০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে খুলনার মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলিবর্ষণ, আহত ২ পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা ২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’ পাকিস্তানের বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, খুশি বস্ত্রখাত, উদ্বেগে পোলট্রি ও শ্রমিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, তেহরানে বিক্ষোভের মধ্যেই বাড়ছে সমঝোতার আশা

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
  • 142

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে প্রথমে যে ধরনের নীল প্রস্তুত করা হত উৎকর্ষতার বিবেচনায় তা ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গোর মতই। আজকাল বাংলাদেশে যে রকম ও যত রকমের নীল প্রস্তুত হয় সেগুলো ছিল তার থেকে অনেক নিচু মানের। এখনকার এই উৎকর্ষতার মূলে রয়েছে। বিশ বছর ধরে হরেকরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পুঁজি বিনিয়োগের ফল। বঙ্গদেশে উৎপাদিত নীলের উৎকর্ষতার মান এখন যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তাতে কেউ যদি বলে এ নীল সর্বোতকৃষ্ট তা একেবারে অসমিচীন হবে না।

নীল উৎপাদনে বাংলার আজ এমন স্থান যে গোটা দুনিয়ার নীলের চাহিদার একটা বড় অংশ সে একাই মেটাতে পারে। মাত্র তিরিশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ নীলের জমির পরিমাণ বার্ষিক দশ লক্ষ বিঘায় উন্নীত করেছে। এতে চাষ করার জন্য প্রয়োজন হয় ১,০১,৬৬৬টি লাঙ্গল আর ২৫ হাজার জোড়া বলদ। এতে অতিবাহিত হয় ৮০ লাখ শ্রম-দিন। এইসব সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ এখন বছরে নীল উৎপাদন করে ৮০ হাজার মণ নীল।

নীলচাষের জমির বৈশিষ্ট্য

বঙ্গদেশে নীলের জমি দুই প্রকার: এক রকম হল বালুকাঘটিত আর এক রকম হল এ্যালুমিনিয়ামঘটিত। এ ধরনের মাটি মেটেল নামে পরিচিত। প্রতি বছর বন্যার ফলে মাটিতে পলিমাটির যে আস্তর জমে তাই বালুকাঘটিত। এই পলিমাটিতে কতটা পুরু হয়ে জমবে তার ঠিক নেই। মাটিতে বালির চাইতে পলির পরিমাণ বেশি হলে সে মাটি নীল চাষের জন্য যথোপযুক্ত। এ রকম মাটিতে লক্ষ্যাদি বাড়ে দ্রুত গতিতে। বিশেষভাবে নীল মওশুমের শেষদিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বপণ করলে ফলতে বেশি দিন লাগে না। সাধারণতঃ এই বন্যা প্রভাবিত মাটি নীলচাষের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত।

পলি আবৃত মাটিতে যত দ্রুত ফলন ঘটে এ্যালুমিনিয়ামঘটিত মাটিতে ততটা নয়। কিন্তু নীল গাছই হোক বা অন্য রঞ্জকের গাছই হোক এ্যালুমিনিয়ামঘটিত মাটিতে ফলন হয় বেশি। এই দুই ধরনের মাটির আর একটি পার্থক্য হল অধিক বৃষ্টিপাত ঘটলে মেটেল মাটির চাইতে বালিকাঘটিত মাটিতে ফলন হয় ভাল, আবার শুকনো মওশুমে ফলন ভাল। নীল রঞ্জকের উৎপাদনের ক্ষেত্রে মেটেল মাটি আর বালিমাটির ফলনের পার্থক্য হল ছয় আর চার। এজন্যে চালাক নীলচাষী এই দুই রকম জমিতেই নীলের চাষ করে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে চাঞ্চল্য

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৬)

১০:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে প্রথমে যে ধরনের নীল প্রস্তুত করা হত উৎকর্ষতার বিবেচনায় তা ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গোর মতই। আজকাল বাংলাদেশে যে রকম ও যত রকমের নীল প্রস্তুত হয় সেগুলো ছিল তার থেকে অনেক নিচু মানের। এখনকার এই উৎকর্ষতার মূলে রয়েছে। বিশ বছর ধরে হরেকরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পুঁজি বিনিয়োগের ফল। বঙ্গদেশে উৎপাদিত নীলের উৎকর্ষতার মান এখন যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তাতে কেউ যদি বলে এ নীল সর্বোতকৃষ্ট তা একেবারে অসমিচীন হবে না।

নীল উৎপাদনে বাংলার আজ এমন স্থান যে গোটা দুনিয়ার নীলের চাহিদার একটা বড় অংশ সে একাই মেটাতে পারে। মাত্র তিরিশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ নীলের জমির পরিমাণ বার্ষিক দশ লক্ষ বিঘায় উন্নীত করেছে। এতে চাষ করার জন্য প্রয়োজন হয় ১,০১,৬৬৬টি লাঙ্গল আর ২৫ হাজার জোড়া বলদ। এতে অতিবাহিত হয় ৮০ লাখ শ্রম-দিন। এইসব সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ এখন বছরে নীল উৎপাদন করে ৮০ হাজার মণ নীল।

নীলচাষের জমির বৈশিষ্ট্য

বঙ্গদেশে নীলের জমি দুই প্রকার: এক রকম হল বালুকাঘটিত আর এক রকম হল এ্যালুমিনিয়ামঘটিত। এ ধরনের মাটি মেটেল নামে পরিচিত। প্রতি বছর বন্যার ফলে মাটিতে পলিমাটির যে আস্তর জমে তাই বালুকাঘটিত। এই পলিমাটিতে কতটা পুরু হয়ে জমবে তার ঠিক নেই। মাটিতে বালির চাইতে পলির পরিমাণ বেশি হলে সে মাটি নীল চাষের জন্য যথোপযুক্ত। এ রকম মাটিতে লক্ষ্যাদি বাড়ে দ্রুত গতিতে। বিশেষভাবে নীল মওশুমের শেষদিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বপণ করলে ফলতে বেশি দিন লাগে না। সাধারণতঃ এই বন্যা প্রভাবিত মাটি নীলচাষের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত।

পলি আবৃত মাটিতে যত দ্রুত ফলন ঘটে এ্যালুমিনিয়ামঘটিত মাটিতে ততটা নয়। কিন্তু নীল গাছই হোক বা অন্য রঞ্জকের গাছই হোক এ্যালুমিনিয়ামঘটিত মাটিতে ফলন হয় বেশি। এই দুই ধরনের মাটির আর একটি পার্থক্য হল অধিক বৃষ্টিপাত ঘটলে মেটেল মাটির চাইতে বালিকাঘটিত মাটিতে ফলন হয় ভাল, আবার শুকনো মওশুমে ফলন ভাল। নীল রঞ্জকের উৎপাদনের ক্ষেত্রে মেটেল মাটি আর বালিমাটির ফলনের পার্থক্য হল ছয় আর চার। এজন্যে চালাক নীলচাষী এই দুই রকম জমিতেই নীলের চাষ করে।