০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • 239

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

কী হল? ছোড় শিগগিরি!’ চুবুক চেচিয়ে উঠলেন। তারপর উচু-করে-ধরা আমার হাত থেকে বোমাটা ছিনিয়ে নিয়ে সেফটি ক্যাচ খুলে দিলেন। তারপর খাদের নিচে ছুড়ে দিলেন বোমাটা।

‘হতভাগা গাধা!’ খে’কিয়ে উঠলেন উনি। বোমার বিস্ফোরণের শব্দে আর পরপর অতগুলো অপ্রত্যাশিত বিপদের মুখোমুখি পড়ে আমার বুদ্ধিসুদ্ধি তখন একেবারে গুলিয়ে গিয়েছিল। উনি বললেন, ‘আঙুটাটা খুলে ফেলিছিলে, এদিকে সেফটি ক্যাচ তেমনি নাগানো ছিল। বলিহারি বুদ্ধি!’

অতঃপর সদ্য-লাঙল-দেয়া কাদা-প্যাচপেচে একটা সজ্জিখেত মাড়িয়ে প্রাণপণে ছুটলুম আমরা। অতসব ঝোপঝাড় থাকায় শ্বেতরক্ষীর দলটা ঘোড়ার পিঠে চড়াই বেয়ে তাড়াতাড়ি ওঠায় মোটেই সুবিধে করতে পারছিল না। তাই শেষপর্যন্ত তারা হে’টে চড়াই ভাঙছিল। কাজেই আমরা সময় পেয়ে গেলুম আরেকটা খাদে পৌঁছতে। তারপর খাদ পেরিয়ে আরেকটা মাঠও পার হয়ে পৌঁছে গেলুম জঙ্গলে। পেছনে, অনেক দূরে, তখন বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

‘ও-ওরা বো-বোধহয় ভাস্কাকে ধ-ধরেই ফেলেছে!! নিজেরই অপরিচিত অদ্ভুত একটা গলায় তুলে-তুলে বললুম।

গুলির আওয়াজ ভালো করে শুনে নিয়ে কিন্তু চুবুক বললেন, ‘না। ওরা আপন মনে গায়ের ঝাল মেটাচ্চে আর কি। চলে এস, বাচ্চা, কোমর বোধে কষে পা চালাও দিকি। ওরা যেন আমাদের যাওয়ার পথের গন্ধটি না পায়, বুইলে।’

নিঃশব্দে চলতে লাগলুম আমরা। আমার মনে হতে লাগল, চুবুক নিশ্চয় আমার ওপর মর্মান্তিক খেপে গেছেন আর আমাকে ঘেন্না করছেন। যেরকম ভয় পেয়ে আমার হাত থেকে রাইফেল পড়ে গিয়েছিল, হাস্যকর ইশকুলের ছেলের কায়দায় যেভাবে আমি শ্বেতরক্ষীটার আঙুল কামড়ে দিয়েছিলুম, ঘোড়ার পিঠে আমাদের বন্দীকে তোলার সময় যেরকম আমি হাতের কাঁপুনি বাগে আনতে পারছিলুম না, আর সবচেয়ে বেশি, মনের জোর এতখানি হারিয়ে ফেলেছিলুম আমি যে সামান্য একটা বোমা পর্যন্ত ছড়তে পারি নি, এতসব কেলেঙ্কারি কাণ্ড দেখে উনি আমার সম্বন্ধে কী-না-কী মনে করেছেন কে জানে!

বিশেষ করে যখন মনে হচ্ছিল চুবুক ফিরে গিয়ে বাহিনীর লোকেদের কাছে আমার সম্বন্ধে সব কথা বলে দেবেন, তখন একটা বিশ্রী তিক্ততায় আর মর্মান্তিক লজ্জায় যেন মরে যাচ্ছিলুম আমি। ভাবলুম, সব শোনার পর সুখারেভ নিশ্চয়ই বলবেন: ‘কয়েছিলাম না, ওরে সঙ্গে না লিতে। সিমকারে নেয়া উচিত ছিল তোমার।’ অসহ্য অপমানে আর নিজের ভীরুতায়, নিজেরই ওপর আক্রোশে চোখে জল এসে গেল আমার।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৭)

০৮:০০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

কী হল? ছোড় শিগগিরি!’ চুবুক চেচিয়ে উঠলেন। তারপর উচু-করে-ধরা আমার হাত থেকে বোমাটা ছিনিয়ে নিয়ে সেফটি ক্যাচ খুলে দিলেন। তারপর খাদের নিচে ছুড়ে দিলেন বোমাটা।

‘হতভাগা গাধা!’ খে’কিয়ে উঠলেন উনি। বোমার বিস্ফোরণের শব্দে আর পরপর অতগুলো অপ্রত্যাশিত বিপদের মুখোমুখি পড়ে আমার বুদ্ধিসুদ্ধি তখন একেবারে গুলিয়ে গিয়েছিল। উনি বললেন, ‘আঙুটাটা খুলে ফেলিছিলে, এদিকে সেফটি ক্যাচ তেমনি নাগানো ছিল। বলিহারি বুদ্ধি!’

অতঃপর সদ্য-লাঙল-দেয়া কাদা-প্যাচপেচে একটা সজ্জিখেত মাড়িয়ে প্রাণপণে ছুটলুম আমরা। অতসব ঝোপঝাড় থাকায় শ্বেতরক্ষীর দলটা ঘোড়ার পিঠে চড়াই বেয়ে তাড়াতাড়ি ওঠায় মোটেই সুবিধে করতে পারছিল না। তাই শেষপর্যন্ত তারা হে’টে চড়াই ভাঙছিল। কাজেই আমরা সময় পেয়ে গেলুম আরেকটা খাদে পৌঁছতে। তারপর খাদ পেরিয়ে আরেকটা মাঠও পার হয়ে পৌঁছে গেলুম জঙ্গলে। পেছনে, অনেক দূরে, তখন বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

‘ও-ওরা বো-বোধহয় ভাস্কাকে ধ-ধরেই ফেলেছে!! নিজেরই অপরিচিত অদ্ভুত একটা গলায় তুলে-তুলে বললুম।

গুলির আওয়াজ ভালো করে শুনে নিয়ে কিন্তু চুবুক বললেন, ‘না। ওরা আপন মনে গায়ের ঝাল মেটাচ্চে আর কি। চলে এস, বাচ্চা, কোমর বোধে কষে পা চালাও দিকি। ওরা যেন আমাদের যাওয়ার পথের গন্ধটি না পায়, বুইলে।’

নিঃশব্দে চলতে লাগলুম আমরা। আমার মনে হতে লাগল, চুবুক নিশ্চয় আমার ওপর মর্মান্তিক খেপে গেছেন আর আমাকে ঘেন্না করছেন। যেরকম ভয় পেয়ে আমার হাত থেকে রাইফেল পড়ে গিয়েছিল, হাস্যকর ইশকুলের ছেলের কায়দায় যেভাবে আমি শ্বেতরক্ষীটার আঙুল কামড়ে দিয়েছিলুম, ঘোড়ার পিঠে আমাদের বন্দীকে তোলার সময় যেরকম আমি হাতের কাঁপুনি বাগে আনতে পারছিলুম না, আর সবচেয়ে বেশি, মনের জোর এতখানি হারিয়ে ফেলেছিলুম আমি যে সামান্য একটা বোমা পর্যন্ত ছড়তে পারি নি, এতসব কেলেঙ্কারি কাণ্ড দেখে উনি আমার সম্বন্ধে কী-না-কী মনে করেছেন কে জানে!

বিশেষ করে যখন মনে হচ্ছিল চুবুক ফিরে গিয়ে বাহিনীর লোকেদের কাছে আমার সম্বন্ধে সব কথা বলে দেবেন, তখন একটা বিশ্রী তিক্ততায় আর মর্মান্তিক লজ্জায় যেন মরে যাচ্ছিলুম আমি। ভাবলুম, সব শোনার পর সুখারেভ নিশ্চয়ই বলবেন: ‘কয়েছিলাম না, ওরে সঙ্গে না লিতে। সিমকারে নেয়া উচিত ছিল তোমার।’ অসহ্য অপমানে আর নিজের ভীরুতায়, নিজেরই ওপর আক্রোশে চোখে জল এসে গেল আমার।