০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
নেহরুর উত্তরাধিকার মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মোদি: দীর্ঘতম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিনে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ নেহরুকে ছাড়িয়ে টানা সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোদি, মন্ত্রিসভার অভিনন্দন কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান, আজ আসছে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন

বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের আমদানির নির্ভরতা

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
  • 167

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • দেশের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে ৪০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি করতে হয়
  • কৃষিপণ্য আমদানি ০.৬৮% হারে বাড়ছে, ২০২৪ সালে সম্ভাব্য আমদানির পরিমাণ ৫.২ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ ছিল ১.৮৬ কোটি ডলার, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৫৪.৬২ কোটি ডলার

বাংলাদেশের কৃষি খাদ্যপণ্যের বাজার প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার। তবে চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে দেশকে পুরোপুরি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং

আমদানির ওপর নির্ভরতা

দেশের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে ৪০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষিপণ্য উৎপাদনে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কৃষি পণ্যের বাজার ও আমদানি প্রবণতা

 

স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২৪ সালে স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার দাঁড়াতে পারে ১০.১৪ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৯ সালের মধ্যে এ বাজার ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
  • তবে কৃষিপণ্য আমদানি ০.৬৮% হারে বাড়ছে, ২০২৪ সালে সম্ভাব্য আমদানির পরিমাণ ৫.২ বিলিয়ন ডলার

গম ও চাল আমদানির বর্তমান চিত্র

গম আমদানি

  • গমের চাহিদার মাত্র ১৪-১৫% দেশীয়ভাবে উৎপাদিত, বাকি ৮৫% আমদানি করতে হয়।
  • ২০২৩ সালে গম আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৪.১৭ লাখ টন, যা ২০২৪ সালে ৭২.৭৫ লাখ টনে পৌঁছেছে।

চাল আমদানি

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ ছিল ১.৮৬ কোটি ডলার, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৫৪.৬২ কোটি ডলার
  • সাম্প্রতিক বন্যার কারণে আমন উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আমদানি চিত্র

মসুর ডাল: মোট চাহিদার ৭০% আমদানি করতে হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশীয় উৎপাদন ১.৮৪ লাখ টন, কিন্তু চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন, ফলে ৫ লাখ টন আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজ: দেশে বার্ষিক চাহিদা ৩৫ লাখ টন, কিন্তু ২৫-৩০% উৎপাদন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে নষ্ট হয়। ফলে আমদানি প্রয়োজন হয়

ভোজ্যতেল: ৯৭% ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়।

গরম মসলা: হলুদ, মরিচ, মৌরি, মেথি, কালিজিরা, তেজপাতা, আদা, রসুন, সরিষাসহ অধিকাংশ মসলা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়

বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের আমদানি ব্যয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষিপণ্য আমদানির ব্যয় ছিল ৫.৩ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৪ বিলিয়ন ডলারে এসেছে
  • তবে, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্য মিলিয়ে আমদানি ব্যয় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জনপ্রিয় সংবাদ

নেহরুর উত্তরাধিকার মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মোদি: দীর্ঘতম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিনে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ

বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের আমদানির নির্ভরতা

০৩:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • দেশের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে ৪০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি করতে হয়
  • কৃষিপণ্য আমদানি ০.৬৮% হারে বাড়ছে, ২০২৪ সালে সম্ভাব্য আমদানির পরিমাণ ৫.২ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ ছিল ১.৮৬ কোটি ডলার, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৫৪.৬২ কোটি ডলার

বাংলাদেশের কৃষি খাদ্যপণ্যের বাজার প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার। তবে চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে দেশকে পুরোপুরি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং

আমদানির ওপর নির্ভরতা

দেশের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে ৪০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষিপণ্য উৎপাদনে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কৃষি পণ্যের বাজার ও আমদানি প্রবণতা

 

স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২৪ সালে স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার দাঁড়াতে পারে ১০.১৪ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৯ সালের মধ্যে এ বাজার ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
  • তবে কৃষিপণ্য আমদানি ০.৬৮% হারে বাড়ছে, ২০২৪ সালে সম্ভাব্য আমদানির পরিমাণ ৫.২ বিলিয়ন ডলার

গম ও চাল আমদানির বর্তমান চিত্র

গম আমদানি

  • গমের চাহিদার মাত্র ১৪-১৫% দেশীয়ভাবে উৎপাদিত, বাকি ৮৫% আমদানি করতে হয়।
  • ২০২৩ সালে গম আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৪.১৭ লাখ টন, যা ২০২৪ সালে ৭২.৭৫ লাখ টনে পৌঁছেছে।

চাল আমদানি

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ ছিল ১.৮৬ কোটি ডলার, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৫৪.৬২ কোটি ডলার
  • সাম্প্রতিক বন্যার কারণে আমন উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকার চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিভিন্ন কৃষিপণ্যের আমদানি চিত্র

মসুর ডাল: মোট চাহিদার ৭০% আমদানি করতে হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশীয় উৎপাদন ১.৮৪ লাখ টন, কিন্তু চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন, ফলে ৫ লাখ টন আমদানি করা হয়।

পেঁয়াজ: দেশে বার্ষিক চাহিদা ৩৫ লাখ টন, কিন্তু ২৫-৩০% উৎপাদন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে নষ্ট হয়। ফলে আমদানি প্রয়োজন হয়

ভোজ্যতেল: ৯৭% ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়।

গরম মসলা: হলুদ, মরিচ, মৌরি, মেথি, কালিজিরা, তেজপাতা, আদা, রসুন, সরিষাসহ অধিকাংশ মসলা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়

বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের আমদানি ব্যয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী:

  • ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষিপণ্য আমদানির ব্যয় ছিল ৫.৩ বিলিয়ন ডলার
  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৪ বিলিয়ন ডলারে এসেছে
  • তবে, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্য মিলিয়ে আমদানি ব্যয় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।