ন ডলার, যা জুলাইয়ে কমে ৩২৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এই উন্নতির বড় অংশ এসেছে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো অর্থ থেকে। জুলাইয়ে রেমিট্যান্স ছিল ৩ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি ছিল প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আমদানি ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পণ্য ও সেবায় সম্মিলিত ঘাটতিও ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।
শুল্ক বিভাগের তথ্যেও একই ধরনের চাপ দেখা যায়। জুলাইয়ে রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু আমদানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে।
এই সংখ্যাগুলো নিঃসন্দেহে বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করে। কিন্তু কেবল মোট আমদানির পরিমাণ দেখে নীতি নির্ধারণ করলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না।
আমদানির ভেতরের পার্থক্য বুঝতে হবে
একটি পোশাক কারখানা যদি রপ্তানির জন্য কাঁচা তুলা আমদানি করে, কিংবা কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক যন্ত্রপাতি আনে, সেই আমদানির অর্থনৈতিক প্রভাব ভোগ্যপণ্য আমদানির মতো নয়। একইভাবে ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক বা প্রকৌশল পণ্যের উৎপাদনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ভবিষ্যতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে পারে।
জুলাইয়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ধাতু ও বিভিন্ন শিল্প উপকরণের আমদানি বৃদ্ধির কিছু অংশ এই ধরনের উৎপাদনশীল চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও রপ্তানির ভিত্তি শক্ত করতে পারে।
তাই আমদানি নীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হওয়া উচিত—কোন আমদানি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করছে এবং কোন আমদানি ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার সক্ষমতা তৈরি করছে।
শুল্কনীতির পুরোনো সমস্যা
পাকিস্তানের আগের কৌশলগত বাণিজ্যনীতি এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছিল। ২০২০-২৫ মেয়াদের নীতিতে বলা হয়েছিল, প্রাথমিক ও মধ্যবর্তী শিল্প উপকরণের ওপর উচ্চ শুল্ক রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে দুর্বল করে। রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শুল্ক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ব্যবহারও উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে বিকৃতি তৈরি করেছে।

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে যদি রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল ও উপকরণ তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রতিযোগিতা কমে যায়। ফলে শুধু রপ্তানিকারকদের জন্য আলাদা সুবিধা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হয় না; পুরো উৎপাদন শৃঙ্খলের ব্যয় কমানো দরকার।
আগের নীতিতে শুল্কমুক্তভাবে উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুযোগ, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ইনপুট মূল্য, শুল্ক কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং বিভিন্ন শিল্পে শুল্কসংক্রান্ত অসামঞ্জস্য দূর করার কথা বলা হয়েছিল। আমদানি ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং ডিজিটাল করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু নীতির সুযোগ থাকলেই তা ব্যবসার জন্য কার্যকর হয় না। বাস্তবে কত প্রতিষ্ঠান সেই সুবিধা ব্যবহার করতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ ব্যবস্থা
আগের কৌশলগত বাণিজ্যনীতির একটি উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ ছিল—রপ্তানি সুবিধা ব্যবস্থার ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। জটিলতা ও আনুষ্ঠানিকতার কারণে মাত্র প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ রপ্তানিকারক এসব সুবিধা ব্যবহার করছিলেন। লক্ষ্য ছিল ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ব্যবহারকারীর হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে।
এখানে পাকিস্তানের পরবর্তী নীতির জন্য একটি পরিষ্কার শিক্ষা রয়েছে। নতুন সুবিধা তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান সুবিধাগুলোকে সহজ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য করতে হবে।
২০২৫-৩০ মেয়াদের জাতীয় শুল্কনীতিও এই প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। এতে কয়েক বছরের মধ্যে অতিরিক্ত কাস্টমস শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক কমানো, বাণিজ্য-ভারিত শুল্কহার ৬ শতাংশের নিচে নামানো এবং শুল্ক কাঠামো সরল করার প্রস্তাব রয়েছে।
এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনও কমবে। তবে শুল্ক সংস্কার একাই যথেষ্ট নয়। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, গুদামজাতকরণ, চুক্তি ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী বা পুনঃরপ্তানিযোগ্য আমদানির নিয়মও ব্যবসাবান্ধব হতে হবে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা যায়
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আমদানি নীতিতে কিছু প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত রয়েছে। ২৪ আগস্ট জারি করা নতুন আমদানি নীতিতে ঋণপত্র ছাড়াই বিক্রয় বা ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে আগের সাধারণ আর্থিক সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। আগে এই পথে বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে সাধারণত বছরে ৫ লাখ ডলারের সীমা ছিল।
এর অর্থ এই নয় যে ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা বা নিয়ন্ত্রক তদারকি উঠে গেছে। বরং ব্যবসায়ীরা অনুমোদিত কাঠামোর মধ্যে লেনদেনের ধরন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি নমনীয়তা পেয়েছেন।
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা নির্দিষ্ট নমুনা, উৎপাদন উপকরণ, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ এবং নিরাপত্তা বা মান-অনুসরণে প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম আমদানির সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।
একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, কেন্দ্রীয় বন্ডেড গুদাম, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুমোদিত শিল্প বিনিয়োগে যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাকে নীতির কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের জন্য সরাসরি অনুসরণযোগ্য কোনো ছক নয়। দুই দেশের শিল্প কাঠামো, বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি ও নীতিগত বাস্তবতা ভিন্ন। বরং এখান থেকে যে বিষয়টি শেখার, তা হলো—লেনদেনের পথ, উৎপাদন উপকরণ, গুদামব্যবস্থা এবং আমদানিকারকের দায়বদ্ধতাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব।
নমনীয়তার সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও জরুরি
অবশ্য আমদানি সহজ করার সঙ্গে নতুন ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের কিছু অংশ আশঙ্কা করছে, সহজে আমদানি করা উপকরণের সুযোগ বাড়লে স্থানীয় পশ্চাৎমুখী সংযোগ দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে বিনামূল্যে সরবরাহ বা ঋণপত্রবিহীন লেনদেনের পরিমাণ বাড়লে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন, বিদেশে অর্থ নিষ্পত্তি এবং বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই সমাধান আমদানি বন্ধ করা নয়; বরং ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী নজরদারি করা।

প্রতিটি লেনদেনে একই ধরনের কাগজপত্র বা যাচাই আরোপ করার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বেশি কার্যকর হতে পারে। বিনামূল্যে পাওয়া পণ্যেরও যুক্তিসঙ্গত শুল্কমূল্য, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য, সরবরাহকারী ও আমদানিকারকের সম্পর্ক এবং পণ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
নিয়মিতভাবে বড় অঙ্কের বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেনে বাড়তি যাচাই দরকার। একই সঙ্গে পাকিস্তান সিঙ্গেল উইন্ডো ও ওয়েবিওসিকে ব্যাংকিং লেনদেন, করসংক্রান্ত তথ্য, প্রকৃত মালিকানার তথ্য এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যেতে পারে।
যারা ধারাবাহিকভাবে নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন, তাদের দ্রুত ছাড় দেওয়া এবং উচ্চঝুঁকির লেনদেনে বেশি পরিদর্শন ও আমদানির পরবর্তী নিরীক্ষা করা যেতে পারে।
নীতির সাফল্য বাস্তবায়নে
পাকিস্তানের আমদানি ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জারি করা সংশোধিত আদেশে নির্দিষ্ট কিছু বর্জ্য ও স্ক্র্যাপ পণ্যের শ্রেণিকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে সরানো হয়েছে, বিভিন্ন পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহৃত অবস্থায় আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এগুলো দেখায় যে আমদানি নীতি স্থির কোনো কাঠামো নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজন পণ্যভিত্তিক পরিবর্তনের পাশাপাশি আমদানি কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, সেটিও পুনর্বিবেচনা করা।
একই বিষয় অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত গাড়ি বা যন্ত্রাংশ এনে সংস্কার করে পুনঃরপ্তানির মতো প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করতে আমদানি নীতি, রপ্তানি সুবিধা, নিরাপত্তা জামানত, হিসাব মেলানো, পুনঃরপ্তানি এবং অবশিষ্ট যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনার নিয়ম একসঙ্গে সমন্বয় করতে হয়।
অর্থাৎ ব্যবসায়িকভাবে কার্যকর একটি রপ্তানি কার্যক্রমকে অনেক সময় একাধিক সরকারি বিধি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। নীতির সামগ্রিক সাফল্য তাই শুধু একটি আদেশ জারির ওপর নির্ভর করতে পারে না।
২০২৬-৩১ নীতিতে প্রয়োজন সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি
নতুন কৌশলগত বাণিজ্যনীতি প্রণয়নের সময় পাকিস্তানের সামনে সুযোগ রয়েছে আগের নীতির অসম্পূর্ণ কাজগুলোকে আরও বাস্তবসম্মতভাবে এগিয়ে নেওয়ার।
বিকল্প লেনদেন কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্টতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য যৌথ বন্ডেড সুবিধা, উৎপাদন ও রপ্তানির প্রয়োজনীয় উপকরণের জন্য নির্ভরযোগ্য আমদানি ব্যবস্থা এবং সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা—এসবকে নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা যেতে পারে।
তবে প্রতিটি সংস্কারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আদেশ, ডিজিটাল ব্যবস্থা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা স্পষ্ট করা জরুরি। নীতির ভাষা যতই আকর্ষণীয় হোক, ব্যবসা যখন বাস্তবে সুবিধা নিতে গিয়ে একাধিক দপ্তরের অনুমোদন ও জটিল প্রক্রিয়ায় আটকে যায়, তখন সেই নীতির অর্থনৈতিক সুফল সীমিত হয়ে পড়ে।
পাকিস্তানের বৈদেশিক হিসাব এখনো সতর্কতার দাবি রাখে। আমদানি রপ্তানির তুলনায় দ্রুত বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের উন্নতি সীমিত এবং মূল্যস্ফীতির চাপও রয়েছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে শৃঙ্খলা অপরিহার্য।
কিন্তু বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদনশীল আমদানির সুযোগ—এই দুই লক্ষ্যকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং সীমিত বৈদেশিক মুদ্রা এমন খাতে ব্যবহার করা উচিত, যা উৎপাদন বাড়ায়, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত করে এবং ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষমতা তৈরি করে।
শেষ পর্যন্ত একটি রপ্তানিমুখী অর্থনীতির সাফল্য শুধু কত বেশি পণ্য বিদেশে বিক্রি করা হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। সেই পণ্য তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও উপকরণ কত দ্রুত, স্বচ্ছ এবং যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থায় পাওয়া গেল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানের নতুন বাণিজ্যনীতি তাই আমদানিকে শুধু নিয়ন্ত্রণের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদনশীল আমদানি দ্রুত হবে, ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন কঠোর নজরদারিতে থাকবে এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান—বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা—অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে পড়বে না।
রপ্তানি বাড়ানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে, যখন একটি দেশ বুঝবে—বৈশ্বিক বাজারে আরও বেশি বিক্রি করতে হলে কখন, কী এবং কী উদ্দেশ্যে আমদানি করতে হবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রিজওয়ান 


















