০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘিনী ফিরছে সুন্দরবনে, জুনেই অবমুক্তির সিদ্ধান্ত চায়ের কাপেই বিশ্বায়নের গল্প: নতুন যুগে কেন আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন ন্যায়বিচারের আগে কি ভাইরাল ভিডিও জরুরি? আফগানিস্তানে তালেবান শাসনের পাঁচ বছরের মূল্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? বিরতির আহ্বানে নতুন বিতর্ক ভারতে ডিজেল বিক্রিতে নতুন বিধিনিষেধে উদ্বেগ, চাপে হাসপাতাল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত নতুন চুক্তির আড়ালে পুরোনো প্রশ্ন: ইরান কি সত্যিই বদলাতে প্রস্তুত? সরকারী ব্যয় বাড়ানো ও দেশকে দেউলিয়া হবার পথে নিয়ে যাবার বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার রাজপথে তীব্র ছাত্র আন্দোলন সিঙ্গাপুরের আবর্জনা ব্যবস্থার ৬০ বছরের শিক্ষা: প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস কতটা বদলেছে? এক দশকের মোড় ঘুরে গেল: টিভি-সংবাদপত্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:২০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 125

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

তিনি নীরব হলেন। তারপর চারিদিকে একবার তাকিয়ে কতকটা ফিসফিস ক’রেই বললেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভয়ানক। তুমি কি অনেক মাতাল মেয়ে দেখেছ? অনেক-? ও হরি! না, না, এদের সম্বন্ধে তুমি লিখো না, কখনো লিখো না।”

“কেন?”

তিনি আমার চোখের পানে সোজা এক দৃষ্টিতে তাকালেন, মৃদু হেসে আমারই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন, ‘কেন?” তারপর চিন্তাজড়িত ভাবে ধীরে ধীরে বললেন, “জানি না, কেন। কথাগুলো আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেলো, কোনো নোংরা জিনিষ সম্পর্কে লেখাটা-ও লজ্জাজনক। কিন্তু না লেখাই বা উচিত কেন? হ্যাঁ, সব কিছু সব কিছু সম্পর্কেই লেখা দরকার।”

তাঁর চোখে জল এলো। তিনি চোখ মুছে মৃদু হেসে রুমালের দিকে তাকালেন। আবার তাঁর কুঞ্চিত গণ্ড ব’য়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। বললেন, “আমি কাঁদছি। আমি বুড়ো মানুষ। ভয়াবহ কোনো স্মৃতি মনে পড়লেই আমার বুকের ভেতরটা যেন ছিঁড়ে যায়।”

তারপর সস্নেহে আমার কনুই-এ মৃদু স্পর্শ দিয়ে বললেন, “তুমিও -তোমার-ও যদি জীবনের দিনগুলি ফুরিয়ে আসে-আর সব কিছুই রয়ে যায় আগের মতো-তবে তুমি-ও, তুমি-ও কাঁদবে, আমার চেয়েও কাঁদবে। তাই সব কিছুই লেখা দরকার, সব কিছু সম্পর্কে, সব কিছু। নইলে ওই ছোটো ছেলেটা হয়তো ব্যথা পাবে, আমাদের তিরস্কার করবে, বলবে-‘না, এ মিথ্যা, এর সবটুকু সত্যি নয়।”

তারপর অকস্মাৎ তিনি নিজেকে ঝেড়ে নিয়ে স্নেহসিক্ত গলায় বললেন: “নাও, এখন তুমি আমায় একটা গল্প বলো। গল্পগুলি চমৎকার বলো তুমি। কোনো ছেলে সম্পর্কে বলো, তোমার নিজের ছেলেবেলা সম্পর্কে। তুমি যে কোনো দিন ছেলে ছিলে, এ কথাটা সহজে ভাবা-ও যায় না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘিনী ফিরছে সুন্দরবনে, জুনেই অবমুক্তির সিদ্ধান্ত

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৮)

০৪:২০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

তিনি নীরব হলেন। তারপর চারিদিকে একবার তাকিয়ে কতকটা ফিসফিস ক’রেই বললেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভয়ানক। তুমি কি অনেক মাতাল মেয়ে দেখেছ? অনেক-? ও হরি! না, না, এদের সম্বন্ধে তুমি লিখো না, কখনো লিখো না।”

“কেন?”

তিনি আমার চোখের পানে সোজা এক দৃষ্টিতে তাকালেন, মৃদু হেসে আমারই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন, ‘কেন?” তারপর চিন্তাজড়িত ভাবে ধীরে ধীরে বললেন, “জানি না, কেন। কথাগুলো আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেলো, কোনো নোংরা জিনিষ সম্পর্কে লেখাটা-ও লজ্জাজনক। কিন্তু না লেখাই বা উচিত কেন? হ্যাঁ, সব কিছু সব কিছু সম্পর্কেই লেখা দরকার।”

তাঁর চোখে জল এলো। তিনি চোখ মুছে মৃদু হেসে রুমালের দিকে তাকালেন। আবার তাঁর কুঞ্চিত গণ্ড ব’য়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। বললেন, “আমি কাঁদছি। আমি বুড়ো মানুষ। ভয়াবহ কোনো স্মৃতি মনে পড়লেই আমার বুকের ভেতরটা যেন ছিঁড়ে যায়।”

তারপর সস্নেহে আমার কনুই-এ মৃদু স্পর্শ দিয়ে বললেন, “তুমিও -তোমার-ও যদি জীবনের দিনগুলি ফুরিয়ে আসে-আর সব কিছুই রয়ে যায় আগের মতো-তবে তুমি-ও, তুমি-ও কাঁদবে, আমার চেয়েও কাঁদবে। তাই সব কিছুই লেখা দরকার, সব কিছু সম্পর্কে, সব কিছু। নইলে ওই ছোটো ছেলেটা হয়তো ব্যথা পাবে, আমাদের তিরস্কার করবে, বলবে-‘না, এ মিথ্যা, এর সবটুকু সত্যি নয়।”

তারপর অকস্মাৎ তিনি নিজেকে ঝেড়ে নিয়ে স্নেহসিক্ত গলায় বললেন: “নাও, এখন তুমি আমায় একটা গল্প বলো। গল্পগুলি চমৎকার বলো তুমি। কোনো ছেলে সম্পর্কে বলো, তোমার নিজের ছেলেবেলা সম্পর্কে। তুমি যে কোনো দিন ছেলে ছিলে, এ কথাটা সহজে ভাবা-ও যায় না।