০৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি মিয়ানমার সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষের প্রভাব টেকনাফে, বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে আতঙ্ক সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত শুল্কের প্রতিশ্রুতি, কারখানার হতাশা: আমেরিকার হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনর্জাগরণ সংস্কারপন্থী রাজনীতিতে নতুন মুখ, লন্ডনের মেয়র দৌড়ে মুসলিম নারী প্রার্থী লায়লা কানিংহাম নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি লেবাননের দক্ষিণে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের প্রথম ধাপ শেষ, চাপের মুখে সরকার ভারতের নীতি বদলের ইঙ্গিত চীনা সংস্থার দরপত্রে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি পঞ্চাশ ডলারের দিকে অপরিশোধিত তেলের গতি, সরবরাহ উদ্বৃত্তে চাপে বিশ্ববাজার প্যারিসে ট্র্যাক্টর মিছিল, বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের বিস্ফোরণ

ডলার বিনিময় হার এখন বাজারের ওপর ছাড়া হবে না

  • Sarakhon Report
  • ০২:২৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 88

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে
  • ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৮১ শতাংশে নেমে এসেছে
  • পর্যাপ্ত রিজার্ভ এবং প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার হস্তক্ষেপ তহবিল ছাড়া তা সম্ভব নয়
  • ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে এই হার বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে

বর্তমানের রিজার্ভের ওপর ভর করে ডলার বিনিময়ের হার বাজারের ওপর ছাড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর তারই ঈংগিত দিলেন। তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের উপর বিনিময় হার ছেড়ে দিতে চায়, তবে পর্যাপ্ত রিজার্ভ এবং প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার হস্তক্ষেপ তহবিল ছাড়া তা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, “আমি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক বিনিময় হার গ্রহণ করতে পারি না, কারণ একটি অস্থির পরিবেশে বিনিময় হার ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিনিময় হার সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি আরও নমনীয় বিনিময় হার নীতি গ্রহণ করেছে এবং ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “কিছু মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং তারা বিনিময় হারকে বাড়াতে চায়। এগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। আমাদের দায়িত্ব হলো বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনে করেন, দেশের রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির ফলে বর্তমান বিনিময় হার সঠিক দিকেই রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৮১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৩.৯১ শতাংশ। এই ধীরগতির মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪-৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে এই হার বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে, যেখানে অনিয়মিত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে এবং বিনিয়োগের হার নিম্নগামী। বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতের সুস্থতা ও আস্থার পুনরুদ্ধার করতে হলে কার্যকর আইনি সংস্কার, কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর দরকার হবে। এর আগে বিনিময় হার বাজারের ওপর ছাড়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে একজন সাবেক ব্যাংক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদের মতামত, শেখ হাসিনার আমলে তার সব ক’জন গর্ভনর বিনিময় হার আর্টিফিশিয়াল রাখার পক্ষে ছিলেন। যা মূলত অর্থনীতিতে শেষ অবধি খারাপ ফল ওই সরকারের আমলেই দেখা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি

ডলার বিনিময় হার এখন বাজারের ওপর ছাড়া হবে না

০২:২৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে
  • ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৮১ শতাংশে নেমে এসেছে
  • পর্যাপ্ত রিজার্ভ এবং প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার হস্তক্ষেপ তহবিল ছাড়া তা সম্ভব নয়
  • ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে এই হার বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে

বর্তমানের রিজার্ভের ওপর ভর করে ডলার বিনিময়ের হার বাজারের ওপর ছাড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর তারই ঈংগিত দিলেন। তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের উপর বিনিময় হার ছেড়ে দিতে চায়, তবে পর্যাপ্ত রিজার্ভ এবং প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার হস্তক্ষেপ তহবিল ছাড়া তা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, “আমি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক বিনিময় হার গ্রহণ করতে পারি না, কারণ একটি অস্থির পরিবেশে বিনিময় হার ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিনিময় হার সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি আরও নমনীয় বিনিময় হার নীতি গ্রহণ করেছে এবং ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “কিছু মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং তারা বিনিময় হারকে বাড়াতে চায়। এগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। আমাদের দায়িত্ব হলো বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনে করেন, দেশের রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির ফলে বর্তমান বিনিময় হার সঠিক দিকেই রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৮১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৩.৯১ শতাংশ। এই ধীরগতির মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪-৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে এই হার বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে একটি সংকটময় সময় পার করছে, যেখানে অনিয়মিত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে এবং বিনিয়োগের হার নিম্নগামী। বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতের সুস্থতা ও আস্থার পুনরুদ্ধার করতে হলে কার্যকর আইনি সংস্কার, কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর দরকার হবে। এর আগে বিনিময় হার বাজারের ওপর ছাড়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে একজন সাবেক ব্যাংক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদের মতামত, শেখ হাসিনার আমলে তার সব ক’জন গর্ভনর বিনিময় হার আর্টিফিশিয়াল রাখার পক্ষে ছিলেন। যা মূলত অর্থনীতিতে শেষ অবধি খারাপ ফল ওই সরকারের আমলেই দেখা যায়।