১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ভিয়েতনামের দ্রুত বৃদ্ধি, নড়বড়ে ভিত: উন্নয়নের জোয়ারে ঝুঁকির ছায়া আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবার নির্বাচনের দৌড়ে মান্না, বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সূচকের বড় পতনে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেন কমল বাংলাদেশের অচলাবস্থা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর জন্য কঠিন পরীক্ষা: এনডিটিভি প্রতিবেদন বিক্ষোভের চাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি চলমান শীতল ঢেউ: উত্তরের জনপদে কুয়াশা, কাঁপুনি আর টিকে থাকার গল্প অ্যাশেজ ধাক্কার পরও হাল ছাড়ছেন না স্টোকস, ভুল শুধরানোর অঙ্গীকার চীনের রপ্তানি হুমকিতে নরম সুর, জাপানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত বেইজিংয়ের

শুল্কের প্রতিশ্রুতি, কারখানার হতাশা: আমেরিকার হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনর্জাগরণ

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কনীতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা যতবার বদলেছে, প্রায় ততবারই বদলেছে প্রত্যাশার ভাষা। কখনো আলোচনার কৌশল, কখনো চীনকে চাপে রাখার অস্ত্র, আবার কখনো বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে শুল্ককে। কিন্তু সব ব্যাখ্যার কেন্দ্রে ছিল একটি বড় প্রতিশ্রুতি—শুল্ক আরোপের ফলে আমেরিকার উৎপাদন শিল্পে ফিরবে চাকরি ও কারখানা। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, কাজ আর কারখানা গর্জন তুলে দেশে ফিরে আসবে।

দীর্ঘদিনের শিল্প মন্দা

বাস্তবতা হলো, আমেরিকার উৎপাদন শিল্প বহু বছর ধরেই সংকটে। প্রায় দুই দশক ধরে সামগ্রিক উৎপাদন কার্যত স্থবির, বিপরীতে সেবা খাত দ্রুত বেড়েছে। এই বাস্তবতা শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়, সিনেমা, সাহিত্য ও রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটি টানা দুই বছরের উৎপাদন মন্দার ভেতর ছিল। সে সময় তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, এই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। যুক্তি ছিল সহজ—যদি শুল্ক এড়াতে চাও, তাহলে আমেরিকাতেই পণ্য তৈরি করো।

প্রতিশ্রুতির এক বছর পর

প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই শিল্প পুনর্জাগরণের চিহ্ন দেখা যায়নি। বরং উৎপাদন খাতের সংকোচন এখন তৃতীয় বছরে ঢুকেছে। কারখানাগুলোতে চাকরি কমছে, গত নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। শুধু যে শুল্কনীতি শিল্পকে টেনে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে, তা নয়—ভিতরের চিত্র বলছে, কিছু ক্ষেত্রে এই নীতিই শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

উচ্চ সুদের চাপ

এই সংকটের বড় একটি কারণ উচ্চ সুদের হার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি নীতির ফলে উৎপাদন শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ এই খাতের যন্ত্রপাতি ব্যয়বহুল এবং ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প সুদ কমানোর পক্ষে থাকলেও বাস্তবে বড় বাজেট ঘাটতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়েছে। এর ফল হিসেবে ঋণের খরচ আরও বেড়েছে।

শুল্কে অনিশ্চয়তা

শুল্ক আরোপ শিল্পখাতে অনিশ্চয়তাও বাড়িয়েছে। উৎপাদনের প্রায় এক চতুর্থাংশ বিদেশে রপ্তানি হয় এবং কাঁচামালের বড় অংশ আসে বাইরে থেকে। এপ্রিল মাসে ঘোষিত উচ্চ শুল্কের পর রপ্তানি আদেশ ও আমদানি কমেছে। অনেক কারখানা মালিকই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছেন না। এর বিপরীতে যে একটি খাত ভালো করছে, সেটি হলো কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও সেমিকন্ডাক্টর। তথ্যকেন্দ্রভিত্তিক চাহিদা বাড়ায় এই শিল্পে গতি এসেছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই খাতকে শুল্কের বড় অংশ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সামনে আরও অনিশ্চয়তা

আগামী বছরেও স্বস্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ। শুল্কের কিছু অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় এলে আবার শুল্ক কাঠামো বদলাতে পারে। বছরের শেষ দিকে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনা হবে। এই চুক্তি বহু কারখানাকে শুল্কের ধাক্কা থেকে বাঁচিয়েছে। যদিও ট্রাম্প এটি বাতিল করবেন না বলেই ধারণা, তবু পুনরালোচনা প্রক্রিয়া সহজ হবে না। তাই অনেক শিল্প মালিকেরই মনে হচ্ছে, যাদের সহায়তার কথা বলা হয়েছিল, তাদের জন্য এই নীতির ফল ঠিক উল্টো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিয়েতনামের দ্রুত বৃদ্ধি, নড়বড়ে ভিত: উন্নয়নের জোয়ারে ঝুঁকির ছায়া

শুল্কের প্রতিশ্রুতি, কারখানার হতাশা: আমেরিকার হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনর্জাগরণ

০১:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কনীতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাখ্যা যতবার বদলেছে, প্রায় ততবারই বদলেছে প্রত্যাশার ভাষা। কখনো আলোচনার কৌশল, কখনো চীনকে চাপে রাখার অস্ত্র, আবার কখনো বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে শুল্ককে। কিন্তু সব ব্যাখ্যার কেন্দ্রে ছিল একটি বড় প্রতিশ্রুতি—শুল্ক আরোপের ফলে আমেরিকার উৎপাদন শিল্পে ফিরবে চাকরি ও কারখানা। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, কাজ আর কারখানা গর্জন তুলে দেশে ফিরে আসবে।

দীর্ঘদিনের শিল্প মন্দা

বাস্তবতা হলো, আমেরিকার উৎপাদন শিল্প বহু বছর ধরেই সংকটে। প্রায় দুই দশক ধরে সামগ্রিক উৎপাদন কার্যত স্থবির, বিপরীতে সেবা খাত দ্রুত বেড়েছে। এই বাস্তবতা শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়, সিনেমা, সাহিত্য ও রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটি টানা দুই বছরের উৎপাদন মন্দার ভেতর ছিল। সে সময় তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, এই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। যুক্তি ছিল সহজ—যদি শুল্ক এড়াতে চাও, তাহলে আমেরিকাতেই পণ্য তৈরি করো।

প্রতিশ্রুতির এক বছর পর

প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই শিল্প পুনর্জাগরণের চিহ্ন দেখা যায়নি। বরং উৎপাদন খাতের সংকোচন এখন তৃতীয় বছরে ঢুকেছে। কারখানাগুলোতে চাকরি কমছে, গত নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরে কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। শুধু যে শুল্কনীতি শিল্পকে টেনে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে, তা নয়—ভিতরের চিত্র বলছে, কিছু ক্ষেত্রে এই নীতিই শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

উচ্চ সুদের চাপ

এই সংকটের বড় একটি কারণ উচ্চ সুদের হার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি নীতির ফলে উৎপাদন শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ এই খাতের যন্ত্রপাতি ব্যয়বহুল এবং ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প সুদ কমানোর পক্ষে থাকলেও বাস্তবে বড় বাজেট ঘাটতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়েছে। এর ফল হিসেবে ঋণের খরচ আরও বেড়েছে।

শুল্কে অনিশ্চয়তা

শুল্ক আরোপ শিল্পখাতে অনিশ্চয়তাও বাড়িয়েছে। উৎপাদনের প্রায় এক চতুর্থাংশ বিদেশে রপ্তানি হয় এবং কাঁচামালের বড় অংশ আসে বাইরে থেকে। এপ্রিল মাসে ঘোষিত উচ্চ শুল্কের পর রপ্তানি আদেশ ও আমদানি কমেছে। অনেক কারখানা মালিকই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছেন না। এর বিপরীতে যে একটি খাত ভালো করছে, সেটি হলো কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও সেমিকন্ডাক্টর। তথ্যকেন্দ্রভিত্তিক চাহিদা বাড়ায় এই শিল্পে গতি এসেছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই খাতকে শুল্কের বড় অংশ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সামনে আরও অনিশ্চয়তা

আগামী বছরেও স্বস্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ। শুল্কের কিছু অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় এলে আবার শুল্ক কাঠামো বদলাতে পারে। বছরের শেষ দিকে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর্যালোচনা হবে। এই চুক্তি বহু কারখানাকে শুল্কের ধাক্কা থেকে বাঁচিয়েছে। যদিও ট্রাম্প এটি বাতিল করবেন না বলেই ধারণা, তবু পুনরালোচনা প্রক্রিয়া সহজ হবে না। তাই অনেক শিল্প মালিকেরই মনে হচ্ছে, যাদের সহায়তার কথা বলা হয়েছিল, তাদের জন্য এই নীতির ফল ঠিক উল্টো।