০৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা উপাসনা করতে গিয়ে কোনো আমেরিকান যেন ভয়ে পিছিয়ে না যান জেন-জি রাজনীতির ভাষা বুঝতে পারছে না প্রচলিত দলগুলো? ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রা: ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য কতটা বাড়ছে গ্রিসের দ্বীপভ্রমণের স্বপ্ন, নাকি ‘বমির ধূমকেতু’? উত্তাল সাগরে পর্যটকদের নাজেহাল দশা অ্যাপলের টেক্সাসে নতুন কারখানা: ম্যাক মিনি উৎপাদন ও কর্মীদের প্রশিক্ষণে বড় বিনিয়োগ ট্রাম্প-মাস্কের ভাঙা সম্পর্ক আবার জোড়া লাগল, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্যাসের সংকটে রূপগঞ্জে থমকে শিল্পের চাকা, বাড়ছে লোকসান ও কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কা পাম্পে ত্রুটি, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু: এক মাস আগেই নিরাপত্তা লঙ্ঘনে আইনি ব্যবস্থা হয়েছিল জাহাজভাঙা ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৮৫)

অষ্টম পরিচ্ছেদ
এর প্রায় মিনিট দশেক পরে আমরা যে-ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়েছিলুম তার পাশ দিয়ে চারজন ঘোড়সওয়ার ঘোড়া ছুটিয়ে বেরিয়ে গেল।
চুবুক বলছিলেন, ‘জমিদার-বাড়ি চলল ওরা। মেঝেয় চট্টের থলি পাতা দেখেই অনুমান করেছিলাম ব্যাটা বুড়া একা ও-বাড়িতে থাকে না। কেমন বারে বারে বুড়া জানলার ধারে যাচ্ছিল নজর করেছিলে তো? আমরা যখন নিচির ঘরে ঢং মেরে বেড়াচ্ছিলাম, বুড়া তখনই শ্বেতরক্ষীদের তলব করতে নোক পাঠিয়েছিল। চারির বেলায়ও গণ্ডগোল করছিল।
ব্র‍্যান্ডিটা দেখে কেমন সন্দেহ হতি নাগল- কে জানে ওর মধ্যি ই’দুর-মারা বিষ মেশাল দিইছিল কিনা। যে-সব জমিদারের সম্বব লুট হয়ে গ্যাচে, তারা যখন আমাদের অতিথ বলে জামাই-আদর করে তখন আমার কেমন জানি ভালো মনে হয় না। ওদের বিশ্বেস করি নে আমি। ওরা মুখি যা খুশি বলে ভান করতি পারে, কিন্তু ভেতরে-ভেতরে ওরা যে আমার এক লম্বরের শশুর এতে সন্দেহ নেই।’
সে রাত্তিরটা আমরা একটা গাদা-করা খড়ের গোলায় কাটালুম। অনেক রাতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় এল, তারপর প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হল। কিন্তু আমরা এতে খুশিই হলুম। কুড়ের চাল দিয়ে জল না-পড়ায়, বাইরে খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে আমরা আরামে ঘুমোতে পারলুম। ভোরের আলো দেখা দিতেই চুবুক আমাকে ডেকে তুললেন।
বললেন, ‘এখন আমাদের সাবধান হতি হবে। কিছুক্ষণ থেকি আমি জেগে বসি আচি। এখন আমি এটু ঘুমুব, তুমি জেগে বসি থাক। বলা তো যায় না, এ-পথে কেউ-না-কেউ এসে পড়তি পারে। তবে তোমারও ঘুম না এসি যায়, খেয়াল থাকে যেন।’
‘না, চুবুক, আমি ঘুমোব না।’
কাড়ের বাইরে মাথা বের করে দেখলুম। পাহাড়ের নিচেই একটা ছোট নদী, তা থেকে ভাপ উঠছে। আগের দিন কোমর-সমান গভীর কাদায় ভরা একটা ডোবা পার হতে হয়েছিল আমাদের। রাত্রে গায়ের জল শুকিয়ে গিয়েছিল বটে, কিন্তু কাদাটা শুকিয়ে সারা গায়ে চট্টচটে মামড়ি পড়ে গিয়েছিল।
ভাবলুম, ‘স্নান করলে বেশ হয়। নদী তো খুব কাছেই, এক ধাপ নিচে নামলেই হয়।’
জনপ্রিয় সংবাদ

সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৮৫)

০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
অষ্টম পরিচ্ছেদ
এর প্রায় মিনিট দশেক পরে আমরা যে-ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়েছিলুম তার পাশ দিয়ে চারজন ঘোড়সওয়ার ঘোড়া ছুটিয়ে বেরিয়ে গেল।
চুবুক বলছিলেন, ‘জমিদার-বাড়ি চলল ওরা। মেঝেয় চট্টের থলি পাতা দেখেই অনুমান করেছিলাম ব্যাটা বুড়া একা ও-বাড়িতে থাকে না। কেমন বারে বারে বুড়া জানলার ধারে যাচ্ছিল নজর করেছিলে তো? আমরা যখন নিচির ঘরে ঢং মেরে বেড়াচ্ছিলাম, বুড়া তখনই শ্বেতরক্ষীদের তলব করতে নোক পাঠিয়েছিল। চারির বেলায়ও গণ্ডগোল করছিল।
ব্র‍্যান্ডিটা দেখে কেমন সন্দেহ হতি নাগল- কে জানে ওর মধ্যি ই’দুর-মারা বিষ মেশাল দিইছিল কিনা। যে-সব জমিদারের সম্বব লুট হয়ে গ্যাচে, তারা যখন আমাদের অতিথ বলে জামাই-আদর করে তখন আমার কেমন জানি ভালো মনে হয় না। ওদের বিশ্বেস করি নে আমি। ওরা মুখি যা খুশি বলে ভান করতি পারে, কিন্তু ভেতরে-ভেতরে ওরা যে আমার এক লম্বরের শশুর এতে সন্দেহ নেই।’
সে রাত্তিরটা আমরা একটা গাদা-করা খড়ের গোলায় কাটালুম। অনেক রাতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় এল, তারপর প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হল। কিন্তু আমরা এতে খুশিই হলুম। কুড়ের চাল দিয়ে জল না-পড়ায়, বাইরে খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে আমরা আরামে ঘুমোতে পারলুম। ভোরের আলো দেখা দিতেই চুবুক আমাকে ডেকে তুললেন।
বললেন, ‘এখন আমাদের সাবধান হতি হবে। কিছুক্ষণ থেকি আমি জেগে বসি আচি। এখন আমি এটু ঘুমুব, তুমি জেগে বসি থাক। বলা তো যায় না, এ-পথে কেউ-না-কেউ এসে পড়তি পারে। তবে তোমারও ঘুম না এসি যায়, খেয়াল থাকে যেন।’
‘না, চুবুক, আমি ঘুমোব না।’
কাড়ের বাইরে মাথা বের করে দেখলুম। পাহাড়ের নিচেই একটা ছোট নদী, তা থেকে ভাপ উঠছে। আগের দিন কোমর-সমান গভীর কাদায় ভরা একটা ডোবা পার হতে হয়েছিল আমাদের। রাত্রে গায়ের জল শুকিয়ে গিয়েছিল বটে, কিন্তু কাদাটা শুকিয়ে সারা গায়ে চট্টচটে মামড়ি পড়ে গিয়েছিল।
ভাবলুম, ‘স্নান করলে বেশ হয়। নদী তো খুব কাছেই, এক ধাপ নিচে নামলেই হয়।’