০৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার মোগাদিশুতে ফিরছে স্বস্তি, তবে শান্তির আড়ালে রয়ে গেছে বড় শঙ্কা জাম্বিয়ার তামার সমৃদ্ধি, কিন্তু মানুষের ঘরে স্বস্তি কোথায়? মক্কা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৬৫ মৃত্যু, উদ্ধার তৎপরতায় বৈষম্যের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ইসলামের পতন, তবু শেষ হয়ে যায়নি মুসলিম ব্রাদারহুড ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা? লেবার ও ব্যবসা: অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সম্পর্ক মেরামতের নতুন সুযোগ শান্তির কথা বলাই এখন রাশিয়ায় অপরাধ, নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ উদারপন্থী ইয়াব্লোকো বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার আশঙ্কা: জার্মানিকে নতুন ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৭:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 143

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

নানা দিক থেকে চওড়া চওড়া সব রাস্তা বেয়ে আশপাশের গাঁ থেকে চাষীরা দলে দলে কামেন্কার মাঠে এসে পৌঁছচ্ছিলেন। সভার কাজ তখনও শুরু হয় নি, কিন্তু দূর থেকেই একটা জমাট চিৎকার আর হৈ-হল্লা কানে আসছিল।

ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ আবিষ্কার করলুম ফেষ্কাকে। ও আগুপিছু ঘুরে ঘুরে লোকদের হাতে ইস্তাহার গুঁজে দিচ্ছিল। আমায় দেখে দৌড়ে কাছে এল।

ওহো, তুইও এসে গেছিস! হেট-হেট, আজ ব্যাপারটা যা জমবে না। এই নে, এই গোছাটা ধর্ দেখি। দে তো সবার মধ্যে বিলি করে।’

ডজনখানেক ইস্তাহার আমার হাতে গছিয়ে দিল ও। তার মধ্যে একখানা খুলে দেখি, ‘এস-আর’-রা তাতে যুদ্ধকে জয়যুক্ত করতে আর রণক্ষেত্র ছেড়ে না-পালাতে আবেদন জানাচ্ছে। দেখেই সঙ্গে সঙ্গে ইস্তাহারগুলো ফিরিয়ে দিলুম।

‘না, ফেদকা, এ-ইস্তাহার আমি বিলি করতে পারব না। ইচ্ছে হলে তুই নিজে বিলি কর।’

ফেদ্দুকা ঘেন্নায় থুথু ফেলল।

বলল, ‘তুই একটা গাধা। ওদের সঙ্গে আছিস নাকি রে তুই?’ বলে দাঁড়কাক আর বাস্স্কাকভের দিকে মাথার ভঙ্গি করে দেখাল। ‘বাঃ, তোর বেশ উন্নতি হয়েছে দেখছি। আর আমি কিনা তোর ওপর নির্ভর করেছিলুম!’

তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কাঁধে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ফেক্কা ভিড়ে মিশে গেল।

‘ওহ, উনি আমার ওপর নির্ভর করেছিলেন,’ বাঁকা হেসে আমি নিজের মনে বললুম, ‘যেন আমি নিজেই মাথা খাটাতে পারি না!’

‘অ্যাঃ, জয়যুক্ত করতি হবে…’ পাশেই কাকে যেন চাপা গলায় বলতে শুনলুম।

ফিরে তাকিয়ে দেখলুম, খালি পায়ে আর খালি মাথায় একজন কৃষক দাঁড়িয়ে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১৩)

০৭:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

নানা দিক থেকে চওড়া চওড়া সব রাস্তা বেয়ে আশপাশের গাঁ থেকে চাষীরা দলে দলে কামেন্কার মাঠে এসে পৌঁছচ্ছিলেন। সভার কাজ তখনও শুরু হয় নি, কিন্তু দূর থেকেই একটা জমাট চিৎকার আর হৈ-হল্লা কানে আসছিল।

ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ আবিষ্কার করলুম ফেষ্কাকে। ও আগুপিছু ঘুরে ঘুরে লোকদের হাতে ইস্তাহার গুঁজে দিচ্ছিল। আমায় দেখে দৌড়ে কাছে এল।

ওহো, তুইও এসে গেছিস! হেট-হেট, আজ ব্যাপারটা যা জমবে না। এই নে, এই গোছাটা ধর্ দেখি। দে তো সবার মধ্যে বিলি করে।’

ডজনখানেক ইস্তাহার আমার হাতে গছিয়ে দিল ও। তার মধ্যে একখানা খুলে দেখি, ‘এস-আর’-রা তাতে যুদ্ধকে জয়যুক্ত করতে আর রণক্ষেত্র ছেড়ে না-পালাতে আবেদন জানাচ্ছে। দেখেই সঙ্গে সঙ্গে ইস্তাহারগুলো ফিরিয়ে দিলুম।

‘না, ফেদকা, এ-ইস্তাহার আমি বিলি করতে পারব না। ইচ্ছে হলে তুই নিজে বিলি কর।’

ফেদ্দুকা ঘেন্নায় থুথু ফেলল।

বলল, ‘তুই একটা গাধা। ওদের সঙ্গে আছিস নাকি রে তুই?’ বলে দাঁড়কাক আর বাস্স্কাকভের দিকে মাথার ভঙ্গি করে দেখাল। ‘বাঃ, তোর বেশ উন্নতি হয়েছে দেখছি। আর আমি কিনা তোর ওপর নির্ভর করেছিলুম!’

তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কাঁধে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ফেক্কা ভিড়ে মিশে গেল।

‘ওহ, উনি আমার ওপর নির্ভর করেছিলেন,’ বাঁকা হেসে আমি নিজের মনে বললুম, ‘যেন আমি নিজেই মাথা খাটাতে পারি না!’

‘অ্যাঃ, জয়যুক্ত করতি হবে…’ পাশেই কাকে যেন চাপা গলায় বলতে শুনলুম।

ফিরে তাকিয়ে দেখলুম, খালি পায়ে আর খালি মাথায় একজন কৃষক দাঁড়িয়ে।