০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩২)

দলবেঁধে ঢাকায় এসে এ এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকত ওরা। এদের প্রধান পেশা ছিল বিভিন্ন রকম শুকনো ফল বা হিং বিক্রি করা এবং কড়া সুদে টাকা ধার দেয়া।

কাবুলিয়ালা

বিশ শতকের খুব সম্ভব দ্বিতীয়-তৃতীয় শতক থেকে ঢাকায় কাবুলিওয়ালারা বিশেষ দ্রষ্টব্য। গত শতকের ষাটের দশকেও আমি পুরনো ঢাকায় কাবুলিওয়ালাদের দেখেছি। এরা আফগানিস্তান থেকে শাল, ফল এসব এনে বিক্রি করত। তবে আসল ব্যবসা ছিল সুদে টাকা দেওয়া। ঋণী আসল শোধ করুক, তা তারা চাইত না। সুদটা নিয়মিত শোধ করলেই খুশি। আনোয়ার হোসেন গত শতকের।

চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকে কাবুলিওয়ালাদের নিয়ে লিখেছেন-ঢাকার “পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে বংশালে অনেক কাবুলিওয়ালা দেখতাম। দলবেঁধে ঢাকায় এসে এ এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকত ওরা। এদের প্রধান পেশা ছিল বিভিন্ন রকম শুকনো ফল বা হিং বিক্রি করা এবং কড়া সুদে টাকা ধার দেয়া। কেউ আবার শুধু জিনিস, বিশেষ করে পরিধেয় বস্ত্র দিয়ে যেত। যারা কাপড় দিত তারা ঝোলাতে করে শাড়ি, লুঙ্গিসহ অনেক রকম কাপড় নিয়ে আসত। প্রতি সপ্তাহে বা প্রতি মাসে ৪ আনা বা ৮ আনা করে আদায় করত ওরা। আর হিসাবেও ছিল খুব পাকা। লেখালেখি করতই না বলতে গেলে, তারপরও কার কাছে কত টাকা পাবে সে-হিসাব মনে রাখতে পারত নিখুঁতভাবে।

কাবুলিওয়ালারা ছিল সহজ সরল। বাচ্চাদের দেয়ার জন্য সঙ্গে খোরমা-খেজুর রাখত ওরা। আরেকটা বৈশিষ্ট্য দেখেছি ওদের এককথার মানুষ ছিল ওরা। যদি কাউকে একবার বিশ্বাস করত, তাহলে সেই বিশ্বাস সহজে নষ্ট হতো না। আর কাউকে একবার অবিশ্বাস করলে তাকে দ্বিতীয়বার বিশ্বাস করতে সময় নিত। ”

তিনি আরো লিখেছেন, “সুদখোর বললে তারা মনে কষ্ট পেত। কাউকে কাউকে দেখতাম শুধু ওই একটা শব্দ শুনেই এত মুষড়ে পড়ত যে, রাস্তার একধারে বসে এমনকি কাঁদতও। বলত, ‘আমি সুদ খাই না। তোমাদের কাছে এই জিনিসটা একবারে কেনার মতো টাকা নেই। আমি তোমাদের বাকি দিচ্ছি। বিনিময়ে সপ্তাহে সপ্তাহে চার আনা আট আনা করে নিচ্ছি। এখানে সুদ কীভাবে হলো বোঝাও তো দেখি?”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩১)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩১)

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩২)

০৭:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

দলবেঁধে ঢাকায় এসে এ এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকত ওরা। এদের প্রধান পেশা ছিল বিভিন্ন রকম শুকনো ফল বা হিং বিক্রি করা এবং কড়া সুদে টাকা ধার দেয়া।

কাবুলিয়ালা

বিশ শতকের খুব সম্ভব দ্বিতীয়-তৃতীয় শতক থেকে ঢাকায় কাবুলিওয়ালারা বিশেষ দ্রষ্টব্য। গত শতকের ষাটের দশকেও আমি পুরনো ঢাকায় কাবুলিওয়ালাদের দেখেছি। এরা আফগানিস্তান থেকে শাল, ফল এসব এনে বিক্রি করত। তবে আসল ব্যবসা ছিল সুদে টাকা দেওয়া। ঋণী আসল শোধ করুক, তা তারা চাইত না। সুদটা নিয়মিত শোধ করলেই খুশি। আনোয়ার হোসেন গত শতকের।

চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকে কাবুলিওয়ালাদের নিয়ে লিখেছেন-ঢাকার “পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে বংশালে অনেক কাবুলিওয়ালা দেখতাম। দলবেঁধে ঢাকায় এসে এ এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকত ওরা। এদের প্রধান পেশা ছিল বিভিন্ন রকম শুকনো ফল বা হিং বিক্রি করা এবং কড়া সুদে টাকা ধার দেয়া। কেউ আবার শুধু জিনিস, বিশেষ করে পরিধেয় বস্ত্র দিয়ে যেত। যারা কাপড় দিত তারা ঝোলাতে করে শাড়ি, লুঙ্গিসহ অনেক রকম কাপড় নিয়ে আসত। প্রতি সপ্তাহে বা প্রতি মাসে ৪ আনা বা ৮ আনা করে আদায় করত ওরা। আর হিসাবেও ছিল খুব পাকা। লেখালেখি করতই না বলতে গেলে, তারপরও কার কাছে কত টাকা পাবে সে-হিসাব মনে রাখতে পারত নিখুঁতভাবে।

কাবুলিওয়ালারা ছিল সহজ সরল। বাচ্চাদের দেয়ার জন্য সঙ্গে খোরমা-খেজুর রাখত ওরা। আরেকটা বৈশিষ্ট্য দেখেছি ওদের এককথার মানুষ ছিল ওরা। যদি কাউকে একবার বিশ্বাস করত, তাহলে সেই বিশ্বাস সহজে নষ্ট হতো না। আর কাউকে একবার অবিশ্বাস করলে তাকে দ্বিতীয়বার বিশ্বাস করতে সময় নিত। ”

তিনি আরো লিখেছেন, “সুদখোর বললে তারা মনে কষ্ট পেত। কাউকে কাউকে দেখতাম শুধু ওই একটা শব্দ শুনেই এত মুষড়ে পড়ত যে, রাস্তার একধারে বসে এমনকি কাঁদতও। বলত, ‘আমি সুদ খাই না। তোমাদের কাছে এই জিনিসটা একবারে কেনার মতো টাকা নেই। আমি তোমাদের বাকি দিচ্ছি। বিনিময়ে সপ্তাহে সপ্তাহে চার আনা আট আনা করে নিচ্ছি। এখানে সুদ কীভাবে হলো বোঝাও তো দেখি?”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩১)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩১)