০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট, ১৪ বছরেও নেই চার্জশিট বৃষ্টি-ঝড়ের আভাস, কমতে পারে তাপপ্রবাহ—আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস গাজীপুরে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার, বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ক্যামেরায় বন্দি করা রঘু রাই আর নেই: ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে কিংবদন্তির বিদায় সহজ ভ্যাট–শুল্কই ন্যায্য বাজারের চাবিকাঠি মাইকেল জ্যাকসনকে ভালোবাসা কি এখনও সম্ভব? দুর্নীতি-সহিংসতায় বিজেপি ও তৃণমূল একই মুদ্রার দুই পিঠ: রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ জীবন, তবু স্বাভাবিক থাকার বার্তা ট্রাম্পের ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা, সন্দেহভাজন আটক পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও নিষিদ্ধ স্থানগুলো: কেন বিজ্ঞানীরা এসব জায়গা লুকিয়ে রেখেছেন

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 118

প্রদীপ কুমার মজুমদার

স্থানীয় অঙ্কপাতন পদ্ধতি কবে ভারতবর্ষে আবিষ্কৃত বা প্রচলিত হয়েছিল তা বলা কঠিন। মনে হয় কোন মহৎ পণ্ডিত অথবা পণ্ডিতদের মহাসম্মেলনে এই পদ্ধতিটি গৃহীত হয়ে থাকবে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক কল্হণ বলে গিয়েছেন এই পদ্ধতি ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রচলিত ছিল।

বিখ্যাত গণিত ঐতিহাসিক বি. বি. দত্ত মনে করেন খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে এই পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়ে থাকবে। প্রসঙ্গক্রমে বলা প্রয়োজন এই পদ্ধতি অনেক আগে আবিষ্কৃত হলেও সপ্তদশ শতাব্দীতেও স্থানীয় অঙ্কপাতন পদ্ধতি ব্যতিরেকেই সংখ্যা লিখতে দেখা যায়। অবশ্য কেন যে এটা চলেছিল সে সম্পর্কে ঐতিহাসিকেরা সুস্পষ্ট মতামত দিতে পারেন নি।

ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে দশাঙ্ক সংখ্যা ও স্থানীয়মান তত্ত্ব

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য জগতের দিকপাল গবেষকদের অধিকাংশের মত যে ভারতীয় গণিতবিদরাই গণিতে শাস্ত্রে প্রথম দশাঙ্ক সংখ্যার প্রচলন করেন। তবে কোন গণিতবিদ এ ব্যাপারে প্রথম অগ্রসর হয়েছিল তা বলা কঠিন। বায়ুপুরাণের এক- জায়গায় নিম্নোক্ত শ্লোকটি দেখতে পাওয়া যায়-

“এযা সংখ্যারুতা সংখ্যা ঈশ্বরেণ স্বয়ম্ভূবা।

গণনা বিনিবৃত্তৈযা সংখ্যা ব্রাহ্মী চ মানুষী”। ১০১/২০৮

শ্লোকটির অনুবাদ না করেও বলা যায় যে বায়ুপুরাণের মতে দশাঙ্ক সংখ্যা প্রণালীর আবিষ্কর্তা ব্রহ্মা। দশাঙ্ক সংখ্যা ব্যবহারের প্রমাণ মহাভরতে, পিঙ্গলের ছন্দসূত্রে,অনুযোগদ্বারস্থত্র নামক জৈন আগমসূত্রে, বিষ্ণুপুরাণে, অগ্নিপুরাণে, বায়ুপুরাণে, তিলয় পন্নতি (ত্রিলোক প্রজ্ঞপ্তি) নামক জৈন আগমগ্রন্থে, বাকশালীর পাটীগণিতে, মূল পুলিশ সিদ্ধান্তে, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে, তন্ত্রশাস্ত্রে, বৃহজ্জাতকবিবৃতিতে এবং আরও নানা ভারতীয় গণিত ও ধর্মগ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫)

সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট, ১৪ বছরেও নেই চার্জশিট

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৬)

১০:০০:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪

প্রদীপ কুমার মজুমদার

স্থানীয় অঙ্কপাতন পদ্ধতি কবে ভারতবর্ষে আবিষ্কৃত বা প্রচলিত হয়েছিল তা বলা কঠিন। মনে হয় কোন মহৎ পণ্ডিত অথবা পণ্ডিতদের মহাসম্মেলনে এই পদ্ধতিটি গৃহীত হয়ে থাকবে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক কল্হণ বলে গিয়েছেন এই পদ্ধতি ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রচলিত ছিল।

বিখ্যাত গণিত ঐতিহাসিক বি. বি. দত্ত মনে করেন খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে এই পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়ে থাকবে। প্রসঙ্গক্রমে বলা প্রয়োজন এই পদ্ধতি অনেক আগে আবিষ্কৃত হলেও সপ্তদশ শতাব্দীতেও স্থানীয় অঙ্কপাতন পদ্ধতি ব্যতিরেকেই সংখ্যা লিখতে দেখা যায়। অবশ্য কেন যে এটা চলেছিল সে সম্পর্কে ঐতিহাসিকেরা সুস্পষ্ট মতামত দিতে পারেন নি।

ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে দশাঙ্ক সংখ্যা ও স্থানীয়মান তত্ত্ব

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য জগতের দিকপাল গবেষকদের অধিকাংশের মত যে ভারতীয় গণিতবিদরাই গণিতে শাস্ত্রে প্রথম দশাঙ্ক সংখ্যার প্রচলন করেন। তবে কোন গণিতবিদ এ ব্যাপারে প্রথম অগ্রসর হয়েছিল তা বলা কঠিন। বায়ুপুরাণের এক- জায়গায় নিম্নোক্ত শ্লোকটি দেখতে পাওয়া যায়-

“এযা সংখ্যারুতা সংখ্যা ঈশ্বরেণ স্বয়ম্ভূবা।

গণনা বিনিবৃত্তৈযা সংখ্যা ব্রাহ্মী চ মানুষী”। ১০১/২০৮

শ্লোকটির অনুবাদ না করেও বলা যায় যে বায়ুপুরাণের মতে দশাঙ্ক সংখ্যা প্রণালীর আবিষ্কর্তা ব্রহ্মা। দশাঙ্ক সংখ্যা ব্যবহারের প্রমাণ মহাভরতে, পিঙ্গলের ছন্দসূত্রে,অনুযোগদ্বারস্থত্র নামক জৈন আগমসূত্রে, বিষ্ণুপুরাণে, অগ্নিপুরাণে, বায়ুপুরাণে, তিলয় পন্নতি (ত্রিলোক প্রজ্ঞপ্তি) নামক জৈন আগমগ্রন্থে, বাকশালীর পাটীগণিতে, মূল পুলিশ সিদ্ধান্তে, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে, তন্ত্রশাস্ত্রে, বৃহজ্জাতকবিবৃতিতে এবং আরও নানা ভারতীয় গণিত ও ধর্মগ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫)