০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
চীনের দাবি, মেটার বড় এআই অধিগ্রহণ বাতিল করতে হবে আইবিএসের কার্যকর চিকিৎসা: একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: শেষ দফাই ফল নির্ধারণে ফয়সালার লড়াই স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির আড়ালে ভারতের বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাতের ধাক্কা, বলছেন অর্থনীতিবিদরা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে অ্যালুমিনিয়াম ঘাটতি, চাপ বাড়ছে ভারতের গাড়ি শিল্পে হাওরের বুকজুড়ে ধানের স্বপ্ন ডুবে গেলো, সুনামগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের হাহাকার মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় লন্ডন থেকে ঢাকা—সবখানেই বাড়ছে খরচ, বললেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার ওপেক ছাড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জ্বালানি নীতিতে বড় মোড় সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪৬৪ হত্যা, ৬৬৬ ধর্ষণ মামলা—সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে সংক্রমণ নিয়ে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১৩)

রামচন্দ্রের পিতা কৃষ্ণরাম, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কোপে পতিত হইয়া কিছুদিন কারাবাস ভোগ করেন। শুনা যায় যে, রামচন্দ্র দিল্লীর বাদসাহ ও মুর্শিদাবাদের নবাবের সাহায্যে পিতার অবমাননার প্রতিশোধ লইবার জন্য, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে যৎপরোনাস্তি লাঞ্ছিত করিয়াছিলেন। রামচন্দ্র কৃষ্ণনগর হইতে গুপ্তিপাড়ার নিকট সোমড়ায় বাস করেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান্ ছিলেন বলিয়া নবাব ও কোম্পানীর সরকারে অনেক কার্য্য করিয়াছিলেন। ১৭৭৯ খৃঃ অব্দে গঙ্গাগোবিন্দের পদচ্যুতি ঘটিলে, রামচন্দ্র ফিলিপ ফ্রান্সিসের যত্নে তাঁহার পদে নিযুক্ত হন। এইজন্য গঙ্গাগোবিন্দ সর্ব্বদা তাঁহাকে হিংসার চক্ষে দেখিতেন। তাহার পর গঙ্গাগোবিন্দ পুনব্বার স্বীয় পদে নিযুক্ত হইয়া সর্ব্বদা রামচন্দ্রের অনিষ্ট চেষ্টা করিয়া বেড়াইতেন।

উভয়ের মধ্যে অত্যন্ত মনোবিবাদ ছিল। রামচন্দ্রের বিবরণে জানা যায় যে, তাঁহার ন্যায় পরদুঃখকাতর, পরোপকারী, উদারচেতা লোক অতি অল্পই দৃষ্ট হইয়া থাকে। কোম্পানীর কর্মচারিগণ কর্তৃক উৎপীড়িত জনিদার ও প্রজাগণের জন্য প্রাণপণে যত্ন করিয়া তিনি গবর্ণর জেনারেল হইতে সামান্য কর্মচারী পর্যন্ত সকলেরই বিরাগভাজন হইয়া উঠেন; এবং গঙ্গা-গোবিন্দের সহিত অত্যন্ত বিবাদ থাকায়, গোলাম আশরফের সহিত লিপ্ত বলিয়া অভিযুক্ত হইয়া পড়েন। ৪০ দিবস ব্যাপিয়া এই মানহানির বিচার হয়। জুরীগণের বিচারে গোপীনাথ মুক্তি পায়।

রামচন্দ্র গোলাম আশরফের সহিত মিলিত হইয়া প্রাণকৃষ্ণ ও দেওয়ানের বিরুদ্ধে এক মিথ্যা আর্জি লিখিয়া দাখিল করিয়াছেন বলিয়া দোষী স্থির হন। পরে অনেক অর্থব্যয় করিয়া মুক্তিলাভ করেন। এই মোকদ্দমায় রামচন্দ্র দোষী স্থির হইলে, তাঁহার নিকট হইতে ১ লক্ষ টাকার জামিন চাওয়া হয়। কিন্তু কলিকাতাহুর্গের অধ্যক্ষ সাহেবের সহিত তাঁহার পরিচয় থাকায়, তিনি রামচন্দ্রকে জামিনে খালাস করেন। রামচন্দ্রের সাধু-চরিত্রের কথার বিশ্বাসস্থাপন করিতে হইলে, গোলাম আশরফের আবেদনপত্রে অবিশ্বাস করা যায় না।

বাস্তবিক রামচন্দ্র তৎকালে বিপন্ন লোকদিগের উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত চেষ্টা করিতেন। সুতরাং ‘দেওয়ানজী ও তৎপুত্রের সহিত গোলাম আশরফের যে কোনই সম্পর্ক ছিল না, তাহা একেবারে বলা যায় না। তবে ভাগ্য যাহাদের সহায় হয়, সত্য ঘটনা হইলেও তাহারা কোন স্থলে লাঞ্ছিত হয় না। এইরূপ প্রায় সর্ব্বস্থলেই হেষ্টিংস গঙ্গাগোবিন্দকে সমস্ত বিপদ হইতে উদ্ধার করিয়াছেন। আমরা বারংবার বলিয়াছি যে, যদিও দুই এক স্থলে হেষ্টিংস তাঁহার উপর কৃত্রিম ক্রোব প্রকাশ করিয়াছেন,. এবং তাঁহার বিশ্বস্ততার উপর সন্দিহান হইয়াছিলেন, তথাপি তাঁহার উপর আন্তরিক অসন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি ভারতবর্ষ পরিত্যাগের পূর্ব্বে কাউন্সিলের নিকট গঙ্গাগোবিন্দের কার্য্যের পুরস্কারের জন্য অনুরোধ, ‘ করিয়া যান।

 

 

চীনের দাবি, মেটার বড় এআই অধিগ্রহণ বাতিল করতে হবে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১৩)

১১:০০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

রামচন্দ্রের পিতা কৃষ্ণরাম, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কোপে পতিত হইয়া কিছুদিন কারাবাস ভোগ করেন। শুনা যায় যে, রামচন্দ্র দিল্লীর বাদসাহ ও মুর্শিদাবাদের নবাবের সাহায্যে পিতার অবমাননার প্রতিশোধ লইবার জন্য, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে যৎপরোনাস্তি লাঞ্ছিত করিয়াছিলেন। রামচন্দ্র কৃষ্ণনগর হইতে গুপ্তিপাড়ার নিকট সোমড়ায় বাস করেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান্ ছিলেন বলিয়া নবাব ও কোম্পানীর সরকারে অনেক কার্য্য করিয়াছিলেন। ১৭৭৯ খৃঃ অব্দে গঙ্গাগোবিন্দের পদচ্যুতি ঘটিলে, রামচন্দ্র ফিলিপ ফ্রান্সিসের যত্নে তাঁহার পদে নিযুক্ত হন। এইজন্য গঙ্গাগোবিন্দ সর্ব্বদা তাঁহাকে হিংসার চক্ষে দেখিতেন। তাহার পর গঙ্গাগোবিন্দ পুনব্বার স্বীয় পদে নিযুক্ত হইয়া সর্ব্বদা রামচন্দ্রের অনিষ্ট চেষ্টা করিয়া বেড়াইতেন।

উভয়ের মধ্যে অত্যন্ত মনোবিবাদ ছিল। রামচন্দ্রের বিবরণে জানা যায় যে, তাঁহার ন্যায় পরদুঃখকাতর, পরোপকারী, উদারচেতা লোক অতি অল্পই দৃষ্ট হইয়া থাকে। কোম্পানীর কর্মচারিগণ কর্তৃক উৎপীড়িত জনিদার ও প্রজাগণের জন্য প্রাণপণে যত্ন করিয়া তিনি গবর্ণর জেনারেল হইতে সামান্য কর্মচারী পর্যন্ত সকলেরই বিরাগভাজন হইয়া উঠেন; এবং গঙ্গা-গোবিন্দের সহিত অত্যন্ত বিবাদ থাকায়, গোলাম আশরফের সহিত লিপ্ত বলিয়া অভিযুক্ত হইয়া পড়েন। ৪০ দিবস ব্যাপিয়া এই মানহানির বিচার হয়। জুরীগণের বিচারে গোপীনাথ মুক্তি পায়।

রামচন্দ্র গোলাম আশরফের সহিত মিলিত হইয়া প্রাণকৃষ্ণ ও দেওয়ানের বিরুদ্ধে এক মিথ্যা আর্জি লিখিয়া দাখিল করিয়াছেন বলিয়া দোষী স্থির হন। পরে অনেক অর্থব্যয় করিয়া মুক্তিলাভ করেন। এই মোকদ্দমায় রামচন্দ্র দোষী স্থির হইলে, তাঁহার নিকট হইতে ১ লক্ষ টাকার জামিন চাওয়া হয়। কিন্তু কলিকাতাহুর্গের অধ্যক্ষ সাহেবের সহিত তাঁহার পরিচয় থাকায়, তিনি রামচন্দ্রকে জামিনে খালাস করেন। রামচন্দ্রের সাধু-চরিত্রের কথার বিশ্বাসস্থাপন করিতে হইলে, গোলাম আশরফের আবেদনপত্রে অবিশ্বাস করা যায় না।

বাস্তবিক রামচন্দ্র তৎকালে বিপন্ন লোকদিগের উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত চেষ্টা করিতেন। সুতরাং ‘দেওয়ানজী ও তৎপুত্রের সহিত গোলাম আশরফের যে কোনই সম্পর্ক ছিল না, তাহা একেবারে বলা যায় না। তবে ভাগ্য যাহাদের সহায় হয়, সত্য ঘটনা হইলেও তাহারা কোন স্থলে লাঞ্ছিত হয় না। এইরূপ প্রায় সর্ব্বস্থলেই হেষ্টিংস গঙ্গাগোবিন্দকে সমস্ত বিপদ হইতে উদ্ধার করিয়াছেন। আমরা বারংবার বলিয়াছি যে, যদিও দুই এক স্থলে হেষ্টিংস তাঁহার উপর কৃত্রিম ক্রোব প্রকাশ করিয়াছেন,. এবং তাঁহার বিশ্বস্ততার উপর সন্দিহান হইয়াছিলেন, তথাপি তাঁহার উপর আন্তরিক অসন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি ভারতবর্ষ পরিত্যাগের পূর্ব্বে কাউন্সিলের নিকট গঙ্গাগোবিন্দের কার্য্যের পুরস্কারের জন্য অনুরোধ, ‘ করিয়া যান।