০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়াবহ দাবানলের এক বছর: সংখ্যাগুলোই বলে দেয় কীভাবে মুহূর্তে বিপর্যয় নেমেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৪) সিইএসে শকজের ‘ওপেনফিট প্রো’: ওপেন-ইয়ার ইয়ারবাড এখন আরও প্রিমিয়াম ফিলিপাইনে সাবেক জেনারেলের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের উদাহরণ বলল সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান নিন্দা করল মেক্সিকো, ‘পরের টার্গেট’ হওয়া এড়াতে সতর্ক শেইনবাউম প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫১) সাত বিষয়ে ফেল করায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিল বিএনপি নেতার ছেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গলা কাটা অবস্থায় স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রমজান বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডাল ও ভোজ্যতেল আমদানির অনুমোদন সরকারের ভেনেজুয়েলার শান্তির নোবেলের বয়ান 

নদীর নাম আন্ধার মানিকঃ ইলিশ ছোটে যেখানে

অন্ধার মানিক নদী বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় নদী। এটি পটুয়াখালী জেলায় প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরের কাছে গিয়ে মিলিত হয়েছে। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ এই নদী শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ধারকই নয়স্থানীয় সভ্যতাব্যবসা-বাণিজ্যসংস্কৃতি ও সাহিত্যের ধারাবাহিকতাও বহন করে এসেছে। নদীর দুই তীরের জনপদকৃষিবনজ সম্পদ এবং নানান প্রজাতির মাছসবকিছুই মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

অবস্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য

অন্ধার মানিক নদী পটুয়াখালীর দক্ষিণ অংশেবিশেষত কলাপাড়া-কুয়াকাটা উপকূলঘেঁষা এলাকায় প্রবাহিত। মোহনা ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে এ নদীর চরভূমি ও খাল-খাঁড়ি ঋতুভেদে রূপ বদলায়। বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে ইলিশসহ লোনা-কমলোনা পানির প্রজাতির বিচরণ ঘটে এবং বর্ষা থেকে হেমন্ত পর্যন্ত নৌচলাচল সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে।

২০০ বছরের ইতিহাস

প্রায় দুই শতাব্দী আগে এই নদীঘেঁষে ছোট ছোট বসতি গড়ে ওঠে। কৃষিপণ্যমাছলবণকাঠ ও বনজ দ্রব্যের আদান-প্রদানের প্রধান সড়ক ছিল নদীপথ। সেচপানীয় জল ও প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডারের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন নদীকেন্দ্রিক ছিল। বাজারহাট ও ঘাটকে ঘিরে গড়ে ওঠে বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের এক গতিশীল নেটওয়ার্ক।\

দুই তীরের সভ্যতা ও বনাঞ্চল

নদীর দুই কূলেই গড়ে ওঠে কৃষিনির্ভর জনপদ। খাল-খাঁড়ি ও নালা কেটে বন্যা ও জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও দেখা যেত। পাড়ঘেঁষা বনাঞ্চলে ছিল বাঁশকাঠফলগাছ ও ভেষজ উদ্ভিদের প্রাচুর্য। এসব সম্পদ স্থানীয়দের অর্থনৈতিক স্থিতি যেমন বাড়িয়েছেতেমনি ঘরোয়া চিকিৎসায়ও সহায়তা দিয়েছে।

মাছের ভাণ্ডার ও জীববৈচিত্র্য

অন্ধার মানিক নদীতে রুইকাতলাবোয়ালশোলট্যাংরাপুঁটিখলসেশিংসহ বহু দেশীয় প্রজাতি ছিল প্রচুর। উপকূলীয় অবস্থানের কারণে মৌসুমভিত্তিক ইলিশধরাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে মাছ ধরার মৌসুমকে ঘিরে নৌকা বাইচজালপাতা ও ঘাটে মাছের হাটসব মিলিয়ে এক জীবন্ত নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ

এ নদী একসময় পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রধান ধমনী ছিল। ধানপাটলবণনারকেলজ তৈরি সামগ্রীমাটি ও কাঠসবই নৌপথে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেত। নদীপথে পটুয়াখালী শহরবারিশাল অঞ্চলের বাজার এবং উপকূলের ঘাটগুলোর সঙ্গে সহজ সংযোগ গড়ে ওঠে।

নিকটবর্তী শহর ও বন্দর সংযোগ

অন্ধার মানিক নদী পটুয়াখালী সদরকলাপাড়াকুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন বাজারঘাট ও আঞ্চলিক ঘাটগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত। নদীপথে পণ্য ওঠানামা সহজ হওয়ায় আশেপাশের বন্দর ও চ্যানেলের (যেমন রামনাবাদ চ্যানেল) সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে উঠে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সড়ক যোগাযোগ বাড়লেও মৌসুমে নৌপথ এখনো বহু জনপদের জন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

সংস্কৃতিসাহিত্য ও গান

এই নদীকে ঘিরে ভাটিয়ালিপালাগানবাউলগানকবিগানযাত্রাপালা ও নৌকা বাইচের সমৃদ্ধ ধারার বিকাশ ঘটে। বর্ষা ও শরতের উৎসবমুখর দিনে ঘাটে ঘাটে জেলে ও মাঝিদের গান নদীকেন্দ্রিক জীবনকে আরও রঙিন করে তোলে। নদী ও খাল-খাঁড়ির নামচরভূমির স্মৃতি ও ঘাটকেন্দ্রিক গল্প-কবিতাসব মিলিয়ে একটি নদীমাতৃক সাহিত্য-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

১৯৬০-এর দশকে বাঁধ ও পানি-নিয়ন্ত্রণ কাঠামো

১৯৬০-এর দশকে সরকারি উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে একাধিক বাঁধপোল্ডার ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। অন্ধার মানিক নদী ও সংযুক্ত খাল-খাঁড়িগুলোতেও পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো স্থাপিত হয়। এতে বর্ষায় বন্যা ও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে কিছু সুফল মিললেও প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়মাছের প্রজননক্ষেত্র সঙ্কুচিত হয় এবং বহু খাল-খাঁড়ি ধীরে ধীরে ভরাট হতে থাকে।

প্রভাব: নদী ও আশেপাশের এলাকার পরিবর্তন

পানি-নিয়ন্ত্রণ কাঠামোভূমি-পূরণ ও অতিরিক্ত পলি জমার কারণে শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ানৌচলাচলে বিঘ্নকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কোথাও কোথাও লবণাক্ততার তারতম্য দেখা দেয়। ফলে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা কমেবনজ অঞ্চল সঙ্কুচিত হয় এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীনির্ভর জীবিকা কমায় বহু মানুষ বিকল্প জীবিকার খোঁজে শহরমুখী হতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতির প্রাণও কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।

ভবিষ্যৎ ও করণীয়

অন্ধার মানিক নদী কেবল জলধারা নয়এটি পটুয়াখালীর ইতিহাসসংস্কৃতি ও অর্থনীতির প্রাণরেখা। এর টেকসই পুনরুজ্জীবনের জন্য (১) খাল-খাঁড়ি পুনঃখনন ও প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, (২) মাছের প্রজনন মৌসুমে সুরক্ষা ও প্রজননক্ষেত্র পুনর্গঠন, (৩) বাঁধ-স্লুইসের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, (৪) নদীকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও কারিগরি সহায়তায় জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং (৫) নদীপাড়ের বনসৃজন ও চরভূমির সংরক্ষণ জরুরি। যথাযথ পরিকল্পনা ও অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা গেলে অন্ধার মানিক নদী আবারও তার হারানো প্রাণ ও ঐশ্বর্য ফিরে পেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়াবহ দাবানলের এক বছর: সংখ্যাগুলোই বলে দেয় কীভাবে মুহূর্তে বিপর্যয় নেমেছিল

নদীর নাম আন্ধার মানিকঃ ইলিশ ছোটে যেখানে

০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

অন্ধার মানিক নদী বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় নদী। এটি পটুয়াখালী জেলায় প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরের কাছে গিয়ে মিলিত হয়েছে। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ এই নদী শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ধারকই নয়স্থানীয় সভ্যতাব্যবসা-বাণিজ্যসংস্কৃতি ও সাহিত্যের ধারাবাহিকতাও বহন করে এসেছে। নদীর দুই তীরের জনপদকৃষিবনজ সম্পদ এবং নানান প্রজাতির মাছসবকিছুই মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

অবস্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য

অন্ধার মানিক নদী পটুয়াখালীর দক্ষিণ অংশেবিশেষত কলাপাড়া-কুয়াকাটা উপকূলঘেঁষা এলাকায় প্রবাহিত। মোহনা ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে এ নদীর চরভূমি ও খাল-খাঁড়ি ঋতুভেদে রূপ বদলায়। বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে ইলিশসহ লোনা-কমলোনা পানির প্রজাতির বিচরণ ঘটে এবং বর্ষা থেকে হেমন্ত পর্যন্ত নৌচলাচল সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে।

২০০ বছরের ইতিহাস

প্রায় দুই শতাব্দী আগে এই নদীঘেঁষে ছোট ছোট বসতি গড়ে ওঠে। কৃষিপণ্যমাছলবণকাঠ ও বনজ দ্রব্যের আদান-প্রদানের প্রধান সড়ক ছিল নদীপথ। সেচপানীয় জল ও প্রাকৃতিক মৎস্যভাণ্ডারের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন নদীকেন্দ্রিক ছিল। বাজারহাট ও ঘাটকে ঘিরে গড়ে ওঠে বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের এক গতিশীল নেটওয়ার্ক।\

দুই তীরের সভ্যতা ও বনাঞ্চল

নদীর দুই কূলেই গড়ে ওঠে কৃষিনির্ভর জনপদ। খাল-খাঁড়ি ও নালা কেটে বন্যা ও জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও দেখা যেত। পাড়ঘেঁষা বনাঞ্চলে ছিল বাঁশকাঠফলগাছ ও ভেষজ উদ্ভিদের প্রাচুর্য। এসব সম্পদ স্থানীয়দের অর্থনৈতিক স্থিতি যেমন বাড়িয়েছেতেমনি ঘরোয়া চিকিৎসায়ও সহায়তা দিয়েছে।

মাছের ভাণ্ডার ও জীববৈচিত্র্য

অন্ধার মানিক নদীতে রুইকাতলাবোয়ালশোলট্যাংরাপুঁটিখলসেশিংসহ বহু দেশীয় প্রজাতি ছিল প্রচুর। উপকূলীয় অবস্থানের কারণে মৌসুমভিত্তিক ইলিশধরাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে মাছ ধরার মৌসুমকে ঘিরে নৌকা বাইচজালপাতা ও ঘাটে মাছের হাটসব মিলিয়ে এক জীবন্ত নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।

ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ

এ নদী একসময় পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রধান ধমনী ছিল। ধানপাটলবণনারকেলজ তৈরি সামগ্রীমাটি ও কাঠসবই নৌপথে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেত। নদীপথে পটুয়াখালী শহরবারিশাল অঞ্চলের বাজার এবং উপকূলের ঘাটগুলোর সঙ্গে সহজ সংযোগ গড়ে ওঠে।

নিকটবর্তী শহর ও বন্দর সংযোগ

অন্ধার মানিক নদী পটুয়াখালী সদরকলাপাড়াকুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন বাজারঘাট ও আঞ্চলিক ঘাটগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত। নদীপথে পণ্য ওঠানামা সহজ হওয়ায় আশেপাশের বন্দর ও চ্যানেলের (যেমন রামনাবাদ চ্যানেল) সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে উঠে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সড়ক যোগাযোগ বাড়লেও মৌসুমে নৌপথ এখনো বহু জনপদের জন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

সংস্কৃতিসাহিত্য ও গান

এই নদীকে ঘিরে ভাটিয়ালিপালাগানবাউলগানকবিগানযাত্রাপালা ও নৌকা বাইচের সমৃদ্ধ ধারার বিকাশ ঘটে। বর্ষা ও শরতের উৎসবমুখর দিনে ঘাটে ঘাটে জেলে ও মাঝিদের গান নদীকেন্দ্রিক জীবনকে আরও রঙিন করে তোলে। নদী ও খাল-খাঁড়ির নামচরভূমির স্মৃতি ও ঘাটকেন্দ্রিক গল্প-কবিতাসব মিলিয়ে একটি নদীমাতৃক সাহিত্য-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

১৯৬০-এর দশকে বাঁধ ও পানি-নিয়ন্ত্রণ কাঠামো

১৯৬০-এর দশকে সরকারি উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলে একাধিক বাঁধপোল্ডার ও স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। অন্ধার মানিক নদী ও সংযুক্ত খাল-খাঁড়িগুলোতেও পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো স্থাপিত হয়। এতে বর্ষায় বন্যা ও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে কিছু সুফল মিললেও প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়মাছের প্রজননক্ষেত্র সঙ্কুচিত হয় এবং বহু খাল-খাঁড়ি ধীরে ধীরে ভরাট হতে থাকে।

প্রভাব: নদী ও আশেপাশের এলাকার পরিবর্তন

পানি-নিয়ন্ত্রণ কাঠামোভূমি-পূরণ ও অতিরিক্ত পলি জমার কারণে শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়ানৌচলাচলে বিঘ্নকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কোথাও কোথাও লবণাক্ততার তারতম্য দেখা দেয়। ফলে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা কমেবনজ অঞ্চল সঙ্কুচিত হয় এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীনির্ভর জীবিকা কমায় বহু মানুষ বিকল্প জীবিকার খোঁজে শহরমুখী হতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতির প্রাণও কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।

ভবিষ্যৎ ও করণীয়

অন্ধার মানিক নদী কেবল জলধারা নয়এটি পটুয়াখালীর ইতিহাসসংস্কৃতি ও অর্থনীতির প্রাণরেখা। এর টেকসই পুনরুজ্জীবনের জন্য (১) খাল-খাঁড়ি পুনঃখনন ও প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, (২) মাছের প্রজনন মৌসুমে সুরক্ষা ও প্রজননক্ষেত্র পুনর্গঠন, (৩) বাঁধ-স্লুইসের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, (৪) নদীকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও কারিগরি সহায়তায় জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং (৫) নদীপাড়ের বনসৃজন ও চরভূমির সংরক্ষণ জরুরি। যথাযথ পরিকল্পনা ও অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা গেলে অন্ধার মানিক নদী আবারও তার হারানো প্রাণ ও ঐশ্বর্য ফিরে পেতে পারে।