০২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
দিল্লি চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মানে রুনা লায়লা, মঞ্চ কাঁপালেন উষা উত্থুপের সঙ্গে দ্বৈত পরিবেশনায় আরাকান আর্মির প্রধান তুয়ান ম্রাত নাইং: মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা সাক্ষাৎকার বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবার উৎপাদন বন্ধ  ৪৭ আসনে জয়ের ব্যবধান ছাড়িয়েছে বাদ পড়া ভোটার—বঙ্গের ফলাফলে এসআইআর নিয়ে নতুন প্রশ্ন ভারতে প্রথমবার তরুণ ভোটারদের জোয়ারে বদলের বার্তা- নতুন রাজনৈতিক সংকেত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের কৌশল: অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা, ইস্যুভিত্তিক লড়াই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা: উত্তর-পূর্বে বিজেপির উত্থানের মুখ, টানা তৃতীয় জয়ে আরও শক্ত অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের ‘ঝালমুড়ি’ রাজনীতি মমতা: শেষ অধ্যায়, নাকি ফিনিক্সের মতো নতুন করে উত্থান? মেট গালার আগে ঝলমলে আভাস, নিউইয়র্কে জোয়ি ক্রাভিৎসের স্বচ্ছ পোশাক আর বাগদানের আংটি নজর কাড়ল

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৫০)

রাজ আমাকে অনেক রকমে সাহায্য করেছিলেন, আর ফিরবার পথে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।

ধর্মগুরু তখন আরও দশ দিন থাকতে রাজি হলেন। কুমার রাজাও বললেন, ‘গুরু যদি আমার রাজ্যে থেকে আমার ভক্তি-নিবেদন গ্রহণ করেন, তাহলে গুরুর হয়ে আমি একশতটা সঙ্ঘারাম স্থাপন করে দেব।’

হিউ এনচাঙ দেখলেন, এই রাজাদের তাঁকে ছেড়ে দেবার ইচ্ছা নেই, তখন তিনি দুঃখিত চিত্তে বললেন, ‘চীন দেশ বহুদূরে। সেখানকার লোকে বেশি দিন বুদ্ধের ধর্মের বিষয়ে শোনে নি, আর বেশি লোকেও এটা গ্রহণ করে নি। আমি এই ধর্মের তত্ত্ব ভালো করে শিখতে এসেছিলাম। আমি যা শিখেছি, তাই জানবার জন্যে আমার দেশের পণ্ডিতরা উৎসুক হয়ে আছেন। ‘সূত্রে’ লেখা আছে, ধর্মের জ্ঞান প্রচার করতে বাধা দিলে জন্ম-জন্ম অন্ধ হতে হয়। এ কথ। স্মরণ করুন।’

মহারাজা তখন তাঁকে যেতে দিতে স্বীকৃত হলেন আর জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কোন্ পথে ফিরবেন। বললেন, ‘আপনি যদি দক্ষিণ সমুদ্রের পথে যেতে চান, তাহলে আপনার সঙ্গে যাওয়ার লোক বন্দোবস্ত করব।

‘ হিউ এনচাঙ বললেন, ‘আমি আসবার সময়ে কাউচাঙ (তুরফান) রাজ আমাকে অনেক রকমে সাহায্য করেছিলেন, আর ফিরবার পথে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন। তাঁকে নিরাশ করতে আমার মন চাইছে না। সেই পথেই আমি ফিরব।’

মহারাজা বললেন, ‘আপনার পাথেয় কি চাই বলুন।’

হিউএনচাঙ বললেন, ‘কিছুই চাই না।’

রাজা বললেন, ‘এভাবে আপনাকে ছেড়ে দিতে পারি না।’

কিন্তু হিউএনচাঙ রাজাদের কাছে কোনো ধনরত্ন নিতে সম্মত হলেন না, কেবল কামরূপ রাজের কাছে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ ভিতরে লোমওয়ালা একটা চামড়ার জামা নিলেন।

এইভাবে তিনি বিদায় নিলেন। সানুচর রাজা কয়েক মাইল পর্যন্ত তাঁকে এগিয়ে দিয়ে এলেন। বিদায় নেবার সময়ে কোনো পক্ষই অশ্রু সম্বরণ করতে পারলেন না।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৯)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৯)

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লি চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মিনার-ই-দিল্লি’ সম্মানে রুনা লায়লা, মঞ্চ কাঁপালেন উষা উত্থুপের সঙ্গে দ্বৈত পরিবেশনায়

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৫০)

০৯:০০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

রাজ আমাকে অনেক রকমে সাহায্য করেছিলেন, আর ফিরবার পথে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।

ধর্মগুরু তখন আরও দশ দিন থাকতে রাজি হলেন। কুমার রাজাও বললেন, ‘গুরু যদি আমার রাজ্যে থেকে আমার ভক্তি-নিবেদন গ্রহণ করেন, তাহলে গুরুর হয়ে আমি একশতটা সঙ্ঘারাম স্থাপন করে দেব।’

হিউ এনচাঙ দেখলেন, এই রাজাদের তাঁকে ছেড়ে দেবার ইচ্ছা নেই, তখন তিনি দুঃখিত চিত্তে বললেন, ‘চীন দেশ বহুদূরে। সেখানকার লোকে বেশি দিন বুদ্ধের ধর্মের বিষয়ে শোনে নি, আর বেশি লোকেও এটা গ্রহণ করে নি। আমি এই ধর্মের তত্ত্ব ভালো করে শিখতে এসেছিলাম। আমি যা শিখেছি, তাই জানবার জন্যে আমার দেশের পণ্ডিতরা উৎসুক হয়ে আছেন। ‘সূত্রে’ লেখা আছে, ধর্মের জ্ঞান প্রচার করতে বাধা দিলে জন্ম-জন্ম অন্ধ হতে হয়। এ কথ। স্মরণ করুন।’

মহারাজা তখন তাঁকে যেতে দিতে স্বীকৃত হলেন আর জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কোন্ পথে ফিরবেন। বললেন, ‘আপনি যদি দক্ষিণ সমুদ্রের পথে যেতে চান, তাহলে আপনার সঙ্গে যাওয়ার লোক বন্দোবস্ত করব।

‘ হিউ এনচাঙ বললেন, ‘আমি আসবার সময়ে কাউচাঙ (তুরফান) রাজ আমাকে অনেক রকমে সাহায্য করেছিলেন, আর ফিরবার পথে তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন। তাঁকে নিরাশ করতে আমার মন চাইছে না। সেই পথেই আমি ফিরব।’

মহারাজা বললেন, ‘আপনার পাথেয় কি চাই বলুন।’

হিউএনচাঙ বললেন, ‘কিছুই চাই না।’

রাজা বললেন, ‘এভাবে আপনাকে ছেড়ে দিতে পারি না।’

কিন্তু হিউএনচাঙ রাজাদের কাছে কোনো ধনরত্ন নিতে সম্মত হলেন না, কেবল কামরূপ রাজের কাছে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ ভিতরে লোমওয়ালা একটা চামড়ার জামা নিলেন।

এইভাবে তিনি বিদায় নিলেন। সানুচর রাজা কয়েক মাইল পর্যন্ত তাঁকে এগিয়ে দিয়ে এলেন। বিদায় নেবার সময়ে কোনো পক্ষই অশ্রু সম্বরণ করতে পারলেন না।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৯)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৪৯)