০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
রোবটের পড়ে যাওয়া থেকে বিশ্বশক্তির উত্থান: প্রযুক্তির হাসির আড়ালে কঠিন বাস্তব পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার আমেরিকায় হাম ফিরে আসছে: টিকাদানে শিথিলতা, সামনে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৬৭)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 117

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তাঁহারা নবাবদিগের নিকট হইতে আর সেরূপ অর্থোপার্জন করিতে পারিতেন না; পরন্তু নবাবকে বৃত্তিস্বরূপ কোম্পানীর কোষ হইতে অর্থ প্রদান করিতে হইত। সেইজন্য তাঁহারা অন্যান্য লোকের সহিত বন্দোবস্তে আপনাদের লাভের সামঞ্জস্য করিয়া লইতেন। কোম্পানীর কর্মচারিগণ এইরূপ যেখানে বন্দোবস্ত করিয়াছেন, তথার অগ্রে হস্তপ্রসারণ করিয়া-ছেন, পরে বন্দোবস্তের অনুমতি দিয়াছেন। প্রধান কর্মচারিগণের ন্যায় তাঁহাদের দেওয়ান বা বেনিয়ানগণও এইরূপ লাভ হইতে বঞ্চিত হন নাই।

সিরাজ উদ্দৌলার ধনাগার লুণ্ঠনের সময় ক্লাইবের দেওয়ান-রামচাঁদ ও মুন্সী নবকৃষ্ণ যথেষ্ট লাভ করিয়াছিলেন। কোম্পানীর প্রত্যেক কর্মচারী আপনাদের উদরপূরণের সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের মুৎসুদ্দীদিগের সুবিধা করিয়া দিতেন। হেষ্টিংস সাহেবও পূর্ব্বপ্রথা অবলম্বন করিয়া, নিজের সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় কান্তেরও অর্থাগমের যথেষ্ট সুবিধা করিয়া দেন। কি ভারতবর্ষে, কি ইংলন্ডে, হেষ্টিংসের উৎকোচ গ্রহণব্যাপার জনসাধারণে বিশেষরূপে অবগত আছে।

প্রত্যেক কার্য্যে এরূপ ভীষণ উৎকোচগ্রহণ, অতি অল্পই দৃষ্ট হইয়া থাকে। তাঁহার উৎকোচগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে, কাস্তও জড়িত ছিলেন। দুই একটির উদাহরণ দেওয়া যাইতেছে। হেটিংসের নামে যে সকল অভিযোগ উপস্থিত হয়, তন্মধ্যে অষ্টম অভিযোগের একস্কুলে লিখিত আছে যে, হেষ্টিংস, খাঁ জাহান খাঁ নামক এক ব্যক্তিকে বার্ষিক ৭২,০০০ টাকায় হুগলীর ফৌজদার নিযুক্ত করিয়া, তাঁহার নিকট হইতে বৎসরে নিজে ৩৬,০০০ টাকা ও তাঁহার বেনিয়ান কান্ত, বৎসরে ৪,০০০ টাকা উৎকোচস্বরূপ লইতেন।

ইহা অপেক্ষা ভয়ানক উৎকোচগ্রহণ আর আছে কি না জানি না। একজন ৭২,০০০ টাকা বার্ষিক বেতন পাইয়া তাহা হইতে যদি ৪০,০০০ টাকা উৎকোচ প্রদান করে, তাহা হইলে, তাহার আয়ের কত লাঘব হয়, ইহা সহজে বুঝা যাইতে পারে। সুতরাং সে ব্যক্তি স্বীয় আয় ঠিক রাখিবার জন্য অবশেষে যে অত্যাচারের সাহায্য লইয়া, হতভাগ্য প্ৰজাৰৰ্গকে উৎপীড়িত করিবে, তাহাতে আর বৈচিত্র্য কি?

 

রোবটের পড়ে যাওয়া থেকে বিশ্বশক্তির উত্থান: প্রযুক্তির হাসির আড়ালে কঠিন বাস্তব

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৬৭)

১১:০০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তাঁহারা নবাবদিগের নিকট হইতে আর সেরূপ অর্থোপার্জন করিতে পারিতেন না; পরন্তু নবাবকে বৃত্তিস্বরূপ কোম্পানীর কোষ হইতে অর্থ প্রদান করিতে হইত। সেইজন্য তাঁহারা অন্যান্য লোকের সহিত বন্দোবস্তে আপনাদের লাভের সামঞ্জস্য করিয়া লইতেন। কোম্পানীর কর্মচারিগণ এইরূপ যেখানে বন্দোবস্ত করিয়াছেন, তথার অগ্রে হস্তপ্রসারণ করিয়া-ছেন, পরে বন্দোবস্তের অনুমতি দিয়াছেন। প্রধান কর্মচারিগণের ন্যায় তাঁহাদের দেওয়ান বা বেনিয়ানগণও এইরূপ লাভ হইতে বঞ্চিত হন নাই।

সিরাজ উদ্দৌলার ধনাগার লুণ্ঠনের সময় ক্লাইবের দেওয়ান-রামচাঁদ ও মুন্সী নবকৃষ্ণ যথেষ্ট লাভ করিয়াছিলেন। কোম্পানীর প্রত্যেক কর্মচারী আপনাদের উদরপূরণের সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের মুৎসুদ্দীদিগের সুবিধা করিয়া দিতেন। হেষ্টিংস সাহেবও পূর্ব্বপ্রথা অবলম্বন করিয়া, নিজের সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় কান্তেরও অর্থাগমের যথেষ্ট সুবিধা করিয়া দেন। কি ভারতবর্ষে, কি ইংলন্ডে, হেষ্টিংসের উৎকোচ গ্রহণব্যাপার জনসাধারণে বিশেষরূপে অবগত আছে।

প্রত্যেক কার্য্যে এরূপ ভীষণ উৎকোচগ্রহণ, অতি অল্পই দৃষ্ট হইয়া থাকে। তাঁহার উৎকোচগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে, কাস্তও জড়িত ছিলেন। দুই একটির উদাহরণ দেওয়া যাইতেছে। হেটিংসের নামে যে সকল অভিযোগ উপস্থিত হয়, তন্মধ্যে অষ্টম অভিযোগের একস্কুলে লিখিত আছে যে, হেষ্টিংস, খাঁ জাহান খাঁ নামক এক ব্যক্তিকে বার্ষিক ৭২,০০০ টাকায় হুগলীর ফৌজদার নিযুক্ত করিয়া, তাঁহার নিকট হইতে বৎসরে নিজে ৩৬,০০০ টাকা ও তাঁহার বেনিয়ান কান্ত, বৎসরে ৪,০০০ টাকা উৎকোচস্বরূপ লইতেন।

ইহা অপেক্ষা ভয়ানক উৎকোচগ্রহণ আর আছে কি না জানি না। একজন ৭২,০০০ টাকা বার্ষিক বেতন পাইয়া তাহা হইতে যদি ৪০,০০০ টাকা উৎকোচ প্রদান করে, তাহা হইলে, তাহার আয়ের কত লাঘব হয়, ইহা সহজে বুঝা যাইতে পারে। সুতরাং সে ব্যক্তি স্বীয় আয় ঠিক রাখিবার জন্য অবশেষে যে অত্যাচারের সাহায্য লইয়া, হতভাগ্য প্ৰজাৰৰ্গকে উৎপীড়িত করিবে, তাহাতে আর বৈচিত্র্য কি?