০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪০)

তারা ভিক্ষু আর প্রকৃত ধর্মের আদর জানে না। সেই জন্যেই বুদ্ধ সেখানে জন্মগ্রহণ করেন নি। তাদের মন সংকীর্ণ, আচরণ অশিষ্ট, অসংস্কৃত। সেইজন্যই ভারতের সাধু জ্ঞানীরা সেখানে যান নি।

হিউএনচাঙ উত্তর দিলেন, ‘বুদ্ধ চেয়েছিলেন যে, সব দেশেই তাঁর উপদেশ প্রচারিত হয়। তাঁর উপদেশে নিজে পরিতৃপ্ত হয়ে, অন্যকে পিপাসার বারি দিতে যারা পরাম্মুখ তারা কেমন লোক?’ তার পর তিনি স্বদেশের পক্ষ সমর্থন করলেন, ‘আমাদের দেশের বিচারকরা ন্যায়পরায়ণ আর অধিবাসীরা আইন মান্য করে। রাজা ধর্মনিষ্ঠ, প্রজারা রাজভক্ত, পিতারা স্নেহশীল, পুত্রেরা বাধ্য।

আমাদের দেশে দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার সম্মান আছে, বৃদ্ধ ও জ্ঞানীদের সম্মান আছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের জ্ঞানও গভীর। তাঁরা আকাশের সপ্তগ্রহের গতি নিরূপণ করতে পারেন। নানাযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, ছয়টি সুরের প্রভেদ জানেন,’ ইত্যাদি। তার পর বৌদ্ধধর্মের প্রসারের কথা বললেন, ‘বৌদ্ধধর্ম চীনদেশে প্রবেশ করার পর থেকে লোকে মহাযানকে ভক্তি করে, তারা ধর্ষকার্যে রত আর পুণ্যকর্ম দ্বারা দশবিধপূর্ণতা প্রাপ্তির জন্যে সর্বদা উৎসুক।

আপনারা কী করে বলছেন যে, বুদ্ধ সে দেশে জন্মান নি বলে এমন দেশ তুচ্ছ?’ অবশেষে বললেন, ‘সূর্য পৃথিবীর চার-দিকে ঘোরে কেন? অন্ধকার দূর করার জন্যেই তো? ঠিক এই জন্যেই আমি স্বদেশে ফিরবার ইচ্ছা করি।’

ভিক্ষুরা তখন হিউএনচাঙকে শীলভদ্রের কাছে নিয়ে গেলেন। শীলভদ্র জিজ্ঞাসা করলেন, কেন আপনি দেশে ফিরতে চাচ্ছেন? ধর্মগুরু জবাব দিলেন, বুদ্ধের জন্মভূমি এই দেশকে প্রীতির চোখে না দেখা অসম্ভব। কিন্তু আমার এখানে আসার উদ্দেশ্য ছিল সমস্ত মানবের হিতার্থে তাঁর মহাধর্ম শিক্ষা করা। আমি এখানে আসার পর, আপনি মহাশয়, অনুগ্রহ করে আমাকে যোগাচার্যভূমিশাস্ত্র শিক্ষা দিয়েছেন। আমি আপনাদের নানাতীর্থ স্থান দর্শন করেছি, নানা সম্প্রদায়ের শাস্ত্র আলোচনা শুনেছি। এতে আমার যৎপরোনাস্তি আনন্দ হয়েছে। এখন আমি চাই যে, স্বদেশে ফিরে গিয়ে অন্যদেরও এইসব কথা বুঝাই, তাতে আমি ছাড়া অন্যরাও আপনার কাছে কৃতজ্ঞ হতে, পারবে। এইজন্যেই আমি ফিরতে বিলম্ব করতে চাই না।

শীলভদ্র আনন্দে বললেন, ‘এ যা আপনি চিন্তা করেছেন, তা বোধিসত্ত্বেরই উপযুক্ত। আমার হৃদয়ও আপনার ইচ্ছাই সমর্থন করছে।

আমি আপনার যাবার বন্দোবস্ত করে দেব। আর বন্ধুরা! একে আর বাধা দেবেন না।’

এই বলে তিনি তাঁর ঘরে ফিরে গেলেন।

(চলবে)

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪০)

০৯:০০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

তারা ভিক্ষু আর প্রকৃত ধর্মের আদর জানে না। সেই জন্যেই বুদ্ধ সেখানে জন্মগ্রহণ করেন নি। তাদের মন সংকীর্ণ, আচরণ অশিষ্ট, অসংস্কৃত। সেইজন্যই ভারতের সাধু জ্ঞানীরা সেখানে যান নি।

হিউএনচাঙ উত্তর দিলেন, ‘বুদ্ধ চেয়েছিলেন যে, সব দেশেই তাঁর উপদেশ প্রচারিত হয়। তাঁর উপদেশে নিজে পরিতৃপ্ত হয়ে, অন্যকে পিপাসার বারি দিতে যারা পরাম্মুখ তারা কেমন লোক?’ তার পর তিনি স্বদেশের পক্ষ সমর্থন করলেন, ‘আমাদের দেশের বিচারকরা ন্যায়পরায়ণ আর অধিবাসীরা আইন মান্য করে। রাজা ধর্মনিষ্ঠ, প্রজারা রাজভক্ত, পিতারা স্নেহশীল, পুত্রেরা বাধ্য।

আমাদের দেশে দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার সম্মান আছে, বৃদ্ধ ও জ্ঞানীদের সম্মান আছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের জ্ঞানও গভীর। তাঁরা আকাশের সপ্তগ্রহের গতি নিরূপণ করতে পারেন। নানাযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, ছয়টি সুরের প্রভেদ জানেন,’ ইত্যাদি। তার পর বৌদ্ধধর্মের প্রসারের কথা বললেন, ‘বৌদ্ধধর্ম চীনদেশে প্রবেশ করার পর থেকে লোকে মহাযানকে ভক্তি করে, তারা ধর্ষকার্যে রত আর পুণ্যকর্ম দ্বারা দশবিধপূর্ণতা প্রাপ্তির জন্যে সর্বদা উৎসুক।

আপনারা কী করে বলছেন যে, বুদ্ধ সে দেশে জন্মান নি বলে এমন দেশ তুচ্ছ?’ অবশেষে বললেন, ‘সূর্য পৃথিবীর চার-দিকে ঘোরে কেন? অন্ধকার দূর করার জন্যেই তো? ঠিক এই জন্যেই আমি স্বদেশে ফিরবার ইচ্ছা করি।’

ভিক্ষুরা তখন হিউএনচাঙকে শীলভদ্রের কাছে নিয়ে গেলেন। শীলভদ্র জিজ্ঞাসা করলেন, কেন আপনি দেশে ফিরতে চাচ্ছেন? ধর্মগুরু জবাব দিলেন, বুদ্ধের জন্মভূমি এই দেশকে প্রীতির চোখে না দেখা অসম্ভব। কিন্তু আমার এখানে আসার উদ্দেশ্য ছিল সমস্ত মানবের হিতার্থে তাঁর মহাধর্ম শিক্ষা করা। আমি এখানে আসার পর, আপনি মহাশয়, অনুগ্রহ করে আমাকে যোগাচার্যভূমিশাস্ত্র শিক্ষা দিয়েছেন। আমি আপনাদের নানাতীর্থ স্থান দর্শন করেছি, নানা সম্প্রদায়ের শাস্ত্র আলোচনা শুনেছি। এতে আমার যৎপরোনাস্তি আনন্দ হয়েছে। এখন আমি চাই যে, স্বদেশে ফিরে গিয়ে অন্যদেরও এইসব কথা বুঝাই, তাতে আমি ছাড়া অন্যরাও আপনার কাছে কৃতজ্ঞ হতে, পারবে। এইজন্যেই আমি ফিরতে বিলম্ব করতে চাই না।

শীলভদ্র আনন্দে বললেন, ‘এ যা আপনি চিন্তা করেছেন, তা বোধিসত্ত্বেরই উপযুক্ত। আমার হৃদয়ও আপনার ইচ্ছাই সমর্থন করছে।

আমি আপনার যাবার বন্দোবস্ত করে দেব। আর বন্ধুরা! একে আর বাধা দেবেন না।’

এই বলে তিনি তাঁর ঘরে ফিরে গেলেন।

(চলবে)