০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য মূল্য: পূর্ব এশিয়ার মানুষ কি প্রযুক্তি বিপ্লবের স্বাস্থ্যখরচ বহন করছে? নিয়ন্ত্রণের সীমা: ইরান যুদ্ধ কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সতর্কবার্তা নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে ‘চাঁদা’ বিতর্ক: মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি, ছুঁইছুঁই সর্বকালের রেকর্ড কুমিল্লায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত সুপারভাইজার, চালকরা পালিয়েছেন নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি, ফলিমারী গ্রামের আতঙ্ক দূরের আহ্বান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে চুরির সন্দেহে পিটিয়ে যুবক হত্যা, আটক ৩ হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট মৃত্যু ৬৭০ ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকট, পর্যটন মৌসুমে বড় ধাক্কা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১৩)

রামচন্দ্রের পিতা কৃষ্ণরাম, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কোপে পতিত হইয়া কিছুদিন কারাবাস ভোগ করেন। শুনা যায় যে, রামচন্দ্র দিল্লীর বাদসাহ ও মুর্শিদাবাদের নবাবের সাহায্যে পিতার অবমাননার প্রতিশোধ লইবার জন্য, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে যৎপরোনাস্তি লাঞ্ছিত করিয়াছিলেন। রামচন্দ্র কৃষ্ণনগর হইতে গুপ্তিপাড়ার নিকট সোমড়ায় বাস করেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান্ ছিলেন বলিয়া নবাব ও কোম্পানীর সরকারে অনেক কার্য্য করিয়াছিলেন। ১৭৭৯ খৃঃ অব্দে গঙ্গাগোবিন্দের পদচ্যুতি ঘটিলে, রামচন্দ্র ফিলিপ ফ্রান্সিসের যত্নে তাঁহার পদে নিযুক্ত হন। এইজন্য গঙ্গাগোবিন্দ সর্ব্বদা তাঁহাকে হিংসার চক্ষে দেখিতেন। তাহার পর গঙ্গাগোবিন্দ পুনব্বার স্বীয় পদে নিযুক্ত হইয়া সর্ব্বদা রামচন্দ্রের অনিষ্ট চেষ্টা করিয়া বেড়াইতেন।

উভয়ের মধ্যে অত্যন্ত মনোবিবাদ ছিল। রামচন্দ্রের বিবরণে জানা যায় যে, তাঁহার ন্যায় পরদুঃখকাতর, পরোপকারী, উদারচেতা লোক অতি অল্পই দৃষ্ট হইয়া থাকে। কোম্পানীর কর্মচারিগণ কর্তৃক উৎপীড়িত জনিদার ও প্রজাগণের জন্য প্রাণপণে যত্ন করিয়া তিনি গবর্ণর জেনারেল হইতে সামান্য কর্মচারী পর্যন্ত সকলেরই বিরাগভাজন হইয়া উঠেন; এবং গঙ্গা-গোবিন্দের সহিত অত্যন্ত বিবাদ থাকায়, গোলাম আশরফের সহিত লিপ্ত বলিয়া অভিযুক্ত হইয়া পড়েন। ৪০ দিবস ব্যাপিয়া এই মানহানির বিচার হয়। জুরীগণের বিচারে গোপীনাথ মুক্তি পায়।

রামচন্দ্র গোলাম আশরফের সহিত মিলিত হইয়া প্রাণকৃষ্ণ ও দেওয়ানের বিরুদ্ধে এক মিথ্যা আর্জি লিখিয়া দাখিল করিয়াছেন বলিয়া দোষী স্থির হন। পরে অনেক অর্থব্যয় করিয়া মুক্তিলাভ করেন। এই মোকদ্দমায় রামচন্দ্র দোষী স্থির হইলে, তাঁহার নিকট হইতে ১ লক্ষ টাকার জামিন চাওয়া হয়। কিন্তু কলিকাতাহুর্গের অধ্যক্ষ সাহেবের সহিত তাঁহার পরিচয় থাকায়, তিনি রামচন্দ্রকে জামিনে খালাস করেন। রামচন্দ্রের সাধু-চরিত্রের কথার বিশ্বাসস্থাপন করিতে হইলে, গোলাম আশরফের আবেদনপত্রে অবিশ্বাস করা যায় না।

বাস্তবিক রামচন্দ্র তৎকালে বিপন্ন লোকদিগের উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত চেষ্টা করিতেন। সুতরাং ‘দেওয়ানজী ও তৎপুত্রের সহিত গোলাম আশরফের যে কোনই সম্পর্ক ছিল না, তাহা একেবারে বলা যায় না। তবে ভাগ্য যাহাদের সহায় হয়, সত্য ঘটনা হইলেও তাহারা কোন স্থলে লাঞ্ছিত হয় না। এইরূপ প্রায় সর্ব্বস্থলেই হেষ্টিংস গঙ্গাগোবিন্দকে সমস্ত বিপদ হইতে উদ্ধার করিয়াছেন। আমরা বারংবার বলিয়াছি যে, যদিও দুই এক স্থলে হেষ্টিংস তাঁহার উপর কৃত্রিম ক্রোব প্রকাশ করিয়াছেন,. এবং তাঁহার বিশ্বস্ততার উপর সন্দিহান হইয়াছিলেন, তথাপি তাঁহার উপর আন্তরিক অসন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি ভারতবর্ষ পরিত্যাগের পূর্ব্বে কাউন্সিলের নিকট গঙ্গাগোবিন্দের কার্য্যের পুরস্কারের জন্য অনুরোধ, ‘ করিয়া যান।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য মূল্য: পূর্ব এশিয়ার মানুষ কি প্রযুক্তি বিপ্লবের স্বাস্থ্যখরচ বহন করছে?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১৩)

১১:০০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

রামচন্দ্রের পিতা কৃষ্ণরাম, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কোপে পতিত হইয়া কিছুদিন কারাবাস ভোগ করেন। শুনা যায় যে, রামচন্দ্র দিল্লীর বাদসাহ ও মুর্শিদাবাদের নবাবের সাহায্যে পিতার অবমাননার প্রতিশোধ লইবার জন্য, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে যৎপরোনাস্তি লাঞ্ছিত করিয়াছিলেন। রামচন্দ্র কৃষ্ণনগর হইতে গুপ্তিপাড়ার নিকট সোমড়ায় বাস করেন। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান্ ছিলেন বলিয়া নবাব ও কোম্পানীর সরকারে অনেক কার্য্য করিয়াছিলেন। ১৭৭৯ খৃঃ অব্দে গঙ্গাগোবিন্দের পদচ্যুতি ঘটিলে, রামচন্দ্র ফিলিপ ফ্রান্সিসের যত্নে তাঁহার পদে নিযুক্ত হন। এইজন্য গঙ্গাগোবিন্দ সর্ব্বদা তাঁহাকে হিংসার চক্ষে দেখিতেন। তাহার পর গঙ্গাগোবিন্দ পুনব্বার স্বীয় পদে নিযুক্ত হইয়া সর্ব্বদা রামচন্দ্রের অনিষ্ট চেষ্টা করিয়া বেড়াইতেন।

উভয়ের মধ্যে অত্যন্ত মনোবিবাদ ছিল। রামচন্দ্রের বিবরণে জানা যায় যে, তাঁহার ন্যায় পরদুঃখকাতর, পরোপকারী, উদারচেতা লোক অতি অল্পই দৃষ্ট হইয়া থাকে। কোম্পানীর কর্মচারিগণ কর্তৃক উৎপীড়িত জনিদার ও প্রজাগণের জন্য প্রাণপণে যত্ন করিয়া তিনি গবর্ণর জেনারেল হইতে সামান্য কর্মচারী পর্যন্ত সকলেরই বিরাগভাজন হইয়া উঠেন; এবং গঙ্গা-গোবিন্দের সহিত অত্যন্ত বিবাদ থাকায়, গোলাম আশরফের সহিত লিপ্ত বলিয়া অভিযুক্ত হইয়া পড়েন। ৪০ দিবস ব্যাপিয়া এই মানহানির বিচার হয়। জুরীগণের বিচারে গোপীনাথ মুক্তি পায়।

রামচন্দ্র গোলাম আশরফের সহিত মিলিত হইয়া প্রাণকৃষ্ণ ও দেওয়ানের বিরুদ্ধে এক মিথ্যা আর্জি লিখিয়া দাখিল করিয়াছেন বলিয়া দোষী স্থির হন। পরে অনেক অর্থব্যয় করিয়া মুক্তিলাভ করেন। এই মোকদ্দমায় রামচন্দ্র দোষী স্থির হইলে, তাঁহার নিকট হইতে ১ লক্ষ টাকার জামিন চাওয়া হয়। কিন্তু কলিকাতাহুর্গের অধ্যক্ষ সাহেবের সহিত তাঁহার পরিচয় থাকায়, তিনি রামচন্দ্রকে জামিনে খালাস করেন। রামচন্দ্রের সাধু-চরিত্রের কথার বিশ্বাসস্থাপন করিতে হইলে, গোলাম আশরফের আবেদনপত্রে অবিশ্বাস করা যায় না।

বাস্তবিক রামচন্দ্র তৎকালে বিপন্ন লোকদিগের উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত চেষ্টা করিতেন। সুতরাং ‘দেওয়ানজী ও তৎপুত্রের সহিত গোলাম আশরফের যে কোনই সম্পর্ক ছিল না, তাহা একেবারে বলা যায় না। তবে ভাগ্য যাহাদের সহায় হয়, সত্য ঘটনা হইলেও তাহারা কোন স্থলে লাঞ্ছিত হয় না। এইরূপ প্রায় সর্ব্বস্থলেই হেষ্টিংস গঙ্গাগোবিন্দকে সমস্ত বিপদ হইতে উদ্ধার করিয়াছেন। আমরা বারংবার বলিয়াছি যে, যদিও দুই এক স্থলে হেষ্টিংস তাঁহার উপর কৃত্রিম ক্রোব প্রকাশ করিয়াছেন,. এবং তাঁহার বিশ্বস্ততার উপর সন্দিহান হইয়াছিলেন, তথাপি তাঁহার উপর আন্তরিক অসন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি ভারতবর্ষ পরিত্যাগের পূর্ব্বে কাউন্সিলের নিকট গঙ্গাগোবিন্দের কার্য্যের পুরস্কারের জন্য অনুরোধ, ‘ করিয়া যান।