০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
নারীর লেখনীতে ইতিহাসের নতুন ভাষ্য: স্মৃতি থেকে সংগ্রামের দলিল তিমি শিকারের দীর্ঘ ছায়া: বয়স্ক পুরুষ তিমিরা এখন প্রজনন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বাজি: বিগ টেকের তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিযোগিতা এআই যুগকে নতুন রূপ দিচ্ছে নেটফ্লিক্সে আসছে কোরিয়ান গুপ্তচর থ্রিলার ‘হিউমিন্ট’, সঙ্গে বিটিএস ডকুমেন্টারি প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ৩০ কোটি ডলার ছাড়াল: ২০২৬-এর প্রথম সত্যিকারের ব্লকবাস্টার পেল হলিউড লুসাকায় আধা টন হাতির দাঁত জব্দ: জাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক হাতির দাঁত পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৫৩)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪
  • 114

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


মন্তব্য

আমার বাংলাদেশে অবস্থানকালে সে দেশের দক্ষ নীলকরদের কাছে থেকে সংগৃহীত এবং আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীলের উৎপাদন সম্পর্কে এই রিপোর্ট আমি প্রণয়ন করেছি। বর্তমানকালে, ফরাসী সরকার যখন ফরাসী উপনিবেশগুলিতে নীলচাষ প্রবর্তনের বিষয় চিন্তাভাবনা করছেন তখন এই পরিপ্রেক্ষিতে আমার মূল রিপোর্ট ও রিপোর্টে বর্ণিত খুঁটিনাটি বিষয়াবলী বিশেষ উপযোগী হবে। একথা মনে রেখেই আমার এই রিপোর্ট প্রণয়নের উদ্যোগ।

বাংলার নীলকররা নীল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই উৎপাদন করেন এ কথা ঠিক, তবু এও সত্য যে বাংলার আনাচেকানাচে নীলকররা নীল উৎপাদন থেকে একই রকম ফল পান। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা, গত পঁচিশ বছর যাবত নীলকররা নীলের চাষাবাদ ও নীলের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রেতভাবে জড়িত থেকে প্রতি মুহূর্তে সরেজমিনে প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলা করছেন ও তার কার্যকর সমাধান দিয়েছেন। স্থানীয় পারিপার্শ্বিক ও বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের সমাধান খুঁজে পেতে হয়েছে। স্বকীয় উদ্যোগ, নীলকরদের ব্যক্তিগত জ্ঞান ও তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নীল উৎপাদন হয়েছে- সে নীল ভালই হোক বা মন্দই হোক।

যে ফলিত পরীক্ষা বাংলাদেশে ফলপ্রসূ হয়েছে তা থেকে একটি প্রশ্নের উদয় হয়। তা হচ্ছে, সমস্যার এই সমাধান পৃথিবীর অন্য জায়গায় খাটবে কিনা? যেখানে জমির প্রকৃতি, তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহের গতি প্রবাহ ও ঋতু বৈচিত্র বাংলাদেশ থেকে ভিন্ন সেখানেও একই সমাধান খাটবে কি? আমরা এর উত্তর জানি না। যদি বা একই সমাধান খেটেও যায় তা কি কাকতালীয় ঘটনা, না এর কোনো ভিত্তি আছে?

এভাবে আমরা যদি যুক্তি প্রদর্শন করি তাহলে হয়ত দেখা যাবে যে বঙ্গদেশের কোনো নীলকর যদি এমন দেশে নীল উৎপাদন করতে চান যেখানকার অবস্থা বাংলাদেশ থেকে একেবারে আলাদা, তাহলে তাকে পদে পদে পর্বতপ্রমাণ সমস্যায় পড়তে হবে, যদি না তার বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টি না থাকে এবং রসায়ন শাস্ত্রের কিছুমাত্র জ্ঞান না থাকে। এই জ্ঞান না থাকলে তিনি চরম আর্থিক লোকসানের মধ্যে পড়বেন এবং তার সব শ্রম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এর ফলে তিনি গোটা পরকল্পনা বর্জন করতে পারেন যা নাকি হয়ত অন্য কারু হাতে পড়লে সফল হত। অন্যদিকে ভিন্ন রকম মাটি, তাপ ও ভিন্ন রকম ধাতুতে আমার বর্ণিত গুণাবলীর দক্ষ প্রয়োগ করে সব রকম প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে কোনো নীলকর হয়ত সফল হতে

পারেন। বাংলাদেশে এ রকম নীলকর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমনকি, ব্যাপারটা এ নয় যে সেখানে ফরাসী নীলকরের অভাব রয়েছে। তবে তারা আজকাল অন্য নীলকরের অধীনে কাজ করছে। কথাটা হল কি তাদের নিজের কাজ সম্পর্কে এমন তাত্ত্বিক জ্ঞান নেই যার বদৌলতে তারা কাজের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন নতুন নতুন সমস্যা সমাধানের জন্য তখুনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর লেখনীতে ইতিহাসের নতুন ভাষ্য: স্মৃতি থেকে সংগ্রামের দলিল

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৫৩)

১০:০০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


মন্তব্য

আমার বাংলাদেশে অবস্থানকালে সে দেশের দক্ষ নীলকরদের কাছে থেকে সংগৃহীত এবং আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীলের উৎপাদন সম্পর্কে এই রিপোর্ট আমি প্রণয়ন করেছি। বর্তমানকালে, ফরাসী সরকার যখন ফরাসী উপনিবেশগুলিতে নীলচাষ প্রবর্তনের বিষয় চিন্তাভাবনা করছেন তখন এই পরিপ্রেক্ষিতে আমার মূল রিপোর্ট ও রিপোর্টে বর্ণিত খুঁটিনাটি বিষয়াবলী বিশেষ উপযোগী হবে। একথা মনে রেখেই আমার এই রিপোর্ট প্রণয়নের উদ্যোগ।

বাংলার নীলকররা নীল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই উৎপাদন করেন এ কথা ঠিক, তবু এও সত্য যে বাংলার আনাচেকানাচে নীলকররা নীল উৎপাদন থেকে একই রকম ফল পান। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা, গত পঁচিশ বছর যাবত নীলকররা নীলের চাষাবাদ ও নীলের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রেতভাবে জড়িত থেকে প্রতি মুহূর্তে সরেজমিনে প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলা করছেন ও তার কার্যকর সমাধান দিয়েছেন। স্থানীয় পারিপার্শ্বিক ও বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের সমাধান খুঁজে পেতে হয়েছে। স্বকীয় উদ্যোগ, নীলকরদের ব্যক্তিগত জ্ঞান ও তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নীল উৎপাদন হয়েছে- সে নীল ভালই হোক বা মন্দই হোক।

যে ফলিত পরীক্ষা বাংলাদেশে ফলপ্রসূ হয়েছে তা থেকে একটি প্রশ্নের উদয় হয়। তা হচ্ছে, সমস্যার এই সমাধান পৃথিবীর অন্য জায়গায় খাটবে কিনা? যেখানে জমির প্রকৃতি, তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহের গতি প্রবাহ ও ঋতু বৈচিত্র বাংলাদেশ থেকে ভিন্ন সেখানেও একই সমাধান খাটবে কি? আমরা এর উত্তর জানি না। যদি বা একই সমাধান খেটেও যায় তা কি কাকতালীয় ঘটনা, না এর কোনো ভিত্তি আছে?

এভাবে আমরা যদি যুক্তি প্রদর্শন করি তাহলে হয়ত দেখা যাবে যে বঙ্গদেশের কোনো নীলকর যদি এমন দেশে নীল উৎপাদন করতে চান যেখানকার অবস্থা বাংলাদেশ থেকে একেবারে আলাদা, তাহলে তাকে পদে পদে পর্বতপ্রমাণ সমস্যায় পড়তে হবে, যদি না তার বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টি না থাকে এবং রসায়ন শাস্ত্রের কিছুমাত্র জ্ঞান না থাকে। এই জ্ঞান না থাকলে তিনি চরম আর্থিক লোকসানের মধ্যে পড়বেন এবং তার সব শ্রম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এর ফলে তিনি গোটা পরকল্পনা বর্জন করতে পারেন যা নাকি হয়ত অন্য কারু হাতে পড়লে সফল হত। অন্যদিকে ভিন্ন রকম মাটি, তাপ ও ভিন্ন রকম ধাতুতে আমার বর্ণিত গুণাবলীর দক্ষ প্রয়োগ করে সব রকম প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে কোনো নীলকর হয়ত সফল হতে

পারেন। বাংলাদেশে এ রকম নীলকর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমনকি, ব্যাপারটা এ নয় যে সেখানে ফরাসী নীলকরের অভাব রয়েছে। তবে তারা আজকাল অন্য নীলকরের অধীনে কাজ করছে। কথাটা হল কি তাদের নিজের কাজ সম্পর্কে এমন তাত্ত্বিক জ্ঞান নেই যার বদৌলতে তারা কাজের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন নতুন নতুন সমস্যা সমাধানের জন্য তখুনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।