০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
বিবিসির ভবিষ্যৎ কি টিকটক ব্যবহারকারীদের পকেটের ওপর নির্ভর করবে? স্কটল্যান্ডে ভাইকিংদের শেষ ঘাঁটি: কীভাবে অর্কনি ও শেটল্যান্ড নরওয়ের নিয়ন্ত্রণে এল লেগোর অবিশ্বাস্য যাত্রা: কাঠের খেলনা থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক সাম্রাজ্য এক দুর্ঘটনা বদলে দিল জীবন: ১১০ ফুট উঁচু গাছে ঝুলে থাকা থেকে নতুন করে আকাশ জয় দক্ষিণ কোরিয়ায় বাড়ছে চীনা ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা, বদলে যাচ্ছে ভোক্তাদের পছন্দ বোরা চুংয়ের ‘রেড সোর্ড’: দুর্বোধ্যতার মধ্যেও এক সাহসী সাহিত্যিক পরীক্ষা মাজদা সিএক্স-৮০: পরিবার ও বিলাসিতার নিখুঁত সমন্বয়ে নতুন প্রিমিয়াম এসইউভি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুদ্ধ: মানবতার সামনে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা নিখোঁজের ছয় দিন পর ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে সহপাঠী চীনের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ, হরমুজ খুললেও মধ্যপ্রাচ্যের তেলে দ্রুত ফিরছে না বেইজিং

মাঠে মেশিন, হাতে স্বপ্ন: বাংলাদেশের নারী কৃষকের নতুন পরিচয়

এক সময় যেখানে নারীর কাজ সীমিত ছিল রান্নাঘর বা ক্ষেতের প্রান্তে, আজ সেখানেই তারা চালাচ্ছে পাওয়ার টিলার, ব্যবহার করছে বুম স্প্রেয়ার, আর ডিজিটাল অ্যাপে শিখছে আধুনিক চাষের কৌশল। এই প্রতিবেদন একজন নারী কৃষকের গল্প নয় শুধু, বরং হাজারো সংগ্রামী নারীর কণ্ঠস্বর যারা প্রযুক্তির হাত ধরে বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিচিত্র।

যশোরের সাবিনা খাতুন

যশোরের শার্শা উপজেলার নারী চাষি সাবিনা খাতুন। বয়স চল্লিশের ঘরে। বছর চারেক আগেও তিনি ছিলেন স্বামীনির্ভর একজন গৃহবধূ। এখন তাঁর পরিচয়—একজন সফল ধানচাষি, বুম স্প্রেয়ার চালক, এবং স্থানীয় কৃষক প্রশিক্ষক।

সাবিনা বলেন,

“প্রথমে তো সবাই হাসাহাসি করতো। ‘নারী হয়ে মেশিন চালাবে?’ এখন আমাকে দেখে আরও তিনজন মহিলা শিখেছে পাওয়ার টিলার চালানো।”

আসুন আমরা কীটনাশককে 'না' বলি | Barcik News Portal

প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ: মাঠে ডিজিটালের ছোঁয়া

সাবিনা প্রথম বুম স্প্রেয়ার ব্যবহার শেখেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার মোবাইল অ্যাপে ভিডিও দেখে।
“ভিডিওটা বারবার দেখি। ইউটিউবেও দেখি। পরে প্রশিক্ষণে যাই কৃষি অফিসে।”
এখন তিনি শুধু নিজে ব্যবহার করেন না, পাশের গ্রামের নারীদেরও শেখান কীভাবে কীটনাশক কম খরচে ছিটাতে হয়।

সামাজিক বাধা: মেয়েদের কাজ এটা না

শুরুতে পরিবার ও সমাজ থেকে নানা কথা শুনতে হয়েছে।
“শাশুড়ি বলতো, ‘কাজ করতে গেলে মেয়ে মানুষ অপমান হয়’। আমি বলেছি, অপমান না, সম্মান পাই আমি।”

ডাক ফার্মিং কতটা লাভজনক? কিভাবে শুরু করবেন?

অর্থনৈতিক পরিবর্তন: নিজের টাকায় হাঁসের খামার

এক মৌসুমে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে লাভ করেন ৪০ হাজার টাকা। সেই টাকায় হাঁসের খামার দেন। এখন তাঁর খামারে ১০০টির বেশি হাঁস।
“এই টাকা আমি কারো কাছ থেকে চেয়ে বা দয়ায় নেইনি । নিজের কামাই নিজের হাতে।”

নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

সাবিনার মেয়ে এখন কলেজে পড়ে।
“মা মাঠে যন্ত্র চালায় দেখে আমি আর লজ্জা পাই না। গর্ব হয়,”—বলে মেয়ে শিমু।

সাবিনারা এখন আর একা নন। পিরোজপুর, গাইবান্ধা, কুমিল্লা—সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে এই পরিবর্তন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নারীরা শুধু কৃষক নন, হচ্ছেন প্রশিক্ষক, উদ্যোক্তা, আর সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রদূত।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিবিসির ভবিষ্যৎ কি টিকটক ব্যবহারকারীদের পকেটের ওপর নির্ভর করবে?

মাঠে মেশিন, হাতে স্বপ্ন: বাংলাদেশের নারী কৃষকের নতুন পরিচয়

১০:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

এক সময় যেখানে নারীর কাজ সীমিত ছিল রান্নাঘর বা ক্ষেতের প্রান্তে, আজ সেখানেই তারা চালাচ্ছে পাওয়ার টিলার, ব্যবহার করছে বুম স্প্রেয়ার, আর ডিজিটাল অ্যাপে শিখছে আধুনিক চাষের কৌশল। এই প্রতিবেদন একজন নারী কৃষকের গল্প নয় শুধু, বরং হাজারো সংগ্রামী নারীর কণ্ঠস্বর যারা প্রযুক্তির হাত ধরে বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিচিত্র।

যশোরের সাবিনা খাতুন

যশোরের শার্শা উপজেলার নারী চাষি সাবিনা খাতুন। বয়স চল্লিশের ঘরে। বছর চারেক আগেও তিনি ছিলেন স্বামীনির্ভর একজন গৃহবধূ। এখন তাঁর পরিচয়—একজন সফল ধানচাষি, বুম স্প্রেয়ার চালক, এবং স্থানীয় কৃষক প্রশিক্ষক।

সাবিনা বলেন,

“প্রথমে তো সবাই হাসাহাসি করতো। ‘নারী হয়ে মেশিন চালাবে?’ এখন আমাকে দেখে আরও তিনজন মহিলা শিখেছে পাওয়ার টিলার চালানো।”

আসুন আমরা কীটনাশককে 'না' বলি | Barcik News Portal

প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ: মাঠে ডিজিটালের ছোঁয়া

সাবিনা প্রথম বুম স্প্রেয়ার ব্যবহার শেখেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার মোবাইল অ্যাপে ভিডিও দেখে।
“ভিডিওটা বারবার দেখি। ইউটিউবেও দেখি। পরে প্রশিক্ষণে যাই কৃষি অফিসে।”
এখন তিনি শুধু নিজে ব্যবহার করেন না, পাশের গ্রামের নারীদেরও শেখান কীভাবে কীটনাশক কম খরচে ছিটাতে হয়।

সামাজিক বাধা: মেয়েদের কাজ এটা না

শুরুতে পরিবার ও সমাজ থেকে নানা কথা শুনতে হয়েছে।
“শাশুড়ি বলতো, ‘কাজ করতে গেলে মেয়ে মানুষ অপমান হয়’। আমি বলেছি, অপমান না, সম্মান পাই আমি।”

ডাক ফার্মিং কতটা লাভজনক? কিভাবে শুরু করবেন?

অর্থনৈতিক পরিবর্তন: নিজের টাকায় হাঁসের খামার

এক মৌসুমে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে লাভ করেন ৪০ হাজার টাকা। সেই টাকায় হাঁসের খামার দেন। এখন তাঁর খামারে ১০০টির বেশি হাঁস।
“এই টাকা আমি কারো কাছ থেকে চেয়ে বা দয়ায় নেইনি । নিজের কামাই নিজের হাতে।”

নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

সাবিনার মেয়ে এখন কলেজে পড়ে।
“মা মাঠে যন্ত্র চালায় দেখে আমি আর লজ্জা পাই না। গর্ব হয়,”—বলে মেয়ে শিমু।

সাবিনারা এখন আর একা নন। পিরোজপুর, গাইবান্ধা, কুমিল্লা—সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে এই পরিবর্তন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নারীরা শুধু কৃষক নন, হচ্ছেন প্রশিক্ষক, উদ্যোক্তা, আর সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রদূত।