০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন স্মৃতি, শহর আর আত্মঅন্বেষণের অনন্য যাত্রা: অনন্যা বাজপেয়ীর বইয়ে বিশ্ব নগরের অন্তরঙ্গ মানচিত্র সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই–অক্সাইড থেকে পেট্রোলের উপাদান তৈরির নতুন পথ দেখালেন চীনা বিজ্ঞানীরা কঠোর প্রাণীকল্যাণ আইন দাবি, হংকংয়ে পুকুরে মিলল আক্রমণাত্মক কচ্ছপ দুবাইয়ে ৩৮ বিলিয়ন দিরহামের নতুন আবাসন প্রকল্পে আলদার–দুবাই হোল্ডিং জোটের বড় সম্প্রসারণ বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম পাখির ফ্লু আতঙ্কে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ুর সংক্রমণ ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা মেঘালয়ের অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত বেড়ে ২৭, এখনও নিখোঁজ শ্রমিক মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম

রূপের ডালি খেলা ( শেষ পর্ব )

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪
  • 100

ইউ. ইয়াকভলেভ

স্কেটস, বগলে ছেলেটা-১৪

অন্ধকার হয়ে এসেছে শহরটা। বরফের চটার ওপর আর দেখা যাচ্ছে না চান্দ্র গহরগুলো। ফার গাছের কচি, নরম কাঁটাগুলোকে আর কড়া, খোঁচা-খোঁচা পুরনো কাঁটাগুলো থেকে তফাৎ করা যাচ্ছে না। পিচ্ছিল, রূপোলী যে বরফগুলো থেকে জল ঝরছিল, তা এখন দৃষ্টির অতীত। তবে সূর্যের দিকে পৃথিবী তার অন্য পিঠটা ঘোরালেও শহরটা তখনো গরম, অদৃশ্য বরফগুলো থেকে জল করেই যাচ্ছে।

স্কেটস্ বগলে ছেলেটা যাচ্ছে শহরের রাস্তা দিয়ে।

অন্ধকারে চোখে পড়ে না যে তার একটা বোতাম খানিকটা কাপড় সমেত ছোঁড়া, মাফলারে বেগুনী কালির দাগ। দেখা যায় না যে তার ওভারকোট আর স্কী করার ট্রাউজারটার চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে সে। সবই ওর খাটো, কিছুই মাপসই নয়। কিন্তু কাকে দুষব, যদি অত তাড়াতাড়ি বড়ো হয়ে ওঠে বাচ্চারা?

টুপিটায় এখন কোন কানটা ঢাকা? কী এসে যায় তাতে! মুখে এসে যখন লাগে বসন্তের উষ্ণ সজল নিশ্বাস, তখন ওটা কিছুই নয়, কান জমে যাবে না। শুধু সারা দিন জল ভেঙে ছুটোছুটি করায় জুতো জোড়া উঠেছে ভিজে, ঠান্ডা লাগছে পায়ে। লম্বা দশাসই একটা লোকের কথা ভাবছে ছেলেটা, গায়ে তার কালো জানোয়ারের ছাল দিয়ে তৈরি কোর্তা, আছে তার যুদ্ধের অর্ডার, তামাক খাওয়া পুরনো পাইপ, ফিল্ড ডাকঘরের নম্বর মারা স্যানিটারি ইউনিটের দেওয়া প্রেসক্রিপ্শন। একটা লোকের কথা ভাবছে সে, সারা জীবনেও যা তার জোটে নি। এখন তাকে পাওয়া গেল, কিন্তু সে তো তার নয়…

সেগেইয়ের বদলে সে হলে সবকিছু ফেলে রেখে সে ছুটে আসত বাপের কাছে… উ’হ’, বাবাকে ছেড়ে কোনো দিদিমার কাছে, কোনো সাপোজকেই সে যেত

না। সর্বদাই সে থাকত তার সঙ্গে সঙ্গে, ফলে যখনই দরকার সাহায্য করতে পারত। ছেলেটার খেয়ালই নেই যে তার ডানদিকে দেখা দিয়েছে স্টেডিয়মের রেলিঙ। স্কেটিং রিঙ্কে বাজনা বাজছে না, জ্বলছে না ঝলমলে আলোগুলো, বরফ কেটে যাওয়া স্কেট থেকে ওঠা সেই চনমনে সড়-সড় শব্দও শোনা যাচ্ছে না।

গেটের একমাত্র বাতিটির নিচে বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে:

‘গরম আবহাওয়ার জন্যে রিঙ্ক বন্ধ’।

ছেলেটা মুঠো চাপতেই হাতে যন্ত্রণা করে উঠল। মুঠোর মধ্যে ছিল সেই টুকরোটা, যা বিধিতে পারত বাতিউকভের হার্টে। আরো জোরে মুঠো চাপল ছেলেটা, আরো ব্যথা করে উঠল।

হঠাৎ খুশি হয়ে উঠল ছেলেটা। যন্ত্রণা সইতে পারে সে, রিঙ্ক বন্ধ তাতে তার বয়েই গেল। সৌভাগ্যবান সের্গেইকেও সে হেসে উড়িয়ে দিতে পারে, যদিও বাবা আছে তার। আর যে-লোকটা তাকে ‘খোকা রে’ বলে ডেকেছে, সে বে’চে থাকবে, সবুজ পাতা ফুটতেই সেরে উঠবে। আর পা জমে যাচ্ছে, সেও তো ভালো কথাই: তার মানে অনেক বরফ-গলা জল জমেছে শহরে, এসে যাচ্ছে বসন্ত, শিগগিরই ফুটে উঠবে সেই সবুজ পাতাগুলো।

খাটো ওভারকোটটার বোতাম খুলে ফেললে ছেলেটা, স্কেটস্ জোড়া অন্য হাতে নিয়ে পা বাড়ালে বাড়ির দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন

রূপের ডালি খেলা ( শেষ পর্ব )

০৪:০০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

ইউ. ইয়াকভলেভ

স্কেটস, বগলে ছেলেটা-১৪

অন্ধকার হয়ে এসেছে শহরটা। বরফের চটার ওপর আর দেখা যাচ্ছে না চান্দ্র গহরগুলো। ফার গাছের কচি, নরম কাঁটাগুলোকে আর কড়া, খোঁচা-খোঁচা পুরনো কাঁটাগুলো থেকে তফাৎ করা যাচ্ছে না। পিচ্ছিল, রূপোলী যে বরফগুলো থেকে জল ঝরছিল, তা এখন দৃষ্টির অতীত। তবে সূর্যের দিকে পৃথিবী তার অন্য পিঠটা ঘোরালেও শহরটা তখনো গরম, অদৃশ্য বরফগুলো থেকে জল করেই যাচ্ছে।

স্কেটস্ বগলে ছেলেটা যাচ্ছে শহরের রাস্তা দিয়ে।

অন্ধকারে চোখে পড়ে না যে তার একটা বোতাম খানিকটা কাপড় সমেত ছোঁড়া, মাফলারে বেগুনী কালির দাগ। দেখা যায় না যে তার ওভারকোট আর স্কী করার ট্রাউজারটার চেয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে সে। সবই ওর খাটো, কিছুই মাপসই নয়। কিন্তু কাকে দুষব, যদি অত তাড়াতাড়ি বড়ো হয়ে ওঠে বাচ্চারা?

টুপিটায় এখন কোন কানটা ঢাকা? কী এসে যায় তাতে! মুখে এসে যখন লাগে বসন্তের উষ্ণ সজল নিশ্বাস, তখন ওটা কিছুই নয়, কান জমে যাবে না। শুধু সারা দিন জল ভেঙে ছুটোছুটি করায় জুতো জোড়া উঠেছে ভিজে, ঠান্ডা লাগছে পায়ে। লম্বা দশাসই একটা লোকের কথা ভাবছে ছেলেটা, গায়ে তার কালো জানোয়ারের ছাল দিয়ে তৈরি কোর্তা, আছে তার যুদ্ধের অর্ডার, তামাক খাওয়া পুরনো পাইপ, ফিল্ড ডাকঘরের নম্বর মারা স্যানিটারি ইউনিটের দেওয়া প্রেসক্রিপ্শন। একটা লোকের কথা ভাবছে সে, সারা জীবনেও যা তার জোটে নি। এখন তাকে পাওয়া গেল, কিন্তু সে তো তার নয়…

সেগেইয়ের বদলে সে হলে সবকিছু ফেলে রেখে সে ছুটে আসত বাপের কাছে… উ’হ’, বাবাকে ছেড়ে কোনো দিদিমার কাছে, কোনো সাপোজকেই সে যেত

না। সর্বদাই সে থাকত তার সঙ্গে সঙ্গে, ফলে যখনই দরকার সাহায্য করতে পারত। ছেলেটার খেয়ালই নেই যে তার ডানদিকে দেখা দিয়েছে স্টেডিয়মের রেলিঙ। স্কেটিং রিঙ্কে বাজনা বাজছে না, জ্বলছে না ঝলমলে আলোগুলো, বরফ কেটে যাওয়া স্কেট থেকে ওঠা সেই চনমনে সড়-সড় শব্দও শোনা যাচ্ছে না।

গেটের একমাত্র বাতিটির নিচে বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে:

‘গরম আবহাওয়ার জন্যে রিঙ্ক বন্ধ’।

ছেলেটা মুঠো চাপতেই হাতে যন্ত্রণা করে উঠল। মুঠোর মধ্যে ছিল সেই টুকরোটা, যা বিধিতে পারত বাতিউকভের হার্টে। আরো জোরে মুঠো চাপল ছেলেটা, আরো ব্যথা করে উঠল।

হঠাৎ খুশি হয়ে উঠল ছেলেটা। যন্ত্রণা সইতে পারে সে, রিঙ্ক বন্ধ তাতে তার বয়েই গেল। সৌভাগ্যবান সের্গেইকেও সে হেসে উড়িয়ে দিতে পারে, যদিও বাবা আছে তার। আর যে-লোকটা তাকে ‘খোকা রে’ বলে ডেকেছে, সে বে’চে থাকবে, সবুজ পাতা ফুটতেই সেরে উঠবে। আর পা জমে যাচ্ছে, সেও তো ভালো কথাই: তার মানে অনেক বরফ-গলা জল জমেছে শহরে, এসে যাচ্ছে বসন্ত, শিগগিরই ফুটে উঠবে সেই সবুজ পাতাগুলো।

খাটো ওভারকোটটার বোতাম খুলে ফেললে ছেলেটা, স্কেটস্ জোড়া অন্য হাতে নিয়ে পা বাড়ালে বাড়ির দিকে।