০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
নতুন ভূরাজনৈতিক দাবার ছক এআই ইমেজ জেনারেটর ‘খারাপ’ হয়েই কীভাবে আরও কার্যকর হচ্ছে বৃষ্টিবিঘ্নিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ভারতের কাছে ৯০ রানে হার পাকিস্তানের সিডনির বন্ডি বিচে হনুকা অনুষ্ঠানে হামলা, সন্ত্রাস তদন্তে নিরাপত্তা জোরদার কানাডায় ‘টার্গেটেড’ হামলায় পাঞ্জাবের দুই যুবক গুলিতে নিহত বাংলাদেশে ফেরার পথে আসামে আটক সাত রোহিঙ্গা আহসানউল্লাহ মাস্টার ও কিবরিয়ার হত্যার নজির টেনে সিইসি: হাদির ওপর গুলির ঘটনা বিচ্ছিন্ন, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই নিখোঁজ অস্ত্র: কঠোর অভিযান কি নিশ্চিত করবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবে, শিম্পাঞ্জিরা দেখাল ভিন্ন বাস্তবতা শীতকালীন অলিম্পিকের বরফে বিতর্ক: হকি রিঙ্কের মাপ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিল আয়োজকরা

বজ্রপাত কখন হয়, কেন বাংলাদেশে বাড়ছে বজ্রপাত?

  • Sarakhon Report
  • ০২:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • 301

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • অধিকাংশই কৃষিজমিতে কাজ করার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুক্তভোগী হয়েছিলেন
  • জাতিসংঘের তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জন বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান
  •  বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের প্রায় ৬৯% ঘটনা মধ্যএপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-মৌসুমে ঘটেবিশেষ করে সকালের দিকে

গতকাল ছয় জেলায় বজ্রপাতে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।কুমিল্লায় চারজন, কিশোরগঞ্জে তিনজন এবং নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষি শ্রমিক।

বজ্রপাত বৃদ্ধির কারণ

বাংলাদেশের ভূগোলগত অবস্থানের কারণে প্রাক-মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু শিলং প্ল্যাটোর এবং চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলের টপোগ্রাফিক বাধায় দ্রুত উত্থিত হয়ে প্রবল বজ্রঝড় (কালবৈশাখী) সৃষ্টি করে ।

এ ছাড়া প্রাক-মৌসুমে (মার্চ–মে) সূর্যালোক তীব্রতায় বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বাড়ায় মৌসুমী দক্ষিণ-পশ্চিম লো-লেভেল জেট বে-অফ-বেঙ্গল ( বঙ্গোপসাগর)  থেকে অধিক আর্দ্রতা পরিবহন করে, যা কনভেকটিভ সিস্টেমকে ত্বরান্বিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের প্রায় ৬৯% ঘটনা মধ্য-এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-মৌসুমে ঘটে, বিশেষ করে সকালের দিকে।

সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য বজ্রপাতের ঘটনা

২০১৯২০২৩: স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম” (SSTAF) এর তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে বজ্রপাতের ফলে ,৩২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, গড়ে বছরে প্রায় ২৬৪ জন মৃত্যু হয়।

এপ্রিল ২০২ – মে ২০২৩: বজ্রপাতের কারণে ৩৪০ জন নিহত হয়; এর মধ্যে ২৭৪ জন (২৩৯ পুরুষ, ৩৫ নারী) মারা যায় ২০২৩ এর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই ঘটেছে ।

Save the Society and Thunderstorm Awareness Forum সেভ দ্য সোসাইটি

ফেব্রুয়ারিসেপ্টেম্বর ২০২৪: SSTF জানায়, মোট ২৯৭ জন (২৪২ পুরুষ, ৫৫ নারী) বজ্রপাতের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে; অধিকাংশই কৃষিজমিতে কাজ করার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুক্তভোগী হয়েছিলেন ।

৭ এপ্রিল ২০২৪: ঝালকাঠি, নেত্রকোণা ও যশোর জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জন (এক শিশুসহ) নিহত হয়।

প্রতি বছরের গড়: জাতিসংঘের তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জন বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান; বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

এই তথ্যগুলোই প্রমাণ করে, প্রাক-মৌসুমের “কালবৈশাখী” সহ অন্যান্য বজ্রঝড়ের তীব্রতা ও প্রভাব দিনদিন বাড়ছে। নিরাপত্তা সচেতনতা ও ঝড় প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোতে আরও সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া না গেলে এ ধরণের প্রাণহানির এই ধারা প্রতিবছর অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক জাপানি প্রতিরক্ষা প্রধানকে ঘিরে চীনের ‘কাউন্টারমেজার’, টোকিওতে নিরাপত্তা বিতর্ক আরও তীব্র

বজ্রপাত কখন হয়, কেন বাংলাদেশে বাড়ছে বজ্রপাত?

০২:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  • অধিকাংশই কৃষিজমিতে কাজ করার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুক্তভোগী হয়েছিলেন
  • জাতিসংঘের তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জন বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান
  •  বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের প্রায় ৬৯% ঘটনা মধ্যএপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-মৌসুমে ঘটেবিশেষ করে সকালের দিকে

গতকাল ছয় জেলায় বজ্রপাতে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।কুমিল্লায় চারজন, কিশোরগঞ্জে তিনজন এবং নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই কৃষি শ্রমিক।

বজ্রপাত বৃদ্ধির কারণ

বাংলাদেশের ভূগোলগত অবস্থানের কারণে প্রাক-মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু শিলং প্ল্যাটোর এবং চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলের টপোগ্রাফিক বাধায় দ্রুত উত্থিত হয়ে প্রবল বজ্রঝড় (কালবৈশাখী) সৃষ্টি করে ।

এ ছাড়া প্রাক-মৌসুমে (মার্চ–মে) সূর্যালোক তীব্রতায় বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বাড়ায় মৌসুমী দক্ষিণ-পশ্চিম লো-লেভেল জেট বে-অফ-বেঙ্গল ( বঙ্গোপসাগর)  থেকে অধিক আর্দ্রতা পরিবহন করে, যা কনভেকটিভ সিস্টেমকে ত্বরান্বিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের মোট বজ্রপাতের প্রায় ৬৯% ঘটনা মধ্য-এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-মৌসুমে ঘটে, বিশেষ করে সকালের দিকে।

সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য বজ্রপাতের ঘটনা

২০১৯২০২৩: স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম” (SSTAF) এর তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে বজ্রপাতের ফলে ,৩২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, গড়ে বছরে প্রায় ২৬৪ জন মৃত্যু হয়।

এপ্রিল ২০২ – মে ২০২৩: বজ্রপাতের কারণে ৩৪০ জন নিহত হয়; এর মধ্যে ২৭৪ জন (২৩৯ পুরুষ, ৩৫ নারী) মারা যায় ২০২৩ এর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই ঘটেছে ।

Save the Society and Thunderstorm Awareness Forum সেভ দ্য সোসাইটি

ফেব্রুয়ারিসেপ্টেম্বর ২০২৪: SSTF জানায়, মোট ২৯৭ জন (২৪২ পুরুষ, ৫৫ নারী) বজ্রপাতের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছে; অধিকাংশই কৃষিজমিতে কাজ করার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুক্তভোগী হয়েছিলেন ।

৭ এপ্রিল ২০২৪: ঝালকাঠি, নেত্রকোণা ও যশোর জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জন (এক শিশুসহ) নিহত হয়।

প্রতি বছরের গড়: জাতিসংঘের তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ জন বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান; বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে।

এই তথ্যগুলোই প্রমাণ করে, প্রাক-মৌসুমের “কালবৈশাখী” সহ অন্যান্য বজ্রঝড়ের তীব্রতা ও প্রভাব দিনদিন বাড়ছে। নিরাপত্তা সচেতনতা ও ঝড় প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোতে আরও সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া না গেলে এ ধরণের প্রাণহানির এই ধারা প্রতিবছর অব্যাহত থাকবে।