০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে হরমুজ প্রণালি ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা গুরুত্ব পেল এক বছরে হাজারো সংক্রমণের আশঙ্কা, আফ্রিকায় ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা চীনের কৌশলে তেলের বাজারে স্বস্তি, বড় ধাক্কা থেকেও রক্ষা পেল বিশ্ব কানাডা ভাঙনের পথে? আলবার্টায় স্বাধীনতার গণভোট ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা চুক্তি হয়েছে, কিন্তু আসল পরীক্ষা এখনই: ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন সমঝোতা কতটা সফল হবে? গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রাণহানি হাজার ছাড়াল, উদ্বেগ বাড়ছে তেলবাজারে স্বস্তি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তী চুক্তির পর কমল অপরিশোধিত তেলের দাম মালয়েশিয়া-চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে কী হতে যাচ্ছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ, প্রাবোও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার বদলে আস্থার রাজনীতি: পারস্য উপসাগরে রাশিয়ার নতুন নিরাপত্তা ভাবনা

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪
  • 141

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

খোকা বললে, ‘মুখ আঁধার ক’রে ব’সে আছিস কেন অমন?’ ‘তুই-ই বা মিথ্যে মিথ্যে আমার কাঁধে দোষ চাপাচ্ছিস কেন!’ ‘দোষ দিলাম বুঝি?’
‘তবে কি!’
‘যাব্বাবা!’
রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা কাটমোল্লা!’
‘তাই বুঝি?’
‘হাতেম আলীটা খুব সরল, ওর ভিতরে কোনো প্যাঁচঘোঁচ নেই, বলিসনি আগে? কি এমন দোষ হয় ময়নাকে যদি ও বিয়ে করে? ময়না তো ওকে ভালবাসেই–‘
‘আরেব্বাপ, ভক্তি বেড়ে যাচ্ছে তোর ওপর। কি ক’রে জানবো তুই এতো বুঝিস?’
‘বললাম তো, তুই একটা বুড়ো ভাম।’
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা সিগ্রেট ধরিয়ে খোকা বললে, ‘তাহলে সবাই ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে–
রঞ্জ কোনো উত্তর দিলো না।
‘তোর কি খুব ভয় লাগছে, সেজখালাদের সঙ্গে যাবি?’
‘না।’
‘এখানে থেকেই বা কি করবি? এখনই কেমন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ঘুটঘুটে হ’য়ে গিয়েছে পাড়াটা, তুই বরং বেলীদের সঙ্গে চ’লেই যা। কোনোদিন বাঁশঝাড় এঁদো পানাপুকুর দেখিসনি, এসব দেখা হবে। কি যেন গ্রামটার নাম, বাঞ্ছারামপুর, তুই যদি মনে মনে কোনো কিছু যাচঞা করিস তা পূর্ণ হবে ওখানে।’
‘দরকার হ’লে তুই যা না!’
‘আবার খাঁউ! ওখানে গেলে কেউ তোকে গিলে খাবে না।’
‘বাপির কথা খেয়াল নেই বুঝি?’
‘সে-তো আমি আছিই। দু’জনে মিলে তোর ওখানে হাজির হবো। ব্যাপারটা মন্দ হয় না কিন্তু। এমনিতেও তোর কিছুদিন একলা থাকা দরকার, তখন মর্ম বুঝবি–‘
রঞ্জ বললে, ‘তুই বরং ওদের সঙ্গে যা, বেলীও খুব খুশি হবে।’
‘তাই বল! এতোক্ষণে বুঝলাম তোর গররাজি হওয়ার কারণটা। তুই বুঝি বেলীকে খুব হিংসে করিস?’
‘হিংসার কি আছে এতে? বেলীর চিন্তায় দিনরাত যেন আমার ঘুম হচ্ছে না?’
জনপ্রিয় সংবাদ

মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে হরমুজ প্রণালি ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা গুরুত্ব পেল

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৬)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

খোকা বললে, ‘মুখ আঁধার ক’রে ব’সে আছিস কেন অমন?’ ‘তুই-ই বা মিথ্যে মিথ্যে আমার কাঁধে দোষ চাপাচ্ছিস কেন!’ ‘দোষ দিলাম বুঝি?’
‘তবে কি!’
‘যাব্বাবা!’
রঞ্জু বললে, ‘তুই একটা কাটমোল্লা!’
‘তাই বুঝি?’
‘হাতেম আলীটা খুব সরল, ওর ভিতরে কোনো প্যাঁচঘোঁচ নেই, বলিসনি আগে? কি এমন দোষ হয় ময়নাকে যদি ও বিয়ে করে? ময়না তো ওকে ভালবাসেই–‘
‘আরেব্বাপ, ভক্তি বেড়ে যাচ্ছে তোর ওপর। কি ক’রে জানবো তুই এতো বুঝিস?’
‘বললাম তো, তুই একটা বুড়ো ভাম।’
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা সিগ্রেট ধরিয়ে খোকা বললে, ‘তাহলে সবাই ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে–
রঞ্জ কোনো উত্তর দিলো না।
‘তোর কি খুব ভয় লাগছে, সেজখালাদের সঙ্গে যাবি?’
‘না।’
‘এখানে থেকেই বা কি করবি? এখনই কেমন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ঘুটঘুটে হ’য়ে গিয়েছে পাড়াটা, তুই বরং বেলীদের সঙ্গে চ’লেই যা। কোনোদিন বাঁশঝাড় এঁদো পানাপুকুর দেখিসনি, এসব দেখা হবে। কি যেন গ্রামটার নাম, বাঞ্ছারামপুর, তুই যদি মনে মনে কোনো কিছু যাচঞা করিস তা পূর্ণ হবে ওখানে।’
‘দরকার হ’লে তুই যা না!’
‘আবার খাঁউ! ওখানে গেলে কেউ তোকে গিলে খাবে না।’
‘বাপির কথা খেয়াল নেই বুঝি?’
‘সে-তো আমি আছিই। দু’জনে মিলে তোর ওখানে হাজির হবো। ব্যাপারটা মন্দ হয় না কিন্তু। এমনিতেও তোর কিছুদিন একলা থাকা দরকার, তখন মর্ম বুঝবি–‘
রঞ্জ বললে, ‘তুই বরং ওদের সঙ্গে যা, বেলীও খুব খুশি হবে।’
‘তাই বল! এতোক্ষণে বুঝলাম তোর গররাজি হওয়ার কারণটা। তুই বুঝি বেলীকে খুব হিংসে করিস?’
‘হিংসার কি আছে এতে? বেলীর চিন্তায় দিনরাত যেন আমার ঘুম হচ্ছে না?’