০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রতিটি অভিজাত সমাজেই থাকে এক ‘অন্ধকার সংযোগকারী’: এপস্টেইন থেকে রাসপুটিন নারীর লেখনীতে ইতিহাসের নতুন ভাষ্য: স্মৃতি থেকে সংগ্রামের দলিল তিমি শিকারের দীর্ঘ ছায়া: বয়স্ক পুরুষ তিমিরা এখন প্রজনন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বাজি: বিগ টেকের তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিযোগিতা এআই যুগকে নতুন রূপ দিচ্ছে নেটফ্লিক্সে আসছে কোরিয়ান গুপ্তচর থ্রিলার ‘হিউমিন্ট’, সঙ্গে বিটিএস ডকুমেন্টারি প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ৩০ কোটি ডলার ছাড়াল: ২০২৬-এর প্রথম সত্যিকারের ব্লকবাস্টার পেল হলিউড লুসাকায় আধা টন হাতির দাঁত জব্দ: জাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক হাতির দাঁত পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪
  • 116

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

খোকা বললে, ‘মুখ আঁধার ক’রে ব’সে আছিস কেন অমন?’ ‘তুই-ই বা মিথ্যে মিথ্যে আমার কাঁধে দোষ চাপাচ্ছিস কেন!’ ‘দোষ দিলাম বুঝি?’
‘তবে কি!’
‘যাব্বাবা!’
রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা কাটমোল্লা!’
‘তাই বুঝি?’
‘হাতেম আলীটা খুব সরল, ওর ভিতরে কোনো প্যাঁচঘোঁচ নেই, বলিসনি আগে? কি এমন দোষ হয় ময়নাকে যদি ও বিয়ে করে? ময়না তো ওকে ভালবাসেই–‘
‘আরেব্বাপ, ভক্তি বেড়ে যাচ্ছে তোর ওপর। কি ক’রে জানবো তুই এতো বুঝিস?’
‘বললাম তো, তুই একটা বুড়ো ভাম।’
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা সিগ্রেট ধরিয়ে খোকা বললে, ‘তাহলে সবাই ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে–
রঞ্জ কোনো উত্তর দিলো না।
‘তোর কি খুব ভয় লাগছে, সেজখালাদের সঙ্গে যাবি?’
‘না।’
‘এখানে থেকেই বা কি করবি? এখনই কেমন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ঘুটঘুটে হ’য়ে গিয়েছে পাড়াটা, তুই বরং বেলীদের সঙ্গে চ’লেই যা। কোনোদিন বাঁশঝাড় এঁদো পানাপুকুর দেখিসনি, এসব দেখা হবে। কি যেন গ্রামটার নাম, বাঞ্ছারামপুর, তুই যদি মনে মনে কোনো কিছু যাচঞা করিস তা পূর্ণ হবে ওখানে।’
‘দরকার হ’লে তুই যা না!’
‘আবার খাঁউ! ওখানে গেলে কেউ তোকে গিলে খাবে না।’
‘বাপির কথা খেয়াল নেই বুঝি?’
‘সে-তো আমি আছিই। দু’জনে মিলে তোর ওখানে হাজির হবো। ব্যাপারটা মন্দ হয় না কিন্তু। এমনিতেও তোর কিছুদিন একলা থাকা দরকার, তখন মর্ম বুঝবি–‘
রঞ্জ বললে, ‘তুই বরং ওদের সঙ্গে যা, বেলীও খুব খুশি হবে।’
‘তাই বল! এতোক্ষণে বুঝলাম তোর গররাজি হওয়ার কারণটা। তুই বুঝি বেলীকে খুব হিংসে করিস?’
‘হিংসার কি আছে এতে? বেলীর চিন্তায় দিনরাত যেন আমার ঘুম হচ্ছে না?’
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি অভিজাত সমাজেই থাকে এক ‘অন্ধকার সংযোগকারী’: এপস্টেইন থেকে রাসপুটিন

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৬)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

খোকা বললে, ‘মুখ আঁধার ক’রে ব’সে আছিস কেন অমন?’ ‘তুই-ই বা মিথ্যে মিথ্যে আমার কাঁধে দোষ চাপাচ্ছিস কেন!’ ‘দোষ দিলাম বুঝি?’
‘তবে কি!’
‘যাব্বাবা!’
রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা কাটমোল্লা!’
‘তাই বুঝি?’
‘হাতেম আলীটা খুব সরল, ওর ভিতরে কোনো প্যাঁচঘোঁচ নেই, বলিসনি আগে? কি এমন দোষ হয় ময়নাকে যদি ও বিয়ে করে? ময়না তো ওকে ভালবাসেই–‘
‘আরেব্বাপ, ভক্তি বেড়ে যাচ্ছে তোর ওপর। কি ক’রে জানবো তুই এতো বুঝিস?’
‘বললাম তো, তুই একটা বুড়ো ভাম।’
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা সিগ্রেট ধরিয়ে খোকা বললে, ‘তাহলে সবাই ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে–
রঞ্জ কোনো উত্তর দিলো না।
‘তোর কি খুব ভয় লাগছে, সেজখালাদের সঙ্গে যাবি?’
‘না।’
‘এখানে থেকেই বা কি করবি? এখনই কেমন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ঘুটঘুটে হ’য়ে গিয়েছে পাড়াটা, তুই বরং বেলীদের সঙ্গে চ’লেই যা। কোনোদিন বাঁশঝাড় এঁদো পানাপুকুর দেখিসনি, এসব দেখা হবে। কি যেন গ্রামটার নাম, বাঞ্ছারামপুর, তুই যদি মনে মনে কোনো কিছু যাচঞা করিস তা পূর্ণ হবে ওখানে।’
‘দরকার হ’লে তুই যা না!’
‘আবার খাঁউ! ওখানে গেলে কেউ তোকে গিলে খাবে না।’
‘বাপির কথা খেয়াল নেই বুঝি?’
‘সে-তো আমি আছিই। দু’জনে মিলে তোর ওখানে হাজির হবো। ব্যাপারটা মন্দ হয় না কিন্তু। এমনিতেও তোর কিছুদিন একলা থাকা দরকার, তখন মর্ম বুঝবি–‘
রঞ্জ বললে, ‘তুই বরং ওদের সঙ্গে যা, বেলীও খুব খুশি হবে।’
‘তাই বল! এতোক্ষণে বুঝলাম তোর গররাজি হওয়ার কারণটা। তুই বুঝি বেলীকে খুব হিংসে করিস?’
‘হিংসার কি আছে এতে? বেলীর চিন্তায় দিনরাত যেন আমার ঘুম হচ্ছে না?’