১২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারেও মার্কিন শেয়ারবাজারে আয় বৃদ্ধির চমক, দুই প্রতিষ্ঠানের বড় অবদান মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধে সুপ্রিম কোর্টের ছাড়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যবিমার খরচে বিপাকে লাখো মানুষ, এক বছরে বীমা ছাড়লেন ৪ লাখ ৪০ হাজার এপস্টেইনকে সহায়তার মামলায় গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নতুন তৎপরতা, ক্ষুদ্র দ্বীপে সম্ভাব্য রাডার স্থাপনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে ক্ষোভ, খরচের বোঝা কার—নতুন সমঝোতার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কর্মীদের মিথ্যা বলা কমেছে, বেড়েছে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস উষ্ণ পানিতে ছড়িয়ে থাকা ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবায় ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু সন্তান হত্যার মামলায় নতুন মোড়: ১৮ মিনিটের ‘ভ্রম’কে মানসিক বিকার বলতে নারাজ মনোবিজ্ঞানী তাইওয়ানের তাইওয়ানপ্লাস বন্ধের উদ্যোগ দ্বীপটির গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩০২)

শম্ভুচন্দ্রের মুখে – তদীয় পিতা ও কর্মচারিগণ কর্তৃক স্বীয় নিন্দাবাদশ্রবণে সিংহ ক্রুদ্ধ সিংহের ন্যায় কৃষ্ণচন্দ্রের সমস্ত প্রার্থনা নিষ্ফল করিয়া, শম্ভুচন্দ্রকে নদীয়ার জমিদারী দিবার জন্য গবর্ণর জেনারেলকে পরামর্শ প্রদান করেন। কথিত আছে, রাজার সর্ব্বনাশ উপস্থিত দেখিয়া তদীয় দেওয়ান কালী প্রসাদ, বণিবেশে হেষ্টিংসপত্নীকে একছড়া মুক্তা মালা প্রদান করিয়া সে যাত্রা রাজাকে অপমান হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। এইরূপে বাঙ্গলার সমস্ত রাজা ও জমিদার আপনাদিগের-পিতৃপুরুষদিগের মান ও সম্পত্তি রক্ষা করিবার জন্য দেওয়ানজীর মনস্তষ্টি সাধনে বিশেষরূপ চেষ্টা করিতে লাগিলেন।
গঙ্গাগোবিন্দ নিজ পুত্রকে নায়েব দেওয়ানের পদ প্রদান করিয়া,. কার্য্যের আরও সুবিধা করিয়া তুলিলেন। প্রথমতঃ পুত্রের দ্বারা সমস্ত কার্য্য চালাইতে থাকেন এবং নিজের আবশ্যকমত ক্ষমতা প্রকাশ করিয়া, আপনার ও স্বীয় প্রভু হেষ্টিংসের আশালতাকে পরি-বর্দ্ধিত করিবার জন্য জমিদার ও প্রজাদিগের রক্ত শোষণ করিয়া,. তাহাদের মূলে সেচন করিতে লাগিলেন। তাঁহারই ইঙ্গিতমাত্রে সমস্ত রাজস্ববিভাগ পরিচালিত হইত। কাহারও প্রতিবাদ করিবার ক্ষমতা ছিল না। দেশীয় কর্মচারিগণ দূরে থাকুকু, অনেক ইউরোপীয় কর্মচারীও প্রতিবাদে সাহসী হইতেন না।
তাঁহারা জানিতেন যে, হেষ্টিংস সাহেবের প্রিয়পাত্রের প্রতিবাদ করিতে গেলে, তাঁহাদিগকেই অবসর গ্রহণ করিতে হইবে। ইংরেজরাজত্বে কোন বাঙ্গালী এরূপ অসীম ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া, দেশের দণ্ডমণ্ডের কর্তা হইতে পারেন নাই। ধন্ত গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের সৌভাগ্য যে, আজ সমস্ত বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যা একমাত্র তাঁহারই পদানত!
সমস্ত জমিদারদিগের উপর প্রভুত্ব স্থাপন করিয়া, গঙ্গাগোবিন্দ নিজের ও হেষ্টিংস সাহেবের জন্য সকলের নিকট হইতে অর্থ-সংগ্রহের চেষ্টায় ফিরিতে লাগিলেন। সর্ব্বাপেক্ষা দিনাজপুরেই তাঁহাদের অত্যন্ত সুযোগ ঘটিয়া উঠে। বাঙ্গলা ১১৮৪ সালের বর্ষাকালে দিনাজপুরের তদানীন্তন রাজা বৈদ্যনাথ চিররোগী অবস্থায় প্রাণত্যাগ করিলে, তাঁহার দত্তকপুত্র রাধানাথ ও বৈমাত্রেয় ভ্রাতা কান্তনাথের মধ্যে উত্তরাধিকারিত্ব লইরা বিবাদ উপস্থিত হয়। বৈদ্যনাথ কান্তনাথের প্রতি তাদৃশ সন্তুষ্ট ছিলেন না; এইজন্য রাধানাথকে দত্তকপুত্র গ্রহণ করেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারেও মার্কিন শেয়ারবাজারে আয় বৃদ্ধির চমক, দুই প্রতিষ্ঠানের বড় অবদান

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩০২)

১১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
শম্ভুচন্দ্রের মুখে – তদীয় পিতা ও কর্মচারিগণ কর্তৃক স্বীয় নিন্দাবাদশ্রবণে সিংহ ক্রুদ্ধ সিংহের ন্যায় কৃষ্ণচন্দ্রের সমস্ত প্রার্থনা নিষ্ফল করিয়া, শম্ভুচন্দ্রকে নদীয়ার জমিদারী দিবার জন্য গবর্ণর জেনারেলকে পরামর্শ প্রদান করেন। কথিত আছে, রাজার সর্ব্বনাশ উপস্থিত দেখিয়া তদীয় দেওয়ান কালী প্রসাদ, বণিবেশে হেষ্টিংসপত্নীকে একছড়া মুক্তা মালা প্রদান করিয়া সে যাত্রা রাজাকে অপমান হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন। এইরূপে বাঙ্গলার সমস্ত রাজা ও জমিদার আপনাদিগের-পিতৃপুরুষদিগের মান ও সম্পত্তি রক্ষা করিবার জন্য দেওয়ানজীর মনস্তষ্টি সাধনে বিশেষরূপ চেষ্টা করিতে লাগিলেন।
গঙ্গাগোবিন্দ নিজ পুত্রকে নায়েব দেওয়ানের পদ প্রদান করিয়া,. কার্য্যের আরও সুবিধা করিয়া তুলিলেন। প্রথমতঃ পুত্রের দ্বারা সমস্ত কার্য্য চালাইতে থাকেন এবং নিজের আবশ্যকমত ক্ষমতা প্রকাশ করিয়া, আপনার ও স্বীয় প্রভু হেষ্টিংসের আশালতাকে পরি-বর্দ্ধিত করিবার জন্য জমিদার ও প্রজাদিগের রক্ত শোষণ করিয়া,. তাহাদের মূলে সেচন করিতে লাগিলেন। তাঁহারই ইঙ্গিতমাত্রে সমস্ত রাজস্ববিভাগ পরিচালিত হইত। কাহারও প্রতিবাদ করিবার ক্ষমতা ছিল না। দেশীয় কর্মচারিগণ দূরে থাকুকু, অনেক ইউরোপীয় কর্মচারীও প্রতিবাদে সাহসী হইতেন না।
তাঁহারা জানিতেন যে, হেষ্টিংস সাহেবের প্রিয়পাত্রের প্রতিবাদ করিতে গেলে, তাঁহাদিগকেই অবসর গ্রহণ করিতে হইবে। ইংরেজরাজত্বে কোন বাঙ্গালী এরূপ অসীম ক্ষমতা প্রাপ্ত হইয়া, দেশের দণ্ডমণ্ডের কর্তা হইতে পারেন নাই। ধন্ত গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের সৌভাগ্য যে, আজ সমস্ত বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যা একমাত্র তাঁহারই পদানত!
সমস্ত জমিদারদিগের উপর প্রভুত্ব স্থাপন করিয়া, গঙ্গাগোবিন্দ নিজের ও হেষ্টিংস সাহেবের জন্য সকলের নিকট হইতে অর্থ-সংগ্রহের চেষ্টায় ফিরিতে লাগিলেন। সর্ব্বাপেক্ষা দিনাজপুরেই তাঁহাদের অত্যন্ত সুযোগ ঘটিয়া উঠে। বাঙ্গলা ১১৮৪ সালের বর্ষাকালে দিনাজপুরের তদানীন্তন রাজা বৈদ্যনাথ চিররোগী অবস্থায় প্রাণত্যাগ করিলে, তাঁহার দত্তকপুত্র রাধানাথ ও বৈমাত্রেয় ভ্রাতা কান্তনাথের মধ্যে উত্তরাধিকারিত্ব লইরা বিবাদ উপস্থিত হয়। বৈদ্যনাথ কান্তনাথের প্রতি তাদৃশ সন্তুষ্ট ছিলেন না; এইজন্য রাধানাথকে দত্তকপুত্র গ্রহণ করেন।