০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য ঘুমের সমস্যায় স্বস্তি দিচ্ছে ভারী কম্বল, বাড়ছে জনপ্রিয়তা এক নজরে সেরা হিটেড কম্বল ও হিটিং কুশন: আরাম, উষ্ণতা ও বহনযোগ্যতার পরীক্ষায় কে এগিয়ে? ম্যাসাজ পিস্তল কিনবেন? পরীক্ষায় এগিয়ে যে মডেলগুলো, জানুন বিস্তারিত তেলের দাম কমার স্বস্তি, তবে কৃষি খাতে ব্যয়ের চাপ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বসনিয়া কোচ বারবারেজের বিস্ময়কর সাফল্য, বিশ্বকাপে চোখ এখন নকআউট পর্বে এসি-সিআই উদ্যোগে আসিয়ানের সৃজনশীল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা, বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫১)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • 122

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

তারপর তিনি দরজা পর্যন্ত আমার সংগে এসে আমার সংগে কোলাকোলি ক’রে, আমার চুমু খেয়ে বললেন, “তুমি একজন সত্যিকারের মুঝিক (চাষা); লেখকদের সংগে বাস করা তোমার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠবে। কিন্তু সেজন্যে ভয় পেয়োনা। যা অনুভব করবে, তাই বলবে, হোক তা কঠোর-আসে যায় না। যাদের বুদ্ধি আছে, তারা বুঝবে।”

এই প্রথম সাক্ষাতে দুটি বিষয় আমার মনে রেখাপাত করেছিল। টলস্টয়কে দেখে আমি গর্ব এবং আনন্দ বোধ করেছিলাম; কিন্তু তাঁর সংগে আলাপটা আমার কতোকটা শওয়াল-জবাবের মতো মনে হয়েছিল এবং, এক অর্থে বলা যেতে পারে, তাঁর মধ্যে আমি ‘কশাক’, ‘খোলস্ত- নিয়ের’ এবং ‘যুদ্ধ ও শান্তি’র লেখকের সাক্ষাৎ পাই নি।

পেয়েছিলাম একজন ‘বারিনের’ (বাবুর), যিনি আমার প্রতি রূপাপরবশ হ’য়ে জনসাধারণের ভাষায় কথা বলা প্রয়োজন ব’লে ভেবেছিলেন-জন- সাধারণের ভাষা, অর্থাৎ অলিগলির ও হাট-বাজারের ভাষা। ব্যাপারটা তাঁর সম্পর্কে আমার ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিলো-যে ধারণ। দীর্ঘকাল ধ’রে আমার গভীরে মূল সঞ্চারিত করেছিল, যে ধারণা আমার কাছে হ’য়ে উঠেছিল একান্ত প্রিয়।

তাঁর সংগে আবার আমার দেখা হয় ইয়াসনাইয়া পলিয়ানাতে। শরতের মেঘাচ্ছন্ন একটি দিন, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তাঁর গায়ে মোটা একটা ওভারকোট, পায়ে হাঁটুভর চামড়ার জুতো। তিনি আমাকে সংগে নিয়ে জংগলের দিকে বেড়াতে চললেন। নালা-নর্দমাগুলো তিনি ছোটো ছেলের মতো লাফ দিয়ে পার হলেন, গাছের ডাল-পালা নেড়ে ঝরিয়ে দিলেন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো।

তারপর সেখানে বসে আমাকে প্রাঞ্জল ভাবে ব্যাখ্যা করে জানালেন, ফেট শোফেনহাউয়ের সম্পর্কে কি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বার্চগাছের মখমলের মতন ভেজা গুড়িতে তাঁর হাতের সস্নেহ মৃদু আঘাত দিয়ে তিনি বললেন, “সম্প্রতি আমি একটা কবিতা পড়েছিলাম:

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫১)

০৪:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

তারপর তিনি দরজা পর্যন্ত আমার সংগে এসে আমার সংগে কোলাকোলি ক’রে, আমার চুমু খেয়ে বললেন, “তুমি একজন সত্যিকারের মুঝিক (চাষা); লেখকদের সংগে বাস করা তোমার পক্ষে কঠিন হয়ে উঠবে। কিন্তু সেজন্যে ভয় পেয়োনা। যা অনুভব করবে, তাই বলবে, হোক তা কঠোর-আসে যায় না। যাদের বুদ্ধি আছে, তারা বুঝবে।”

এই প্রথম সাক্ষাতে দুটি বিষয় আমার মনে রেখাপাত করেছিল। টলস্টয়কে দেখে আমি গর্ব এবং আনন্দ বোধ করেছিলাম; কিন্তু তাঁর সংগে আলাপটা আমার কতোকটা শওয়াল-জবাবের মতো মনে হয়েছিল এবং, এক অর্থে বলা যেতে পারে, তাঁর মধ্যে আমি ‘কশাক’, ‘খোলস্ত- নিয়ের’ এবং ‘যুদ্ধ ও শান্তি’র লেখকের সাক্ষাৎ পাই নি।

পেয়েছিলাম একজন ‘বারিনের’ (বাবুর), যিনি আমার প্রতি রূপাপরবশ হ’য়ে জনসাধারণের ভাষায় কথা বলা প্রয়োজন ব’লে ভেবেছিলেন-জন- সাধারণের ভাষা, অর্থাৎ অলিগলির ও হাট-বাজারের ভাষা। ব্যাপারটা তাঁর সম্পর্কে আমার ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিলো-যে ধারণ। দীর্ঘকাল ধ’রে আমার গভীরে মূল সঞ্চারিত করেছিল, যে ধারণা আমার কাছে হ’য়ে উঠেছিল একান্ত প্রিয়।

তাঁর সংগে আবার আমার দেখা হয় ইয়াসনাইয়া পলিয়ানাতে। শরতের মেঘাচ্ছন্ন একটি দিন, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। তাঁর গায়ে মোটা একটা ওভারকোট, পায়ে হাঁটুভর চামড়ার জুতো। তিনি আমাকে সংগে নিয়ে জংগলের দিকে বেড়াতে চললেন। নালা-নর্দমাগুলো তিনি ছোটো ছেলের মতো লাফ দিয়ে পার হলেন, গাছের ডাল-পালা নেড়ে ঝরিয়ে দিলেন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো।

তারপর সেখানে বসে আমাকে প্রাঞ্জল ভাবে ব্যাখ্যা করে জানালেন, ফেট শোফেনহাউয়ের সম্পর্কে কি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বার্চগাছের মখমলের মতন ভেজা গুড়িতে তাঁর হাতের সস্নেহ মৃদু আঘাত দিয়ে তিনি বললেন, “সম্প্রতি আমি একটা কবিতা পড়েছিলাম: