০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
ভাইমার প্রজাতন্ত্রের পতনের শিক্ষা: আজকের রাজনীতির জন্য এক শতাব্দী আগের সতর্কবার্তা দক্ষিণ কোরিয়ায় কীভাবে ‘ইয়েলো পাইথন’ এলো আর্কটিকে নীরব দখলযুদ্ধ: স্বালবার্ডে কর্তৃত্ব জোরালো করছে নরওয়ে পরিচয়ের আয়নায় মানবতার সাক্ষ্য: জন উইলসনের শিল্পভ্রমণ দুই ভাইয়ের অভিযানে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের সত্য লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের পরে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ততা দীর্ঘ বিরতির পর বিটিএসের প্রত্যাবর্তন: দশম অ্যালবাম ও বিশ্বভ্রমণ গোষ্ঠী থেরাপির শক্তি: একক থেরাপির বিকল্প বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে ইরানের প্রতিবেশী সতর্ক বার্তা ইরানের অস্থিরতায় বেইজিংয়ের সামনে কঠিন সমীকরণ

নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় বিএনপি ও অন্যান্য দল

  • Sarakhon Report
  • ০৮:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 66

সারাক্ষণ ডেস্ক

প্রথম আলোর একটি শিরোনাম “নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় বিএনপি ও অন্যান্য দল”

আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে ভোটের সময়ের ব্যাপারে একটা ধারণা বা ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল। তারা বলেছে, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্বাচনের সময়ের প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় তারা।

সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবির প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের সময় নিয়ে কথা বললেন। দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু দলটির নেতারা বলেছেন, সংস্কারে কতটা সময় প্রয়োজন বা ঠিক কবে নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছেন মাত্র। কিন্তু তাতে সুস্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার করা হবে, সে জন্য কতটা সময় প্রয়োজন, তা প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট নয়। আমরা আশা করি, তিনি সংস্কারের সময় ও নির্বাচনের সময় সুনির্দিষ্ট করে একটি রোডম্যাপ দেবেন।’

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে সাধুবাদ জানালেও দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের দাবির কথা আবারও মনে করিয়ে দিয়ে রোডম্যাপ চেয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা গতকাল বলেছেন, ‘মোটাদাগে বলা যায়, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যায়।’

 

দৈনিক ইত্তেফাকের একটি শিরোনাম “পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে রিটের রায় আজ

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতার প্রশ্নে দায়েরকৃত দুটি রিটের ওপর আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবে। দুটি রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে দেয়। সেই মোতাবেক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকার এক ও দুই নম্বর ক্রমিকে দুটি রিট আবেদন রায়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে। ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি। এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাতিল করা হয় নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আয়োজন করা হয় দলীয় সরকারের অধীনে। এই দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ সরকার। সেসব নির্বাচন নানা সমালোচনার জন্ম দেয় দেশ ও বিদেশে। একতরফা ভোটের আয়োজন করায় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হয় নাগরিকদের মাঝে। দীর্ঘ দেড় দশক দলীয় সরকারের পরিবর্তে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন করে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি। শুধু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই বাতিল করেনি, সংবিধানের প্রায় ৪০-এর অধিক অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছে এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে।

 

বণিক বার্তার একটি শিরোনাম “দেশে বৈধভাবে অবস্থান করছেন ৪৫ হাজার ভারতীয়”

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন ৩৭ হাজার ৪৬৪ জন ভারতীয় নাগরিক। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এ সংখ্যা আরো বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখার গত ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে দেশে বৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ৪৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশীদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ভারতীয়রাই শীর্ষে। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কাজ করছেন। আবার একাংশ পড়াশোনা করছেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দিক থেকেও ভারতীয়রা শীর্ষে। তাদের মধ্যে একাংশ বাংলাদেশে এসেছিলেন বৈধভাবে। কিন্তু পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা অবৈধভাবে থেকে গেছেন। পুলিশের হিসাবে, বাংলাদেশে এভাবে অবস্থানরত ভারতীয়ের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৭২। তাদের অনেকেই আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলেও তথ্য রয়েছে।

আর কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই দেশে অনুপ্রবেশ করে থেকে যাওয়া কয়েক লাখ বিদেশীর মধ্যেও ভারতীয়ের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

 

মানবজমিনের একটি শিরোনাম “আইসিটি প্রকল্পে শতকোটি টাকা লোপাট”

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষার মান উন্নয়নে সারা দেশে প্রায় ৪৮ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ক্লাস প্রস্তুতের আগেই সিন্ডিকেট করে প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। খোদ আওয়ামী লীগের আমলেই উঠে আসে ৯৬ কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য। এছাড়াও আরেকটি প্রকল্পের ৭৭ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পায় আরেকটি তদন্ত কমিটি। ১৬০টি উপজেলায় ডিজিটাল ক্লাসরুম শুরুর আগেই উঠিয়ে নেয়া হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই প্রকল্প শেষ হয় চলতি বছরের জুনে। প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও আদতে কোনো ধরনের সুবিধা পাননি শিক্ষার্থীরা। তারপরও যেসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাসরুম নির্মাণ হয়েছে সেগুলোও হয়েছে নামকাওয়াস্তে।
প্রায় ৪৮ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আইসিটি প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালেই দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগের নথিতে দেখা যায় নানাবিধ খরচের মধ্যে শুধু ইন্টারনেট সংযোগের খরচ দেখানো হয়েছিল প্রায় দুই কোটি টাকা। অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার বাধ্যতামূলক করে তোলে আইসিটি। কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই ২০১২ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রমে আইসিটি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়। যার ফলে প্র্যাকটিক্যাল এই বিষয়টি হয়ে ওঠে মুখস্থ বিদ্যার বিষয়। পরের বছরই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশব্যাপী মাত্র ২৫৫টি পদে শিক্ষক ছিলেন। বাধ্যতামূলক করা হলেও আইসিটি’র পদ সৃজনই করা হয়নি। এই প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হলেও উপকার-বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রকল্পের আওতায় ছিল ১৩ ধরনের প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ পান পাঁচ লাখ ২১ হাজার ১১২ জন। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম দেখানো হয় ৩৬ হাজার ৮৪টি। যাতে থাকার কথা ডেস্কটপ কম্পিউটার, ইউপিএস, পেনড্রাইভ, স্মার্ট টিভি ও রাউটার। প্রকল্পের আওতায় ৬৬৮টি ট্রেনিংরুম ও কনফারেন্স রুম।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাইমার প্রজাতন্ত্রের পতনের শিক্ষা: আজকের রাজনীতির জন্য এক শতাব্দী আগের সতর্কবার্তা

নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় বিএনপি ও অন্যান্য দল

০৮:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

সারাক্ষণ ডেস্ক

প্রথম আলোর একটি শিরোনাম “নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় বিএনপি ও অন্যান্য দল”

আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে ভোটের সময়ের ব্যাপারে একটা ধারণা বা ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল। তারা বলেছে, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্বাচনের সময়ের প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় তারা।

সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবির প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের সময় নিয়ে কথা বললেন। দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু দলটির নেতারা বলেছেন, সংস্কারে কতটা সময় প্রয়োজন বা ঠিক কবে নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছেন মাত্র। কিন্তু তাতে সুস্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার করা হবে, সে জন্য কতটা সময় প্রয়োজন, তা প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট নয়। আমরা আশা করি, তিনি সংস্কারের সময় ও নির্বাচনের সময় সুনির্দিষ্ট করে একটি রোডম্যাপ দেবেন।’

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে সাধুবাদ জানালেও দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের দাবির কথা আবারও মনে করিয়ে দিয়ে রোডম্যাপ চেয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা গতকাল বলেছেন, ‘মোটাদাগে বলা যায়, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যায়।’

 

দৈনিক ইত্তেফাকের একটি শিরোনাম “পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে রিটের রায় আজ

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতার প্রশ্নে দায়েরকৃত দুটি রিটের ওপর আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবে। দুটি রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে দেয়। সেই মোতাবেক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকার এক ও দুই নম্বর ক্রমিকে দুটি রিট আবেদন রায়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করে। ২০১১ সালের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি। এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাতিল করা হয় নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আয়োজন করা হয় দলীয় সরকারের অধীনে। এই দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ সরকার। সেসব নির্বাচন নানা সমালোচনার জন্ম দেয় দেশ ও বিদেশে। একতরফা ভোটের আয়োজন করায় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হয় নাগরিকদের মাঝে। দীর্ঘ দেড় দশক দলীয় সরকারের পরিবর্তে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন করে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি। শুধু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই বাতিল করেনি, সংবিধানের প্রায় ৪০-এর অধিক অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়েছে এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে।

 

বণিক বার্তার একটি শিরোনাম “দেশে বৈধভাবে অবস্থান করছেন ৪৫ হাজার ভারতীয়”

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন ৩৭ হাজার ৪৬৪ জন ভারতীয় নাগরিক। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এ সংখ্যা আরো বেড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখার গত ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে দেশে বৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ৪৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশীদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ভারতীয়রাই শীর্ষে। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কাজ করছেন। আবার একাংশ পড়াশোনা করছেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দিক থেকেও ভারতীয়রা শীর্ষে। তাদের মধ্যে একাংশ বাংলাদেশে এসেছিলেন বৈধভাবে। কিন্তু পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা অবৈধভাবে থেকে গেছেন। পুলিশের হিসাবে, বাংলাদেশে এভাবে অবস্থানরত ভারতীয়ের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৭২। তাদের অনেকেই আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলেও তথ্য রয়েছে।

আর কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই দেশে অনুপ্রবেশ করে থেকে যাওয়া কয়েক লাখ বিদেশীর মধ্যেও ভারতীয়ের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

 

মানবজমিনের একটি শিরোনাম “আইসিটি প্রকল্পে শতকোটি টাকা লোপাট”

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষার মান উন্নয়নে সারা দেশে প্রায় ৪৮ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ক্লাস প্রস্তুতের আগেই সিন্ডিকেট করে প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। খোদ আওয়ামী লীগের আমলেই উঠে আসে ৯৬ কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য। এছাড়াও আরেকটি প্রকল্পের ৭৭ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পায় আরেকটি তদন্ত কমিটি। ১৬০টি উপজেলায় ডিজিটাল ক্লাসরুম শুরুর আগেই উঠিয়ে নেয়া হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই প্রকল্প শেষ হয় চলতি বছরের জুনে। প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও আদতে কোনো ধরনের সুবিধা পাননি শিক্ষার্থীরা। তারপরও যেসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাসরুম নির্মাণ হয়েছে সেগুলোও হয়েছে নামকাওয়াস্তে।
প্রায় ৪৮ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আইসিটি প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালেই দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগের নথিতে দেখা যায় নানাবিধ খরচের মধ্যে শুধু ইন্টারনেট সংযোগের খরচ দেখানো হয়েছিল প্রায় দুই কোটি টাকা। অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকার বাধ্যতামূলক করে তোলে আইসিটি। কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই ২০১২ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রমে আইসিটি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়। যার ফলে প্র্যাকটিক্যাল এই বিষয়টি হয়ে ওঠে মুখস্থ বিদ্যার বিষয়। পরের বছরই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশব্যাপী মাত্র ২৫৫টি পদে শিক্ষক ছিলেন। বাধ্যতামূলক করা হলেও আইসিটি’র পদ সৃজনই করা হয়নি। এই প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হলেও উপকার-বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রকল্পের আওতায় ছিল ১৩ ধরনের প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ পান পাঁচ লাখ ২১ হাজার ১১২ জন। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম দেখানো হয় ৩৬ হাজার ৮৪টি। যাতে থাকার কথা ডেস্কটপ কম্পিউটার, ইউপিএস, পেনড্রাইভ, স্মার্ট টিভি ও রাউটার। প্রকল্পের আওতায় ৬৬৮টি ট্রেনিংরুম ও কনফারেন্স রুম।