১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি পুরোনো সত্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে—যুদ্ধ যতই তীব্র হোক, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রগুলোকে কোনো না কোনো পর্যায়ে আলোচনার টেবিলে ফিরতেই হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ভাষণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং একই সময়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ—এই তিনটি ঘটনা পরস্পরবিরোধী মনে হলেও বাস্তবে একটি একই সংকটের ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

ইরান আত্মসমর্পণ করবে না—পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের মূল সুর ছিল সেটিই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার সমালোচনা করেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং নিহতদের ছবি দেখিয়ে যুদ্ধের মানবিক মূল্য সামনে এনেছেন। একই সঙ্গে তিনি আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। বরং বলেছেন, ইরান সংলাপ ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তবে শক্তির ভাষা মেনে নেবে না।

এই অবস্থানকে কেবল বক্তৃতার রাজনৈতিক ভাষা হিসেবে দেখলে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বাদ পড়ে যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায় যে সংঘাতের পক্ষগুলোর হিসাব কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে না। মঙ্গলবার কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ সেই বাস্তবতারই ইঙ্গিত দেয়। আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় উঠে এসেছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পারমাণবিক কর্মসূচিই এখানে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। তেহরান বলছে, তার কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ এবং চিকিৎসা গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়েই আপত্তি জানিয়ে আসছে। ফলে বিরোধটি শুধু সামরিক হামলা বা নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন নয়; এর কেন্দ্রে রয়েছে নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর অবিশ্বাস।

এখানেই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। একদিকে যুদ্ধের হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার ইঙ্গিত। একদিকে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার ভাষা, অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ। এই দ্বৈততা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলোর বাস্তব সীমাবদ্ধতার প্রকাশ। সামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব, কিন্তু রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করা সম্ভব নয়।U.N. Gathers Amid Its 80th Anniversary and a 'Free Fall' - The New York Times

জাতিসংঘও এই সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়না হয়ে উঠেছে। সাধারণ পরিষদে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রতিবাদ হিসেবে সভাকক্ষ ত্যাগ করার ঘটনা নতুন নয়। ইতিহাসে আলজেরিয়া, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইরান-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতেও এমন কূটনৈতিক প্রতিবাদ দেখা গেছে। এর অর্থ হলো, জাতিসংঘ কেবল রাষ্ট্রগুলোর বক্তব্য শোনার জায়গা নয়; এটি আন্তর্জাতিক বিরোধের প্রতীকী সংঘর্ষেরও মঞ্চ।

কিন্তু প্রতীকী প্রতিবাদ আর কার্যকর কূটনীতি এক বিষয় নয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ রাষ্ট্রগুলোকে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে পারে, আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্ত জোর করে বদলে দিতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা এবারের অধিবেশনেও স্পষ্ট। ইউক্রেন, সিরিয়া, ইরান এবং অন্যান্য সংকট একই সময়ে আলোচনায় থাকলেও প্রতিটি সংঘাতের সমাধান শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কী হবে? যদি সামরিক শক্তি কেবল নতুন হামলা, নতুন প্রতিশোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার জন্ম দেয়, তাহলে সংঘাতের পরিধি বাড়তে থাকবে। কিন্তু যদি সামরিক চাপকে আলোচনার জন্য একটি পথ তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে একই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্ষেত্রে সেই পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ। পারস্পরিক অবিশ্বাস গভীর, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অবস্থান কঠিন এবং সামরিক সংঘর্ষ ইতিমধ্যে মানবিক ক্ষতি তৈরি করেছে। তবু দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের যোগাযোগের ঘটনা দেখাচ্ছে যে কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এখন মূল প্রশ্ন সেই দরজাটি খোলা রাখার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কি না। যুদ্ধের ময়দানে শক্তি প্রদর্শন যত সহজ, সমঝোতার শর্ত মেনে নেওয়া তত কঠিন। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, স্থায়ী সমাধান সাধারণত বিজয়ের ঘোষণায় নয়, বরং এমন এক সমঝোতায় আসে যেখানে প্রতিপক্ষও মুখ রক্ষা করার সুযোগ পায়।

জাতিসংঘের মঞ্চে কঠোর বক্তৃতা তাই যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পর্দার আড়ালে চলা যোগাযোগ। কারণ বক্তৃতা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শেষ পর্যন্ত কথা বলতে হয় সেই পক্ষের সঙ্গেই, যাকে এতক্ষণ শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সেই বাস্তবতারই পরীক্ষা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা

০৯:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি পুরোনো সত্যকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে—যুদ্ধ যতই তীব্র হোক, শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রগুলোকে কোনো না কোনো পর্যায়ে আলোচনার টেবিলে ফিরতেই হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ভাষণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং একই সময়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ—এই তিনটি ঘটনা পরস্পরবিরোধী মনে হলেও বাস্তবে একটি একই সংকটের ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

ইরান আত্মসমর্পণ করবে না—পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের মূল সুর ছিল সেটিই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার সমালোচনা করেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং নিহতদের ছবি দেখিয়ে যুদ্ধের মানবিক মূল্য সামনে এনেছেন। একই সঙ্গে তিনি আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি। বরং বলেছেন, ইরান সংলাপ ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তবে শক্তির ভাষা মেনে নেবে না।

এই অবস্থানকে কেবল বক্তৃতার রাজনৈতিক ভাষা হিসেবে দেখলে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বাদ পড়ে যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায় যে সংঘাতের পক্ষগুলোর হিসাব কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে না। মঙ্গলবার কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ সেই বাস্তবতারই ইঙ্গিত দেয়। আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় উঠে এসেছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পারমাণবিক কর্মসূচিই এখানে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। তেহরান বলছে, তার কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ এবং চিকিৎসা গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়েই আপত্তি জানিয়ে আসছে। ফলে বিরোধটি শুধু সামরিক হামলা বা নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন নয়; এর কেন্দ্রে রয়েছে নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর অবিশ্বাস।

এখানেই বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য। একদিকে যুদ্ধের হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার ইঙ্গিত। একদিকে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার ভাষা, অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ। এই দ্বৈততা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়া রাষ্ট্রগুলোর বাস্তব সীমাবদ্ধতার প্রকাশ। সামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব, কিন্তু রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করা সম্ভব নয়।U.N. Gathers Amid Its 80th Anniversary and a 'Free Fall' - The New York Times

জাতিসংঘও এই সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়না হয়ে উঠেছে। সাধারণ পরিষদে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের প্রতিবাদ হিসেবে সভাকক্ষ ত্যাগ করার ঘটনা নতুন নয়। ইতিহাসে আলজেরিয়া, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইরান-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতেও এমন কূটনৈতিক প্রতিবাদ দেখা গেছে। এর অর্থ হলো, জাতিসংঘ কেবল রাষ্ট্রগুলোর বক্তব্য শোনার জায়গা নয়; এটি আন্তর্জাতিক বিরোধের প্রতীকী সংঘর্ষেরও মঞ্চ।

কিন্তু প্রতীকী প্রতিবাদ আর কার্যকর কূটনীতি এক বিষয় নয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ রাষ্ট্রগুলোকে মত প্রকাশের সুযোগ দিতে পারে, আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্ত জোর করে বদলে দিতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতা এবারের অধিবেশনেও স্পষ্ট। ইউক্রেন, সিরিয়া, ইরান এবং অন্যান্য সংকট একই সময়ে আলোচনায় থাকলেও প্রতিটি সংঘাতের সমাধান শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কী হবে? যদি সামরিক শক্তি কেবল নতুন হামলা, নতুন প্রতিশোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার জন্ম দেয়, তাহলে সংঘাতের পরিধি বাড়তে থাকবে। কিন্তু যদি সামরিক চাপকে আলোচনার জন্য একটি পথ তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে একই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্ষেত্রে সেই পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ। পারস্পরিক অবিশ্বাস গভীর, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অবস্থান কঠিন এবং সামরিক সংঘর্ষ ইতিমধ্যে মানবিক ক্ষতি তৈরি করেছে। তবু দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের যোগাযোগের ঘটনা দেখাচ্ছে যে কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এখন মূল প্রশ্ন সেই দরজাটি খোলা রাখার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কি না। যুদ্ধের ময়দানে শক্তি প্রদর্শন যত সহজ, সমঝোতার শর্ত মেনে নেওয়া তত কঠিন। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, স্থায়ী সমাধান সাধারণত বিজয়ের ঘোষণায় নয়, বরং এমন এক সমঝোতায় আসে যেখানে প্রতিপক্ষও মুখ রক্ষা করার সুযোগ পায়।

জাতিসংঘের মঞ্চে কঠোর বক্তৃতা তাই যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পর্দার আড়ালে চলা যোগাযোগ। কারণ বক্তৃতা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শেষ পর্যন্ত কথা বলতে হয় সেই পক্ষের সঙ্গেই, যাকে এতক্ষণ শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সেই বাস্তবতারই পরীক্ষা চলছে।