০৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি মিয়ানমার সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষের প্রভাব টেকনাফে, বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে আতঙ্ক সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত শুল্কের প্রতিশ্রুতি, কারখানার হতাশা: আমেরিকার হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনর্জাগরণ সংস্কারপন্থী রাজনীতিতে নতুন মুখ, লন্ডনের মেয়র দৌড়ে মুসলিম নারী প্রার্থী লায়লা কানিংহাম নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি লেবাননের দক্ষিণে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের প্রথম ধাপ শেষ, চাপের মুখে সরকার ভারতের নীতি বদলের ইঙ্গিত চীনা সংস্থার দরপত্রে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি পঞ্চাশ ডলারের দিকে অপরিশোধিত তেলের গতি, সরবরাহ উদ্বৃত্তে চাপে বিশ্ববাজার প্যারিসে ট্র্যাক্টর মিছিল, বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের বিস্ফোরণ

ব্যাংক সুদের হার না কমালে কোল্ড স্টোরেজ বন্ধের হুমকি

  • Sarakhon Report
  • ০২:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 87

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন
  • গ্রামাঞ্চলে প্রতি কেজি ৮-১২ টাকা এবং শহরের বাজারে ১৫-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে
  • বিদ্যুৎশ্রম খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ের বৃদ্ধি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ব্যয় বেড়ে ৯.৬২ টাকা হয়েছে
  • বাংলাদেশে এবার ১ কোটি ২০ লাখ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছেযা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি

লোকসান কাটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাবার  স্বার্থে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা সরকারের কাছে বর্তমানে চালু থাকা নিয়মে ব্যাংক ঋনের  ১৫-১৭ শতাংশ সুদের হার কমিয়ে ৭ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন। এ সহায়তা না দিলে তারা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে

ঢাকায় বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা সতর্ক করেছেন যেএ দাবি পূরণ না হলে প্রতি কেজির সংরক্ষণ ব্যয় ৮ টাকা নির্ধারণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিসিএসএ সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। তিনি বলেনক্লোড স্টোরেজ মালিকরা মারাত্মক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে তারা ১৫-১৭ শতাংশ সুদের হার বহন করছেযা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য অসহনীয়।

বিদ্যুৎশ্রম খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ের বৃদ্ধি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ব্যয় বেড়ে ৯.৬২ টাকা হয়েছে।

এই ব্যয়বৃদ্ধির পরও সংরক্ষণাগার মালিকরা লোকসানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেনযেখানে ৬৫-৭২ কেজির প্রতি বস্তার জন্য তারা মাত্র ৩৫০ টাকা নিচ্ছেনযা প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম।

সরকার নতুন নীতিমালার আওতায় প্রতি বস্তার ওজন ৫০ কেজিতে সীমাবদ্ধ করায় তাদের আর্থিক সমস্যা আরও বেড়েছে।

ফলেসংস্থাটি গত বছরের ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি কেজির সংরক্ষণ ব্যয় ৮ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিসিএসএ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ কার্যক্রমকে কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেযাতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদের হারে ঋণ পাওয়া যায়।

বাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেনযদি এই সহায়তা না দেওয়া হয়তবে অনেক সংরক্ষণাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

যদি সরকার পূর্বের ভাড়া হার বহাল রাখেতাহলে আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না,” তিনি বলেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি জানানবাংলাদেশে এবার ১ কোটি ২০ লাখ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছেযা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।

তবেএ বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় দাম পড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে প্রতি কেজি ৮-১২ টাকা এবং শহরের বাজারে ১৫-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদন খরচও উঠাতে পারছেন না।

বিসিএসএ-এর সংরক্ষণ ব্যয় প্রতি কেজি ৪.৫-৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যদিও এখন প্রতি ৫০ কেজির বস্তার ভাড়া ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছেতবে বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন।

তবে বাবু আশ্বস্ত করে বলেনসংরক্ষণ ব্যয়ের এই বৃদ্ধির পরও ২০২৫ সালে অফ-সিজনে আলুর দাম ৪০ টাকা কেজির বেশি হবে না। “যদি এর বেশি হয়তবে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে,” তিনি বলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি

ব্যাংক সুদের হার না কমালে কোল্ড স্টোরেজ বন্ধের হুমকি

০২:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন
  • গ্রামাঞ্চলে প্রতি কেজি ৮-১২ টাকা এবং শহরের বাজারে ১৫-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে
  • বিদ্যুৎশ্রম খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ের বৃদ্ধি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ব্যয় বেড়ে ৯.৬২ টাকা হয়েছে
  • বাংলাদেশে এবার ১ কোটি ২০ লাখ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছেযা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি

লোকসান কাটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাবার  স্বার্থে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা সরকারের কাছে বর্তমানে চালু থাকা নিয়মে ব্যাংক ঋনের  ১৫-১৭ শতাংশ সুদের হার কমিয়ে ৭ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন। এ সহায়তা না দিলে তারা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে

ঢাকায় বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ)-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা সতর্ক করেছেন যেএ দাবি পূরণ না হলে প্রতি কেজির সংরক্ষণ ব্যয় ৮ টাকা নির্ধারণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিসিএসএ সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। তিনি বলেনক্লোড স্টোরেজ মালিকরা মারাত্মক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে তারা ১৫-১৭ শতাংশ সুদের হার বহন করছেযা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য অসহনীয়।

বিদ্যুৎশ্রম খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ের বৃদ্ধি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ব্যয় বেড়ে ৯.৬২ টাকা হয়েছে।

এই ব্যয়বৃদ্ধির পরও সংরক্ষণাগার মালিকরা লোকসানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেনযেখানে ৬৫-৭২ কেজির প্রতি বস্তার জন্য তারা মাত্র ৩৫০ টাকা নিচ্ছেনযা প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম।

সরকার নতুন নীতিমালার আওতায় প্রতি বস্তার ওজন ৫০ কেজিতে সীমাবদ্ধ করায় তাদের আর্থিক সমস্যা আরও বেড়েছে।

ফলেসংস্থাটি গত বছরের ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি কেজির সংরক্ষণ ব্যয় ৮ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিসিএসএ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণ কার্যক্রমকে কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেযাতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদের হারে ঋণ পাওয়া যায়।

বাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেনযদি এই সহায়তা না দেওয়া হয়তবে অনেক সংরক্ষণাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

যদি সরকার পূর্বের ভাড়া হার বহাল রাখেতাহলে আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না,” তিনি বলেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি জানানবাংলাদেশে এবার ১ কোটি ২০ লাখ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছেযা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।

তবেএ বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় দাম পড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে প্রতি কেজি ৮-১২ টাকা এবং শহরের বাজারে ১৫-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদন খরচও উঠাতে পারছেন না।

বিসিএসএ-এর সংরক্ষণ ব্যয় প্রতি কেজি ৪.৫-৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যদিও এখন প্রতি ৫০ কেজির বস্তার ভাড়া ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছেতবে বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন।

তবে বাবু আশ্বস্ত করে বলেনসংরক্ষণ ব্যয়ের এই বৃদ্ধির পরও ২০২৫ সালে অফ-সিজনে আলুর দাম ৪০ টাকা কেজির বেশি হবে না। “যদি এর বেশি হয়তবে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে,” তিনি বলেন।