০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৮)

 ঢাকায় তখন যারা নামকরা ছিলেন তারা সবাই আসতেন। এরা সবাই এসেছিলেন উত্তর ভারত থেকে।

গড়পড়া পিঠা

শিশু যখন হাঁটতে শিখত, যাতে সে সুস্থভাবে হাঁটাচলা করতে পারে, সেজন্য একটি অনুষ্ঠান ছিল গড়পড়া। সাদ উর রহমান লিখেছেন-অনুষ্ঠানের সময় শিশুর মাথায় নতুন কুলা রেখে তার উপর তৈরি পিঠে ঢালা হয়। এই পিঠা গড়িয়ে মাটিতে পড়ে বলে এর নাম গড়পড়া পিঠা। আকৃতিতে ছোট ছোট মার্বেলের মতো পুলি পিঠার অনুরূপ। চালের গুঁড়ার সাথে ঘি, চিনি, কলা, নারিকেল, মিষ্টির টুকরোসহ নানা উপাদান মিশিয়ে ভাপে সিদ্ধ করে গড়পড়া পিঠা তৈরি করা হতো।

গনি মিয়ার চা-খানা

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যখন ঢাকার নবাব আবদুল গণি (১৮৩০-১৮৯১] পাকাপোক্ত হয়ে বসেছেন, তখন আড্ডার জন্য সকালে আসর বসাতেন। খুব সম্ভব ১৮৭২ সালে তাঁর বাসভবন আহসান মঞ্জিল পুনর্নির্মিত হলে, বহির্ভবনে সকালে ঢাকার রইসরা জমায়েত হতেন, নবাব গণিও থাকতেন। আলাপের সঙ্গে চা পান করা হতো।

নবাব আবদুল গণি

এটি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘গণি মিয়ার চাখানা’ নামে। উল্লেখ্য চা ছিল তখন মহার্ঘ। গণি মিয়া তার জমিদারী বেগুন বাড়িতে ৩০ একর জমিতে চা চাষ করেছিলেন। চা হয়তো সেখান থেকেই আসত। তবে, এর অন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যা উল্লেখ করেছেন হাকিম হাবিবুর রহমান।

চা-খানায় তাওয়ায়েফগণ আসতেন। তাদের পুরুষসঙ্গীরা অন্য কামরায় থাকতেন। ঢাকায় তখন যারা নামকরা ছিলেন তারা সবাই আসতেন। এরা সবাই এসেছিলেন উত্তর ভারত থেকে। যেমন, আনু, গান্নু, নোওয়াবীন। এরা ছিলেন তিন বোন।

নবাবের এস্টেট থেকে তারা ভাতা পেতেন, এদের নিজস্ব বাগানঅলা বাড়ি ছিল, এদরে মধ্যে কনিষ্ঠ নেওয়াবীন বেশ নাম করেছিলেন, আরো ছিলেন, এলাহীজান, আবেদী, পেয়ারী। “আছি বেগম সাহেবা মূলতঃ লাখনৌবাসী ছিলেন আর নৃত্য প্রদর্শনে নৈপুণ্যতা দেখাতেন। ঢাকায় এত বড় নর্তকী তাওয়ায়েফ পরবর্তীতে আর আসেনি।” এ ছাড়া ছিল ওয়াসু, বাঙালী, হীরা, ইমামী, অতুল বাঈ, কালীবাঈ ও রাজলক্ষ্মী।” ১১টা পর্যন্ত চলত আড্ডা ও আসর।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৭)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৭)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৮)

০৭:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

 ঢাকায় তখন যারা নামকরা ছিলেন তারা সবাই আসতেন। এরা সবাই এসেছিলেন উত্তর ভারত থেকে।

গড়পড়া পিঠা

শিশু যখন হাঁটতে শিখত, যাতে সে সুস্থভাবে হাঁটাচলা করতে পারে, সেজন্য একটি অনুষ্ঠান ছিল গড়পড়া। সাদ উর রহমান লিখেছেন-অনুষ্ঠানের সময় শিশুর মাথায় নতুন কুলা রেখে তার উপর তৈরি পিঠে ঢালা হয়। এই পিঠা গড়িয়ে মাটিতে পড়ে বলে এর নাম গড়পড়া পিঠা। আকৃতিতে ছোট ছোট মার্বেলের মতো পুলি পিঠার অনুরূপ। চালের গুঁড়ার সাথে ঘি, চিনি, কলা, নারিকেল, মিষ্টির টুকরোসহ নানা উপাদান মিশিয়ে ভাপে সিদ্ধ করে গড়পড়া পিঠা তৈরি করা হতো।

গনি মিয়ার চা-খানা

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যখন ঢাকার নবাব আবদুল গণি (১৮৩০-১৮৯১] পাকাপোক্ত হয়ে বসেছেন, তখন আড্ডার জন্য সকালে আসর বসাতেন। খুব সম্ভব ১৮৭২ সালে তাঁর বাসভবন আহসান মঞ্জিল পুনর্নির্মিত হলে, বহির্ভবনে সকালে ঢাকার রইসরা জমায়েত হতেন, নবাব গণিও থাকতেন। আলাপের সঙ্গে চা পান করা হতো।

নবাব আবদুল গণি

এটি পরিচিত হয়ে ওঠে ‘গণি মিয়ার চাখানা’ নামে। উল্লেখ্য চা ছিল তখন মহার্ঘ। গণি মিয়া তার জমিদারী বেগুন বাড়িতে ৩০ একর জমিতে চা চাষ করেছিলেন। চা হয়তো সেখান থেকেই আসত। তবে, এর অন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যা উল্লেখ করেছেন হাকিম হাবিবুর রহমান।

চা-খানায় তাওয়ায়েফগণ আসতেন। তাদের পুরুষসঙ্গীরা অন্য কামরায় থাকতেন। ঢাকায় তখন যারা নামকরা ছিলেন তারা সবাই আসতেন। এরা সবাই এসেছিলেন উত্তর ভারত থেকে। যেমন, আনু, গান্নু, নোওয়াবীন। এরা ছিলেন তিন বোন।

নবাবের এস্টেট থেকে তারা ভাতা পেতেন, এদের নিজস্ব বাগানঅলা বাড়ি ছিল, এদরে মধ্যে কনিষ্ঠ নেওয়াবীন বেশ নাম করেছিলেন, আরো ছিলেন, এলাহীজান, আবেদী, পেয়ারী। “আছি বেগম সাহেবা মূলতঃ লাখনৌবাসী ছিলেন আর নৃত্য প্রদর্শনে নৈপুণ্যতা দেখাতেন। ঢাকায় এত বড় নর্তকী তাওয়ায়েফ পরবর্তীতে আর আসেনি।” এ ছাড়া ছিল ওয়াসু, বাঙালী, হীরা, ইমামী, অতুল বাঈ, কালীবাঈ ও রাজলক্ষ্মী।” ১১টা পর্যন্ত চলত আড্ডা ও আসর।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৭)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩৭)