০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -০৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 128

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

আচ্ছা, বাবা বলশেভিক কেন, খাঁটি বিপ্লবী এই ধরুন ‘এস-আর’ কিংবা নৈরাজ্যবাদীদের মতো নয় কেন? যেন, বাবা আমায় জব্দ করার জন্যে ইচ্ছে করেই গিয়ে বলশেভিক হয়েছেন! তা না হলে, আমি অন্তত সকলকে বলতে পারতুম যে আমার বাবা বিপ্লবী বলে তাঁকে গুলি করা হয়েছে। তাহলে সকলেরই মুখ বন্ধ হয়ে যেত, কেউ আর আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বাবার নিন্দে করতে পারত না। কিন্তু এখন আমি যদি বলি বাবা বলশেভিক বলে তাঁকে গুলি করে মারা হয়েছে, তাহলে সকলে বলবে, ‘ঠিক হয়েছে, বেশ হয়েছে’। কারণ, সব খবরের কাগজে লেখা হচ্ছে, বলশেভিকরা হল জার্মানদের গুপ্তচর, দালাল। ওদের লেনিন পর্যন্ত ভিলহেলমের হয়ে কাজ করছে।’

‘আচ্ছা, বল তো, এই ‘সকলে’-টা কারা?’ দাঁড়কাক বললেন। আমার ওই উত্তেজিত বক্তৃতার সময় আগাগোড়া তিনি হাসি-হাসি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

‘হ্যাঁ, সকলে, সকলেই। যার সঙ্গে দেখা হয় সে-ই। পাড়াপড়শিরা, গির্জোয় প্রার্থনার পর ভাষণের সময়ে পাদ্রিরা, আজ যে বক্তারা বক্তৃতা দিচ্ছিল তারা, সব সব…’

দাঁড়কাক এবার আমার কথায় বাধা দিলেন, ‘পড়শিরা! বক্তারা! বোকা ছেলে কোথাকার! এই সব বক্তা আর তোমাদের পড়শিদের চেয়ে তোমার বাবা ঢের ঢের বেশিগুণ খাঁটি বিপ্লবী, বুঝেছ? তোমাদের পাড়াপড়শি কারা? যত সব সন্ন্যাসী, ফসলের আড়তদার, ব্যাপারী, তীর্থযাত্রী, বাজারখোলার কসাই, আর রাস্তার লোক, এই তো? মুস্কিল এই যে তোমার এই সব পাড়াপড়শির মধ্যে একজনও ন্যায়নীতি- বোধওয়ালা স্থিরবুদ্ধি লোক আছে কিনা সন্দেহ। আমরা এই ধরনের পাঁচমিশেলি লোকেদের দলে টানার চেষ্টাও করি না।

এদের আমরা ওইসব লাল-কুর্তা গায়ে ভাপে-ভরা ফানুসদের কাছে বোকা বানানোর জন্যে ছেড়ে রেখে দিই। এদের নিয়ে নষ্ট করার মতো যথেষ্ট সময়ই আমাদের নেই। তাছাড়া এই সব সন্ন্যাসী আর ব্যাপারীরা চেষ্টা করলেও কোনোদিন আমাদের বন্ধু হবে না। আচ্ছা, রোসো, আমরা যেখানে যেখানে সভা করি সেই সব জায়গায় নিয়ে যাব তোমাকে। যেমন, ধরো,আহতদের ব্যারাক, সৈনিকদের ব্যারাক, রেলস্টেশন, গ্রামাঞ্চল এমনি সব জায়গা। ওই সব জায়গায় গেলে তবেই আসল খবর জানতে পারবে। এখানে তো মন্ত-মন্ত সব জজ বসে আছে কিনা! হং, পড়শির নিকুচি করেছে।’

বলে হেসে উঠলেন দাঁড়কাক।

তিকা শুকিনের বাবা বিপ্লব শুরু হওয়ার পরই ছাড়া পেলেন, কিন্তু তাঁকে আর পুরনো চাকরিতে ফিরিয়ে নেয়া হল না। গিজের তত্ত্বাবধায়ক সিনিউগিন তাঁকে অবিলম্বে দখলে-রাখা বাসা তাঁর জায়গায়-নেয়া নতুন লোকটিকে ছেড়ে দিতে হুকুম দিল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -০৭)

০৮:০০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

আচ্ছা, বাবা বলশেভিক কেন, খাঁটি বিপ্লবী এই ধরুন ‘এস-আর’ কিংবা নৈরাজ্যবাদীদের মতো নয় কেন? যেন, বাবা আমায় জব্দ করার জন্যে ইচ্ছে করেই গিয়ে বলশেভিক হয়েছেন! তা না হলে, আমি অন্তত সকলকে বলতে পারতুম যে আমার বাবা বিপ্লবী বলে তাঁকে গুলি করা হয়েছে। তাহলে সকলেরই মুখ বন্ধ হয়ে যেত, কেউ আর আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বাবার নিন্দে করতে পারত না। কিন্তু এখন আমি যদি বলি বাবা বলশেভিক বলে তাঁকে গুলি করে মারা হয়েছে, তাহলে সকলে বলবে, ‘ঠিক হয়েছে, বেশ হয়েছে’। কারণ, সব খবরের কাগজে লেখা হচ্ছে, বলশেভিকরা হল জার্মানদের গুপ্তচর, দালাল। ওদের লেনিন পর্যন্ত ভিলহেলমের হয়ে কাজ করছে।’

‘আচ্ছা, বল তো, এই ‘সকলে’-টা কারা?’ দাঁড়কাক বললেন। আমার ওই উত্তেজিত বক্তৃতার সময় আগাগোড়া তিনি হাসি-হাসি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

‘হ্যাঁ, সকলে, সকলেই। যার সঙ্গে দেখা হয় সে-ই। পাড়াপড়শিরা, গির্জোয় প্রার্থনার পর ভাষণের সময়ে পাদ্রিরা, আজ যে বক্তারা বক্তৃতা দিচ্ছিল তারা, সব সব…’

দাঁড়কাক এবার আমার কথায় বাধা দিলেন, ‘পড়শিরা! বক্তারা! বোকা ছেলে কোথাকার! এই সব বক্তা আর তোমাদের পড়শিদের চেয়ে তোমার বাবা ঢের ঢের বেশিগুণ খাঁটি বিপ্লবী, বুঝেছ? তোমাদের পাড়াপড়শি কারা? যত সব সন্ন্যাসী, ফসলের আড়তদার, ব্যাপারী, তীর্থযাত্রী, বাজারখোলার কসাই, আর রাস্তার লোক, এই তো? মুস্কিল এই যে তোমার এই সব পাড়াপড়শির মধ্যে একজনও ন্যায়নীতি- বোধওয়ালা স্থিরবুদ্ধি লোক আছে কিনা সন্দেহ। আমরা এই ধরনের পাঁচমিশেলি লোকেদের দলে টানার চেষ্টাও করি না।

এদের আমরা ওইসব লাল-কুর্তা গায়ে ভাপে-ভরা ফানুসদের কাছে বোকা বানানোর জন্যে ছেড়ে রেখে দিই। এদের নিয়ে নষ্ট করার মতো যথেষ্ট সময়ই আমাদের নেই। তাছাড়া এই সব সন্ন্যাসী আর ব্যাপারীরা চেষ্টা করলেও কোনোদিন আমাদের বন্ধু হবে না। আচ্ছা, রোসো, আমরা যেখানে যেখানে সভা করি সেই সব জায়গায় নিয়ে যাব তোমাকে। যেমন, ধরো,আহতদের ব্যারাক, সৈনিকদের ব্যারাক, রেলস্টেশন, গ্রামাঞ্চল এমনি সব জায়গা। ওই সব জায়গায় গেলে তবেই আসল খবর জানতে পারবে। এখানে তো মন্ত-মন্ত সব জজ বসে আছে কিনা! হং, পড়শির নিকুচি করেছে।’

বলে হেসে উঠলেন দাঁড়কাক।

তিকা শুকিনের বাবা বিপ্লব শুরু হওয়ার পরই ছাড়া পেলেন, কিন্তু তাঁকে আর পুরনো চাকরিতে ফিরিয়ে নেয়া হল না। গিজের তত্ত্বাবধায়ক সিনিউগিন তাঁকে অবিলম্বে দখলে-রাখা বাসা তাঁর জায়গায়-নেয়া নতুন লোকটিকে ছেড়ে দিতে হুকুম দিল।