০৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
গ্যাস আছে, কিন্তু গ্যাস নেই: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আসল হিসাব সবজির দামে নতুন ঝড়: সার সংকট, বিশ্ববাজার ও বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের খাবারের ভবিষ্যৎ জঙ্গিদের হাতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা, সাভার-আশুলিয়ায় পরপর উদ্ধারে পুলিশের উদ্বেগ নেপালে তিব্বতবিষয়ক সম্মেলন বাতিল, চীনের চাপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক  ভারত নান্দেডের গুরুদ্বারে সুখবীর বাদলের ওপর হামলা, হাতে সামান্য আঘাত বিরোধীদের ঐক্যে চাপে মোদি সরকার, পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ বিল ঠেকানোর দাবি কংগ্রেসের ভারত খড়গের সভাস্থল ‘শুদ্ধিকরণ’ নিয়ে উত্তাল উত্তরাখণ্ড, বিজেপির বিরুদ্ধে জাতপাতের অভিযোগ মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ, ‘মোদিভক্ত’ হয়ে দেশের লাভ হবে না: খার্গে উত্তরাখণ্ডের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস ও পানির স্রোত, আটকা পড়ার আশঙ্কা ৬ শ্রমিকের তরুণ শক্তির আবেগে সাজছে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫
  • 130

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

‘না, দেব না,’ মা-র চোখের দিকে না তাকিয়ে একগুয়ের মতো বললুম, ‘ওটা বাবার জিনিস।’
‘তো হয়েছেটা কী? তুই ওটা নিয়ে কী করবি? পরে নিজেই আরেকটা কিনে নিতে পারবি’খন। গত কয়েক মাস ধরে তোর যে কী হয়েছে কিছুই বুঝতে পারি না। যেন পাগল হয়ে গেছিস একেবারে। শেষে কোনদিন তোর ওই মাওজার দিয়ে কাকে গুলি করে মারবি! যা বাবা, কাল রক্ষী-বাহিনীকে গিয়ে পিস্তলটা দিয়ে আয়, কেমন?’
‘না,’ প্লেটটা একপাশে ঠেলে দিয়ে হড়হড় করে একগাদা কথা বলে ফেললুম।
‘আমি অন্য আরেকটা পিস্তল চাই না, ঠিক এটাই চাই! এটা আর কারো নয়, এটা বাবার। আমি মোটেই পাগল হই নি, মা। আমি তো কারো গায়ে হাত দিচ্ছি না। ওরা সবসময়ে আমার পেছনে লাগে কেন? ইশকুল থেকে আমায় তাড়িয়ে দিল তো ভারি বয়েই গেল। আমিই ছেড়ে দিতুম ইশকুল। পিস্তলটা আমি লুকিয়ে রাখব।’
‘পোড়া কপাল আমার!’ মা খেপে উঠে বললেন। ‘ওরা তোকে গারদে পুরে রাখবে’খন আর পিস্তল না দেয়া পর্যন্ত ছাড়বে না যখন, তখন টের পাবি!’
আমিও চটে উঠলুম, ‘তাতে আমার ঘে’চু হবে। ওরা তো বাস্স্কাকভকেও জেলে পুরে রেখেছে, তাতে হয়েছে কী? রাখুক গে ওরা আমায় যত ইচ্ছে জেলে ভরে, কিছুতেই আমি পিস্তলটা ওদের দেব না, প্রাণ থাকতে না!’ একটুক্ষণ চুপ করে থেকে শেষের কথাগুলো এত জোরে চে’চিয়ে বললুম যে মা থমকে গেলেন।
‘আচ্ছা, আচ্ছা, দিস্ না,’ এবার আগের চেয়ে শান্তভাবে বললেন মা। ‘আমার কাছে ও সবই সমান।’ তারপর কী যেন একটা চিন্তা করতে করতে অন্যমনস্ক ভাবে উঠে দরজার দিকে চললেন। হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে খুব তিক্তভাবে বললেন, ‘মরার আগে আরও যে কীভাবে আমার জীবন তোমরা জালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে, কে জানে!’

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস আছে, কিন্তু গ্যাস নেই: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আসল হিসাব

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩৫)

০৮:০০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

‘না, দেব না,’ মা-র চোখের দিকে না তাকিয়ে একগুয়ের মতো বললুম, ‘ওটা বাবার জিনিস।’
‘তো হয়েছেটা কী? তুই ওটা নিয়ে কী করবি? পরে নিজেই আরেকটা কিনে নিতে পারবি’খন। গত কয়েক মাস ধরে তোর যে কী হয়েছে কিছুই বুঝতে পারি না। যেন পাগল হয়ে গেছিস একেবারে। শেষে কোনদিন তোর ওই মাওজার দিয়ে কাকে গুলি করে মারবি! যা বাবা, কাল রক্ষী-বাহিনীকে গিয়ে পিস্তলটা দিয়ে আয়, কেমন?’
‘না,’ প্লেটটা একপাশে ঠেলে দিয়ে হড়হড় করে একগাদা কথা বলে ফেললুম।
‘আমি অন্য আরেকটা পিস্তল চাই না, ঠিক এটাই চাই! এটা আর কারো নয়, এটা বাবার। আমি মোটেই পাগল হই নি, মা। আমি তো কারো গায়ে হাত দিচ্ছি না। ওরা সবসময়ে আমার পেছনে লাগে কেন? ইশকুল থেকে আমায় তাড়িয়ে দিল তো ভারি বয়েই গেল। আমিই ছেড়ে দিতুম ইশকুল। পিস্তলটা আমি লুকিয়ে রাখব।’
‘পোড়া কপাল আমার!’ মা খেপে উঠে বললেন। ‘ওরা তোকে গারদে পুরে রাখবে’খন আর পিস্তল না দেয়া পর্যন্ত ছাড়বে না যখন, তখন টের পাবি!’
আমিও চটে উঠলুম, ‘তাতে আমার ঘে’চু হবে। ওরা তো বাস্স্কাকভকেও জেলে পুরে রেখেছে, তাতে হয়েছে কী? রাখুক গে ওরা আমায় যত ইচ্ছে জেলে ভরে, কিছুতেই আমি পিস্তলটা ওদের দেব না, প্রাণ থাকতে না!’ একটুক্ষণ চুপ করে থেকে শেষের কথাগুলো এত জোরে চে’চিয়ে বললুম যে মা থমকে গেলেন।
‘আচ্ছা, আচ্ছা, দিস্ না,’ এবার আগের চেয়ে শান্তভাবে বললেন মা। ‘আমার কাছে ও সবই সমান।’ তারপর কী যেন একটা চিন্তা করতে করতে অন্যমনস্ক ভাবে উঠে দরজার দিকে চললেন। হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে খুব তিক্তভাবে বললেন, ‘মরার আগে আরও যে কীভাবে আমার জীবন তোমরা জালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে, কে জানে!’