০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
মাতৃত্ব আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমায়নি, বরং কোন কাজ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে এনরনের ছায়া, তবে ধস অনিবার্য নয় বিষণ্নতা আসার আগেই জানাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চার বছর আগেই মিলবে সতর্কবার্তা ছুঁয়ে না দেখেই বস্তু চিনবে রোবট, চীনের নতুন ‘ইলেকট্রিক ইল’ প্রযুক্তিতে এআই এজেন্টের ভয়ংকর আচরণ: প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘হত্যা’, নজরদারি ফাঁকি ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ ভিসা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্টপুত্রের আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা হয়ে উঠতে পারে চীনের ইউয়ান, কমছে ডলারের নির্ভরতা জোকবো: পুরুষের বংশলিপির ভেতর নারীর হারানো ইতিহাস ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়লেন অ্যাবি ডনেলি, নারীদের ম্যারাথনে ব্রিটেনের প্রথম পদক সিলিকনকে পেছনে ফেলে চীনের সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য

জীবন আমার বোন (পর্ব-৫৭)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪
  • 144

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

এক সময় মুরাদের ওখানে পৌঁছালো খোকা।

মুরাদ বললে, ‘এসে ভালোই করেছিস, আমাকে শুধু শুধু ফিরে আসতে হ’তো তোর বাড়ি থেকে। এই একটু পরেই বেরুচ্ছিলাম।’

চা এলো এবং কিছুক্ষণ গুলতানি চললো। ঠিক ভালো লাগছিলো না খোকার, এমন কি এ কথাও একবার মনে উকি দিলো, আজ ঘর থেকে না বেরুলেই বোধ হয় ভালো ছিলো।

‘জমছে না, চল বাইরে বেরোই বরং’

‘একটু বোস, বড়বোন তোর সঙ্গে কথা বলবে।’

খোকার ভিতরে একটা হাইপোস্টাইল হল হুড়মুড় ক’রে ভেঙে পড়ে এ কথায়।

‘আমার সঙ্গে আবার কিসের আলাপ?’

‘কি জানি–‘ গা ছেড়ে দিয়ে আলগোছে বললে মুরাদ।

একটু পরেই লুলু চৌধুরী ঢুকলো ঘরে। এসে একটা বেতের চেয়ার টেনে বসলো। হেসে জিগ্যেশ করলে, ‘কেমন আছেন?’

‘ভালোই।’

‘আপনাদের ওদিকে কেমন, গণ্ডগোল আছে কোনো রকম?’

‘না, তেমন আর কই।’

‘বড্ড হৈচৈ আমাদের এই দিকটায়। কতো রকমেরই যে তোড়জোড়, একেবারে অতিষ্ঠ হ’য়ে গেছি!’

‘কোথায় আর! আমি তো দেখছি দিব্যি আরামেই আছেন আপনারা!’ ‘

তাই বুঝি মনে হচ্ছে?’

খোকার মনে হ’লো নীলাভাবীর সঙ্গে কোথায় একটা মিল আছে লুলু চৌধুরীর।

হঠাৎ কি মনে ক’রে মুরাদ উঠে গেল এই সময়। খোকা দেখলো তার মুখের দিকে স্থিরদৃস্টিতে তাকিয়ে আছে।

‘একটা কথা জিগ্যেশ করবো আপনাকে, আপত্তি নেই তো?’

‘আপত্তি কিসের!’ খোকার ভিতরটা এইবার সত্যি কেঁপে ওঠে।

‘আমি কারো নাম ধ’রে বলবো না। আমার চলাফেরা গতিবিধি এইসব নিয়ে মুরাদের বন্ধুদের অনেকেরই শুনি দারুণ মাথাব্যথা। আজকাল নাকি সেটার প্রকোপ একটু বেশি রকমেরই দেখা যাচ্ছে, এটা কি সত্যি?’

খোকা আমতা আমতা ক’রে বললে, ‘এসব প্রসঙ্গ না তোলাই ভালো। মধ্যে থেকে আমি বিপদে প’ড়ে যাচ্ছি-

‘আপনি সঙ্কোচ করছেন কেন? আমি কিন্তু আপনাকে বাদ দিয়েই কথাটা পেড়েছি। আপনার কাছে একথা তোলার একটাই কারণ, ওর বন্ধুদের ভিতর একমাত্র আপনার সঙ্গেই আমার আলাপ আছে, আপনাকে ভালো ক’রে চিনি। ছিটেফোঁটা তো দূরের কথা, অন্যদের কাউকে চিনিই না, আর যেসব কথা শুনি তাতে চেনার খুব একটা ইচ্ছেও নেই। সঙ্কোচ করবেন না, আপনি স্বচ্ছন্দে বলুন!”

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাতৃত্ব আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমায়নি, বরং কোন কাজ সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়েছে

জীবন আমার বোন (পর্ব-৫৭)

১২:০০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

এক সময় মুরাদের ওখানে পৌঁছালো খোকা।

মুরাদ বললে, ‘এসে ভালোই করেছিস, আমাকে শুধু শুধু ফিরে আসতে হ’তো তোর বাড়ি থেকে। এই একটু পরেই বেরুচ্ছিলাম।’

চা এলো এবং কিছুক্ষণ গুলতানি চললো। ঠিক ভালো লাগছিলো না খোকার, এমন কি এ কথাও একবার মনে উকি দিলো, আজ ঘর থেকে না বেরুলেই বোধ হয় ভালো ছিলো।

‘জমছে না, চল বাইরে বেরোই বরং’

‘একটু বোস, বড়বোন তোর সঙ্গে কথা বলবে।’

খোকার ভিতরে একটা হাইপোস্টাইল হল হুড়মুড় ক’রে ভেঙে পড়ে এ কথায়।

‘আমার সঙ্গে আবার কিসের আলাপ?’

‘কি জানি–‘ গা ছেড়ে দিয়ে আলগোছে বললে মুরাদ।

একটু পরেই লুলু চৌধুরী ঢুকলো ঘরে। এসে একটা বেতের চেয়ার টেনে বসলো। হেসে জিগ্যেশ করলে, ‘কেমন আছেন?’

‘ভালোই।’

‘আপনাদের ওদিকে কেমন, গণ্ডগোল আছে কোনো রকম?’

‘না, তেমন আর কই।’

‘বড্ড হৈচৈ আমাদের এই দিকটায়। কতো রকমেরই যে তোড়জোড়, একেবারে অতিষ্ঠ হ’য়ে গেছি!’

‘কোথায় আর! আমি তো দেখছি দিব্যি আরামেই আছেন আপনারা!’ ‘

তাই বুঝি মনে হচ্ছে?’

খোকার মনে হ’লো নীলাভাবীর সঙ্গে কোথায় একটা মিল আছে লুলু চৌধুরীর।

হঠাৎ কি মনে ক’রে মুরাদ উঠে গেল এই সময়। খোকা দেখলো তার মুখের দিকে স্থিরদৃস্টিতে তাকিয়ে আছে।

‘একটা কথা জিগ্যেশ করবো আপনাকে, আপত্তি নেই তো?’

‘আপত্তি কিসের!’ খোকার ভিতরটা এইবার সত্যি কেঁপে ওঠে।

‘আমি কারো নাম ধ’রে বলবো না। আমার চলাফেরা গতিবিধি এইসব নিয়ে মুরাদের বন্ধুদের অনেকেরই শুনি দারুণ মাথাব্যথা। আজকাল নাকি সেটার প্রকোপ একটু বেশি রকমেরই দেখা যাচ্ছে, এটা কি সত্যি?’

খোকা আমতা আমতা ক’রে বললে, ‘এসব প্রসঙ্গ না তোলাই ভালো। মধ্যে থেকে আমি বিপদে প’ড়ে যাচ্ছি-

‘আপনি সঙ্কোচ করছেন কেন? আমি কিন্তু আপনাকে বাদ দিয়েই কথাটা পেড়েছি। আপনার কাছে একথা তোলার একটাই কারণ, ওর বন্ধুদের ভিতর একমাত্র আপনার সঙ্গেই আমার আলাপ আছে, আপনাকে ভালো ক’রে চিনি। ছিটেফোঁটা তো দূরের কথা, অন্যদের কাউকে চিনিই না, আর যেসব কথা শুনি তাতে চেনার খুব একটা ইচ্ছেও নেই। সঙ্কোচ করবেন না, আপনি স্বচ্ছন্দে বলুন!”