১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা, বিপাকে পাহাড়ি জনপদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩, নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু অঘোষিত সম্পদ বৈধ করার নতুন সুযোগ, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ করের প্রস্তাব শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তার মঞ্চ নাকি জাতির আত্মসমালোচনার সময়? বগুড়ায় এসআইকে কুপিয়ে মামলার নথি ছিনতাই, তদন্তে পুলিশ মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে, ইরান যুদ্ধের জ্বালানি ধাক্কায় বাড়ছে মার্কিন অর্থনীতির চাপ ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শক্তির সংজ্ঞা যদি পুরুষতন্ত্র লিখে দেয়, তবে নারীরা জিতবে কীভাবে? নতুন বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকার লড়াই: প্রযুক্তি, জ্ঞান ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের সময়

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা ( পর্ব-৩)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪
  • 94

প্রদীপ কুমার মজুমদার

সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত বৈদিক সভ্যতাই ভারতীয় সভ্যতার প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হোত। বৈদিক যুগে জান-বিজ্ঞানের মোটামুটি উন্নতি হয়েছিল তার নিদর্শন বেদের বিভিন্ন অধ্যায়ে আমরা দেখতে পাই। গণিতের বিশেষ করে সংখ্যা সম্বন্ধীয় কিছু কিছু গণনা বৈদিক সাহিত্যে দেখতে পাওয়া যায়। তবে এই গণনা বা গণিত সম্বন্ধীয় যা কিছু উদ্ধৃতি বা উল্লেখ সব কিছুই প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে। ফলে এ গুলিকে গণিত গ্রন্থ বলা যায় না।

ব্রাহ্মণ, সংহিতা, উপনিষদ, পুরাণ প্রভৃতি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থে গণন। বিজ্ঞানের আলোচনা কিছু কিছু রয়েছে। তবে সে গুলি অধিকাংশই প্রসঙ্গক্রমে উল্লিখিত হয়েছে। জৈন আগম গ্রন্থাদিতে গণিতের বহু তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে। এদের মধ্যে তত্ত্বার্থাধিগম সূত্র, বৃহৎক্ষেত্র সমাস, স্থানাঙ্গ সূত্র প্রভৃতি গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য। বৌদ্ধ সাহিত্যের মধ্যে দীঘ নিকায়, বিনয় পিটক, মিলিন্দি পানহো প্রভৃতি গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এগুলির অধিকাংশই জৈন বা বৌদ্ধ দর্শনের অন্তর্গত নানা তত্ত্বের আলোচনায় পরিপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে গণিত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে শুনসূত্রে। ধরতে গেলে ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে লিখিত গণিত গ্রন্থ হচ্ছে এই শুর সূত্র গ্রন্থগুলি। তবে এই গ্রন্থগুলি অধিকাংশই জ্যামিতি বিষয়ক। পঞ্চমশতাব্দীর শেষ পাদে গণিতের জন্য পৃথক গ্রন্থ প্রণয়ন করা হয় এবং গণিত বলতে ঠিক যা বোঝায় তাই এই গ্রন্থগুলির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল।

ভারতবর্ষে গাণিতিক চিন্তার সূচনা কি করে হোল তা বলা কঠিন। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে প্রাচীন কালে বিভিন্ন দেশের গণিতচর্চার পদ্ধতির মধ্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ছিল। এবং সেই বৈশিষ্ট্যের জোরেই তাঁরা তাঁদের গণিতচর্চার উন্নতি সাধন করেছিলেন। ব্যাবিলনবাসীরা জ্যোতির্বিদ্যাকে উন্নত করতে গিয়ে গণিতের ব্যাপক চর্চা করেছিলেন। কিন্তু ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে এধরণের কোন ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে না।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা ( পর্ব-২)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা ( পর্ব-২)

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা, বিপাকে পাহাড়ি জনপদ

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা ( পর্ব-৩)

১০:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

প্রদীপ কুমার মজুমদার

সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত বৈদিক সভ্যতাই ভারতীয় সভ্যতার প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হোত। বৈদিক যুগে জান-বিজ্ঞানের মোটামুটি উন্নতি হয়েছিল তার নিদর্শন বেদের বিভিন্ন অধ্যায়ে আমরা দেখতে পাই। গণিতের বিশেষ করে সংখ্যা সম্বন্ধীয় কিছু কিছু গণনা বৈদিক সাহিত্যে দেখতে পাওয়া যায়। তবে এই গণনা বা গণিত সম্বন্ধীয় যা কিছু উদ্ধৃতি বা উল্লেখ সব কিছুই প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে। ফলে এ গুলিকে গণিত গ্রন্থ বলা যায় না।

ব্রাহ্মণ, সংহিতা, উপনিষদ, পুরাণ প্রভৃতি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থে গণন। বিজ্ঞানের আলোচনা কিছু কিছু রয়েছে। তবে সে গুলি অধিকাংশই প্রসঙ্গক্রমে উল্লিখিত হয়েছে। জৈন আগম গ্রন্থাদিতে গণিতের বহু তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে। এদের মধ্যে তত্ত্বার্থাধিগম সূত্র, বৃহৎক্ষেত্র সমাস, স্থানাঙ্গ সূত্র প্রভৃতি গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য। বৌদ্ধ সাহিত্যের মধ্যে দীঘ নিকায়, বিনয় পিটক, মিলিন্দি পানহো প্রভৃতি গ্রন্থের নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এগুলির অধিকাংশই জৈন বা বৌদ্ধ দর্শনের অন্তর্গত নানা তত্ত্বের আলোচনায় পরিপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে গণিত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে শুনসূত্রে। ধরতে গেলে ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে লিখিত গণিত গ্রন্থ হচ্ছে এই শুর সূত্র গ্রন্থগুলি। তবে এই গ্রন্থগুলি অধিকাংশই জ্যামিতি বিষয়ক। পঞ্চমশতাব্দীর শেষ পাদে গণিতের জন্য পৃথক গ্রন্থ প্রণয়ন করা হয় এবং গণিত বলতে ঠিক যা বোঝায় তাই এই গ্রন্থগুলির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল।

ভারতবর্ষে গাণিতিক চিন্তার সূচনা কি করে হোল তা বলা কঠিন। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে প্রাচীন কালে বিভিন্ন দেশের গণিতচর্চার পদ্ধতির মধ্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ছিল। এবং সেই বৈশিষ্ট্যের জোরেই তাঁরা তাঁদের গণিতচর্চার উন্নতি সাধন করেছিলেন। ব্যাবিলনবাসীরা জ্যোতির্বিদ্যাকে উন্নত করতে গিয়ে গণিতের ব্যাপক চর্চা করেছিলেন। কিন্তু ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে এধরণের কোন ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে না।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা ( পর্ব-২)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা ( পর্ব-২)