০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮ ছোট দামে বৈদ্যুতিক গাড়ির নতুন চমক, ২০২৭ সালে আসছে নিসান পিক্সো লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘স্টার ওয়ার্স’-এর মতো জাদুময় জাদুঘর, লুকাস মিউজিয়ামের স্থাপত্যে মুগ্ধতা ও বিতর্ক কুকুরের শরীরে পিসু নাকি টিক? পার্থক্য জানুন, রক্ষা করুন প্রিয় পোষ্যকে কোহাটের কাছে আফগান তালেবানের পাঠানো দুই ড্রোন ভূপাতিত: পাকিস্তান প্রাচীন দাবানল থেকেই কি মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা? আগুন ও ভূমিধসের নতুন রহস্য ঘোলা পানিতে মাছের আচরণে চমক, খাবার খুঁজতে আরও কাছাকাছি হয় দল প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা জরুরি নয়, গতি বাড়ালেও মিলতে পারে বড় উপকার রিফর্ম ইউকে বলছে ব্রিটেন ভেঙে পড়েছে, কিন্তু বার্মিংহাম বলছে অন্য গল্প উচ্চ খরচ, কম উচ্চাকাঙ্ক্ষা—রপ্তানি বাঁচাতে পাকিস্তানের সামনে দুই দিকের লড়াই

এক দশকে বদলে গেছে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সমীকরণ, ওয়াশিংটনে আরও আত্মবিশ্বাসী শি

প্রায় এক দশক পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে এবার ওয়াশিংটনে তাঁর অবস্থান ২০১৭ সালের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। তখন চীন ছিল প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রভাবের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরশীল। আর এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি প্রযুক্তি, উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সক্ষমতা তৈরি করেছে।

ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এবারের বৈঠকে শি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনের কথা বলবেন না, বরং চীনের বদলে যাওয়া অবস্থানও তুলে ধরতে পারবেন। বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারণী মহলে এখন এমন ধারণা জোরালো যে, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো একতরফাভাবে চীনের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিন উ শিনবো বলেন, প্রায় এক দশক আগের তুলনায় চীন এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এখন এমন পর্যায়ে এসেছে, যেখানে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে আরও সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আচরণ করতে হবে।

প্রযুক্তি ও উৎপাদনে বড় পরিবর্তন

২০১৭ সালের পর চীন প্রযুক্তি খাতে দ্রুত নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আসছে। চীনা মহাকাশ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট, জ্বালানি ও মেমোরি চিপসহ বিভিন্ন খাতের চীনা কোম্পানি শেয়ারবাজারে বড় ধরনের আত্মপ্রকাশ করেছে।

চীনের শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতাও দেশটির বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। গত বছর দেশটির বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর প্যানেল ও চিপের মতো পণ্যের বাড়তি চাহিদা এতে ভূমিকা রেখেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিরল মাটির খনিজসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থায় চীনের শক্ত অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি দ্বন্দ্বে এসব সম্পদ এখন বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে বেইজিং

চীনের আত্মবিশ্বাসের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চীনা পণ্য ও প্রযুক্তির ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পর বেইজিং নিজস্ব প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে আরও জোর দেয়।

China's standing rises across Latin America as US reputation plummets |  International | EL PAÍS English

রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি, মহাকাশ, নতুন জ্বালানি এবং চিপ—এসব খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি তৈরি করা নয়, সেগুলোকে দেশের শিল্প ও অর্থনীতির বিভিন্ন অংশে দ্রুত ব্যবহার করা।

হুয়াওয়ের ঘটনাটি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ওঠা এই চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। শির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঠিক আগে হুয়াওয়ে জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ‘অ্যাসেন্ড’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

হুয়াওয়ের ঘূর্ণায়মান চেয়ারম্যান এরিক শু সম্প্রতি বলেছেন, চীনের ভবিষ্যৎ অন্য কেউ চীনে চিপ বিক্রি করবে কি না, তার ওপর নির্ভর করতে পারে না।

চীনে হুয়াওয়ের অগ্রগতি জাতীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এমনকি চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য ফোন নিয়ে আলোচনার সময়ও অনেকে উল্লেখ করছেন, হুয়াওয়ে এর আগেই এ ধরনের ফোন বাজারে এনেছিল।

অর্থনীতিতে সাফল্যের পাশাপাশি চাপও আছে

তবে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানেই দেশটির অর্থনীতি সব দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে—এমন নয়। দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বেশ কিছু চাপ রয়ে গেছে।

তরুণদের বেকারত্ব সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ খাবার সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহনের মতো কাজকে প্রধান জীবিকার উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন। ভোক্তা ব্যয় প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল। স্থানীয় সরকারগুলো ঋণের চাপে রয়েছে এবং বিশাল আবাসন খাতের সংকটও পুরোপুরি কাটেনি।

চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও অর্থনীতি আগের মতো ভালো নেই—এমন ধারণা রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারায় দেশটির মানুষের মধ্যে এক ধরনের জাতীয় আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন প্রতিযোগিতা

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের আরেকটি বড় ক্ষেত্র এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও চীনে প্রযুক্তিটির দৈনন্দিন ব্যবহার ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে আগ্রহও প্রবল।

কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও দেখা হচ্ছে। চীনের কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির বিকাশকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখবে—এমন প্রত্যাশাও দেশটির সমাজে রয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন নিরাপত্তার কারণে ধীর করা যাবে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে।

Confident Xi may have the edge in his almost decade-long war with Trump

এই পরিস্থিতিতে শির এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঠেকানো। বেইজিং চায় অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও পূর্বানুমানযোগ্য হোক এবং তাইওয়ান ও প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মতো স্পর্শকাতর বিষয় যেন পুরো সম্পর্ককে অস্থিতিশীল না করে।

বিরল মাটি ও বাণিজ্যযুদ্ধে পারস্পরিক নির্ভরতা

তবে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে সংঘাত তৈরি হলে পরিস্থিতি আবারও কঠিন হতে পারে। গত বছর দুই দেশের অর্থনীতি প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছিল। পরে বাণিজ্যযুদ্ধের একটি সাময়িক সমঝোতা হয়।

সেই সমঝোতার আগে বেইজিং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল মাটির খনিজ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর হুমকি দিয়েছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও কালো তালিকাভুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল।

ফলে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা হলো—কেউই পুরোপুরি অন্য পক্ষকে চাপ দিয়ে নিজের শর্ত মানাতে পারছে না। এশিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা অংশীদার কার্ট টংয়ের মতে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের হাতে এমন পারস্পরিক চাপের উপায় রয়েছে যে অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল হতে পারে।

এই বাস্তবতায় ট্রাম্পের কাছে শি এখন আগের তুলনায় ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। টংয়ের ভাষায়, ট্রাম্প এখন শিকে এমন একজন সমকক্ষ হিসেবে দেখছেন, যাকে সহজে চাপ দিয়ে নত করা যাবে—এমন অবস্থান আর নেই।

বৈশ্বিক প্রভাবেও পরিবর্তন

চীনের পরিবর্তন শুধু অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে চীনের ভাবমূর্তিতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে।

জুলাইয়ে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ৩৬টি দেশের মধ্যে বেশির ভাগ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। একই জরিপে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থার মাত্রাও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় সামান্য বেশি ছিল।

চীনের ‘সফট পাওয়ার’ও বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায় চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। লাবুবু খেলনা, চীনা টেলিভিশন নাটক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনকে ঘিরে নতুন আগ্রহ দেশটিতে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কৌতূহল বাড়িয়েছে।

শি নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ধারণা তুলে ধরতে একাধিক বিদেশ সফর করেছেন। চলতি মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে তিনি সদস্য দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরিতে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। মিসরে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাবও দেন।

ইরান ইস্যুতেও চীনের হাতে প্রভাব

ওয়াশিংটনের সঙ্গে এবারের আলোচনায় ইরান ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলছে। আর ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারগুলোর একটি চীন।

শির সফরের আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনার একটি উদ্দেশ্য ছিল ইরান ইস্যুতে অবস্থান পরিষ্কার করা, যাতে ওয়াশিংটনে শি ও ট্রাম্পের মধ্যে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়।

চীনের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক উ শিনবোর মতে, বেইজিং ওয়াশিংটনকে বোঝাতে চাইতে পারে যে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা চীনা ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জটিল করবে। একই সঙ্গে চীন সামরিক সমাধান বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে ইরান সংকটের সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

Decline Or Resurgence? China Debates The Future Of US Power - Analysis -  Eurasia Review

তাইওয়ান ও মানবাধিকার বেইজিংয়ের ‘লাল রেখা’

তবে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিলেও শির সফরের ঝুঁকি কম নয়। চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর মধ্যে তাইওয়ান, মানবাধিকার, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, উন্নয়নের পথ এবং প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং বলেছেন, তাইওয়ান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও উন্নয়নের পথ এবং দেশটির উন্নয়নের অধিকার—এই চারটি বিষয় বেইজিংয়ের ‘লাল রেখা’।

অর্থাৎ ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক চাইলেও চীন এখন এমন অবস্থানে যেতে চাইছে না, যেখানে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নিজের মূল স্বার্থে ছাড় দিতে হবে।

২০১৭ সালের পর প্রায় এক দশকে তাই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভারসাম্য অনেকটাই বদলেছে। চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক চায়, কারণ বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে দুই দেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু একই সময়ে বেইজিং দেখাতে চাইছে, চীনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।

ওয়াশিংটনে শি-ট্রাম্প বৈঠকের মূল প্রশ্ন তাই শুধু নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা শুল্ক সমঝোতা হবে কি না, তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো—দুই দেশ এমন এক পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্যের মধ্যে কীভাবে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার সীমা নির্ধারণ করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮

এক দশকে বদলে গেছে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সমীকরণ, ওয়াশিংটনে আরও আত্মবিশ্বাসী শি

০২:২২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রায় এক দশক পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে এবার ওয়াশিংটনে তাঁর অবস্থান ২০১৭ সালের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। তখন চীন ছিল প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রভাবের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরশীল। আর এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি প্রযুক্তি, উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সক্ষমতা তৈরি করেছে।

ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এবারের বৈঠকে শি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনের কথা বলবেন না, বরং চীনের বদলে যাওয়া অবস্থানও তুলে ধরতে পারবেন। বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারণী মহলে এখন এমন ধারণা জোরালো যে, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো একতরফাভাবে চীনের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিন উ শিনবো বলেন, প্রায় এক দশক আগের তুলনায় চীন এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এখন এমন পর্যায়ে এসেছে, যেখানে ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গে আরও সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে আচরণ করতে হবে।

প্রযুক্তি ও উৎপাদনে বড় পরিবর্তন

২০১৭ সালের পর চীন প্রযুক্তি খাতে দ্রুত নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি করছে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আসছে। চীনা মহাকাশ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট, জ্বালানি ও মেমোরি চিপসহ বিভিন্ন খাতের চীনা কোম্পানি শেয়ারবাজারে বড় ধরনের আত্মপ্রকাশ করেছে।

চীনের শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতাও দেশটির বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। গত বছর দেশটির বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর প্যানেল ও চিপের মতো পণ্যের বাড়তি চাহিদা এতে ভূমিকা রেখেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিরল মাটির খনিজসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থায় চীনের শক্ত অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি দ্বন্দ্বে এসব সম্পদ এখন বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে বেইজিং

চীনের আত্মবিশ্বাসের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চীনা পণ্য ও প্রযুক্তির ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পর বেইজিং নিজস্ব প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে আরও জোর দেয়।

China's standing rises across Latin America as US reputation plummets |  International | EL PAÍS English

রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি, মহাকাশ, নতুন জ্বালানি এবং চিপ—এসব খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি তৈরি করা নয়, সেগুলোকে দেশের শিল্প ও অর্থনীতির বিভিন্ন অংশে দ্রুত ব্যবহার করা।

হুয়াওয়ের ঘটনাটি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ওঠা এই চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। শির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঠিক আগে হুয়াওয়ে জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ‘অ্যাসেন্ড’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

হুয়াওয়ের ঘূর্ণায়মান চেয়ারম্যান এরিক শু সম্প্রতি বলেছেন, চীনের ভবিষ্যৎ অন্য কেউ চীনে চিপ বিক্রি করবে কি না, তার ওপর নির্ভর করতে পারে না।

চীনে হুয়াওয়ের অগ্রগতি জাতীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এমনকি চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপলের নতুন ভাঁজযোগ্য ফোন নিয়ে আলোচনার সময়ও অনেকে উল্লেখ করছেন, হুয়াওয়ে এর আগেই এ ধরনের ফোন বাজারে এনেছিল।

অর্থনীতিতে সাফল্যের পাশাপাশি চাপও আছে

তবে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানেই দেশটির অর্থনীতি সব দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে—এমন নয়। দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বেশ কিছু চাপ রয়ে গেছে।

তরুণদের বেকারত্ব সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ খাবার সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহনের মতো কাজকে প্রধান জীবিকার উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন। ভোক্তা ব্যয় প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল। স্থানীয় সরকারগুলো ঋণের চাপে রয়েছে এবং বিশাল আবাসন খাতের সংকটও পুরোপুরি কাটেনি।

চীনের সাধারণ মানুষের মধ্যেও অর্থনীতি আগের মতো ভালো নেই—এমন ধারণা রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারায় দেশটির মানুষের মধ্যে এক ধরনের জাতীয় আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন প্রতিযোগিতা

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের আরেকটি বড় ক্ষেত্র এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও চীনে প্রযুক্তিটির দৈনন্দিন ব্যবহার ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে আগ্রহও প্রবল।

কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও দেখা হচ্ছে। চীনের কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির বিকাশকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখবে—এমন প্রত্যাশাও দেশটির সমাজে রয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন নিরাপত্তার কারণে ধীর করা যাবে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে।

Confident Xi may have the edge in his almost decade-long war with Trump

এই পরিস্থিতিতে শির এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঠেকানো। বেইজিং চায় অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও পূর্বানুমানযোগ্য হোক এবং তাইওয়ান ও প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মতো স্পর্শকাতর বিষয় যেন পুরো সম্পর্ককে অস্থিতিশীল না করে।

বিরল মাটি ও বাণিজ্যযুদ্ধে পারস্পরিক নির্ভরতা

তবে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে সংঘাত তৈরি হলে পরিস্থিতি আবারও কঠিন হতে পারে। গত বছর দুই দেশের অর্থনীতি প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছিল। পরে বাণিজ্যযুদ্ধের একটি সাময়িক সমঝোতা হয়।

সেই সমঝোতার আগে বেইজিং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল মাটির খনিজ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর হুমকি দিয়েছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও কালো তালিকাভুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল।

ফলে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা হলো—কেউই পুরোপুরি অন্য পক্ষকে চাপ দিয়ে নিজের শর্ত মানাতে পারছে না। এশিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা অংশীদার কার্ট টংয়ের মতে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের হাতে এমন পারস্পরিক চাপের উপায় রয়েছে যে অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল হতে পারে।

এই বাস্তবতায় ট্রাম্পের কাছে শি এখন আগের তুলনায় ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। টংয়ের ভাষায়, ট্রাম্প এখন শিকে এমন একজন সমকক্ষ হিসেবে দেখছেন, যাকে সহজে চাপ দিয়ে নত করা যাবে—এমন অবস্থান আর নেই।

বৈশ্বিক প্রভাবেও পরিবর্তন

চীনের পরিবর্তন শুধু অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে চীনের ভাবমূর্তিতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে।

জুলাইয়ে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ৩৬টি দেশের মধ্যে বেশির ভাগ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। একই জরিপে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থার মাত্রাও ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় সামান্য বেশি ছিল।

চীনের ‘সফট পাওয়ার’ও বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায় চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। লাবুবু খেলনা, চীনা টেলিভিশন নাটক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনকে ঘিরে নতুন আগ্রহ দেশটিতে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কৌতূহল বাড়িয়েছে।

শি নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ধারণা তুলে ধরতে একাধিক বিদেশ সফর করেছেন। চলতি মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে তিনি সদস্য দেশগুলোকে স্মার্ট কারখানা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরিতে সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। মিসরে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাবও দেন।

ইরান ইস্যুতেও চীনের হাতে প্রভাব

ওয়াশিংটনের সঙ্গে এবারের আলোচনায় ইরান ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলছে। আর ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারগুলোর একটি চীন।

শির সফরের আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনার একটি উদ্দেশ্য ছিল ইরান ইস্যুতে অবস্থান পরিষ্কার করা, যাতে ওয়াশিংটনে শি ও ট্রাম্পের মধ্যে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়।

চীনের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক উ শিনবোর মতে, বেইজিং ওয়াশিংটনকে বোঝাতে চাইতে পারে যে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা চীনা ব্যাংক বা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জটিল করবে। একই সঙ্গে চীন সামরিক সমাধান বা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে ইরান সংকটের সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে।

Decline Or Resurgence? China Debates The Future Of US Power - Analysis -  Eurasia Review

তাইওয়ান ও মানবাধিকার বেইজিংয়ের ‘লাল রেখা’

তবে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিলেও শির সফরের ঝুঁকি কম নয়। চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর মধ্যে তাইওয়ান, মানবাধিকার, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, উন্নয়নের পথ এবং প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং বলেছেন, তাইওয়ান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও উন্নয়নের পথ এবং দেশটির উন্নয়নের অধিকার—এই চারটি বিষয় বেইজিংয়ের ‘লাল রেখা’।

অর্থাৎ ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক চাইলেও চীন এখন এমন অবস্থানে যেতে চাইছে না, যেখানে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নিজের মূল স্বার্থে ছাড় দিতে হবে।

২০১৭ সালের পর প্রায় এক দশকে তাই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভারসাম্য অনেকটাই বদলেছে। চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক চায়, কারণ বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে দুই দেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু একই সময়ে বেইজিং দেখাতে চাইছে, চীনের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।

ওয়াশিংটনে শি-ট্রাম্প বৈঠকের মূল প্রশ্ন তাই শুধু নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা শুল্ক সমঝোতা হবে কি না, তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো—দুই দেশ এমন এক পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্যের মধ্যে কীভাবে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার সীমা নির্ধারণ করবে।