০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১১)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 102

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

দাঁড়কাকের সঙ্গে সেই দেখা হওয়ার পর কয়েক মাস কেটে গেছে।

সালনিকভ সিট্রটে উচ্চ ধর্ম’ শিক্ষালয়ের প্রকাণ্ড বাড়িটার পাশেই ছিল বাগানওয়ালা একটা ছোট্ট বাড়ি। রাস্তার লোকে ওই বাড়ির খোলা জানলাগুলোর পাশ দিয়ে যেতে যেতে দেখতে পেত ঘন সিগারেটের ধোঁয়ার আড়ালে কিছু কিছু মুখের আনাগোনা। আর তারা তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে জায়গাটা পেরিয়ে এসে, ওদের কানে কথাটা যাতে না-যায় সেদিক খেয়াল রেখে, রাগ দেখিয়ে থুথু ফেলে বলত:

‘উস্কুনিদাতাদের গুলুস্তানির জায়গা আর কি!

জায়গাটা ছিল বলশেভিকদের ক্লাব। শহরে মোটমাট জনাবিশেক বলশেভিক ছিলেন, কিন্তু ওই বাড়িটা সব সময়ে লোকে গিঙ্গিস করত। ওখানকার দোর অবিশ্যি সকলের জন্যেই খোলা ছিল, তবু সচরাচর যাঁরা ওখানে যেতেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন হাসপাতালে ভরতি-হওয়া সৈনিক, অস্ট্রিয়ান যুদ্ধবন্দী আর চামড়া কারখানা ও পশমী কাপড়ের কলের মজুররা।

বলতে গেলে, আমার পুরো অবসর সময়টাই আমি ওখানে কাটাতুম। নিছক কৌতূহলবশেই দাঁড়কাকের সঙ্গে প্রথমে ওখানে গিয়েছিলুম। তারপর যেতুম অভ্যেসবশে। আর তারও পরে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য আমাকে গ্রাস করে নিল ওই ঘূর্ণি’। আর মাথার মধ্যে যে-সব জঞ্জাল এতদিন ধরে জমা হয়ে ছিল ধারালো ছুরির ফলায় ছাড়ানো আলুর খোসার মতো তা খসে পড়ল।

গির্জে’র বিতর্ক সভায় কিংবা মহাজন-ব্যাপারীদের জমায়েতে আমাদের বলশেভিকরা বক্তৃতা দিতেন না। তাঁরা সভাসমিতির অনুষ্ঠান করতেন শ্রমিক-বস্তির ধারে-কাছে, শহরের বাইরে আর রণক্লান্ত গ্রামগুলোয়।

কামেন্‌কায় এমনি একটা সভার কথা আমার এখনও মনে পড়ে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১১)

০৮:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

দাঁড়কাকের সঙ্গে সেই দেখা হওয়ার পর কয়েক মাস কেটে গেছে।

সালনিকভ সিট্রটে উচ্চ ধর্ম’ শিক্ষালয়ের প্রকাণ্ড বাড়িটার পাশেই ছিল বাগানওয়ালা একটা ছোট্ট বাড়ি। রাস্তার লোকে ওই বাড়ির খোলা জানলাগুলোর পাশ দিয়ে যেতে যেতে দেখতে পেত ঘন সিগারেটের ধোঁয়ার আড়ালে কিছু কিছু মুখের আনাগোনা। আর তারা তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে জায়গাটা পেরিয়ে এসে, ওদের কানে কথাটা যাতে না-যায় সেদিক খেয়াল রেখে, রাগ দেখিয়ে থুথু ফেলে বলত:

‘উস্কুনিদাতাদের গুলুস্তানির জায়গা আর কি!

জায়গাটা ছিল বলশেভিকদের ক্লাব। শহরে মোটমাট জনাবিশেক বলশেভিক ছিলেন, কিন্তু ওই বাড়িটা সব সময়ে লোকে গিঙ্গিস করত। ওখানকার দোর অবিশ্যি সকলের জন্যেই খোলা ছিল, তবু সচরাচর যাঁরা ওখানে যেতেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন হাসপাতালে ভরতি-হওয়া সৈনিক, অস্ট্রিয়ান যুদ্ধবন্দী আর চামড়া কারখানা ও পশমী কাপড়ের কলের মজুররা।

বলতে গেলে, আমার পুরো অবসর সময়টাই আমি ওখানে কাটাতুম। নিছক কৌতূহলবশেই দাঁড়কাকের সঙ্গে প্রথমে ওখানে গিয়েছিলুম। তারপর যেতুম অভ্যেসবশে। আর তারও পরে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য আমাকে গ্রাস করে নিল ওই ঘূর্ণি’। আর মাথার মধ্যে যে-সব জঞ্জাল এতদিন ধরে জমা হয়ে ছিল ধারালো ছুরির ফলায় ছাড়ানো আলুর খোসার মতো তা খসে পড়ল।

গির্জে’র বিতর্ক সভায় কিংবা মহাজন-ব্যাপারীদের জমায়েতে আমাদের বলশেভিকরা বক্তৃতা দিতেন না। তাঁরা সভাসমিতির অনুষ্ঠান করতেন শ্রমিক-বস্তির ধারে-কাছে, শহরের বাইরে আর রণক্লান্ত গ্রামগুলোয়।

কামেন্‌কায় এমনি একটা সভার কথা আমার এখনও মনে পড়ে।