০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী বাবাকে হারিয়ে বদলে যাওয়ার লড়াই, অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন সালগাদো ভাইয়েরা ঢাকা মেডিকেলে দুই হাজতির মৃত্যু চট্টগ্রামে পিকআপ থামিয়ে ৫০ লাখ টাকার সিগারেট লুটের অভিযোগ

রাশিয়ার জ্বালানি-নির্ভরতা থেকে সবুজ শক্তির পথে হাঙ্গেরি, নেতৃত্বে NAP Energy

হাঙ্গেরি এখন অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও জ্বালানি-নিরাপত্তার নতুন এক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে আসছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত।

এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে ন্যাপ এনার্জি। ২০২০ সালে গাবর ফোলদভারিসহ তিনজন বিনিয়োগকারীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যেই হাঙ্গেরির অন্যতম উল্লেখযোগ্য তালিকাভুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে এখন বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও স্থানীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নতুন মডেল তৈরির দিকেও এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুরু থেকেই শেয়ারবাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

ন্যাপ এনার্জির চেয়ারম্যান গাবর ফোলদভারি জানান, প্রতিষ্ঠার শুরুতেই কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন বুদাপেস্ট স্টক এক্সচেঞ্জে আর কোনো নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি তালিকাভুক্ত ছিল না। ফলে ন্যাপ দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে এ ধরনের একমাত্র তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে।

তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় নয় গুণ বেড়ে যায়। বাইরে থেকে বিষয়টি বড় সাফল্য মনে হলেও ফোলদভারি এটিকে সাফল্য হিসেবে দেখেননি। বরং তিনি মনে করেন, কোম্পানির প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াটা ছিল একটি সমস্যা।

তার ভাষায়, ওই পর্যায়ের মূল্যকে কোম্পানির জন্য ‘ব্যর্থতা’ হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কারণ প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মূল্য এতটা ছিল না এবং ভবিষ্যতে অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ হতে পারেন—এমন আশঙ্কাও ছিল।

এই দৃষ্টিভঙ্গিই ন্যাপ এনার্জির বিনিয়োগ কৌশলকে অন্য অনেক দ্রুতবর্ধনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সতর্ক করেছে। কোম্পানি কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের প্রয়োজন না হলে নতুন করে অর্থ সংগ্রহ করতে চায় না। প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পেই বিনিয়োগ করার নীতি অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ

হাঙ্গেরির জ্বালানি ব্যবস্থায় গত এক দশকে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় গ্যাস ও তেলের জন্য দেশটি রাশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে সেই নির্ভরতার ঝুঁকি এখন আরও স্পষ্ট।

ফোলদভারি মনে করেন, অতীতে হাঙ্গেরির জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল অনেকটাই একমুখী। অর্থাৎ গ্যাস ও তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছিল। সেই বাস্তবতা থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

শুরুতে ন্যাপ এনার্জি হাঙ্গেরির সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত কেএটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি থেকে সুবিধা পেয়েছিল। এই ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ পেত।

তবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বুঝতে পারে, শুধু সরকারি সহায়তা বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তারা বিকল্প আয়ের পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক চুক্তির দিকে এগিয়ে যায়।

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তি

এই জায়গাতেই ন্যাপ এনার্জি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করে। কোম্পানিটি হাঙ্গেরিতে বড় একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বা পিপিএ করার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হয়ে ওঠে।

চুক্তিটির মেয়াদ ১০ বছর। এর মাধ্যমে একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়।

এ ধরনের চুক্তি শুধু ন্যাপ এনার্জির ব্যবসায়িক মডেলকেই শক্তিশালী করেনি, হাঙ্গেরির করপোরেট নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক দামে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসনভিত্তিক ব্যবসায়িক মানদণ্ডের গুরুত্ব বাড়তে থাকায় বড় কোম্পানিগুলোর কাছেও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সৌরবিদ্যুতের পর এবার ব্যাটারি সংরক্ষণ

ন্যাপ এনার্জির পরবর্তী বড় লক্ষ্য ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা বিইএসএস। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রয়োজনও দ্রুত বাড়ছে।

সৌরবিদ্যুৎ দিনের আলো ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে উৎপাদনের সময় এবং বিদ্যুতের চাহিদার সময় সবসময় এক হয় না। এই ব্যবধান কমাতে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফোলদভারি মনে করেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন। তাই সৌরবিদ্যুৎ থেকে বৃহত্তর জ্বালানি অবকাঠামো কোম্পানিতে রূপান্তরের পথে ব্যাটারি সংরক্ষণকে স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছে ন্যাপ।

প্রায় এক বছর ধরে প্রকল্প প্রস্তুতি ও অর্থায়ন নিয়ে কাজ করার পর কোম্পানিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০ মেগাওয়াট ব্যাটারি সংরক্ষণ ক্ষমতা স্থাপনের প্রত্যাশা করছে।

একই সঙ্গে অন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ বা কনসোর্টিয়াম কাঠামো নিয়েও কাজ করছে ন্যাপ। এর ফলে বড় আকারের প্রকল্পে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যয়ের সুবিধা পেতে পারে।

মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে স্থানীয় জ্বালানি বাজার

শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেনাবেচার ধরনও বদলে দিতে চায় ন্যাপ এনার্জি।

কোম্পানিটি এমন কমিউনিটিভিত্তিক জ্বালানি নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পৌরসভাগুলো সরাসরি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যবর্তী ধাপ বা মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমানো। এতে শেষ ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এ ধরনের মডেল সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের মধ্যে আরও সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি উৎপাদকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিনিয়োগে দ্রুত মুনাফার বদলে স্থিতিশীলতা

ন্যাপ এনার্জির বিনিয়োগ দর্শনও বেশ সতর্ক। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তাদের বিনিয়োগকারীরা মূলত নিয়মিত ও স্থিতিশীল আয়ের প্রত্যাশা করেন। তারা এমন বিনিয়োগকারী নন, যারা শুধু প্রকল্প উন্নয়নের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত বড় মুনাফা করতে চান।

ফলে কোম্পানি স্থিতিশীলতা, তুলনামূলক কম ঝুঁকি এবং ধারাবাহিক আয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই কৌশল নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে ন্যাপকে অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থান দিয়েছে। কোম্পানি বড় হওয়ার চেয়ে টেকসইভাবে বড় হওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বাধা গ্রিড সংযোগ

তবে হাঙ্গেরির নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সামনে বড় বাধাও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যুৎ গ্রিডে নতুন প্রকল্প যুক্ত করার সক্ষমতা।

নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্প তৈরি করলেই তা দ্রুত জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু প্রকল্পকে সংযোগ পাওয়ার জন্য কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ কারণে ন্যাপ এনার্জির চেয়ারম্যান সরকারের কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

অর্থাৎ নতুন প্রকল্পে সরকারের কাছ থেকে বিপুল অর্থ চাওয়ার পরিবর্তে দ্রুত অনুমোদন, গ্রিড সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যবসার বাইরেও নেতৃত্বের দর্শন

গাবর ফোলদভারির নেতৃত্ব শুধু জ্বালানি ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি হাঙ্গেরির জাতীয় সেচেনি গ্রন্থাগারের বোর্ড সদস্য ও কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তার ব্যবসায়িক ভূমিকার বাইরেও একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রা তৈরি করেছে।

তার ব্যবসায়িক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে পারস্পরিক লাভের ধারণা। তার মতে, সবচেয়ে ভালো চুক্তি হলো সেটিই, যেখানে আলোচনার টেবিল থেকে উঠে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষই মনে করে তারা লাভবান হয়েছে।

এই দর্শনই ন্যাপ এনার্জির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও প্রতিফলিত হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানি থেকে পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি অবকাঠামো প্ল্যাটফর্ম

ন্যাপ এনার্জির পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিষ্ঠানটি আর শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবে থাকতে চাইছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জ্বালানি সম্প্রদায়—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত জ্বালানি অবকাঠামো প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে।

হাঙ্গেরির সামনে যখন জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে উপস্থিত, তখন ন্যাপ এনার্জির মতো কোম্পানির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই পরিবর্তনের গতি নির্ভর করবে শুধু কোম্পানির বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নয়। বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন, প্রকল্প অনুমোদনের গতি, সরকারি নীতির ধারাবাহিকতা এবং করপোরেট পর্যায়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চাহিদার ওপরও এর ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

হাঙ্গেরি যদি রাশিয়াভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা থেকে আরও বৈচিত্র্যময় ও নিজস্ব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়, তাহলে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জ্বালানি নেটওয়ার্কের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেই পরিবর্তনের বাজারে ন্যাপ এনার্জি ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি

রাশিয়ার জ্বালানি-নির্ভরতা থেকে সবুজ শক্তির পথে হাঙ্গেরি, নেতৃত্বে NAP Energy

০৩:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাঙ্গেরি এখন অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও জ্বালানি-নিরাপত্তার নতুন এক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে আসছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত।

এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে ন্যাপ এনার্জি। ২০২০ সালে গাবর ফোলদভারিসহ তিনজন বিনিয়োগকারীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যেই হাঙ্গেরির অন্যতম উল্লেখযোগ্য তালিকাভুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে এখন বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও স্থানীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার নতুন মডেল তৈরির দিকেও এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুরু থেকেই শেয়ারবাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

ন্যাপ এনার্জির চেয়ারম্যান গাবর ফোলদভারি জানান, প্রতিষ্ঠার শুরুতেই কোম্পানিটিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন বুদাপেস্ট স্টক এক্সচেঞ্জে আর কোনো নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি তালিকাভুক্ত ছিল না। ফলে ন্যাপ দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে এ ধরনের একমাত্র তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে।

তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় নয় গুণ বেড়ে যায়। বাইরে থেকে বিষয়টি বড় সাফল্য মনে হলেও ফোলদভারি এটিকে সাফল্য হিসেবে দেখেননি। বরং তিনি মনে করেন, কোম্পানির প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াটা ছিল একটি সমস্যা।

তার ভাষায়, ওই পর্যায়ের মূল্যকে কোম্পানির জন্য ‘ব্যর্থতা’ হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কারণ প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত মূল্য এতটা ছিল না এবং ভবিষ্যতে অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ হতে পারেন—এমন আশঙ্কাও ছিল।

এই দৃষ্টিভঙ্গিই ন্যাপ এনার্জির বিনিয়োগ কৌশলকে অন্য অনেক দ্রুতবর্ধনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সতর্ক করেছে। কোম্পানি কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের প্রয়োজন না হলে নতুন করে অর্থ সংগ্রহ করতে চায় না। প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পেই বিনিয়োগ করার নীতি অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ

হাঙ্গেরির জ্বালানি ব্যবস্থায় গত এক দশকে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় গ্যাস ও তেলের জন্য দেশটি রাশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে সেই নির্ভরতার ঝুঁকি এখন আরও স্পষ্ট।

ফোলদভারি মনে করেন, অতীতে হাঙ্গেরির জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল অনেকটাই একমুখী। অর্থাৎ গ্যাস ও তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছিল। সেই বাস্তবতা থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

শুরুতে ন্যাপ এনার্জি হাঙ্গেরির সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত কেএটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি থেকে সুবিধা পেয়েছিল। এই ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ পেত।

তবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বুঝতে পারে, শুধু সরকারি সহায়তা বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়ে তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তারা বিকল্প আয়ের পথ এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক চুক্তির দিকে এগিয়ে যায়।

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তি

এই জায়গাতেই ন্যাপ এনার্জি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করে। কোম্পানিটি হাঙ্গেরিতে বড় একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বা পিপিএ করার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হয়ে ওঠে।

চুক্তিটির মেয়াদ ১০ বছর। এর মাধ্যমে একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়।

এ ধরনের চুক্তি শুধু ন্যাপ এনার্জির ব্যবসায়িক মডেলকেই শক্তিশালী করেনি, হাঙ্গেরির করপোরেট নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক দামে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসনভিত্তিক ব্যবসায়িক মানদণ্ডের গুরুত্ব বাড়তে থাকায় বড় কোম্পানিগুলোর কাছেও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সৌরবিদ্যুতের পর এবার ব্যাটারি সংরক্ষণ

ন্যাপ এনার্জির পরবর্তী বড় লক্ষ্য ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা বিইএসএস। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রয়োজনও দ্রুত বাড়ছে।

সৌরবিদ্যুৎ দিনের আলো ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে উৎপাদনের সময় এবং বিদ্যুতের চাহিদার সময় সবসময় এক হয় না। এই ব্যবধান কমাতে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফোলদভারি মনে করেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন। তাই সৌরবিদ্যুৎ থেকে বৃহত্তর জ্বালানি অবকাঠামো কোম্পানিতে রূপান্তরের পথে ব্যাটারি সংরক্ষণকে স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছে ন্যাপ।

প্রায় এক বছর ধরে প্রকল্প প্রস্তুতি ও অর্থায়ন নিয়ে কাজ করার পর কোম্পানিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০ মেগাওয়াট ব্যাটারি সংরক্ষণ ক্ষমতা স্থাপনের প্রত্যাশা করছে।

একই সঙ্গে অন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ বা কনসোর্টিয়াম কাঠামো নিয়েও কাজ করছে ন্যাপ। এর ফলে বড় আকারের প্রকল্পে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যয়ের সুবিধা পেতে পারে।

মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে স্থানীয় জ্বালানি বাজার

শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেনাবেচার ধরনও বদলে দিতে চায় ন্যাপ এনার্জি।

কোম্পানিটি এমন কমিউনিটিভিত্তিক জ্বালানি নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পৌরসভাগুলো সরাসরি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যবর্তী ধাপ বা মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমানো। এতে শেষ ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এ ধরনের মডেল সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের মধ্যে আরও সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি উৎপাদকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিনিয়োগে দ্রুত মুনাফার বদলে স্থিতিশীলতা

ন্যাপ এনার্জির বিনিয়োগ দর্শনও বেশ সতর্ক। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তাদের বিনিয়োগকারীরা মূলত নিয়মিত ও স্থিতিশীল আয়ের প্রত্যাশা করেন। তারা এমন বিনিয়োগকারী নন, যারা শুধু প্রকল্প উন্নয়নের উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত বড় মুনাফা করতে চান।

ফলে কোম্পানি স্থিতিশীলতা, তুলনামূলক কম ঝুঁকি এবং ধারাবাহিক আয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই কৌশল নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে ন্যাপকে অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থান দিয়েছে। কোম্পানি বড় হওয়ার চেয়ে টেকসইভাবে বড় হওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সবচেয়ে বড় বাধা গ্রিড সংযোগ

তবে হাঙ্গেরির নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সামনে বড় বাধাও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যুৎ গ্রিডে নতুন প্রকল্প যুক্ত করার সক্ষমতা।

নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্প তৈরি করলেই তা দ্রুত জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু প্রকল্পকে সংযোগ পাওয়ার জন্য কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ কারণে ন্যাপ এনার্জির চেয়ারম্যান সরকারের কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

অর্থাৎ নতুন প্রকল্পে সরকারের কাছ থেকে বিপুল অর্থ চাওয়ার পরিবর্তে দ্রুত অনুমোদন, গ্রিড সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যবসার বাইরেও নেতৃত্বের দর্শন

গাবর ফোলদভারির নেতৃত্ব শুধু জ্বালানি ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি হাঙ্গেরির জাতীয় সেচেনি গ্রন্থাগারের বোর্ড সদস্য ও কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তার ব্যবসায়িক ভূমিকার বাইরেও একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মাত্রা তৈরি করেছে।

তার ব্যবসায়িক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে পারস্পরিক লাভের ধারণা। তার মতে, সবচেয়ে ভালো চুক্তি হলো সেটিই, যেখানে আলোচনার টেবিল থেকে উঠে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষই মনে করে তারা লাভবান হয়েছে।

এই দর্শনই ন্যাপ এনার্জির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও প্রতিফলিত হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানি থেকে পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি অবকাঠামো প্ল্যাটফর্ম

ন্যাপ এনার্জির পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিষ্ঠানটি আর শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবে থাকতে চাইছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জ্বালানি সম্প্রদায়—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত জ্বালানি অবকাঠামো প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে।

হাঙ্গেরির সামনে যখন জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে উপস্থিত, তখন ন্যাপ এনার্জির মতো কোম্পানির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই পরিবর্তনের গতি নির্ভর করবে শুধু কোম্পানির বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নয়। বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন, প্রকল্প অনুমোদনের গতি, সরকারি নীতির ধারাবাহিকতা এবং করপোরেট পর্যায়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চাহিদার ওপরও এর ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

হাঙ্গেরি যদি রাশিয়াভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা থেকে আরও বৈচিত্র্যময় ও নিজস্ব জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়, তাহলে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জ্বালানি নেটওয়ার্কের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেই পরিবর্তনের বাজারে ন্যাপ এনার্জি ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।