১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
নির্বাচনে জনরোষের ঝড়, গণতন্ত্র কি এখন হতাশার চক্রে বন্দি? জিল বাইডেনের স্মৃতিচারণে উঠে এলো মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে অস্বস্তিকর যাত্রার গল্প নতুন খনিজ সম্পদে ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় বতসোয়ানা, লক্ষ্য শূন্য শুল্ক কেন্টাকিতে চমক দেখাতে পারবেন বুকার? ট্রাম্প-ঘাঁটিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের স্বপ্ন এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ঝুঁকি, সতর্ক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এভাবেই বদলাচ্ছে অভিবাসন বিতর্কের ভাষা, আলোচনায় নতুন শব্দ ‘রিমাইগ্রেশন’ নতুন বিশ্বকাপ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক, টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম ও বাণিজ্যিকীকরণে ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা নিত্যপণ্যের চাপে নতুন ধাক্কা, এক বছরে টমেটোর দাম ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু চীনে কোভিড-পরবর্তী সময়ে প্রথমবার কমল খুচরা বিক্রি, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা সংকট

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩০)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫
  • 103

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

আমার বাবার ব্যাপারটা সকলে প্রায় ভুলতে বসেছিল আর আমার ও বন্ধুদের মধ্যে ওই ব্যাপার নিয়ে যে-সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটেছিল তা আবার জোড়া লাগার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছিল, এমন সময় রাজধানী থেকে এই নতুন পরিবর্তনের হাওয়া এসে লাগল গাঁয়ে। আমাদের শহরের বাসিন্দারা বলশেভিকদের ওপর হঠাৎ সাংঘাতিক খেপে উঠল। ক্লাবটাকে তারা দিলে বন্ধ করে।
মিউনিসিপ্যালিটির অধীনস্থ স্থানীয় সামরিক বাহিনী বাস্কাকভকে গ্রেপ্তার করল। আর ইশকুলে এজন্যে যত দোষ সব এসে পড়ল আমার ঘাড়ে। কেন আমি বলশেভিকদের সঙ্গে অত মেশামেশি করেছি, মে-দিবসে কেন আমি ওদের ক্লাবঘরের ছাদের ওপর পতাকা টাঙিয়েছি, কেন আমি কামেনকার সেই সভায় যুদ্ধকে জয়যুক্ত করার আবেদন জানিয়ে ফেন্দকার-দেয়া ইস্তাহারগুলো বিলি করতে অশ্বীকার করেছি, এই সব অভিযোগ।
আমাদের ইশকুলের সব ছেলেই তখন ইস্তাহার বিলি করত। ওদের মধ্যে কেউ- কেউ আবার যে কারো ইস্তাহার পেলেই মহা খুশি হয়ে গোছা গোছা তাই নিয়ে রাস্তায় ছুটোছুটি করে এর-ওর-তার হাতে গুঁজে দিতে থাকত। তা সে ইস্তাহার কাদেত, নৈরাজ্যবাদী, খাস্টিয়ান সোশ্যালিস্ট কিংবা বলশেভিক যারই হোক না কেন। অথচ এটা যেন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার এমন ভাব করে ওই ছেলেগুলোকে কেউ কিছু বলল না। কেবল আমারই হল যত দোষ! যাঃ বাবা!
কিন্তু কামেন্‌কার ওই সভায় আমি ফেক্কার দেয়া ‘এস-আর’দের ইস্তাহার বিলি করতুমই বা কী করে? বাস্কাকভ যে তার আগেই তার একগাদা ইস্তাহার দিয়ে আমায় বিলি করতে বলেছিল। একই সঙ্গে দুই পার্টির ইস্তাহার কি বিলি করা সম্ভব? তবু যদি ইস্তাহার দুটোর বক্তব্য এক ধরনের হত তাহলেও না হয় কথা ছিল। কিন্তু ওর একটায় যেখানে বলা হচ্ছিল ‘জার্মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের গৌরব দীর্ঘজীবী হোক’, সেখানে অপরটা বলছিল, ‘লুঠেরা যুদ্ধ ধ্বংস হোক’।
একটা বলছিল, ‘অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন কর’, আর অন্যটা ডাক দিচ্ছিল সরকারের ‘দশজন পুঁজিবাদী মন্ত্রী ধ্বংস হোক’ বলে। কাজেই, কী করে তখন দুটো ইস্তাহার একসঙ্গে বিলি করা সম্ভব হত, বিশেষ করে যখন একটা ইস্তাহার অপরটাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিচ্ছিল?
জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে জনরোষের ঝড়, গণতন্ত্র কি এখন হতাশার চক্রে বন্দি?

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩০)

০৮:০০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

আমার বাবার ব্যাপারটা সকলে প্রায় ভুলতে বসেছিল আর আমার ও বন্ধুদের মধ্যে ওই ব্যাপার নিয়ে যে-সাময়িক বিচ্ছেদ ঘটেছিল তা আবার জোড়া লাগার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছিল, এমন সময় রাজধানী থেকে এই নতুন পরিবর্তনের হাওয়া এসে লাগল গাঁয়ে। আমাদের শহরের বাসিন্দারা বলশেভিকদের ওপর হঠাৎ সাংঘাতিক খেপে উঠল। ক্লাবটাকে তারা দিলে বন্ধ করে।
মিউনিসিপ্যালিটির অধীনস্থ স্থানীয় সামরিক বাহিনী বাস্কাকভকে গ্রেপ্তার করল। আর ইশকুলে এজন্যে যত দোষ সব এসে পড়ল আমার ঘাড়ে। কেন আমি বলশেভিকদের সঙ্গে অত মেশামেশি করেছি, মে-দিবসে কেন আমি ওদের ক্লাবঘরের ছাদের ওপর পতাকা টাঙিয়েছি, কেন আমি কামেনকার সেই সভায় যুদ্ধকে জয়যুক্ত করার আবেদন জানিয়ে ফেন্দকার-দেয়া ইস্তাহারগুলো বিলি করতে অশ্বীকার করেছি, এই সব অভিযোগ।
আমাদের ইশকুলের সব ছেলেই তখন ইস্তাহার বিলি করত। ওদের মধ্যে কেউ- কেউ আবার যে কারো ইস্তাহার পেলেই মহা খুশি হয়ে গোছা গোছা তাই নিয়ে রাস্তায় ছুটোছুটি করে এর-ওর-তার হাতে গুঁজে দিতে থাকত। তা সে ইস্তাহার কাদেত, নৈরাজ্যবাদী, খাস্টিয়ান সোশ্যালিস্ট কিংবা বলশেভিক যারই হোক না কেন। অথচ এটা যেন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার এমন ভাব করে ওই ছেলেগুলোকে কেউ কিছু বলল না। কেবল আমারই হল যত দোষ! যাঃ বাবা!
কিন্তু কামেন্‌কার ওই সভায় আমি ফেক্কার দেয়া ‘এস-আর’দের ইস্তাহার বিলি করতুমই বা কী করে? বাস্কাকভ যে তার আগেই তার একগাদা ইস্তাহার দিয়ে আমায় বিলি করতে বলেছিল। একই সঙ্গে দুই পার্টির ইস্তাহার কি বিলি করা সম্ভব? তবু যদি ইস্তাহার দুটোর বক্তব্য এক ধরনের হত তাহলেও না হয় কথা ছিল। কিন্তু ওর একটায় যেখানে বলা হচ্ছিল ‘জার্মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের গৌরব দীর্ঘজীবী হোক’, সেখানে অপরটা বলছিল, ‘লুঠেরা যুদ্ধ ধ্বংস হোক’।
একটা বলছিল, ‘অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন কর’, আর অন্যটা ডাক দিচ্ছিল সরকারের ‘দশজন পুঁজিবাদী মন্ত্রী ধ্বংস হোক’ বলে। কাজেই, কী করে তখন দুটো ইস্তাহার একসঙ্গে বিলি করা সম্ভব হত, বিশেষ করে যখন একটা ইস্তাহার অপরটাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিচ্ছিল?