০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান ইরান ২০১৫ সালের চেয়ে ভিন্ন—এখন আইআরজিসির প্রভাব আরও বেশি ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৪৩)

প্রথমে এই আঘাতকে গুরুতর মনে হয়নি। কিন্তু সেই আঘাতেই ১৮ মার্চ তিনি মারা যান। নারিন্দার খ্রিষ্টান গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

জিনেট ভানতাসেল

একটি কারণে জিনেট ভানতাসেলের নাম ঢাকার ইতিহাসে আসে। সেটি হলো তিনি ঢাকার প্রথম আকাশচারী, বা বেলুনে করে তিনিই প্রথম উড়েছিলেন ঢাকার আকাশে। তার প্রথম উল্লেখ পাই আমার সংকলিত ‘গণিউর বাজার রোজনামচায়’। এর সূত্র ধরে পরে শামীম আমিনুর রহমান তাকে নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। ভানতাসেল ও তার স্ত্রী জিনেট আমেরিকার বাসিন্দা। তারা বেলুনে চড়ে দর্শকদের দেখাতেন।

জিনেট ভানতাসেল

এটি হয়ে উঠেছিল তাদের পেশা। ১৮৯২ সালে ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহ তাদের সঙ্গে ১০ হাজার টাকার একটি চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ঠিক হয় তারা বুড়িগঙ্গার এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাবেন।

ঢাকায় এ সংবাদ ঢোল মারফত জানানো হয়েছিল। ১৬ মার্চ বিকেলে বুড়িগঙ্গার দুই পাড় লোকে লোকারণ্য। বিকেল পাঁচটায় বুড়িগঙ্গার ওপারে কাঠুরিয়া থেকে বেলুনে উড়লেন। নবাব ও তার পরিবার আহসানমঞ্জিলের ছাদ থেকে তা অবলোকন করলেন। হঠাৎ প্রবল বাতাসে বেলুন চলে যায় শাহবাগ এলাকায়। প্যারাসুট খুলে জিনেট নামেন। কিন্তু মাটিতে না নেমে এক ঝাউগাছের মাথায় আটকে গেলেন। সেখানে যারা ছিলেন তারা বাঁশের সিঁড়ি করে তাকে নামানোর চেষ্টা করলেন।

ফ্রিজকাপের তোলা জিনেটের বেলুন আরোহনের ওপর প্রাপ্ত একমাত্র ছবি, ১৬ মার্চ (আনুমানিক ১৮৯২)

কিন্তু বা পিছলে মাটিতে পড়ে তিনি মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড আঘাত পান। প্রথমে এই আঘাতকে গুরুতর মনে হয়নি। কিন্তু সেই আঘাতেই ১৮ মার্চ তিনি মারা যান। নারিন্দার খ্রিষ্টান গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

বেলুনটি উচ্চতায় ছির ৭৮ ফুট। চারদিকের মাপ ৪৮ ফুট। ৬০০০ ফুট ওপর জিনেট উড়েছিলেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৪২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৪২)

 

বর্তমান ইরান ২০১৫ সালের চেয়ে ভিন্ন—এখন আইআরজিসির প্রভাব আরও বেশি

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৪৩)

০৭:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

প্রথমে এই আঘাতকে গুরুতর মনে হয়নি। কিন্তু সেই আঘাতেই ১৮ মার্চ তিনি মারা যান। নারিন্দার খ্রিষ্টান গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

জিনেট ভানতাসেল

একটি কারণে জিনেট ভানতাসেলের নাম ঢাকার ইতিহাসে আসে। সেটি হলো তিনি ঢাকার প্রথম আকাশচারী, বা বেলুনে করে তিনিই প্রথম উড়েছিলেন ঢাকার আকাশে। তার প্রথম উল্লেখ পাই আমার সংকলিত ‘গণিউর বাজার রোজনামচায়’। এর সূত্র ধরে পরে শামীম আমিনুর রহমান তাকে নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। ভানতাসেল ও তার স্ত্রী জিনেট আমেরিকার বাসিন্দা। তারা বেলুনে চড়ে দর্শকদের দেখাতেন।

জিনেট ভানতাসেল

এটি হয়ে উঠেছিল তাদের পেশা। ১৮৯২ সালে ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহ তাদের সঙ্গে ১০ হাজার টাকার একটি চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ঠিক হয় তারা বুড়িগঙ্গার এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাবেন।

ঢাকায় এ সংবাদ ঢোল মারফত জানানো হয়েছিল। ১৬ মার্চ বিকেলে বুড়িগঙ্গার দুই পাড় লোকে লোকারণ্য। বিকেল পাঁচটায় বুড়িগঙ্গার ওপারে কাঠুরিয়া থেকে বেলুনে উড়লেন। নবাব ও তার পরিবার আহসানমঞ্জিলের ছাদ থেকে তা অবলোকন করলেন। হঠাৎ প্রবল বাতাসে বেলুন চলে যায় শাহবাগ এলাকায়। প্যারাসুট খুলে জিনেট নামেন। কিন্তু মাটিতে না নেমে এক ঝাউগাছের মাথায় আটকে গেলেন। সেখানে যারা ছিলেন তারা বাঁশের সিঁড়ি করে তাকে নামানোর চেষ্টা করলেন।

ফ্রিজকাপের তোলা জিনেটের বেলুন আরোহনের ওপর প্রাপ্ত একমাত্র ছবি, ১৬ মার্চ (আনুমানিক ১৮৯২)

কিন্তু বা পিছলে মাটিতে পড়ে তিনি মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড আঘাত পান। প্রথমে এই আঘাতকে গুরুতর মনে হয়নি। কিন্তু সেই আঘাতেই ১৮ মার্চ তিনি মারা যান। নারিন্দার খ্রিষ্টান গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

বেলুনটি উচ্চতায় ছির ৭৮ ফুট। চারদিকের মাপ ৪৮ ফুট। ৬০০০ ফুট ওপর জিনেট উড়েছিলেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৪২)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৪২)