০৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘সুপার এল নিনো’ আসছে? বিশ্বজুড়ে বন্যা, খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের শঙ্কা ভারতের প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ: মানদণ্ডের ভোক্তা নয়, নির্মাতা হতে হবে যুদ্ধে মৃত রাজপুত্র ও সাধুদের দেহাবশেষ পাঠাচ্ছে রাশিয়া, কেন? ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরের দাপট, বিলীন হচ্ছে সৈকত-ঘরবাড়ি; সামনে আরও ভয়ংকর শীত? হোয়াইট হাউসের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: আদালতের আদেশে আপাতত ফিরল সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও ওবামাকেয়ার ছাড়ছেন লাখো মার্কিন, স্বাস্থ্যবিমায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা ট্রাম্পের কূটনৈতিক সপ্তাহে ফুটে উঠল ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় নয়, শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজও বন্ধ ইরানের শান্তি প্রস্তাবে ট্রাম্পের না, হরমুজ ঘিরে যুদ্ধের নতুন শঙ্কা পারিবারিক বিরোধে রংপুরে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

ভারতের প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ: মানদণ্ডের ভোক্তা নয়, নির্মাতা হতে হবে

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রযুক্তি আর কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি খাত নয়; এটি রাষ্ট্রীয় সেবা, ব্যবসা, আর্থিক লেনদেন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশে ইন্টারনেটের বিস্তার এবং বিপুল সংখ্যক স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা রয়ে গেছে—ভারত যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে, তার বড় অংশের মৌলিক মানদণ্ড ও মেধাস্বত্ব অন্যদের হাতে।

সমস্যা তাই শুধু কত প্রযুক্তি ভারত ব্যবহার করছে, তা নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করবে, সেই বৈশ্বিক নিয়ম নির্ধারণে ভারতের ভূমিকা কতটা।

মেধাস্বত্বের গুরুত্ব নতুন করে বোঝার সময়

ভারতে পেটেন্ট নিবন্ধনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতীয় পেটেন্ট দপ্তর এক লাখ পেটেন্ট মঞ্জুর করেছে। কিন্তু বৈশ্বিক প্রযুক্তিতে ভারতের অবদান এখনো শূন্য দশমিক এক শতাংশের নিচে। অর্থাৎ উদ্ভাবনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনো অনেকাংশে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

এই বাস্তবতায় মেধাস্বত্বকে কেবল উদ্ভাবকের ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে দেখলে চলবে না। স্ট্যান্ডার্ড এসেনশিয়াল পেটেন্ট এমন প্রযুক্তিকে সুরক্ষা দেয়, যা কোনো বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ড কার্যকর করতে অপরিহার্য। এর মাধ্যমে উদ্ভাবক প্রযুক্তি প্রকাশ করেন এবং অন্যরা নির্ধারিত ন্যায্য শর্তে তা ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

When algorithms turn against us: AI in the hands of cybercriminals -  Express Computer

মেধাস্বত্বের সুরক্ষা দুর্বল হলে প্রযুক্তি সহজলভ্য হবে—এ ধারণা আপাতদৃষ্টিতে আকর্ষণীয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। গবেষক ও প্রতিষ্ঠান যদি আশঙ্কা করে যে তাদের উদ্ভাবন যথাযথ স্বীকৃতি বা অর্থনৈতিক প্রতিদান ছাড়াই ব্যবহার করা হবে, তাহলে তারা নতুন প্রযুক্তি প্রকাশ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

এর প্রভাব কেবল পেটেন্ট মালিকের ওপর পড়ে না। ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল সেবা এবং সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারও এর সঙ্গে যুক্ত।

ভারতের ডিজিটাল সাফল্যের সঙ্গে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সম্পর্ক

জনধন হিসাব, আধারভিত্তিক সরাসরি অর্থ স্থানান্তর এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের মতো ভারতের বৃহৎ ডিজিটাল উদ্যোগগুলো আন্তঃসংযুক্ত প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিপণ্যের বাজারসংক্রান্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও একই ধরনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সুবিধা ব্যবহার করে।

তাই মেধাস্বত্বের মূল্যায়নকে শুধু লাইসেন্স ফি বা পেটেন্ট মালিকের আয় দিয়ে বিচার করলে চলবে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এমন একটি উদ্ভাবন-ব্যবস্থা, যেখানে প্রযুক্তি তৈরি, প্রকাশ, মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্তি এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার—সবগুলো ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

এই ভারসাম্য রক্ষায় ফেয়ার, রিজনেবল অ্যান্ড নন-ডিসক্রিমিনেটরি বা এফআরএএনডি নীতি গুরুত্বপূর্ণ। এর লক্ষ্য হলো, মানদণ্ডের জন্য অপরিহার্য প্রযুক্তির মালিক যেন ন্যায্য প্রতিদান পান এবং একই সঙ্গে সেই প্রযুক্তি অন্য ব্যবহারকারীদের কাছেও যুক্তিসংগত শর্তে উন্মুক্ত থাকে।

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় এই ভারসাম্য নিয়ে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো তৈরি হয়েছে। ইউরোপের হুয়াওয়ে বনাম জেডটিই মামলায় পক্ষগুলোর আলোচনার সদিচ্ছা ও সৎ আচরণের গুরুত্ব উঠে আসে। যুক্তরাজ্যের আনওয়্যার্ড প্ল্যানেট বনাম হুয়াওয়ে মামলাতেও বাজারের বাস্তবতা, লাইসেন্সের কাঠামো এবং তুলনীয় চুক্তি বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।

ভারতের আইনি কাঠামোতে অনিশ্চয়তা

The birth of Edge AI: A new era of smart, secure and scalable consumer tech  devices?

ভারতেও স্ট্যান্ডার্ড এসেনশিয়াল পেটেন্ট নিয়ে বিচারিক অবস্থান সময়ের সঙ্গে বিকশিত হয়েছে। ২০১৮ সালের ফিলিপস বনাম রাজেশ বনসাল মামলাকে ভারতের উচ্চমূল্যের ও জটিল পেটেন্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

কিন্তু ২০২৬ সালের মে মাসে দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। এর ফলে ভারতে এসইপি প্রয়োগের আগের আইনি কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এখানে মূল উদ্বেগ হলো, পেটেন্ট অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রমাণের মানদণ্ড যদি অতিরিক্ত কঠোর ও জটিল হয়ে ওঠে, তাহলে বৈধ প্রযুক্তির মালিকদের জন্য আইনি প্রতিকার পাওয়া দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের স্বার্থও উপেক্ষা করা যায় না। ফলে প্রয়োজন এমন একটি কাঠামো, যেখানে অধিকার সুরক্ষা ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার—দুটিই কার্যকর থাকে।

ভারতের সামনে কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজন

ভারতের গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের এক শতাংশের নিচে। অর্থায়নের এই সীমাবদ্ধতা কাটানো সহজ নয়। তবে বৈশ্বিক প্রযুক্তির নেতৃত্ব অর্জনের জন্য শুধু গবেষণার পরিমাণ বাড়ানো যথেষ্ট হবে না। গবেষণার ফলাফলকে পেটেন্টে রূপান্তর, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্ববাজারে তার ব্যবহার নিশ্চিত করার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি বাজারগুলোর একটি। এখন সেই পরিচয়ের সঙ্গে প্রযুক্তির নির্মাতা ও মানদণ্ড নির্ধারণকারীর পরিচয়ও যুক্ত করা প্রয়োজন।

কারণ অন্যের তৈরি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব অর্জন করতে হলে নিজের উদ্ভাবনকে এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যাতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোও ভারতের তৈরি প্রযুক্তি ও মানদণ্ড গ্রহণ করে।

ভারতের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নীতির লক্ষ্য তাই শুধু বিদেশি প্রযুক্তির আরও দক্ষ ব্যবহার হওয়া উচিত নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি মেধাস্বত্ব ও গবেষণা পরিবেশ তৈরি করা, যা ভারতকে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের অনুসারী থেকে ধীরে ধীরে নির্ধারকে পরিণত করবে।

লেখক: আশিস ভরদ্বাজ ও ইনসিয়াহ ভাহানভাটি

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সুপার এল নিনো’ আসছে? বিশ্বজুড়ে বন্যা, খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের শঙ্কা

ভারতের প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ: মানদণ্ডের ভোক্তা নয়, নির্মাতা হতে হবে

০৪:০০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রযুক্তি আর কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি খাত নয়; এটি রাষ্ট্রীয় সেবা, ব্যবসা, আর্থিক লেনদেন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশে ইন্টারনেটের বিস্তার এবং বিপুল সংখ্যক স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা রয়ে গেছে—ভারত যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে, তার বড় অংশের মৌলিক মানদণ্ড ও মেধাস্বত্ব অন্যদের হাতে।

সমস্যা তাই শুধু কত প্রযুক্তি ভারত ব্যবহার করছে, তা নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করবে, সেই বৈশ্বিক নিয়ম নির্ধারণে ভারতের ভূমিকা কতটা।

মেধাস্বত্বের গুরুত্ব নতুন করে বোঝার সময়

ভারতে পেটেন্ট নিবন্ধনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতীয় পেটেন্ট দপ্তর এক লাখ পেটেন্ট মঞ্জুর করেছে। কিন্তু বৈশ্বিক প্রযুক্তিতে ভারতের অবদান এখনো শূন্য দশমিক এক শতাংশের নিচে। অর্থাৎ উদ্ভাবনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনো অনেকাংশে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

এই বাস্তবতায় মেধাস্বত্বকে কেবল উদ্ভাবকের ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে দেখলে চলবে না। স্ট্যান্ডার্ড এসেনশিয়াল পেটেন্ট এমন প্রযুক্তিকে সুরক্ষা দেয়, যা কোনো বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ড কার্যকর করতে অপরিহার্য। এর মাধ্যমে উদ্ভাবক প্রযুক্তি প্রকাশ করেন এবং অন্যরা নির্ধারিত ন্যায্য শর্তে তা ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

When algorithms turn against us: AI in the hands of cybercriminals -  Express Computer

মেধাস্বত্বের সুরক্ষা দুর্বল হলে প্রযুক্তি সহজলভ্য হবে—এ ধারণা আপাতদৃষ্টিতে আকর্ষণীয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। গবেষক ও প্রতিষ্ঠান যদি আশঙ্কা করে যে তাদের উদ্ভাবন যথাযথ স্বীকৃতি বা অর্থনৈতিক প্রতিদান ছাড়াই ব্যবহার করা হবে, তাহলে তারা নতুন প্রযুক্তি প্রকাশ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

এর প্রভাব কেবল পেটেন্ট মালিকের ওপর পড়ে না। ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল সেবা এবং সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারও এর সঙ্গে যুক্ত।

ভারতের ডিজিটাল সাফল্যের সঙ্গে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সম্পর্ক

জনধন হিসাব, আধারভিত্তিক সরাসরি অর্থ স্থানান্তর এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের মতো ভারতের বৃহৎ ডিজিটাল উদ্যোগগুলো আন্তঃসংযুক্ত প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিপণ্যের বাজারসংক্রান্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনাও একই ধরনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সুবিধা ব্যবহার করে।

তাই মেধাস্বত্বের মূল্যায়নকে শুধু লাইসেন্স ফি বা পেটেন্ট মালিকের আয় দিয়ে বিচার করলে চলবে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এমন একটি উদ্ভাবন-ব্যবস্থা, যেখানে প্রযুক্তি তৈরি, প্রকাশ, মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্তি এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার—সবগুলো ধাপ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

এই ভারসাম্য রক্ষায় ফেয়ার, রিজনেবল অ্যান্ড নন-ডিসক্রিমিনেটরি বা এফআরএএনডি নীতি গুরুত্বপূর্ণ। এর লক্ষ্য হলো, মানদণ্ডের জন্য অপরিহার্য প্রযুক্তির মালিক যেন ন্যায্য প্রতিদান পান এবং একই সঙ্গে সেই প্রযুক্তি অন্য ব্যবহারকারীদের কাছেও যুক্তিসংগত শর্তে উন্মুক্ত থাকে।

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় এই ভারসাম্য নিয়ে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো তৈরি হয়েছে। ইউরোপের হুয়াওয়ে বনাম জেডটিই মামলায় পক্ষগুলোর আলোচনার সদিচ্ছা ও সৎ আচরণের গুরুত্ব উঠে আসে। যুক্তরাজ্যের আনওয়্যার্ড প্ল্যানেট বনাম হুয়াওয়ে মামলাতেও বাজারের বাস্তবতা, লাইসেন্সের কাঠামো এবং তুলনীয় চুক্তি বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।

ভারতের আইনি কাঠামোতে অনিশ্চয়তা

The birth of Edge AI: A new era of smart, secure and scalable consumer tech  devices?

ভারতেও স্ট্যান্ডার্ড এসেনশিয়াল পেটেন্ট নিয়ে বিচারিক অবস্থান সময়ের সঙ্গে বিকশিত হয়েছে। ২০১৮ সালের ফিলিপস বনাম রাজেশ বনসাল মামলাকে ভারতের উচ্চমূল্যের ও জটিল পেটেন্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

কিন্তু ২০২৬ সালের মে মাসে দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। এর ফলে ভারতে এসইপি প্রয়োগের আগের আইনি কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এখানে মূল উদ্বেগ হলো, পেটেন্ট অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রমাণের মানদণ্ড যদি অতিরিক্ত কঠোর ও জটিল হয়ে ওঠে, তাহলে বৈধ প্রযুক্তির মালিকদের জন্য আইনি প্রতিকার পাওয়া দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের স্বার্থও উপেক্ষা করা যায় না। ফলে প্রয়োজন এমন একটি কাঠামো, যেখানে অধিকার সুরক্ষা ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার—দুটিই কার্যকর থাকে।

ভারতের সামনে কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজন

ভারতের গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় এখনো মোট দেশজ উৎপাদনের এক শতাংশের নিচে। অর্থায়নের এই সীমাবদ্ধতা কাটানো সহজ নয়। তবে বৈশ্বিক প্রযুক্তির নেতৃত্ব অর্জনের জন্য শুধু গবেষণার পরিমাণ বাড়ানো যথেষ্ট হবে না। গবেষণার ফলাফলকে পেটেন্টে রূপান্তর, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্ববাজারে তার ব্যবহার নিশ্চিত করার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি বাজারগুলোর একটি। এখন সেই পরিচয়ের সঙ্গে প্রযুক্তির নির্মাতা ও মানদণ্ড নির্ধারণকারীর পরিচয়ও যুক্ত করা প্রয়োজন।

কারণ অন্যের তৈরি প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব অর্জন করতে হলে নিজের উদ্ভাবনকে এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যাতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোও ভারতের তৈরি প্রযুক্তি ও মানদণ্ড গ্রহণ করে।

ভারতের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নীতির লক্ষ্য তাই শুধু বিদেশি প্রযুক্তির আরও দক্ষ ব্যবহার হওয়া উচিত নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি মেধাস্বত্ব ও গবেষণা পরিবেশ তৈরি করা, যা ভারতকে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের অনুসারী থেকে ধীরে ধীরে নির্ধারকে পরিণত করবে।

লেখক: আশিস ভরদ্বাজ ও ইনসিয়াহ ভাহানভাটি