১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
নির্বাচনে জনরোষের ঝড়, গণতন্ত্র কি এখন হতাশার চক্রে বন্দি? জিল বাইডেনের স্মৃতিচারণে উঠে এলো মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে অস্বস্তিকর যাত্রার গল্প নতুন খনিজ সম্পদে ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় বতসোয়ানা, লক্ষ্য শূন্য শুল্ক কেন্টাকিতে চমক দেখাতে পারবেন বুকার? ট্রাম্প-ঘাঁটিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের স্বপ্ন এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ঝুঁকি, সতর্ক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এভাবেই বদলাচ্ছে অভিবাসন বিতর্কের ভাষা, আলোচনায় নতুন শব্দ ‘রিমাইগ্রেশন’ নতুন বিশ্বকাপ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম ও বাণিজ্যিকীকরণে ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা নিত্যপণ্যের চাপে নতুন ধাক্কা, এক বছরে টমেটোর দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু চীনে কোভিড-পরবর্তী সময়ে প্রথমবার কমল খুচরা বিক্রি, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা সংকট

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৪৯)

  • Sarakhon Report
  • ০৭:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • 125

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

অনেকেই তাঁকে খুশী করবার চেষ্টা করতো, কিন্তু তারা যে কোনো প্রকার নৈপুণ্যের সংগে তা করতো, এমনটি কই আমার চোখে পড়ে নি। বিশ্বজনীন তিতিক্ষা, প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম, যিশুর জীবন- লীলা, বৌদ্ধধর্ম, তাঁর এই সকল সুঅভ্যন্ত বিষয়গুলি সম্বন্ধে তিনি আমার সংগে কদাচিৎ কখনো আলাপ করতেন। কারণ, তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলেন, ওই সব বিষয় আমার পক্ষে বড়ো একটা ‘কার্যকরী’ হবে না। তাঁর এই কাজটির আমি প্রশংসা করি।

তিনি ইচ্ছা করলেই অসাধারণ রকমের অমায়িক, অনুভূতিশীল এবং বিচক্ষণ হ’য়ে উঠতে পারতেন; তাঁর আলাপ-আলোচনাগুলি এমন সরল এবং সুরুচিসম্পন্ন ছিল যে, মানুষকে তা সহজেই মুগ্ধ করতো। তবে মাঝে মাঝে তাঁর মন্তব্যগুলি পীড়াদায়ক-ও হ’তো। মেয়েদের সম্বন্ধে তাঁর মতামতগুলি আমি আদৌ পছন্দ করতাম না-অকথ্য রকমের গ্রাম্য ছিল সেগুলি।

আর তাঁর কথাগুলির মধ্যে এমন একটা জিনিষ থাকতো, যা ছিল কৃত্রিম, কপট, এবং সেই সংগে অত্যন্ত ব্যক্তিগত। মনে হোতো, তিনি যেন কখনো আঘাত পেয়েছিলেন, এবং সেই আঘাতটাকে তিনি কখনো ভুলতে বা ক্ষমা করতে পারেন নি। একদিন সন্ধ্যায়, যেদিন তাঁর সংগে আমার প্রথম পরিচয় হোলো, আমাকে তিনি তাঁর পড়ার ঘরে নিয়ে গেলেন-সেটা ছিল মস্কাও এ, খামোভনিকিতে- তারপর নিজের সামনে বসিয়ে ‘ভারিয়েংকা ওলিয়েসোভ।’ এবং ‘ছাব্বিশ ও এক’ সম্বন্ধে আলাপ করতে লাগলেন।

আমি তাঁর কণ্ঠস্বর শুনে বিব্রত বিভ্রান্ত হ’য়ে গেলাম। অত্যন্ত সরল এবং নিষ্ঠুরভাবে তিনি কথাগুলি ব’লে গেলেন। বললেন, “কোনো স্বাস্থ্যবতী মেয়ের পক্ষে কুমারীত্বটা স্বাভাবিক বস্তু নয়। কোনো মেয়ে যখন পনেরো বছরে পা দেয়, এবং সে যদি সুস্থ হয়, তবে সে কামনা করে, কেউ তাকে স্পর্শ করুক, আলিংগন করুক। তখনো তার কাছে যা অজ্ঞাত, যা দুর্বোধ্য, সে- সম্বন্ধে ভীরু থাকে তার মন-আর এই ভীরুতাকে লোক বলে কুমারীত্ব, শুদ্ধি।

কিন্তু তার দেহের রক্তমাংস ইতিপূর্বেই সচেতন হ’য়ে ওঠে যে, তার কাছে যা দুর্বোধ্য, তাই হোলো ন্যায়সংগত, নিয়মসংগত, এবং তার মনের বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও সে তীব্রভাবে কামনা করে, এই নিয়মের দাবী পূর্ণ করতে। তুমি ভারিয়েংকা ওলিয়েসোভাকে বর্ণনা করেছ হুস্থ ব’লে। কিন্তু তার মনোভাবটা হোলো রক্তাল্পতা-রোগগ্রন্থ মানুষের মতো-তাই জীবনে সে সত্যি নয়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে জনরোষের ঝড়, গণতন্ত্র কি এখন হতাশার চক্রে বন্দি?

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৪৯)

০৭:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

অনেকেই তাঁকে খুশী করবার চেষ্টা করতো, কিন্তু তারা যে কোনো প্রকার নৈপুণ্যের সংগে তা করতো, এমনটি কই আমার চোখে পড়ে নি। বিশ্বজনীন তিতিক্ষা, প্রতিবেশীর প্রতি প্রেম, যিশুর জীবন- লীলা, বৌদ্ধধর্ম, তাঁর এই সকল সুঅভ্যন্ত বিষয়গুলি সম্বন্ধে তিনি আমার সংগে কদাচিৎ কখনো আলাপ করতেন। কারণ, তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলেন, ওই সব বিষয় আমার পক্ষে বড়ো একটা ‘কার্যকরী’ হবে না। তাঁর এই কাজটির আমি প্রশংসা করি।

তিনি ইচ্ছা করলেই অসাধারণ রকমের অমায়িক, অনুভূতিশীল এবং বিচক্ষণ হ’য়ে উঠতে পারতেন; তাঁর আলাপ-আলোচনাগুলি এমন সরল এবং সুরুচিসম্পন্ন ছিল যে, মানুষকে তা সহজেই মুগ্ধ করতো। তবে মাঝে মাঝে তাঁর মন্তব্যগুলি পীড়াদায়ক-ও হ’তো। মেয়েদের সম্বন্ধে তাঁর মতামতগুলি আমি আদৌ পছন্দ করতাম না-অকথ্য রকমের গ্রাম্য ছিল সেগুলি।

আর তাঁর কথাগুলির মধ্যে এমন একটা জিনিষ থাকতো, যা ছিল কৃত্রিম, কপট, এবং সেই সংগে অত্যন্ত ব্যক্তিগত। মনে হোতো, তিনি যেন কখনো আঘাত পেয়েছিলেন, এবং সেই আঘাতটাকে তিনি কখনো ভুলতে বা ক্ষমা করতে পারেন নি। একদিন সন্ধ্যায়, যেদিন তাঁর সংগে আমার প্রথম পরিচয় হোলো, আমাকে তিনি তাঁর পড়ার ঘরে নিয়ে গেলেন-সেটা ছিল মস্কাও এ, খামোভনিকিতে- তারপর নিজের সামনে বসিয়ে ‘ভারিয়েংকা ওলিয়েসোভ।’ এবং ‘ছাব্বিশ ও এক’ সম্বন্ধে আলাপ করতে লাগলেন।

আমি তাঁর কণ্ঠস্বর শুনে বিব্রত বিভ্রান্ত হ’য়ে গেলাম। অত্যন্ত সরল এবং নিষ্ঠুরভাবে তিনি কথাগুলি ব’লে গেলেন। বললেন, “কোনো স্বাস্থ্যবতী মেয়ের পক্ষে কুমারীত্বটা স্বাভাবিক বস্তু নয়। কোনো মেয়ে যখন পনেরো বছরে পা দেয়, এবং সে যদি সুস্থ হয়, তবে সে কামনা করে, কেউ তাকে স্পর্শ করুক, আলিংগন করুক। তখনো তার কাছে যা অজ্ঞাত, যা দুর্বোধ্য, সে- সম্বন্ধে ভীরু থাকে তার মন-আর এই ভীরুতাকে লোক বলে কুমারীত্ব, শুদ্ধি।

কিন্তু তার দেহের রক্তমাংস ইতিপূর্বেই সচেতন হ’য়ে ওঠে যে, তার কাছে যা দুর্বোধ্য, তাই হোলো ন্যায়সংগত, নিয়মসংগত, এবং তার মনের বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও সে তীব্রভাবে কামনা করে, এই নিয়মের দাবী পূর্ণ করতে। তুমি ভারিয়েংকা ওলিয়েসোভাকে বর্ণনা করেছ হুস্থ ব’লে। কিন্তু তার মনোভাবটা হোলো রক্তাল্পতা-রোগগ্রন্থ মানুষের মতো-তাই জীবনে সে সত্যি নয়।”