মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের কারণে সীমান্তের এপারে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণ ও একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠছে।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ও ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শত শত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে, যার কিছু এসে পড়েছে বাংলাদেশের ভেতরে।
এপারের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। ছোড়া গুলি চিংড়ি ঘের ও কৃষিজমিতে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। নারী ও শিশুরা ভয় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। রাত তো বটেই, দিনের বেলাতেও অনেকেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সারা রাত ঘুমহীন কাটাতে হয়েছে। প্রতিটি বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়েছে, যুদ্ধ যেন ঠিক পাশের উঠোনে নেমে এসেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, টানা কয়েক দিন ধরে সীমান্তে দিন-রাত গোলাগুলি ও বিস্ফোরণ চলছে। মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে, এতে চাষের জমি ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে রাখাইন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা জানান, সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আরাকান আর্মির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে এসেছেন।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি তারা অবগত। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















