০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি

ব্যবসায়িক মনোভাব পুনরুদ্ধার না করলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হবে

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 130

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • উচ্চ ঋণ ব্যয় এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে ব্যবসায়িক মনোভাব ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০ শতাংশ নীতি হার ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ প্রাপ্তিকে কঠিন করে তুলছে
  • মুদ্রাস্ফীতি, শক্তি সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, তবে ব্যবসার কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে

র্তমান সময়ে বেসরকারি খাতে অস্পষ্টতা ও অনিশ্চয়তার ছায়া বিরাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগে সঙ্কোচন এবং জ্বালানির অভাবে ব্যবসার পরিবেশ দিন দিন ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।

প্রধান বক্তব্য

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI) এর সভাপতি তাসকিন আহমেদ সেমিনারে বলেন,

“গত কয়েক মাস ধরে মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ ঋণ ব্যয় এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে ব্যবসায়িক মনোভাব ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।”

এই সেমিনারের বিষয় ছিল “বাংলাদেশ অর্থনীতির দ্বিবার্ষিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস – বেসরকারি খাতের দৃষ্টিকোণ”।

ব্যবসায়িক সেক্টরের চ্যালেঞ্জ
তাসকিন আহমেদ বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতি স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন:

  • বিনিয়োগের হ্রাস: ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এখন মোট জিডিপির ২৪ শতাংশে থেমে গেছে এবং বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) গত ছয় বছরের  মধ্যে সব থেকে নিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
  • উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: মুদ্রাস্ফীতি ও শক্তির দামের বাড়ার ফলে উৎপাদকরা অতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
  • শক্তি সংকট: শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত বিদ্যুৎ অভাবে এবং অনিশ্চিত জ্বালানি সরবরাহের কারণে সমস্যার সম্মুখীন যেমন অন্যদিকে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহে ধারাবাহিকতা নেই।

আর্থিক খাত ও ঋণ সংকট

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০ শতাংশ নীতি হার ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ প্রাপ্তিকে কঠিন করে তুলছে। ডিসেম্বর ২০২৪-এ, বেসরকারি খাতের ঋণের বৃদ্ধি লক্ষ্যকৃত ৯.৮ শতাংশের তুলনায় মাত্র ৭.৩ শতাংশে থেমে গেছে। এই উচ্চ ঋণ ব্যয় বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বহির্বিশ্বে বাজার সম্প্রসারণের আহ্বান

প্রস্তুত পোশাক শিল্প অর্থনীতির মেরুদন্ড হলেও, এর রপ্তানি ৮৮ শতাংশ উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে কেন্দ্রীভূত। ঝুঁকি কমানোর জন্য আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মত উদীয়মান বাজারে প্রবেশ করাটা অত্যন্ত জরুরি।

নীতির স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

তাসকিন আহমেদ স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন:

  • নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার: ব্যবসায়িক মনোভাব পুনরুদ্ধারের জন্য স্থিতিশীল নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
  • সমর্থন ব্যবস্থা: কর সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সঠিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সমর্থন করা প্রয়োজন।
  • দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ: যদি মুদ্রাস্ফীতি, শক্তি সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, তবে ব্যবসার কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

উপসংহার

বেসরকারি খাত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, সফলতার জন্য সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল নীতি অপরিহার্য। বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা: বিশেষ অংশীদারিত্ব থেকে হিসাবি লেনদেনের পথে

ব্যবসায়িক মনোভাব পুনরুদ্ধার না করলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হবে

০৩:৪৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • উচ্চ ঋণ ব্যয় এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে ব্যবসায়িক মনোভাব ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০ শতাংশ নীতি হার ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ প্রাপ্তিকে কঠিন করে তুলছে
  • মুদ্রাস্ফীতি, শক্তি সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, তবে ব্যবসার কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে

র্তমান সময়ে বেসরকারি খাতে অস্পষ্টতা ও অনিশ্চয়তার ছায়া বিরাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগে সঙ্কোচন এবং জ্বালানির অভাবে ব্যবসার পরিবেশ দিন দিন ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।

প্রধান বক্তব্য

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI) এর সভাপতি তাসকিন আহমেদ সেমিনারে বলেন,

“গত কয়েক মাস ধরে মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ ঋণ ব্যয় এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে ব্যবসায়িক মনোভাব ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।”

এই সেমিনারের বিষয় ছিল “বাংলাদেশ অর্থনীতির দ্বিবার্ষিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস – বেসরকারি খাতের দৃষ্টিকোণ”।

ব্যবসায়িক সেক্টরের চ্যালেঞ্জ
তাসকিন আহমেদ বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতি স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন:

  • বিনিয়োগের হ্রাস: ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এখন মোট জিডিপির ২৪ শতাংশে থেমে গেছে এবং বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) গত ছয় বছরের  মধ্যে সব থেকে নিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।
  • উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: মুদ্রাস্ফীতি ও শক্তির দামের বাড়ার ফলে উৎপাদকরা অতিরিক্ত চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
  • শক্তি সংকট: শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত বিদ্যুৎ অভাবে এবং অনিশ্চিত জ্বালানি সরবরাহের কারণে সমস্যার সম্মুখীন যেমন অন্যদিকে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহে ধারাবাহিকতা নেই।

আর্থিক খাত ও ঋণ সংকট

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০ শতাংশ নীতি হার ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ প্রাপ্তিকে কঠিন করে তুলছে। ডিসেম্বর ২০২৪-এ, বেসরকারি খাতের ঋণের বৃদ্ধি লক্ষ্যকৃত ৯.৮ শতাংশের তুলনায় মাত্র ৭.৩ শতাংশে থেমে গেছে। এই উচ্চ ঋণ ব্যয় বিনিয়োগের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বহির্বিশ্বে বাজার সম্প্রসারণের আহ্বান

প্রস্তুত পোশাক শিল্প অর্থনীতির মেরুদন্ড হলেও, এর রপ্তানি ৮৮ শতাংশ উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে কেন্দ্রীভূত। ঝুঁকি কমানোর জন্য আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মত উদীয়মান বাজারে প্রবেশ করাটা অত্যন্ত জরুরি।

নীতির স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

তাসকিন আহমেদ স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন:

  • নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার: ব্যবসায়িক মনোভাব পুনরুদ্ধারের জন্য স্থিতিশীল নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
  • সমর্থন ব্যবস্থা: কর সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সঠিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সমর্থন করা প্রয়োজন।
  • দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ: যদি মুদ্রাস্ফীতি, শক্তি সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকে, তবে ব্যবসার কার্যক্রম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

উপসংহার

বেসরকারি খাত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, সফলতার জন্য সুস্পষ্ট ও স্থিতিশীল নীতি অপরিহার্য। বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।