০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
কয়লাখনি অঞ্চলে বিস্ফোরণ, বেকারত্ব ও ক্ষোভ—ভোটের আগে চাপে পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ মধ্যযুগের স্বাস্থ্য রহস্য: নোংরা ও রোগের যুগেও কীভাবে সুস্থ থাকতেন মানুষ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: ১৭ লাখ শ্রমিকের ঐক্য, তবু কেন পরাজয়ের ইতিহাস ড্রোন যুদ্ধের সূচনা: ১৮৪৯ সালের ভেনিস অবরোধ থেকে আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ প্লাস্টিকের আবিষ্কার: ১৯শ শতকের পরীক্ষাগার থেকে ২০শ শতকের বিপ্লব রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়: সাম্রাজ্যের পতন থেকে আধুনিক ব্রিটেন—৭০ বছরের ইতিহাসে এক অটল নেতৃত্ব দাসত্বের অন্ধকার ভেঙে স্বাধীনতার কণ্ঠ: ফ্রেডেরিক ডগলাস ও আমেরিকার অসম স্বাধীনতার গল্প প্রাচীন রোমে ‘কাল্ট’ সংস্কৃতি থেকে খ্রিস্টধর্মের উত্থান: কীভাবে বদলে গেল ধর্মীয় মানচিত্র মধ্যযুগে নোংরা নয়, পরিকল্পিত ছিল টয়লেট ব্যবস্থা—ইউরোপের অজানা পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৫৬)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 133

শ্রী নিখিলনাথ রায়

উয়ানালা

অষ্টাদশ শতাব্দীর যে মহাবিপ্লবাগ্নি বঙ্গদেশে প্রধুমিত হইতে হইতে। পলাশীসমরক্ষেত্রে প্রজ্বলিত হইয়া উঠে, কয়েক বৎসর পর্যন্ত তাহা কখনও প্রধূমিত কখনও বা ঈষজ্জলিত হইয়া অবশেষে উধুয়ানালায়। মুসলমান-গৌরবকে চিরভষ্মীভূত করিয়া ফেলে। উধুয়ানালা বাঙ্গা- লার মুসলমান-গৌরবের শ্মশানভূমি। এই খানে বাঙ্গলার শেষ। স্বাধীন নবাব মীর কাশেম আপনার সর্ব্বস্ব বলি দিয়া বঙ্গরাজ্য হইতে বিতাড়িত হইয়া, অবশেষে মনস্তাপে ফকীরী গ্রহণ করিতে বাধ্য হন। বিনি বঙ্গদেশ হইতে ইংরেজক্ষমতা নির্মূল করিবার জন্য মহাবিপ্লবের। পুনরবতারণা করিয়াছিলেন, তিনি নিজেই অবশেষে সেই বিপ্লবে শক্তি- হীন হইয়া মুঙ্গের প্রান্তবাহিনী জাহ্নবীজলে বাঙ্গলার স্বাধীনতা-লক্ষ্মীকে বিসর্জন দিয়া চিরদিনের জন্য বঙ্গরাজ্য হইতে বিদায় গ্রহণ করেন।

যিনি বঙ্গরাজ্যে মুসল, মান সিংহাসন অটল রাখিবার জন্য রণকৌশলে স্বীয় দৈন্যদিগকে ইউরোপীয়গণের সমকক্ষ করিয়া তুলিয়াছিলেন, ইংরেজের অমানুষী চাতুরীতে তাঁহার সেই সমস্ত দক্ষতা ব্যর্থ হইয়া যায়। ইংরে- জের রক্তে যিনি বঙ্গভূমিকে অভিষিক্ত করিবার ইচ্ছা করিয়াছিলেন,। দৈবচক্রে তাঁহারই সৈন্যগণের রক্তে বাঙ্গলার প্রধান প্রধান সমরক্ষেত্র রঞ্জিত হইয়া উঠে। ইংরেজের মোহিনী মায়ায় মুগ্ধ হইয়া মীর কাশেম প্রথমতঃ তাহাদিগের জালমধ্যে আবদ্ধ হইয়া পড়েন; অনেক চেষ্টায় সে জাল ছিন্ন করিলেও তিনি একেবারে নিষ্কৃতি লাভ করিতে পারেন নাই। ইংরেজের অব্যর্থ সন্ধানে তাঁহার দূরপ্রসারিণী শক্তিকে চিরদিনের জন্য বিকলাঙ্গী হইতে হয়।

মীরকাশেমের সমস্ত আশা ভরসা উধুয়া- -নালায় বিনষ্ট হইয়া যায়। উধুয়ার পর্ব্বতশ্রেণী তাঁহার সৈন্যদিগকে বেষ্টন করিয়া রাখিলেও, ইংরেজের রণচাতুরী তাহাদিগকে অনায়াসে ভেদ করিতে সক্ষম হইয়াছিল। যে ইংরেজ বণিদিগের চাতুরীতে ন্যায়ের অচল ও অটল হিমালয় উৎপাটিত হইয়া পড়িত, উধুয়ার ক্ষুদ্র পাহাড়শ্রেণীর এমন কি সাধ্য ছিল যে, তাহাদের গতিরোধ করিতে সমর্থ হইত? ফলতঃ উধুয়ার সুন্দর অবস্থান পাইয়াও ইংরেজহস্তে মীর কাশেমের সৈন্যদিগকে বিধ্বস্ত হইতে হইয়াছিল।

মীর কাশেমের সেনাশিবিরের সম্মুখে ও পার্শ্বে উধুয়ার পাহাড়শ্রেণী -নাত্যুচ্চ মস্তক উত্তোলন করিয়া শত্রুপক্ষের গতিরোধার্থ দণ্ডায়মান; পশ্চা- ভাগে বর্ষার সলিল-প্রবাহে পরিপূর্ণদেহা উধুয়ানালা ফেন উদিগরণ করিতে করিতে কুলু কুলু ধ্বনিতে গঙ্গাবক্ষে আত্মবিসর্জনে ব্যস্ত; বামে আপনি জাহ্নবী বর্ষার জলপ্লাবনে স্ফীত হইয়া ভৈরব রবে পার্শ্বরক্ষার জন্য নিযুক্ত; -দক্ষিণে আরও কতিপয় পর্ব্বতশ্রেণী প্রাচীররূপে অবস্থিত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কয়লাখনি অঞ্চলে বিস্ফোরণ, বেকারত্ব ও ক্ষোভ—ভোটের আগে চাপে পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৫৬)

১১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

উয়ানালা

অষ্টাদশ শতাব্দীর যে মহাবিপ্লবাগ্নি বঙ্গদেশে প্রধুমিত হইতে হইতে। পলাশীসমরক্ষেত্রে প্রজ্বলিত হইয়া উঠে, কয়েক বৎসর পর্যন্ত তাহা কখনও প্রধূমিত কখনও বা ঈষজ্জলিত হইয়া অবশেষে উধুয়ানালায়। মুসলমান-গৌরবকে চিরভষ্মীভূত করিয়া ফেলে। উধুয়ানালা বাঙ্গা- লার মুসলমান-গৌরবের শ্মশানভূমি। এই খানে বাঙ্গলার শেষ। স্বাধীন নবাব মীর কাশেম আপনার সর্ব্বস্ব বলি দিয়া বঙ্গরাজ্য হইতে বিতাড়িত হইয়া, অবশেষে মনস্তাপে ফকীরী গ্রহণ করিতে বাধ্য হন। বিনি বঙ্গদেশ হইতে ইংরেজক্ষমতা নির্মূল করিবার জন্য মহাবিপ্লবের। পুনরবতারণা করিয়াছিলেন, তিনি নিজেই অবশেষে সেই বিপ্লবে শক্তি- হীন হইয়া মুঙ্গের প্রান্তবাহিনী জাহ্নবীজলে বাঙ্গলার স্বাধীনতা-লক্ষ্মীকে বিসর্জন দিয়া চিরদিনের জন্য বঙ্গরাজ্য হইতে বিদায় গ্রহণ করেন।

যিনি বঙ্গরাজ্যে মুসল, মান সিংহাসন অটল রাখিবার জন্য রণকৌশলে স্বীয় দৈন্যদিগকে ইউরোপীয়গণের সমকক্ষ করিয়া তুলিয়াছিলেন, ইংরেজের অমানুষী চাতুরীতে তাঁহার সেই সমস্ত দক্ষতা ব্যর্থ হইয়া যায়। ইংরে- জের রক্তে যিনি বঙ্গভূমিকে অভিষিক্ত করিবার ইচ্ছা করিয়াছিলেন,। দৈবচক্রে তাঁহারই সৈন্যগণের রক্তে বাঙ্গলার প্রধান প্রধান সমরক্ষেত্র রঞ্জিত হইয়া উঠে। ইংরেজের মোহিনী মায়ায় মুগ্ধ হইয়া মীর কাশেম প্রথমতঃ তাহাদিগের জালমধ্যে আবদ্ধ হইয়া পড়েন; অনেক চেষ্টায় সে জাল ছিন্ন করিলেও তিনি একেবারে নিষ্কৃতি লাভ করিতে পারেন নাই। ইংরেজের অব্যর্থ সন্ধানে তাঁহার দূরপ্রসারিণী শক্তিকে চিরদিনের জন্য বিকলাঙ্গী হইতে হয়।

মীরকাশেমের সমস্ত আশা ভরসা উধুয়া- -নালায় বিনষ্ট হইয়া যায়। উধুয়ার পর্ব্বতশ্রেণী তাঁহার সৈন্যদিগকে বেষ্টন করিয়া রাখিলেও, ইংরেজের রণচাতুরী তাহাদিগকে অনায়াসে ভেদ করিতে সক্ষম হইয়াছিল। যে ইংরেজ বণিদিগের চাতুরীতে ন্যায়ের অচল ও অটল হিমালয় উৎপাটিত হইয়া পড়িত, উধুয়ার ক্ষুদ্র পাহাড়শ্রেণীর এমন কি সাধ্য ছিল যে, তাহাদের গতিরোধ করিতে সমর্থ হইত? ফলতঃ উধুয়ার সুন্দর অবস্থান পাইয়াও ইংরেজহস্তে মীর কাশেমের সৈন্যদিগকে বিধ্বস্ত হইতে হইয়াছিল।

মীর কাশেমের সেনাশিবিরের সম্মুখে ও পার্শ্বে উধুয়ার পাহাড়শ্রেণী -নাত্যুচ্চ মস্তক উত্তোলন করিয়া শত্রুপক্ষের গতিরোধার্থ দণ্ডায়মান; পশ্চা- ভাগে বর্ষার সলিল-প্রবাহে পরিপূর্ণদেহা উধুয়ানালা ফেন উদিগরণ করিতে করিতে কুলু কুলু ধ্বনিতে গঙ্গাবক্ষে আত্মবিসর্জনে ব্যস্ত; বামে আপনি জাহ্নবী বর্ষার জলপ্লাবনে স্ফীত হইয়া ভৈরব রবে পার্শ্বরক্ষার জন্য নিযুক্ত; -দক্ষিণে আরও কতিপয় পর্ব্বতশ্রেণী প্রাচীররূপে অবস্থিত।