০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৪)

সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না।

ক্যাপিটাল প্রেস

একুশের [১৯৫২] প্রথম লিফলেটটি ছাপা হয়েছিল জেলখানার কাছে ক্যাপিটাল প্রেস থেকে। লিখেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। লিখেছেন তিনি- “গুলি চলার ঠিক পরের ঘটনা। আমি আমীর আলী আর একজন আমার সঙ্গে ছিল, আমরা তিনজন মধুর ক্যান্টিনে ফিরে আসি এবং জেলখানার উল্টোদিকে ক্যাপিটাল প্রেসে চলে যাই। সেখানে বসে একটা লিফলেট লিখি।

খুলনার ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে সংরক্ষিত ক্যাপিটাল প্রেস

এ সময় আমি স্বেচ্ছায় লিফলেট লেখার চেষ্টা করে প্রেসে যাই। সেখানে ঘণ্টা দু’তিনেক এর মধ্যে প্রুফ দেখে লিফলেটটি ছাপিয়ে আনি। এর হেডলাইন ছিল ‘মন্ত্রী সফিজউদ্দিন এর আদেশে গুলি’, লিফলেট ১/১৬ সাইজ ছিল। প্রেসটি আমাদের সর্বাত্মক সাহায্য করেছিল। চারটা সাড়ে চারটার দিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসি। লিফলেট প্রায় দু’তিন হাজার ছিল। চকবাজার, নাজিরা বাজার ও বিভিন্ন দিকে লিফলেটগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয়।”

ক্যাপিটাল প্রেসটির ঠিকানা ৫০-৫১ নং বেগম বাজার। মালিক ছিলেন ও মোঃ খলিল খান ও মোঃ শফি খান। তাঁরা দুজনই ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সমর্থক। সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না। প্রেসটি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে খুলনায় প্রতিষ্ঠিত ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে’।

খাজা আফযাল (জ. ১৮৭৫]

উনিশ শতকে ঢাকার উর্দু ফার্সি কবিদের একটি বড় অংশ ঢাকার নবাব খাজা পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। যদিও উর্দু-ফার্সির আবেদন ছিল স্বল্প, তা সত্ত্বেও বলা যায় এটি ছিল ঢাকার বৈচিত্র্যের একটি অংশ।

খাজা আফযাল উর্দু ও ফার্সি ভাষায় কাব্যচর্চা করতেন। তাঁর পিতা খাজা পরিবারের বিশিষ্ট নবাব খাজা ইউসুফ জান। ১৮৯৪ সালে ঢাকার মাদ্রাসার অ্যাংলো-পার্শিয়ান বিভাগ থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। উল্লেখ্য, তিনিই খাজা পরিবারের প্রথম ম্যাট্রিকুলেট। বেশ কিছুদিন ছিলেন ঢাকার অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট। ১৯২১-২৮, ১৯৩২-৩৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন বঙ্গীয় প্রাদেশিক ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ছিলেন সচেষ্ট।

কানিজ বাতুল লিখছেন, তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ তারিখ রচয়িতা (ক্রনোগ্রাম রাইটার)।

তাঁর রচিত একটি গানের বাংলা অনুবাদ করেছেন কানিজ বাতুল-

“তার কাছে পৃথিবীতে
কেউ কিছু আশা করতে পারে না,
সে প্রেম করেনি
তাই পৃথিবীতে সে কারো প্রতি অকৃতজ্ঞ নয়।
সে আমার রক্তপাত করে
প্রাণভয়ে হাসছে আর বলছে যে
এটা হলো হত্যা প্রতিশোধ।।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)

ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৪)

০৭:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না।

ক্যাপিটাল প্রেস

একুশের [১৯৫২] প্রথম লিফলেটটি ছাপা হয়েছিল জেলখানার কাছে ক্যাপিটাল প্রেস থেকে। লিখেছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। লিখেছেন তিনি- “গুলি চলার ঠিক পরের ঘটনা। আমি আমীর আলী আর একজন আমার সঙ্গে ছিল, আমরা তিনজন মধুর ক্যান্টিনে ফিরে আসি এবং জেলখানার উল্টোদিকে ক্যাপিটাল প্রেসে চলে যাই। সেখানে বসে একটা লিফলেট লিখি।

খুলনার ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে সংরক্ষিত ক্যাপিটাল প্রেস

এ সময় আমি স্বেচ্ছায় লিফলেট লেখার চেষ্টা করে প্রেসে যাই। সেখানে ঘণ্টা দু’তিনেক এর মধ্যে প্রুফ দেখে লিফলেটটি ছাপিয়ে আনি। এর হেডলাইন ছিল ‘মন্ত্রী সফিজউদ্দিন এর আদেশে গুলি’, লিফলেট ১/১৬ সাইজ ছিল। প্রেসটি আমাদের সর্বাত্মক সাহায্য করেছিল। চারটা সাড়ে চারটার দিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসি। লিফলেট প্রায় দু’তিন হাজার ছিল। চকবাজার, নাজিরা বাজার ও বিভিন্ন দিকে লিফলেটগুলো ছড়িয়ে দেয়া হয়।”

ক্যাপিটাল প্রেসটির ঠিকানা ৫০-৫১ নং বেগম বাজার। মালিক ছিলেন ও মোঃ খলিল খান ও মোঃ শফি খান। তাঁরা দুজনই ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সমর্থক। সেই সময় আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক না হলে গোপনে কেউ এ ধরনের লিফলেট বিলি করতে সাহস করতেন না। প্রেসটি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে খুলনায় প্রতিষ্ঠিত ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে’।

খাজা আফযাল (জ. ১৮৭৫]

উনিশ শতকে ঢাকার উর্দু ফার্সি কবিদের একটি বড় অংশ ঢাকার নবাব খাজা পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। যদিও উর্দু-ফার্সির আবেদন ছিল স্বল্প, তা সত্ত্বেও বলা যায় এটি ছিল ঢাকার বৈচিত্র্যের একটি অংশ।

খাজা আফযাল উর্দু ও ফার্সি ভাষায় কাব্যচর্চা করতেন। তাঁর পিতা খাজা পরিবারের বিশিষ্ট নবাব খাজা ইউসুফ জান। ১৮৯৪ সালে ঢাকার মাদ্রাসার অ্যাংলো-পার্শিয়ান বিভাগ থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। উল্লেখ্য, তিনিই খাজা পরিবারের প্রথম ম্যাট্রিকুলেট। বেশ কিছুদিন ছিলেন ঢাকার অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট। ১৯২১-২৮, ১৯৩২-৩৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন বঙ্গীয় প্রাদেশিক ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ছিলেন সচেষ্ট।

কানিজ বাতুল লিখছেন, তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ তারিখ রচয়িতা (ক্রনোগ্রাম রাইটার)।

তাঁর রচিত একটি গানের বাংলা অনুবাদ করেছেন কানিজ বাতুল-

“তার কাছে পৃথিবীতে
কেউ কিছু আশা করতে পারে না,
সে প্রেম করেনি
তাই পৃথিবীতে সে কারো প্রতি অকৃতজ্ঞ নয়।
সে আমার রক্তপাত করে
প্রাণভয়ে হাসছে আর বলছে যে
এটা হলো হত্যা প্রতিশোধ।।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৩)