০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-২৩১)

মহম্মদ ইবন মুসার প্রায় সাড়ে তিনশ বছর পূর্বে প্রথম আর্যভট “মূল” শব্দটি ব্যবহার করেন।

ভারতীয় ‘মূল’ শব্দটিতে আরবীয় প্রভাব একটি কল্পনা-প্রসূত মন্তব্য

বিখ্যাত গণিত ঐতিহাসিক সলোমন গাঁজ’ অ্যামেরিকান ম্যাথেমেটিক্যাল ম্যান্থলিতে একটি প্রবন্ধে বলেছেন, চীনারা মূল, তৃণলতা এবং গুন্মকে কুণ বলতেন। ভারতীয়রা গাছের শিকড়কে মূল বলতেন। মনে হয় এটি আরবীয় প্রভাব হেতু হয়েছে। প্রথমে এটি চীনাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে, তারপর চীনাদের কাছ থেকে ভারতীয়রা পায়।

গাঁজ এবং স্মীথ মনে করেন, ইংরাজীতে “root” শব্দটি আরবীয় শব্দ “Jadhr” শব্দ থেকে এসেছে। মূলত Jadhr শব্দটি বর্গভিত্তিক কোন ধারণা থেকে এসেছে। ৮২৫ খ্রীষ্টাব্দে মহম্মদ ইবন মুসা অল খোয়ারজমী তাঁর গ্রন্থে “jadhr” শব্দটির সংজ্ঞা অতি সহজভাবে দিয়েছেন। অনেক পণ্ডিত মনে করেন, কোন পূর্বসূরী হিক্র কর্তৃক খোয়ারজমী প্রভাবিত হওয়ার ফলে এটিকে তার গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পরবর্তী-কালে আরবরা এটির প্রকৃত অর্থ বিশ্বত হয়েছিলেন।

তারপর যখন মধ্যযুগে আরবীয় গ্রন্থগুলি ল্যাটিনে অনূদিত হয় তখন এটির ভুল অর্থ করা হয়। Radix শব্দটি এই ভুলের মাসুল হিসাবে jadhr শব্দটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হতে থাকে। প্রসঙ্গক্রমে বলা প্রয়োজন গাঁজ এবং স্মীথ এ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রে ভারতীয় মূল এবং তৎসংক্রান্ত সম্বন্ধে যা বলেছেন তা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ভারতীয় “মূল” শব্দটি সংখ্যা তত্ত্বের সঙ্গে জড়িত আছে। মহম্মদ ইবন মুসার প্রায় সাড়ে তিনশ বছর পূর্বে প্রথম আর্যভট “মূল” শব্দটি ব্যবহার করেন। তাছাড়াও আমরা পূর্বের পরিচ্ছদে দেখেছি বরাহমিহির, লল্প, ব্রহ্মগুপ্ত, শ্রীপতি, মহাবীর, দ্বিতীয় আর্যভট, দ্বিতীয় ভাস্করাচার্য প্রমুখেরা মূল শব্দটি ব্যবহার করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে বলা প্রয়োজন যে, ভারতীয়রা মূল শব্দটির কোন সংজ্ঞা দেন নি।

এবং প্রথম থেকেই বর্গ, ঘন প্রভৃতির সংজ্ঞা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন। এরা বলেছেন, দুটি সমরাশির গুণফল বর্গ, তিনটা সমরাশির গুণফল ঘন। এগুলি সম্পর্কে আলোচনা করার পর ভারতীয় গণিতজ্ঞরা মূলাকর্ষণ (বর্গমূল ও ঘনমূল) করার সূত্র উল্লেখ করেছেন। সুতরাং বলা যেতে পারে ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে মূল শব্দটি বিপরীত পদ্ধতির প্রত্যক্ষ সহযোগ এসেছে।

ব্রহ্মগুপ্ত কোন এক জায়গায় বলেছেন, “পদম্ কৃতির্যত তত’ অর্থাৎ কোন বর্গের মূল সেইটি, যেটি বর্গ করা হয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি-ভারতীয়রা রাশির সঙ্গেই “মূল” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অতএব গাঁজের যে অনুমান, ভারতীয় মূল শব্দটিতে আরবীয় প্রভাব রয়েছে তা ভ্রমাত্মক।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-২৩০)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-২৩০)

 

ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-২৩১)

১২:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

মহম্মদ ইবন মুসার প্রায় সাড়ে তিনশ বছর পূর্বে প্রথম আর্যভট “মূল” শব্দটি ব্যবহার করেন।

ভারতীয় ‘মূল’ শব্দটিতে আরবীয় প্রভাব একটি কল্পনা-প্রসূত মন্তব্য

বিখ্যাত গণিত ঐতিহাসিক সলোমন গাঁজ’ অ্যামেরিকান ম্যাথেমেটিক্যাল ম্যান্থলিতে একটি প্রবন্ধে বলেছেন, চীনারা মূল, তৃণলতা এবং গুন্মকে কুণ বলতেন। ভারতীয়রা গাছের শিকড়কে মূল বলতেন। মনে হয় এটি আরবীয় প্রভাব হেতু হয়েছে। প্রথমে এটি চীনাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে, তারপর চীনাদের কাছ থেকে ভারতীয়রা পায়।

গাঁজ এবং স্মীথ মনে করেন, ইংরাজীতে “root” শব্দটি আরবীয় শব্দ “Jadhr” শব্দ থেকে এসেছে। মূলত Jadhr শব্দটি বর্গভিত্তিক কোন ধারণা থেকে এসেছে। ৮২৫ খ্রীষ্টাব্দে মহম্মদ ইবন মুসা অল খোয়ারজমী তাঁর গ্রন্থে “jadhr” শব্দটির সংজ্ঞা অতি সহজভাবে দিয়েছেন। অনেক পণ্ডিত মনে করেন, কোন পূর্বসূরী হিক্র কর্তৃক খোয়ারজমী প্রভাবিত হওয়ার ফলে এটিকে তার গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পরবর্তী-কালে আরবরা এটির প্রকৃত অর্থ বিশ্বত হয়েছিলেন।

তারপর যখন মধ্যযুগে আরবীয় গ্রন্থগুলি ল্যাটিনে অনূদিত হয় তখন এটির ভুল অর্থ করা হয়। Radix শব্দটি এই ভুলের মাসুল হিসাবে jadhr শব্দটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হতে থাকে। প্রসঙ্গক্রমে বলা প্রয়োজন গাঁজ এবং স্মীথ এ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রে ভারতীয় মূল এবং তৎসংক্রান্ত সম্বন্ধে যা বলেছেন তা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ভারতীয় “মূল” শব্দটি সংখ্যা তত্ত্বের সঙ্গে জড়িত আছে। মহম্মদ ইবন মুসার প্রায় সাড়ে তিনশ বছর পূর্বে প্রথম আর্যভট “মূল” শব্দটি ব্যবহার করেন। তাছাড়াও আমরা পূর্বের পরিচ্ছদে দেখেছি বরাহমিহির, লল্প, ব্রহ্মগুপ্ত, শ্রীপতি, মহাবীর, দ্বিতীয় আর্যভট, দ্বিতীয় ভাস্করাচার্য প্রমুখেরা মূল শব্দটি ব্যবহার করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে বলা প্রয়োজন যে, ভারতীয়রা মূল শব্দটির কোন সংজ্ঞা দেন নি।

এবং প্রথম থেকেই বর্গ, ঘন প্রভৃতির সংজ্ঞা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন। এরা বলেছেন, দুটি সমরাশির গুণফল বর্গ, তিনটা সমরাশির গুণফল ঘন। এগুলি সম্পর্কে আলোচনা করার পর ভারতীয় গণিতজ্ঞরা মূলাকর্ষণ (বর্গমূল ও ঘনমূল) করার সূত্র উল্লেখ করেছেন। সুতরাং বলা যেতে পারে ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে মূল শব্দটি বিপরীত পদ্ধতির প্রত্যক্ষ সহযোগ এসেছে।

ব্রহ্মগুপ্ত কোন এক জায়গায় বলেছেন, “পদম্ কৃতির্যত তত’ অর্থাৎ কোন বর্গের মূল সেইটি, যেটি বর্গ করা হয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি-ভারতীয়রা রাশির সঙ্গেই “মূল” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অতএব গাঁজের যে অনুমান, ভারতীয় মূল শব্দটিতে আরবীয় প্রভাব রয়েছে তা ভ্রমাত্মক।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-২৩০)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-২৩০)