০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
শাকের পাতায় লুকিয়ে থাকা প্রোটিন, খাদ্য জগতে নতুন সম্ভাবনার নাম রুবিসকো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নবম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী হামলায় আতঙ্ক, ঘরবন্দি ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাপক বন উজাড় হয়েছে’, মন্তব্য প্রতিমন্ত্রী টুকুর ওনাকে কিনে নিচ্ছে ওপেনএআই, এআই বাজারে নতুন সংযোজন ঢাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রান৪আর্থ ম্যারাথন, জলবায়ু সচেতনতার বার্তা ইনভিক্টাস গেমসের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছেন আহত সেনারা: প্রিন্স হ্যারির স্বপ্ন আরও বড় অলিম্পিক সোনা জয়ের পরও আলোচনায় অ্যালিসা লিউ, আনন্দেই খুঁজে পেলেন সাফল্যের নতুন অর্থ মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে কার্টেল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গুলিতে মেয়রের মৃত্যু

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪
  • 130

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘ঘুম হচ্ছে না আমার–‘
‘বেলীকে দেখলে তো তাই মনে হয়।’
‘ওর একটা দস্তুরমতো হাতেম আলী দরকার, বুঝলি না!’
‘তোর মুখটা একটা নরদমা।’
‘তোর মুখ একটা ফুলের বাগান।’
একটু পরে খোকা বললে, ‘বেলীটা নিছক ঝামেলা। আপদটাকে কেন যে বিদায়ের ব্যবস্থা করছে না বুঝি না। সেজখালার উচিত দড়াম ক’রে ওটাকে বিয়ে দিয়ে পার করা। দাঁড়া, এবারে এলে আমি নিজেই তুলবো–‘
•পাত্র দেখে দিতে পারবি?’
*সেটাও একটা কথা। গোল্লায় যাক। বেলীফেলী নিয়ে মাথা ঘামিয়ে তোর কোনো লাভ নেই, ওর ইস্কুল আলাদা, কালিকলম বইগ্রেট আলাদা; ওর ব্যাপার তুই বুঝবি না।’
রজু বললে, ‘পাড়ার কতোগুলো ছেলে এসে আজ ঝামেলা বাধিয়েছিলো। আমাদের ছাদে ফ্ল্যাগ নেই, খুব চোটপাট করছিলো ছেলেরা, বলছিলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেবো–
‘যে যার নিজের ছাদে একটা ফ্ল্যাগ ওড়ালেই সব হ’য়ে গেল আর কি! কারা যে এইসব চ্যাংড়াদের বুদ্ধি জোগায়! কি বললি ওদের?’
‘দশ টাকা দিয়ে একটা ফ্ল্যাগ কিনতে হ’লো ওদের কাছ থেকে। ছাদে উড়িয়ে দিয়েছে লেবু।’
‘ঝক্কি চুকেছে। নে এখন শুয়ে পড়।’
খোকা নিজের ঘরে চ’লে এলো।
চারপাশে বইপত্র ছড়ানো। বিছানার চাদরও এলোমেলো, লন্ডভন্ড। এখানে বই, ওখানে খাতা, ঘরে পা দিয়ে একটু অবাকই হ’লো খোকা। ভূতপ্রেতের দল ফাঁকা পেয়ে মনের সাধ মিটিয়ে একচোট নাচানাচি ক’রে গিয়েছে ঘরময়। কেবল দলামোচড়া কতগুলো কাগজ ভাঁজ ক’রে সযত্নে কাটগ্লাসের ভারী এ্যাশটেটা চাপা দিয়ে রাখা। একটির পিছনে লেখা’ কেন লেখো, কেনই বা ধ্বংস করো, তুমি কি?’
এক সময় বিছানার চাদর ঠিক করতে গিয়ে বালিশ সরাতেই চোখে পড়ে একটি চারভাঁজের কাগজ:
খুব শিগগির আমরা বাঞ্ছারামপুর যাচ্ছি। তুমি যাবে না? যদি না যাও, হয়তো আর কোনোদিন দেখা হবে না। দেখা কোরো, ভয় নেই। তোমার কথা সর্বসময় মনে হয়। বড় নিষ্ঠুর তুমি। পায়ে পড়ি দেখা কোরো। তোমাকে তো পারেনি, তাই তোমার একলা বিছানাটাকেই এলোমেলো তছনছ ক’রে দিয়ে গেল বেলী।
বেড়ে লিখেছে ছুঁড়ি, বিড়বিড় করতে থাকে খোকা। একলা বিছানা, খাসা খাসা! ভিতরে ভিতরে একেবারে ঝুনো হ’য়ে গিয়েছে, শাঁস বলতে কিছু নেই, সব ফোঁপল হ’য়ে গিয়েছে, ফোঁপল ফোঁপল।
জনপ্রিয় সংবাদ

শাকের পাতায় লুকিয়ে থাকা প্রোটিন, খাদ্য জগতে নতুন সম্ভাবনার নাম রুবিসকো

জীবন আমার বোন (পর্ব-৭৭)

০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

‘ঘুম হচ্ছে না আমার–‘
‘বেলীকে দেখলে তো তাই মনে হয়।’
‘ওর একটা দস্তুরমতো হাতেম আলী দরকার, বুঝলি না!’
‘তোর মুখটা একটা নরদমা।’
‘তোর মুখ একটা ফুলের বাগান।’
একটু পরে খোকা বললে, ‘বেলীটা নিছক ঝামেলা। আপদটাকে কেন যে বিদায়ের ব্যবস্থা করছে না বুঝি না। সেজখালার উচিত দড়াম ক’রে ওটাকে বিয়ে দিয়ে পার করা। দাঁড়া, এবারে এলে আমি নিজেই তুলবো–‘
•পাত্র দেখে দিতে পারবি?’
*সেটাও একটা কথা। গোল্লায় যাক। বেলীফেলী নিয়ে মাথা ঘামিয়ে তোর কোনো লাভ নেই, ওর ইস্কুল আলাদা, কালিকলম বইগ্রেট আলাদা; ওর ব্যাপার তুই বুঝবি না।’
রজু বললে, ‘পাড়ার কতোগুলো ছেলে এসে আজ ঝামেলা বাধিয়েছিলো। আমাদের ছাদে ফ্ল্যাগ নেই, খুব চোটপাট করছিলো ছেলেরা, বলছিলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেবো–
‘যে যার নিজের ছাদে একটা ফ্ল্যাগ ওড়ালেই সব হ’য়ে গেল আর কি! কারা যে এইসব চ্যাংড়াদের বুদ্ধি জোগায়! কি বললি ওদের?’
‘দশ টাকা দিয়ে একটা ফ্ল্যাগ কিনতে হ’লো ওদের কাছ থেকে। ছাদে উড়িয়ে দিয়েছে লেবু।’
‘ঝক্কি চুকেছে। নে এখন শুয়ে পড়।’
খোকা নিজের ঘরে চ’লে এলো।
চারপাশে বইপত্র ছড়ানো। বিছানার চাদরও এলোমেলো, লন্ডভন্ড। এখানে বই, ওখানে খাতা, ঘরে পা দিয়ে একটু অবাকই হ’লো খোকা। ভূতপ্রেতের দল ফাঁকা পেয়ে মনের সাধ মিটিয়ে একচোট নাচানাচি ক’রে গিয়েছে ঘরময়। কেবল দলামোচড়া কতগুলো কাগজ ভাঁজ ক’রে সযত্নে কাটগ্লাসের ভারী এ্যাশটেটা চাপা দিয়ে রাখা। একটির পিছনে লেখা’ কেন লেখো, কেনই বা ধ্বংস করো, তুমি কি?’
এক সময় বিছানার চাদর ঠিক করতে গিয়ে বালিশ সরাতেই চোখে পড়ে একটি চারভাঁজের কাগজ:
খুব শিগগির আমরা বাঞ্ছারামপুর যাচ্ছি। তুমি যাবে না? যদি না যাও, হয়তো আর কোনোদিন দেখা হবে না। দেখা কোরো, ভয় নেই। তোমার কথা সর্বসময় মনে হয়। বড় নিষ্ঠুর তুমি। পায়ে পড়ি দেখা কোরো। তোমাকে তো পারেনি, তাই তোমার একলা বিছানাটাকেই এলোমেলো তছনছ ক’রে দিয়ে গেল বেলী।
বেড়ে লিখেছে ছুঁড়ি, বিড়বিড় করতে থাকে খোকা। একলা বিছানা, খাসা খাসা! ভিতরে ভিতরে একেবারে ঝুনো হ’য়ে গিয়েছে, শাঁস বলতে কিছু নেই, সব ফোঁপল হ’য়ে গিয়েছে, ফোঁপল ফোঁপল।