০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন স্মৃতি, শহর আর আত্মঅন্বেষণের অনন্য যাত্রা: অনন্যা বাজপেয়ীর বইয়ে বিশ্ব নগরের অন্তরঙ্গ মানচিত্র সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই–অক্সাইড থেকে পেট্রোলের উপাদান তৈরির নতুন পথ দেখালেন চীনা বিজ্ঞানীরা কঠোর প্রাণীকল্যাণ আইন দাবি, হংকংয়ে পুকুরে মিলল আক্রমণাত্মক কচ্ছপ দুবাইয়ে ৩৮ বিলিয়ন দিরহামের নতুন আবাসন প্রকল্পে আলদার–দুবাই হোল্ডিং জোটের বড় সম্প্রসারণ বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম পাখির ফ্লু আতঙ্কে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ুর সংক্রমণ ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা মেঘালয়ের অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত বেড়ে ২৭, এখনও নিখোঁজ শ্রমিক মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪
  • 95

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

খোকা বললে, ‘মুখ আঁধার ক’রে ব’সে আছিস কেন অমন?’ ‘তুই-ই বা মিথ্যে মিথ্যে আমার কাঁধে দোষ চাপাচ্ছিস কেন!’ ‘দোষ দিলাম বুঝি?’
‘তবে কি!’
‘যাব্বাবা!’
রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা কাটমোল্লা!’
‘তাই বুঝি?’
‘হাতেম আলীটা খুব সরল, ওর ভিতরে কোনো প্যাঁচঘোঁচ নেই, বলিসনি আগে? কি এমন দোষ হয় ময়নাকে যদি ও বিয়ে করে? ময়না তো ওকে ভালবাসেই–‘
‘আরেব্বাপ, ভক্তি বেড়ে যাচ্ছে তোর ওপর। কি ক’রে জানবো তুই এতো বুঝিস?’
‘বললাম তো, তুই একটা বুড়ো ভাম।’
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা সিগ্রেট ধরিয়ে খোকা বললে, ‘তাহলে সবাই ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে–
রঞ্জ কোনো উত্তর দিলো না।
‘তোর কি খুব ভয় লাগছে, সেজখালাদের সঙ্গে যাবি?’
‘না।’
‘এখানে থেকেই বা কি করবি? এখনই কেমন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ঘুটঘুটে হ’য়ে গিয়েছে পাড়াটা, তুই বরং বেলীদের সঙ্গে চ’লেই যা। কোনোদিন বাঁশঝাড় এঁদো পানাপুকুর দেখিসনি, এসব দেখা হবে। কি যেন গ্রামটার নাম, বাঞ্ছারামপুর, তুই যদি মনে মনে কোনো কিছু যাচঞা করিস তা পূর্ণ হবে ওখানে।’
‘দরকার হ’লে তুই যা না!’
‘আবার খাঁউ! ওখানে গেলে কেউ তোকে গিলে খাবে না।’
‘বাপির কথা খেয়াল নেই বুঝি?’
‘সে-তো আমি আছিই। দু’জনে মিলে তোর ওখানে হাজির হবো। ব্যাপারটা মন্দ হয় না কিন্তু। এমনিতেও তোর কিছুদিন একলা থাকা দরকার, তখন মর্ম বুঝবি–‘
রঞ্জ বললে, ‘তুই বরং ওদের সঙ্গে যা, বেলীও খুব খুশি হবে।’
‘তাই বল! এতোক্ষণে বুঝলাম তোর গররাজি হওয়ার কারণটা। তুই বুঝি বেলীকে খুব হিংসে করিস?’
‘হিংসার কি আছে এতে? বেলীর চিন্তায় দিনরাত যেন আমার ঘুম হচ্ছে না?’
জনপ্রিয় সংবাদ

জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসে কমল বিশ্ব খাদ্য দাম, দুগ্ধ ও চিনি দামে বড় পতন

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৬)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

খোকা বললে, ‘মুখ আঁধার ক’রে ব’সে আছিস কেন অমন?’ ‘তুই-ই বা মিথ্যে মিথ্যে আমার কাঁধে দোষ চাপাচ্ছিস কেন!’ ‘দোষ দিলাম বুঝি?’
‘তবে কি!’
‘যাব্বাবা!’
রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা কাটমোল্লা!’
‘তাই বুঝি?’
‘হাতেম আলীটা খুব সরল, ওর ভিতরে কোনো প্যাঁচঘোঁচ নেই, বলিসনি আগে? কি এমন দোষ হয় ময়নাকে যদি ও বিয়ে করে? ময়না তো ওকে ভালবাসেই–‘
‘আরেব্বাপ, ভক্তি বেড়ে যাচ্ছে তোর ওপর। কি ক’রে জানবো তুই এতো বুঝিস?’
‘বললাম তো, তুই একটা বুড়ো ভাম।’
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা সিগ্রেট ধরিয়ে খোকা বললে, ‘তাহলে সবাই ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে–
রঞ্জ কোনো উত্তর দিলো না।
‘তোর কি খুব ভয় লাগছে, সেজখালাদের সঙ্গে যাবি?’
‘না।’
‘এখানে থেকেই বা কি করবি? এখনই কেমন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ঘুটঘুটে হ’য়ে গিয়েছে পাড়াটা, তুই বরং বেলীদের সঙ্গে চ’লেই যা। কোনোদিন বাঁশঝাড় এঁদো পানাপুকুর দেখিসনি, এসব দেখা হবে। কি যেন গ্রামটার নাম, বাঞ্ছারামপুর, তুই যদি মনে মনে কোনো কিছু যাচঞা করিস তা পূর্ণ হবে ওখানে।’
‘দরকার হ’লে তুই যা না!’
‘আবার খাঁউ! ওখানে গেলে কেউ তোকে গিলে খাবে না।’
‘বাপির কথা খেয়াল নেই বুঝি?’
‘সে-তো আমি আছিই। দু’জনে মিলে তোর ওখানে হাজির হবো। ব্যাপারটা মন্দ হয় না কিন্তু। এমনিতেও তোর কিছুদিন একলা থাকা দরকার, তখন মর্ম বুঝবি–‘
রঞ্জ বললে, ‘তুই বরং ওদের সঙ্গে যা, বেলীও খুব খুশি হবে।’
‘তাই বল! এতোক্ষণে বুঝলাম তোর গররাজি হওয়ার কারণটা। তুই বুঝি বেলীকে খুব হিংসে করিস?’
‘হিংসার কি আছে এতে? বেলীর চিন্তায় দিনরাত যেন আমার ঘুম হচ্ছে না?’