১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪৫)

  • Sarakhon Report
  • ১১:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪
  • 68

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

জামাইবাড়ির দেশের সোয়ারি বেহারা। ভালোমতো আদর-যত্ন করিলে সে দেশে যাইয়া এদেশের সুনাম গাহিবে। বাড়ির গাইয়ের সের দুই দুধ, ৩০/৪০টি মিঠা গাছের আম, কলা, গুড় আর চিড়ামুড়ি দিয়া নানি তাহাদের নাস্তা করিতে দিলেন। নাস্তা শেষ হইলে পিতলের হাঁড়িতে চাল ডাল নুন মরিচ আর মাগুর মাছ দিলেন রান্না করিতে। নাস্তা খাইয়া বেহারারা বলে, আর পাক করিব না। এত খাইয়াছি যে এরপর আর ভাত খাইবার পেটে জায়গা নাই। কিন্তু কে শুনিবে সে কথা। কুটুম্ববাড়ির দেশের লোক। খাতির করিলে খাতির রাখিতেই হইবে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও বেহারারা পাক করার সমস্ত বন্দোবস্ত করিতে লাগিল। বেহারাদের পাকের এই সময়টুকু নানির কাছে বড়ই মূল্যবান। যতটা সময় মেয়েকে চোখের সামনে ধরিয়া রাখিতে পারেন। বেহারাদের আরও একটা পদ বানাইতে দাও। দুইটা কুমড়ার ফুল ছিঁড়িয়া আনিয়া নানি বলেন, তেল দিয়া ভাজিয়া লইও। বাড়ির জাঙলায়-কনে-সাজানি শিম। এই প্রথম তুলিলাম। একটা নিরামিষ তরকারি করিয়া লও।

দেখিতে দেখিতে নানাবাড়ি ভরিয়া গেল। গরীবুল্লা মাতবরের বউ তার মেয়েকে লইয়া আসিল। ফেলি আসিল, আছিরন আসিল। মিঞাজানের বউ, মোকিমের বউ, তাহেরের মা, পাড়ার সমস্ত মেয়ে আসিয়া নানির বাড়িতে ভাঙিয়া পড়িল। আজ রাঙাছুটু বাপের বাড়ি হইতে শ্বশুরবাড়ি যাইবে। এ যে বাঙালিজীবনে যুগ-যুগান্তরের বিয়োগান্তক ঘটনা। এ দেশের কবিরা কতকাল ধরিয়া এই কারুণ কাহিনী নানা গাথায়, কবিতায়, গানে লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। এ বিয়োগ-বেদনা যে এদের, ওদের, তাদের সকলের। তাই একের ঘরের বেদনার সঙ্গে নিজের বেদনাকে মিলাইয়া ক্ষণেক সান্ত্বনা পাইবার ব্যর্থ প্রয়াস।

মাকে সামনে বসাইয়া নানি খাওয়াইতে বসিলেন। এটা/ওটা কত কি নানি রাঁধিয়াছেন। মা খাইতে চাহেন না। নানি বলেন, “মারে, কত দূরে যাইবি। পথে ক্ষুধা পাইবে। এই তরকারিটা আরও একটু খা। এই পিঠাটা তো তুই মুখেও দিলি না। তুই ভালোবাসিস কুশলী পিঠা। তাই বানাইয়াছি। নে, আর একটা মুখে দে।” “মা। তুমি আর জোর করিও না। দেখিতেছ না আর খাইতে পারিতেছি না।”

মা যে আজ খাইতে পারিবে না নানি তা জানেন-ভালোমতোই জানেন। নানিও তো একদিন এমনি করিয়া বাপের বাড়ি হইতে বিদায় হইতেন। তবু পীড়াপীড়ি না করিলে যে আজ মন ভরে না।

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪৫)

১১:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

রাঙাছুটুর বাপের বাড়ি

জামাইবাড়ির দেশের সোয়ারি বেহারা। ভালোমতো আদর-যত্ন করিলে সে দেশে যাইয়া এদেশের সুনাম গাহিবে। বাড়ির গাইয়ের সের দুই দুধ, ৩০/৪০টি মিঠা গাছের আম, কলা, গুড় আর চিড়ামুড়ি দিয়া নানি তাহাদের নাস্তা করিতে দিলেন। নাস্তা শেষ হইলে পিতলের হাঁড়িতে চাল ডাল নুন মরিচ আর মাগুর মাছ দিলেন রান্না করিতে। নাস্তা খাইয়া বেহারারা বলে, আর পাক করিব না। এত খাইয়াছি যে এরপর আর ভাত খাইবার পেটে জায়গা নাই। কিন্তু কে শুনিবে সে কথা। কুটুম্ববাড়ির দেশের লোক। খাতির করিলে খাতির রাখিতেই হইবে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও বেহারারা পাক করার সমস্ত বন্দোবস্ত করিতে লাগিল। বেহারাদের পাকের এই সময়টুকু নানির কাছে বড়ই মূল্যবান। যতটা সময় মেয়েকে চোখের সামনে ধরিয়া রাখিতে পারেন। বেহারাদের আরও একটা পদ বানাইতে দাও। দুইটা কুমড়ার ফুল ছিঁড়িয়া আনিয়া নানি বলেন, তেল দিয়া ভাজিয়া লইও। বাড়ির জাঙলায়-কনে-সাজানি শিম। এই প্রথম তুলিলাম। একটা নিরামিষ তরকারি করিয়া লও।

দেখিতে দেখিতে নানাবাড়ি ভরিয়া গেল। গরীবুল্লা মাতবরের বউ তার মেয়েকে লইয়া আসিল। ফেলি আসিল, আছিরন আসিল। মিঞাজানের বউ, মোকিমের বউ, তাহেরের মা, পাড়ার সমস্ত মেয়ে আসিয়া নানির বাড়িতে ভাঙিয়া পড়িল। আজ রাঙাছুটু বাপের বাড়ি হইতে শ্বশুরবাড়ি যাইবে। এ যে বাঙালিজীবনে যুগ-যুগান্তরের বিয়োগান্তক ঘটনা। এ দেশের কবিরা কতকাল ধরিয়া এই কারুণ কাহিনী নানা গাথায়, কবিতায়, গানে লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। এ বিয়োগ-বেদনা যে এদের, ওদের, তাদের সকলের। তাই একের ঘরের বেদনার সঙ্গে নিজের বেদনাকে মিলাইয়া ক্ষণেক সান্ত্বনা পাইবার ব্যর্থ প্রয়াস।

মাকে সামনে বসাইয়া নানি খাওয়াইতে বসিলেন। এটা/ওটা কত কি নানি রাঁধিয়াছেন। মা খাইতে চাহেন না। নানি বলেন, “মারে, কত দূরে যাইবি। পথে ক্ষুধা পাইবে। এই তরকারিটা আরও একটু খা। এই পিঠাটা তো তুই মুখেও দিলি না। তুই ভালোবাসিস কুশলী পিঠা। তাই বানাইয়াছি। নে, আর একটা মুখে দে।” “মা। তুমি আর জোর করিও না। দেখিতেছ না আর খাইতে পারিতেছি না।”

মা যে আজ খাইতে পারিবে না নানি তা জানেন-ভালোমতোই জানেন। নানিও তো একদিন এমনি করিয়া বাপের বাড়ি হইতে বিদায় হইতেন। তবু পীড়াপীড়ি না করিলে যে আজ মন ভরে না।

চলবে…